বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বিশিষ্ট আভিধানিক আবু ইসহাক। তিনি ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে শরিয়তপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ৭৭ বছর বয়সে পরলোকগত হন। আমৃত্যু তাঁর সৃষ্টিশীল প্রজ্ঞা ছিল সক্রিয়। নির্মোহ এবং আত্মপ্রচারবিমুখ এ সাহিত্যিকের লেখার সংখ্যা কম, কিন্তু বিষয়বৈচিত্র্য ও গুণগতমানে সমৃদ্ধ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ : উপন্যাস – সূর্যদীঘল বাড়ী [১৯৫৫], পদ্মার পলিদ্বীপ [১৯৮৬], জাল [১৯৮৯]; ছোটগল্প – হারেম [১৯৬২], মহাপতঙ্গ [১৯৬৩]; অভিধান – সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, ১ম খণ্ড [১৯৯৩] ও ২য় খণ্ড [১৯৯৯]; স্মৃতিবিচিত্রা [২০০১]; এবং নাটক – জয়ধ্বনি [২০০১]। এসব সাহিত্যকর্মের জন্যে তিনি বাংলা একাডেমী, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন এবং আমাদের সাহিত্যভুবনকে করেন সমৃদ্ধ।
বাল্যকাল থেকেই আবু ইসহাকের সাহিত্যপ্রীতি ও সাহিত্যচর্চার উর্বর পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়। নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নকালেই তিনি কবিতা রচনা, হাতে-লেখা ম্যাগাজিন প্রকাশ এবং কাজী নজরুল ইসলাম-সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় ‘অভিশাপ’ শিরোনামে গল্প লিখে সুনাম অর্জন করেন। তাঁর অগ্রজের ব্যক্তিগত পাঠাগার ছিল। সেখান থেকে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন প্রমুখ সাহিত্যিকের বই এবং মাসিক সওগাতসহ অন্যান্য পত্রিকা পড়ার সুযোগ পান। তাঁর প্রিয় কবি জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতা তাঁকে ভীষণ নাড়া দেয়, মেধাবী ছাত্র হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত কাব্যগ্রন্থ নক্শী কাঁথার মাঠ পড়তে পড়তে প্রায় মুখস্থ করে ফেলেন, আর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ গল্প পড়ে ভালো লেখক হবার আগ্রহ জন্মে।
আবু ইসহাকের শিক্ষা ও কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যমণ্ডিত। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েই তিনি সিভিল সাপ্লাই বিভাগে চাকরি শুরু করেন। পরে পুলিশ বিভাগে সাব-ইনস্পেক্টর পদে যোগ দেন। চাকরিসূত্রে করাচি অবস্থানকালে তিনি প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে আটকা পড়েন এবং বিশেষ কৌশলে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে স্বদেশে ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মায়ানমারে কূটনৈতিক এবং কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে খুলনায় জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক থাকা অবস্থায় তিনি অবসরপ্রাপ্ত হন। এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালনের ফাঁকে ফাঁকেই তাঁকে লিখতে হয়েছে। কর্মজীবনে তিনি বহু অভিজ্ঞতা লাভ করেন। কর্ম-উপলক্ষে শহরে অবস্থান করলেও গ্রামীণ জীবনাদর্শ থেকে কখনোই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমি গ্রামের ছেলে এবং গ্রামের মানুষদের নিয়েই আমার যত লেখালেখি।’১ এদেশের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতি গ্রথিত ছিল তাঁর লেখক-মানসে। তাই মানবজীবন ও শিল্পের নিপুণ সমন্বয়ে সমৃদ্ধ তাঁর সাহিত্যকর্ম।
