কবিতা
-
অপরূপকথা : এক
সৌরভ দে গন্ধর্ব এবং গান্ধর্বী নভোভ্রমণে যেতে যেতে ইচ্ছাবিচ্ছেদ স্থির করলেন তাঁদের বিবাহও ছিল ইচ্ছাবিবাহ একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে গন্ধর্ব গেলেন রাজহংসীদের সরোবরে, গান্ধর্বী পৌঁছলেন জঙ্গলের গভীরে কাঠুরেদের গ্রামে গন্ধর্ব এক রাজহংসীর চোখের দিকে তাকিয়ে ভুলে গেলেন গান্ধর্বীর কথা গান্ধর্বী এক কাঠুরের পুরম্নষগন্ধে মুখ রেখে ভুলে গেলেন গন্ধর্বের কথা…
-
নদীভাঙা নদীর সন্তান
মাহবুব সাদিক সে কিছু শুনেছে বুঝি সংগোপন ঘুমের গভীরে মেঘ যেন ডাকে গুরম্ন-গুরম্ন – দক্ষিণের অন্ধকার থেকে উত্তরের দিগমত্মপ্রামেত্ম ফুটতে ফুটতে যায় শব্দের টাটকা খই – নাকি পরশু-র যাত্রাপালায় গহরজানের গানে জাদুতে-পাওয়া মৈজুদ্দির দশটি আঙুল তবলায় এখনো তোলে প্রাণকাড়া ধ্বনির লহর? গহরের গান আর তবলার বোলে সেরাতে আসর মাত – জীবনের প্রাপ্তিপাত্র কানায় কানায়…
-
অজানায়
কালীকৃষ্ণ গুহ খেলাঘর বাঁধছি ভাবো খেলাঘর ভাঙছি আবার কে যে আজ খেলার সাথি জানি না, কী-ইবা জানি – না-জানার নির্জনতার কত-যে জ্যোৎস্নাধারা কত-যে তমালতরম্ন নিহিত প্রেমকাহিনি। তবুও খেলছি জানি ভাঙছি এক খেলাঘর গড়ছি অন্য আরেক খেলছি আপনমনে এই তো খেলার নিয়ম – অপরূপ খেলার সাথি বহুদূরে তার বসবাস খেলছি ঘোর অজানায়।
-
রবীন্দ্রনাথের প্রতি
মোহাম্মদ সাদিক ব্যারিস্টার হবার বাসনা থেকে আপনার বিলেত ভ্রমণ ইউরোপের নারীরা আপনাকে ঘিরে ধামাইল গেয়েছে! ভানুসিংহ ঠাকুরের তখন প্রকৃত অর্থে কৃষ্ণ হবার জোগাড়। অবশেষে আপনি হলেন লালন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট। সিনিয়র প্রফেসর সৈয়দ শাহনুরের সাথে আপনার দেখা হয়নি। তাতে কীইবা আসে যায়? প্রাচীনকালে আর্যদের ধারণা ছিল বঙ্গের লোকজন পাখির ভাষায় কথা বলে মুঘলরা একসময় ভাবত বঙ্গে…
-
সৌভাগ্য
মোহাম্মদ রফিক অসমাপ্ত কাব্য ফেলে চলে যাওয়া মানব নিয়তি, দুর্ভাগ্যের অবসান কবে হবে জানে না তো ক্ষিতি; তবু-বা সৌভাগ্য এতটুকু, অবশেষ রইবে যা অমস্নান চিরায়ত কিছু নয় যা ধন বা মান কর্মের হবে না অপমান! অনিঃশেষ বেদনার দান করে গ্রহণ বর্জন মৃত্যুহীন নয় প্রাণ যেটুকু-বা রয়ে যাবে পদক্ষিপ শব্দে ও বাণীতে বিলায়…
-
সূর্যজন্মের দিকে
অলোক সেন এখন, সূর্যজন্মের আগে চাপচাপ অন্ধকার ঢেকে বসেছে টবের গাছে, বারান্দায়। নক্ষত্রসভার সদস্য হতে চায় – এই আবেদনপত্রসহ একাকী অমলিন মৃত্যুর দরজায় কড়া নাড়ে আর হাই তোলে। জীবনের বাড়ি যাবে শরবত খেতে তোমাকে তা কি করে বলে, এবার ভূত ও ভবিষ্যতে কড়া নাড় কবি। বিদায়, সূর্যজন্মের দিকে – সে বলেছে…
