হায়াৎমামুদ
-
সময়েরচিৎকার : মান্দেল্শ্তাম্
আমরা তো বেঁঁচে, দেশ আছে কিনা অনুভবে বোঝা ভার; আমাদের কথা দশ পা গেলেই শোনা যায় না ক’ আর। আলাপচারিতা যেখানেই চলে আদ্ধেক কথাতেই ক্রেমলিনে চড়ে-বসা পাহাড়ীর কথা উঠে আসবেই। কর-অঙ্গুলি ইয়া মোটা মোটা, কৃমি যেন, মেদে ভরা; যে-কথাই কয় নিখাদ সত্য দাঁড়িতে ওজন-করা। তেলাচোরা যেন দু’টি শুঁড় তার হাসি-হাসি মুখে চায়, ঘাড়-তোলা বুট ঝকমক করে সর্বদা চমকায়। তার চারিপাশ ছেঁকে থাকে সরুগর্দান নেতা মেলা কেঁচো হয়ে থাকে ওঠ-বস করে – সেই তার প্রিয় খেলা। কেউ শিস্ দেয়, কেউ ডাকে ম্যাঁও, কাঁদুনি গাইছে ফেউ; সব থামে তার এক হুঙ্কারে, ঠোঁটটি নাড়ে না কেউ। ডিক্রির পর ডিক্রি নাজেল – যেন ঘোড়া চাট মারে কুঁচকিতে কারো, কপালে, ভুরুতে, কারো-বা চোখের ধারে। ইচ্ছে মাফিক কল্লা কাটছে তার জল্লাদ-রব, তবু নিজ বুক গরবে ফোলায় ওসেতিয়া-পুঙ্গব। অন্তিম দু’ পঙ্ক্তির পূর্ব পর্যন্ত কবিতাটির উদ্দিষ্ট কে তা আভাসে-ইঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছিল বটে। ক্রেমলিনের পাহাড়ী লোকটির কথা আছে, আরশোলার গোঁফ-জোড়ায় চেহারার ছাঁদ ফুটে বেরোয়। সরুগর্দান নেতা যে মলোতভ্ তাও খুব অস্পষ্ট থাকে না। তবে, অমন সব কথা তো নির্বিশেষভাবেও বলা চলে কোনো বিশেষের দিকে আঙুল তাক্ না-করে। অন্তত আইনের ফাঁক কিছুটা রয়েই যায়। কিন্তু ‘ওসেতিয়া-পুঙ্গব’ বলার পরে রাখঢাক আর কিছুই রইল না। ওসেতিয়া হলো রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চলে জর্জিয়ার উত্তরে এক জায়গা। এখানকার অধিবাসীরা মূলত ইরান থেকে আসা, সে-অর্থে ঠিক জর্জীয় নয়। কথিত আছে, স্তালিনের দেহে ওসেতীয় তথা ইরানী শোণিতপ্রবাহ ছিল। কাফ্কাজ্ বা ককেশাস পার্বত্যভূমি, তাই ক্রেমলিনের পাহাড়ী স্পষ্টতই ককেশীয় স্তালিনকে বলতে চাইছে। গোপন রইল না যে, কবিতার লক্ষ্যভূমি ইওসিফ্ ভিস্সারিওনভিচ্ জুগাশ্ভিলি – সোভিয়েত ইউনিয়নের একচ্ছত্র অধিপতি, একনায়ক ‘স্তালিন’। আর তীরন্দাজ এক হতদরিদ্র ও হতমান, লাজুক, বেপথু ও প্রায়-কুশ্রী, কবি। নাম : ওসিপ্ এমিলিয়েভিচ্ মান্দেল্শ্তাম্। সম্ভাব্য পরবর্তী ঘটনাবলি আন্দাজ করা যায়। এবং অনুমানযোগ্য সমস্ত কিছুই ঘটেছিল, ক্রমান্বয়ে, ধাপে-ধাপে, ১৯৩৪-এর ১৩ই মে থেকে ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৮ পর্যন্ত। শ্বাসরুদ্ধ, মর্মান্তিক, অসহায় ও ক্রন্দ্যমান সে-কাহিনী পৃথিবীকে জানানোর জন্য কবিপত্নী নাদিয়েজ্দা ইয়াকভ্লিয়েভ্না মান্দেল্শ্তাম্কে দু’ খণ্ড বই লিখে বাইরে ছাপাতে হলো : ঐড়ঢ়ব অমধরহংঃ ঐড়ঢ়ব এবং ঐড়ঢ়ব অনধহফড়হবফ, অনুবাদ নয়, মূল ইংরেজিতেই। কবিতাটির রচনাকাল ছিল ১৯৩৩-এর নভেম্বর। গল্প চালু আছে যে, ওসিপ্ মান্দেল্শ্তাম্ কবিতাটি বরিস্ পাস্তের্নাকের ফ্ল্যাটে এক পার্টিতে পড়ে শোনান। ওসিপের স্ত্রী নাদিয়েজ্দা ওরফে নাদিয়া যদিও অনুপস্থিত ছিলেন সেখানে, এ ঘটনাকে স্রেফ গপ্পো ও প্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,…