ব্যক্তি আবু ইসহাক ছিলেন নম্র, ভদ্র, মৃদুভাষী ও নিরহংকারী। তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও সৎ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। শারীরিকভাবে খানিকটা খর্ব ও ক্ষীণকায় হলেও জ্ঞানে, গুণে, সত্যনিষ্ঠায় ও ব্যক্তিত্বে ছিলেন উজ্জ্বল এবং দৃঢ়চিত্তের অধিকারী।২ কোনো সমস্যা কিংবা বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন হলে তিনি বিচলিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় তার সমাধান করতেন। বিপুল ধৈর্য, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস ছিল তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি। অশিক্ষা, কুসংস্কার, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা, ভণ্ডামি, নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে তাঁর কলম ছিল সদা সক্রিয়।
আবু ইসহাক কখনোই সস্তা, চটুল, জনপ্রিয় লেখা লেখেননি। একেকটি রচনা নির্মাণ করতে তিনি দীর্ঘবছর সময় নিয়েছেন। এটি তাঁর অলসতা নয়, বরং শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও নিরলস সাহিত্যভাবনার প্রয়াসই অধিক পরিলক্ষিত হয়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস সূর্যদীঘল বাড়ী রচনা করতে সময় লেগেছে চার বছর। এ উপন্যাস-রচনার শুরু ১৯৪৪-এ আর সমাপ্তি ১৯৪৮-এ। প্রথমে উপন্যাসটি কেউ প্রকাশ করতে চায়নি। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশের পর উভয় বাংলার সাহিত্যিক-আলোচকদের মাঝে প্রশংসার ঝড় ওঠে। সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাসের বিষয় ও শিল্পগুণ-বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যতালিকাভুক্ত হয় এবং দুজন পরিচালক এর চলচ্চিত্ররূপ দেন। চলচ্চিত্রটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হলে উপন্যাস ও ঔপন্যাসিকের খ্যাতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। কয়েকটি ভাষায় উপন্যাসটি অনূদিতও হয়। অবশ্য সম্প্রতি উপন্যাসটির সার্বিক সাফল্য সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যও পরিলক্ষিত হচ্ছে।৩
সূর্যদীঘল বাড়ীর পটভূমি পঞ্চাশের মন্বন্তর, শ্রেণিবৈষম্য, সাম্প্রদায়িক অন্ধত্ব, সাতচল্লিশের দেশবিভাগজনিত আশা-আকাক্সক্ষা এবং তার অপমৃত্যু, হিংসা-বিদ্বেষ এবং চিরন্তন প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে বারবার মনে পড়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র লালসালু উপন্যাসের বিষয় ও শিল্পাঙ্গিক, জসীমউদ্দীনের গ্রামবাংলার জনজীবন এবং সমাজসচেতন-মানবদরদি শরৎচন্দ্রের কথা। খানিকটা সাযুজ্য থাকা সত্ত্বেও আবু ইসহাকের জীবনদৃষ্টি ও শিল্পসৃষ্টি ভিন্নমাত্রিক। নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রেনযোগে ঢাকা যাবার পথে লেখক দেখেছেন বহু অভাবী মেয়ে ময়মনসিংহে যায় চাল কিনতে এবং ফিরে আসে বিকেলের ট্রেনে। এদের সংগ্রামশীল জীবন থেকেই ইসহাক নির্মাণ করেন সূর্যদীঘল বাড়ীর জয়গুন চরিত্র। কাজেই এ উপন্যাস লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ফল।