-
মমি ও মর্মরিত ধ্বনি
রাহমান ওয়াহিদ শিল্পী, তুমি দারম্নণ আঁকো, নিখুঁত পরিপক্বতায়। মুজিবের ধূমায়িত পাইপের দ্রোহী উদ্গিরণ নূর হোসেনের অবিস্মরণীয় খোলা বুক বিস্ফোরণ এমনকি মোনালিসা হাসির অবাক সিম্ফনিও তোমার রংতুলিতে নিখুঁত হয়ে ওঠে, যেন তুমিই সদ্য জেগে ওঠা পিকাসো, অনন্য কাইয়ুম। সেই তোমার রংতুলিটা এমন বিবর্ণ, ডিমশাদা কেন? আমার মুখের ফ্রিকোয়েন্ট বিবর্তনে বিব্রত কি তুমি? ধরতেই পারছো…
-
সবুজ কথা
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া তুমি সবুজ না দেখে পারবে না। তুমি সবুজ না থেকেও পারবে না। সবুজ তোমাকে দেখতেই হবে এত গাছপালার সামনে। সবুজ তোমাকে থাকতেও হবে তাই বুঝি! এরপরেও কথা থেকে যায় অনেক – এত সবুজ সামনে সমুদ্রের মতো সবুজকে দেখি না তবু। বিষাদের কালো ছায়া মনটাকে গেলে। মাতাল চাতাল সবুজ হারিয়ে যায় কিছু সময়ের…
-
দুটি কবিতা
হেনরী স্বপন বাউল বাড়ির দাদু কবিরাজ বাউল বাড়ির পাশে পলস্নবিত কাননে কুসুম গাছ, সারি-সারি বাহারি পতঙ্গ ছড়াচ্ছে পরাগ – অপরাজিতার চেয়ে গাঢ়… আরো লাল ক্যামেলিয়া ফুটে অবাক হয়ে উঠলে আজ, বিছানায় সেই ফুলতোলা দিদার চাদরে ঘুমিয়ে রয়েছে দাদু কবিরাজ। বাউল বাড়ির ফটো কাগজিলেবুর গন্ধে ফিরিয়ে আনলে বোলতার গায়ে পরা…
-
শ্রাবণাতিরেক
মলয় ভট্টাচার্য এক এ মাহ শ্রাবণ আসি কলিজা জুড়াল গলায় পরাল ফুলমালা সেসবই এবার সিন্দুকে তুলে রাখি নিন্দুকে যা বলে বলুক। যত বলাবলি সবই ধূলিতে লুটায় বৃষ্টি শুকায়, দৃষ্টি হয়ে আসে ভঙ্গিভারে নত রাখাল বালক ঝরাপালক কুড়ায় দড়ি ছিঁড়ে ওই তার শহর পালাল। এ মাহ শ্রাবণ মুখ ঘরকে ফিরাল পুড়িল বিরহে পিপীলিকা…
-
যাত্রা
সাজেদুল আউয়াল আর কিছুই চাই না – ওই সড়কটি ধরে হেঁটে যেতে চাই কেবল। পাশে থাকুক শাপলা-ফোটা জলাশয়, দুধকলমির ধাম, কুঞ্জলতার বন; দূরে থাক গৃহস্থের ঘর-গেরস্থালি, পাথরকুচির ফুল, আকাশে ভাসুক বৃষ্টিবতী মেঘ। কলাগাছের পাতা নড়ুক বাতাসে। আরো দূরে ধানক্ষেতে নতমুখের কৃষক থাকুক নিড়ানি হাতে। গোয়ালঘরে যেতে-যেতে কোনো এক রমণী ঘোমটা সরিয়ে কিছুটা দেখে…
-
স্বপ্নের ভেতর
সরকার মাসুদ স্বপ্নের ভেতর মূল্যবান কিছু একটা খোয়া যায় বালাজন নদীর ওদিকে শীর্ণ-শীর্ণ জিগা গাছ স্বপ্নের ভেতর তার কাঁচা পাতা ঝরে যায়! কেউ একজন সারারাত বাথরম্নমে পানি নাড়ে ঘুমের ভেতর পাগলের মতো হাঁটে কাচের বাক্সে লাল-নীল ছোট মাছ সাঁতরায় পাতাঝরার ক্ষতি আমি টের পাই হাড়ে-হাড়ে। সব তারা ঘুমানোর পর রাত একটা বিশাল…
