আয়না নিয়ে বধূ
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৫১-৫২ সালে ইউরোপ ভ্রমণ করেন। সে-সময়ে আধুনিক ইউরোপীয় চিত্রকলার সঙ্গে তাঁর যে-ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটে, তাতে তাঁর শিল্পরীতি নতুন বাঁক নিয়েছিল। দেশে ফেরার পর কয়েক বছর ধরে তিনি জলরং, তেলরং বা গুয়াশে যেসব ছবি এঁকেছিলেন, তাতে দেশীয় ও বিদেশীয় রীতির আশ্চর্য সমন্বয় দেখা যায়। বিষয়ের দিক দিয়ে এসব ছবিতে প্রতিফলিত হয়েছে পূর্ব বাংলার গ্রামীণ নরনারী ও প্রকৃতি, কিন্তু তাদের উপস্থাপনে তিনি আর পুরোপুরি বস্তুধর্মী নন। ওইসব মানুষ তাঁর চিত্রে ধরা দিয়েছে পাশ্চাত্য ধরনে রীতিবদ্ধ হয়ে। এমনি একটি ছবি ‘ব্রাইড উইথ এ মিরর’। কাগজের ওপরে অ্যাক্রিলিকে আঁকা, ৯৬.৫ x ৭১ সে.মি. মাপের ছবি, ১৯৭২ সালে আঁকা। গ্রাম্য বধূ প্রসাধন সেরে বা প্রসাধন করতে করতে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। হাঁটুর ওপরে হাতদুটি জোড়া, তার ওপরে কাত হয়ে আছে মাথা, চোখদুটি বন্ধ। একটা পায়ের খানিকটা বেরিয়ে আছে শাড়ির প্রান্ত থেকে। পায়ের নখ রঞ্জিত, হাতের নখও বুঝি তাই। পায়ের কাছে ছড়িয়ে আছে আয়নাটি – উলটো করে রাখা, ওই উলটো পিঠই নকশা-করা। আর আছে বোধহয় প্রসাধন-সামগ্রী। বধূর অবয়ব এবং তার পরিধেয় রীতিবদ্ধ। তার সঙ্গে লক্ষণীয় পশ্চাদ্ভাগে ঘরের বেড়ার সম্পূর্ণ বস্তুধর্মী বুনন। এইখানে অকৃত্রিমভাবে জয়নুল আবেদিনকে পাই – তাঁর চিত্রকলার এক বিশেষ পর্বে।ছবিটির সংগ্রাহক : জাহানারা আবেদিন


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.