সূর্যদীঘল বাড়ী ৪ উপন্যাস শুরু হয়েছে এভাবে, ‘আবার তারা গ্রামে ফিরে আসে।’৫ এই ‘তারা’ হচ্ছে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষ, যারা দুমুঠো ভাতের আশায়, বাঁচার তাগিদে শহরে গিয়েছিল Ñ কিন্তু আশাহত হয়ে ফিরে আসে। সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসে জয়গুনও। তার প্রথম স্বামী জব্বর মুনশী। সে-ঘরের সন্তান হাসু। জয়গুনের দ্বিতীয় বিয়ে হয় করিম বকশের সঙ্গে। এ পক্ষের সন্তান মায়মুন, কাসু ও একটি ছোট মেয়ে। শিশু মেয়েটি দুর্ভিক্ষে মারা যায়, অভাবতাড়িত করিম বিনাদোষে তালাক দেয় জয়গুনকে, কাসু পুত্রসন্তান বলে মায়ের স্নেহবন্ধন থেকে ছিনিয়ে নিজ-দখলে রাখে করিম বকশ। জয়গুন
সন্তানদের নিয়ে ওঠে পৈত্রিক পরিত্যক্ত ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’-তে। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িই উত্তর-দক্ষিণপ্রসারী। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, পূর্ব-পশ্চিমপ্রসারী বাড়িতে বসবাস ক্ষতিকর। কল্যাণ-প্রত্যাশী জয়গুন অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে ভণ্ড-ফকির জোবেদ আলীর তাবিজ বাড়ির চারপাশে পুঁতে দেয়, যেন কোনো অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে না পারে।
জয়গুন ছিল ধর্মভীরু ও পরদানশিন। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করেও সে সবার মঙ্গল চেয়েছে। সন্তানদের জীবনরক্ষার জন্যে কর্মের সন্ধানে তাকে পথে নামতে হয়েছে, আসতে হয়েছে পরদার বাইরে। ময়মনসিংহ থেকে কমদামে চাল এনে বিক্রি করে সামান্য লাভ হয়, মোড়লদের ধান ভেনে, ঘর লেপে কিছু আয় হয়, হাসু কুলির কাজ করে – এ দিয়েই কষ্টের সংসার চলে। কখনো-বা সুখের স্বল্প পরশ লাগে। ঈদের দিনে একটু মিষ্টিজাতীয় খাদ্য পেলেই ছেলেমেয়েরা মহাখুশি হয়। কিন্তু কাসুর জন্যে জয়গুনের মাতৃহৃদয় কাঁদে। বালিকা মায়মুনার বিয়ে হয়। আবার যথারীতি বাল্যবিবাহ-বহুবিবাহ নামক সামাজিক ব্যাধি ও অভাবের পীড়নে তার ঘরও ভাঙে। অন্যদিকে প্রাক্তন স্বামী করিম পুনরায় জয়গুনকে ফিরে পেতে চায়। তার ওপর কুদৃষ্টি পড়ে জোবেদ আলী ও গদু প্রধানের। গদু বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। জয়গুন
সন্তানদের আঁকড়ে সব প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে। ফলে তার সম্পর্কে নানা কুৎসা রটানো হয়। গদু প্রধান ভূত সেজে জয়গুনের ঘরে ঢিল ফেলে ভয় দেখায়। একরাতে ভূতবেশী গদুকে করিম বকশ ধরে ফেললে গদু প্রধানের বাহিনী তাকে হত্যা করে। অথচ, ‘সকলেই একমত Ñ সূর্যদীঘল বাড়ীর ভূত গলা টিপে মেরেছে।’ [পৃ ১৫৯] এবং ‘যে হিম্মত বুকে বেঁধে জয়গুন এতদিন সূর্যদীঘল বাড়ীতে ছিল, তা আজ খানখান হয়ে যায় এ ঘটনার পরে।’ [পূর্বোক্ত] ফলে ‘ছেলেমেয়েদের হাত ধরে জয়গুন ও শফীর মা বেরিয়ে পড়ে। মনে তাদের ভরসা Ñ খোদার বিশাল দুনিয়ায় মাথা গুঁজবার একটু ঠাঁই তারা পাবেই।’ [পূর্বোক্ত] তবু মনে হয় বাড়ির পাশের অনেক ঘটনার সাক্ষী তালগাছটা ‘যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আবার তারা এগিয়ে চলে …।’ [পৃ ১৬০] উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায়, ভাগ্য-উন্নয়নের লক্ষ্যে তারা গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়ে পুনরায় নিজ নিজ গ্রাম-ভিটায় ফিরে আসে। উপন্যাসের শেষে আবার অজানা ঠিকানায় পা বাড়ায়, কিন্তু গ্রাম-ঘরের মায়া ছাড়তে পারে না। এখানেই অন্তর্নিহিত রয়েছে নাড়ির টান, অস্তিত্ববাদী মানুষের বাঁচার সংগ্রাম এবং উপন্যাসের শিল্পসাফল্য।
ধর্ম নয়; ধর্মের অপব্যাখ্যা করে যারা অশিক্ষিত মানুষকে ঠকায় এবং আত্মস্বার্থ উদ্ধার করে, বিত্তের পাহাড় গড়ে Ñ তাদের বিরুদ্ধেই আবু ইসহাকের প্রতিবাদ। চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকের গ্রামপ্রধান ও ভুয়া পীর-ফকিরের নীরব নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে নারীসমাজ। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র জমিলা কিংবা আবু ইসহাকের জয়গুনের মতো গুটিকয় প্রতিবাদী নারী-চরিত্র ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থা-পরিবর্তনে এবং উপরিতলার ভণ্ড ব্যক্তিবর্গের ঘৃণ্য মুখোশ-উন্মোচনে সদর্থক ভূমিকা রেখেছে। উপন্যাসটির গঠনরীতি সহজ-সরল, ভাষা সাবলীল এবং বিষয়সাপেক্ষে আঞ্চলিক। যেমন, জয়গুনের মাতৃহৃদয় পুত্র কাসুর জন্যে ছটফট করলে ছুটে যায় তার কাছে, মুখোমুখি হয় তালাকদাতা স্বামীর; Ñ ঔপন্যাসিকের বর্ণনায় দৃশ্যপর্বটি এরকম :
জয়গুন মাথার কাপড় আরো টেনে দিয়ে দাঁড়ায়। নৌকা থেকে নেমে শিথিল বিবশ পা দুটোয় স্বাভাবিক শক্তি ফিরিয়ে আনবার আগেই করিম বকশের গম্ভীর গলা শোনা যায় Ñ খাড়, কথা আছে।
জয়গুন দাঁড়ায়। করিম বকশ বলে Ñ আমারে আর সুখে-শান্তিতে থাকতে দিবি না, দেখতে আছি। মায়ে-পুতে জোট কইর্যা আমারে পাগল বানাইয়া ছাড়বি তোরা। হাসুয়া হারামজাদা কদ্দিন জ্বালাইছে। আবার তুইও।
জয়গুন নীরব।
Ñ আমার সুখ তোগ চউখে সয় না? সাত সাতটা বচ্ছর দুধ ভাত খাওয়াইয়া ওরে অত ডাঙ্গর করছি। এখন চাও তৈয়ার আণ্ডায় উম দিতে?
জয়গুনের ইচ্ছা হয় বলে Ñ আণ্ডা তুমি পাড় নাই। আমার আণ্ডায় আমি উম দিলে তোমার এত পোড়ানি কিসের লেইগ্যা? ওরে দশ মাস দশ দিন পেডে রাখছি, তিন বচ্ছর বুকের দুধ খাওয়াইছি। তুমিই তৈয়ার আণ্ডায় Ñ
কিন্তু মুখ ফুটে একটি কথাও সে বলতে পারে না। [পৃ ৮৫-৮৬]
সার্বিক পর্যালোচনায় যথার্থই প্রতীয়মান হয় যে, ‘আপাত সহজ-সরল উপন্যাসটির গভীরে রয়েছে আধুনিক উপন্যাসের নানাবিধ সূত্র, যা জীবন্ত অথচ সহজে প্রত্যক্ষ নয়। সচেতন ও সহৃদয় পাঠকের পক্ষেই এই উপন্যাসের ভেতরের ‘জট’ খোলা সম্ভব। …বাংলাদেশের আধুনিক উপন্যাসের ধারায় সূর্যদীঘল বাড়ী অলক্ষে হলেও নূতন গতিধারা সঞ্চার করে এসেছে।’৬
সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস-প্রকাশের তিনদশক পর প্রকাশিত হয় আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ।৭ নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদী ও নদীকেন্দ্রিক জীবন নিয়ে বেশ কটি মূল্যবান উপন্যাস রচিত হয়েছে। কাজী আবদুল ওদুদের নদীবক্ষে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি, অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র কাঁদো নদী কাঁদো
তার দৃষ্টান্ত।
পদ্মার পলিদ্বীপ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় চরদখলের রাজনীতি, ঐতিহ্য আর ক্ষমতার লড়াই পরিলক্ষিত হলেও প্রথম উপন্যাসে বিধৃত শ্রেণি ও জীবিকার বৈষম্য, অভাব, অশিক্ষা, নারীলিপ্সা, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি সামাজিক ব্যাধি এখানেও উপস্থিত। ফজল-জরিনা-রূপজানের প্রেম, শারীরিক কামনা-বাসনা এবং তার বাস্তব প্রতিফলন বর্তমান উপন্যাসে সুস্পষ্ট। এরফান-ফজলদের প্রতিপক্ষ কুচক্রী ও চরদখলে পারদর্শী লাঠিয়াল জঙ্গরুল্লার হিংস্র উত্তেজনার মাঝেও বড় হয়ে উঠেছে স্নিগ্ধ প্রেমের উপাখ্যান।
গ্রামভিত্তিক, কৃষিনির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশের জনজীবন বড়ই বিচিত্র। এ জীবন যেমন সরল ও উদার, তেমনি কঠিন ও হিংস্রতায় ভরপুর। পলিমাটি উর্বর; ভালো ফসল ফলানোর উপযোগী। বর্ষার শেষে পদ্মার বুকে পলিমাটিযুক্ত চর বা দ্বীপ জাগলে তা দখলের লড়াই শুরু হয় তীরবর্তী প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের মাঝে। শক্তি, সামর্থ্য, শঠতা ও বুদ্ধির খেলায় কেউ বিজয়ী হয়, কেউ-বা পরাজয়ের গ্লানি মেখে এবং কোর্ট-কাচারির জালে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়। দুর্বল মার খায় সবলের হাতে। তবে প্রহার একেবারে প্রতিরোধহীন হয় না। ফলে ক্ষয়-ক্ষতির বোঝা দুপক্ষকেই বহন করতে হয়। ব্যক্তিক কিংবা সামূহিক অস্তিত্ব-রক্ষা ও প্রভাব-বিস্তারের যে-রূঢ়-বাস্তব চিত্র তা বর্তমান উপন্যাসের ঘটনাবৃত্তের প্রধান অংশ হলেও পাঠকচিত্তে প্রবল আসন দখল করে মানব-মানবীর শারীরিক ও মানসিক দুর্বার মিলন-রহস্য।
উপন্যাসের এই ঘটনাবিন্যাস আপাতভাবে অশ্লীল মনে হতে পারে, কিন্তু ঔপন্যাসিকের সংযমী বর্ণনায় তা প্রাসঙ্গিক বিবেচিত হয়। একই অনুষঙ্গের ধারাবাহিকতায় দৃষ্ট হয় একান্নবর্তী পরিবারে গৃহকর্তার দাপট এবং তৎকালীন সমাজজীবনের মর্মস্পর্শী ঘটনালিপি। পারিবারিক ইচ্ছায় ফজল-জরিনার বাল্যবিবাহ হয় এবং শারীরিকভাবে যোগ্য হয়ে-ওঠার পূর্বেই জরিনা স্বামীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেবল গৃহকর্তার নির্দেশে তালাকপ্রাপ্ত হয়েছে। বাবার নির্দেশেই ফজল রূপজানকে বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছে। কিন্তু জরিনা স্বামীকে ভুলতে পারেনি। তাই যৌবনপ্রাপ্ত জরিনা ভালোবাসা ও শারীরিক টানে গভীর রাতের অন্ধকারে গোপনে ফজলের শয্যাশায়ী হয়। এ ঘটনাধারা ও রচনাশৈলীর নিপুণতাকে কবীর চৌধুরী এপিকধর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।৮ অবশ্য এ মন্তব্য যথার্থ বিবেচনা না করারও যথেষ্ট অবকাশ আছে। রূপজান-ফজলের গোপন মিলনদৃশ্য ছাড়াও উপন্যাসের শেষ সংলাপটি সংযোজন কতটা প্রাসঙ্গিক হয়েছে? এখানে উপন্যাসের মূল বিষয়-গাম্ভীর্য খানিকটা কি ম্লান হয়ে যায় না? যেমন, ‘রূপজান ফজলের বুকের ওপর ঢলে পড়ে। ফজল তার দুই বাহু দিয়ে তাকে অপার স্নেহে, পরম প্রীতিতে জড়িয়ে ধরে বলে, আমরা জোড়াবান্দা কইতর-কইতরি। এই দুনিয়া জাহানের কেও আমাগো জোড়া ভাঙতে পারব না, কোনো দিন পারব না।’ [পৃ ২৪০] সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাসের নারীচরিত্রসমূহকে লেখক এভাবে শারীরিক ভাবনা বা যৌনতাড়নায় আক্রান্ত করেননি। সম্ভ্রম ও জীবনরক্ষায় তারা ছিল সর্বদা সংগ্রামশীল।
আবু ইসহাক চরিত্রানুযায়ী ভাষাপ্রয়োগ করেন। আঞ্চলিক সংলাপ-নির্মাণে তিনি পারদর্শী। পদ্মার পলিদ্বীপ উপন্যাসের পরিশিষ্টে পাঠকের সুবিধার্থে ঔপন্যাসিক তেরো পৃষ্ঠার আঞ্চলিক শব্দ-পরিচিতি সংযুক্ত করেন। দৃষ্টান্তমূলক আঞ্চলিক ভাষার উদ্ধৃতি :
‘এই যুদ্দু কি আর থামব না! কী তাম্শা শুরু করছে মরার যুদ্দু। চাউল মাংগা, রোসিন পাওয়া যায় না।’
‘হুনছি, কয়দিন পর চাউলও পাওয়া যাইব না।’
‘তয়তো মানুষ মইর্যা সাফ অইয়া যাইব!’
‘হ বাঁচনের আর আশা ভস্সা দেহি না।’
‘আমাগ কি অইব? আরেকজন আইতে আছে। তারে ক্যামনে বাঁচাইমু?’ [পৃ ২১৬-২১৭]
তাছাড়া তিনি প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া ও গ্রাম্যগীতির মাধ্যমে আবহমান বাংলার লোকজীবনকে রূপায়িত করেন, যা অবশ্যই উপন্যাসের ঘটনাধারা ও চরিত্রের মেজাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন, আকু মিস্ত্রি ঘরের চালায় কাজ করতে করতে গান ধরে :
যেই ঘর আমি বানাইলাম
মনের মতন সাজাইলাম
সেই ঘরেতে হবে না মোর ঠাঁই রে,
হবে না মোর ঠাঁই।
সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে
থাকতে হবে চিরতরে
সেই ঘরেতে আলো বাতাস নাই রে,
আলো বাতাস নাই। [পৃ ২০৮]
আবু ইসহাকের তৃতীয় প্রকাশিত উপন্যাস জাল।৯ এটি একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। উপন্যাসটি রচনার চৌত্রিশ বছর পর প্রকাশিত হয়। ইসহাক পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কাজ করেছেন। তখন টাকা জাল বা নকল করার একটি চক্র ছিল। এ চক্রের মুখোশ-উন্মোচন নিয়েই জাল উপন্যাস। গতানুগতিক নয়, নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভিন্ন স্বাদে রচিত এ উপন্যাস। গোয়েন্দার পেশাগত ঝুঁকিপূর্ণ কর্মব্যস্ততার মাঝেও গোপনে বেড়ে ওঠে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ইলিয়াস-রোকসানার প্রেম-প্রীতি। ব্যক্তিক, আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রিক দায়দায়িত্ব পালনশেষে উপন্যাসেরও সমাপ্তি ঘটে প্রায় পদ্মার পলিদ্বীপের মতোই, যেমন Ñ রোকসানা যখন ইলিয়াসকে বলে, ‘আমি এখন তোমার মুঠোর ভেতর।’ তখন ইলিয়াসের মুখে স্মিত হাসি। তিনি তাঁর দুহাত দিয়ে রোকসানার দুহাত আকর্ষণ করে ফিসফিসিয়ে বলেন, ‘মুঠোর ভেতর না, বুকের ভেতর’। এবং ‘ইলিয়াসের বুকে মাথা রেখে রোকসানা পরম প্রীতিতে তাঁকে জড়িয়ে ধরে।’ [পৃ ১০৮]
উপন্যাসের মতো আবু ইসহাকের ছোটগল্পের বিষয়ও সমাজজীবন, সভ্যতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যাশ্রিত। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ হারেম [১৯৬২] এবং মহাপতঙ্গ [১৯৬৩]। তাঁর গল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য রূপকধর্মিতা। এ পর্যায়ের সবচেয়ে সার্থক গল্প ‘জোঁক’ ও ‘মহাপতঙ্গ’। জোঁক যেমন নীরবে মানুষের রক্ত চুষে খায়, ভূমিহীন মানুষের শ্রমের ফসলও তেমনি করে ঘরে তুলে নেয় মহাজন। একপর্যায়ে চাষীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করে। ওসমান মহাজনের উদ্দেশে বলে, ‘রক্ত চুইষ্যা খাইছে। অজম করতে দিমু না।’
বিজ্ঞানের অবদান অনেক সময় আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়। প্রতীকধর্মী গল্প ‘মহাপতঙ্গ’ সে-লক্ষ্যেই রচিত। ফড়িংয়ের মতো উড়োজাহাজ বা বিমানকে বলা হয়েছে মহাপতঙ্গ। দোপেয়ে দৈত্যরূপী মানুষ একে বন্যা-মহামারির সময় কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করে, খাদ্য বহন করে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেয়। আবার হিংস্রতাবশত বোমা ফেলে মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে। চড়ুইপাখি পরিবারের জীবনাচরণ ও মৃত্যুর মাধ্যমে সে-সত্যই উপস্থাপিত। গল্পের শেষে নিঃসঙ্গ পুরুষ চড়ুই পাখির ধিক্কার মূলত মানুষের বিরুদ্ধে, যারা বিমানকে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে।
তাঁর ‘বিস্ফোরণ’ গল্পে মজুর-দম্পতির করুণ চিত্র, ‘প্রতিবিম্ব’ গল্পে নিম্নকর্মচারীর বিড়ম্বনা, ‘উত্তরণে’ দুধওয়ালার ব্যবসা শিল্পরূপ পেয়েছে। ‘পণ্ডশ্রম’ ও ‘পিপাসা’ ভাষা-আন্দোলন এবং ‘মৃত্যু সংবাদ’ ও ‘ময়না কেন কয় না কথা’১০ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প। এসব গল্পে লেখকের মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি প্রতিফলিত।
স্মৃতি বিচিত্রা১১ প্রধানত আবু ইসহাকের অমূল্য স্মৃতিসম্ভারে
সমৃদ্ধ গ্রন্থ। প্রচলিত স্মৃতিচারণ নয়, এখানে ‘ইলিয়াস’ নামক এক চরিত্রের মাধ্যমে চব্বিশটি স্মৃতিকথা গল্পাকারে উপস্থাপিত হয়েছে। গ্রন্থ-অন্তর্ভুক্ত রচনাসমূহে লেখকের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, বেড়ে-ওঠার ইতিবৃত্ত এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ স্মৃতি বিচিত্রা পাঠ করে জানা যায় গ্রন্থকারকে এবং তাঁর সময়ের সমাজ, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিচিত্র ও সমৃদ্ধ চালচিত্র। নির্মোহ ও সাবলীল তাঁর প্রকাশভঙ্গি।
আবু ইসহাকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একমাত্র নাটক জয়ধ্বনি।১২ নাটকটি অতিবাস্তব ও প্রতীকের সমন্বয়ে রচিত। মঞ্চাভিনয় কিংবা চলচ্চিত্র-রূপায়ণের চেয়ে নাটকটিকে সাহিত্য হিসেবে পাঠের
সফলতাই নাট্যকার অধিক বিবেচনা করেছেন। বাঙালির ওপর পাকবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন, রাজাকারদের অপকর্ম, বাংলার মানুষের প্রতিরোধ-সংগ্রাম কখনো বাস্তব চিত্রে; কখনো-বা জীবজন্তুর আদলে নাট্যায়িত হয়েছে। দুঅঙ্কবিশিষ্ট এ নাটকের প্রথম অঙ্কে মুক্তিকামী মানুষের মতো ময়না পাখিও ‘জয় বাংলা’ বলে জয়ধ্বনি তোলে। তাই জনৈক ক্ষেতমজুরের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, ‘যেই দ্যাশের পক্ষীও ‘জয় বাংলা’ কয় হেই দেশের মাইনষেরে অন্য দ্যাশের মাইনষে দাবাইয় রাখব ক্যামনে?’ [পৃ ৫২] পরের অঙ্কে, স্বাধীন বাংলাদেশে এ ময়না পাখিকে বঙ্গবন্ধুরূপী বিহঙ্গবন্ধু হিসেবে বলতে হয়েছে, ‘দোপেয়ে দানবেরা আমাকে বন্দি করে রেখেছিল। পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলিনি বলে কত নির্যাতন করেছিল। শেষে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। ওরাও আমাকে মারেনি। আর তোমরা আমাকে মারতে এসেছ, আমি বিহঙ্গকুলকে ভালোবাসি। ওরাও আমাকে ভালোবাসে। আমি এই অঞ্চলের বিহঙ্গকুলকে ঐক্যবদ্ধ করে রাক্ষস-খোক্ষসদের তাড়িয়েছি। এই অঞ্চলকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছি, স্বাধীন করেছি।’ [পৃ ৯৫] শেষ পর্যন্ত বিহঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ নাটকে স্বদেশ, স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার জনকের প্রতি আবু ইসহাকের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা লক্ষণীয়। প্রধানত, স্বাধীনতা ও মানবতার মহৎ চেতনাসঞ্চারী নাটক জয়ধ্বনি।
বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত আবু ইসহাকের সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড বাংলা ভাষার
চিরায়ত সম্পদ। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি নিরলস শ্রম ও
সাধনায় এ অভিধান-রচনার কাজ করছিলেন। এটি ভিন্নমাত্রিক এবং আভিধানিকের স্বআবিষ্কৃত নিয়মে রচিত, সংকলিত ও সম্পাদিত অভিধান। তাঁর তিরোধানে তৃতীয় ও পরবর্তী খণ্ডের কাজ অসম্পূর্ণ
রয়ে যায়।
দৈনিক সংবাদের সংবাদ সাময়িকীর এক সাক্ষাৎকারে আবু ইসহাক বলেছিলেন, সূর্যদীঘল বাড়ীর একটি, পদ্মার পলিদ্বীপের দুটি খণ্ড রচনা এবং একটি ইংরেজি অভিধান প্রণয়নের প্রবল ইচ্ছে আছে।১৩ তাঁর সে-ইচ্ছা পূরণ হবার আগেই তিনি পরলোকগত হন।
আবু ইসহাকের সমাজজীবননির্ভর উল্লিখিত সাহিত্যকর্ম এবং জীবনাদর্শ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ-শুদ্ধপথপ্রদর্শনে সহায়ক হবে। আমাদের শিল্পসাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে তিনি থাকবেন অম্লান।
তথ্যনির্দেশ
১. আবু ইসহাক, ‘অম্লান স্মৃতি’, স্মৃতি বিচিত্রা, সময় প্রকাশন, ঢাকা, ২০০১, পৃ ১১১।
২. পূর্বোক্ত, পৃ. ১১৬
৩. রফিকউল্লাহ খান, বাংলাদেশের উপন্যাস : বিষয় ও শিল্পরূপ, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯৭, পৃ. ৭২।
৪. আবু ইসহাক, সূর্যদীঘল বাড়ী, নবম সংস্করণ, নওরোজ
কিতাবিস্তান, ঢাকা, ১৯৭১।
৫. পূর্বোক্ত, পৃ ১।
৬. সৌভিক রেজা, ‘নতুন অনুসন্ধিৎসার আলোকে সূর্যদীঘল বাড়ী’, সুন্দরম্, ১২শ বর্ষ ৩য় সংখ্যা, ১৯৯৮, পৃ. ৫১।
৭. আবু ইসহাক, পদ্মার পলিদ্বীপ, তৃতীয় প্রকাশ, নওরোজ সাহিত্য সম্ভার, ঢাকা, ২০০১।
৮. কবীর চৌধুরী, ‘আবু ইসহাকের পদ্মার পলিদ্বীপ’, নির্বাচিত প্রবন্ধ, অনন্যা, ঢাকা, ২০০১, পৃ ২০৮।
৯. আবু ইসহাক, জাল, নওরোজ সাহিত্য সম্ভার, ঢাকা, ১৯৮৯।
১০. ‘ময়না কেন কয় না কথা’ গল্পের বিষয়গত সাদৃশ্য আবু ইসহাকের জয়ধ্বনি নাটকেও উপস্থিত।
১১. স্মৃতি বিচিত্রা, পূর্বোক্ত।
১২. আবু ইসহাক, জয়ধ্বনি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ঢাকা, ২০০১। ১৩. আমিনুর রহমান সুলতান কর্তৃক গৃহীত সাক্ষাৎকার।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.