ছোট গল্প
-
ক্লাউনের মতো কাঁদছি
বো র হা ন উ দ্দি ন খা ন জা হা ঙ্গী র পারভীন ওয়াইন সিপ করতে করতে গান শুনছে। এই গান আমাকে ও পারভীনকে পেছনের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিচ্ছে। পেছনের দিন। হায়রে পেছনের দিন। আমি ওয়াইন সিপ করতে থাকি, আর পারভীনকে দেখতে থাকি। আমার বন্ধু পারভীন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বন্ধু পারভীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে পারভীন…
-
মিরুজিন নদীর তীরে
ইকবাল আজিজ ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হাজি মাহবুব আলী আজ দুপুরেও ভাবছিলেন, তার আগামীদিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে। এরকম তিনি প্রায়ই ভাবেন। তার ছোট্ট রাজনৈতিক দলটির নাম ‘নয়া বাংলা কৃষক-শ্রমিক জোট’। বাংলাদেশের অসংখ্য নামগোত্রহীন রাজনৈতিক দলগুলোর মতো এও এক প্যাডসর্বস্ব সংগঠন। মাহবুব আলীর সঙ্গে যারা সন্ধ্যাবেলা মদ খান, তার মতো কুরুচিপূর্ণ যারা এবং যারা প্রায়…
-
তুঘলক
সাদিক হোসেন ঠিক এই মুহূর্তে ১০০ পাওয়ারের বাল্বের নিচে শুয়ে তুঘলক বুঝতে পারে, এই হাওয়ালাতের ভেতর, এই হাওয়ালাতের ভেতর গরাদের গা থেকে বেরিয়ে আসা আলো, ও সেই আলোর পরিপ্রেক্ষিতে তার চোখের দিকে ধাবমান কালারগুলো, খৈনি ঝাড়ার শব্দ, লাঠির ঠুকঠাক, এটাসেটা সবই আসলে ওই ১০০ পাওয়ারের বাল্বের গায়ে জাপ্টে থাকা ধুলোর মতো, শ্রেণিশত্রম্নর পকেট কেটে পাওয়া…
-
খেলনা
তৃষ্ণা বসাক বিছানায় শুতে গিয়ে চমকে উঠল নিখিল। তার বালিশের পাশে একটি নারীমু-। সোনালি চুল, নীল চোখ, পাতলা গোলাপি ঠোঁট আর হলুদ জবার মত গায়ের রং। কে এ? খুব গরম পড়ায় আজকাল মশারি টাঙায় না আর। তাই সেই নারীমু- খুব স্পষ্ট করেই দেখতে পেল নিখিল, মশারির জালে তা আবছা হয়ে গেল না। মশার ধূপ জ্বলছিল।…
-
রুস্তম সিংয়ের তরবারি
বিশ্বজিৎ চৌধুরী জোড়দিঘির ভাঙা ঘাট পেরিয়ে বাড়ির প্রায় কাছাকাছি এসে সে দেখতে পেল কৃষ্ণা দাঁড়িয়ে আছে। রাত বাড়লে মাঝে-মাঝেই এসে দাঁড়ায়। কেন যে দাঁড়ায়! হয়তো টলোমলো পায়ে, কিন্তু এতটা পথ যে লোকটা দিব্যি হেঁটে চলে আসতে পারল, বাকি সামান্য পথটুকুর জন্য তাকে আগ বাড়িয়ে নিতে আসা কেন বুঝতে পারে না নীলকমল। নেশা করে বাড়ি ফেরে…
-
সন্নিধান : অনন্ত খনিজ
হাসান হাফিজ সুরলোকে আলোর মূর্ছনা আছে আত্মলয়ও আছে এ বন্দিশ কোনোদিনই ফুরাবার নয় রাগমালা ভুল (?) করে তোমাতে মজেছি, ভজন সাধন সিদ্ধি সে-কারণে হলো না হলো না! ধ্রম্নপদ সংগীতে আছে অনন্ত খনিজ সূক্ষ্ম মিহি অন্তরীণ বেদনাদহন ঐশিতার ধীরলয় ওঠানামা তান মর্মের মরমে পশে নতুন চরের মতো সুরলোক আবিষ্কার করি, মৃত্যুস্বাদ করি পান তারিয়ে তারিয়ে…
-
ৎ
অরিন্দম বসু পিউদের বাড়ির বেড়ালটা ছেলে কিন্তু ওরা তাকে সোনা মা, লক্ষ্মী মা বলে ডাকে। এমনিতেই ওদের বাড়িটা আমার ছিটিয়াল মনে হয়। চার বোন। কারো বিয়ে হয়নি। বড় তাপসীদি – ঘুরে-ঘুরে কমিশনে আলতা-সিঁদুর বিক্রি করে। চল্লিশ-বেয়াল্লিশ তো হবেই। মেজ তনিমাদি ছত্রিশ-সাঁইত্রিশ। বাজারে যায়, মুদি সামলায়, রেশন তোলে, কেরোসিন ধরে, রান্না করে। মেজ খেয়ালি তিরিশ-একত্রিশ। অ্যাডহেসিভ…
-
দুয়ারে প্রস্তত গাড়ি
আফসানা বেগম জানালার শিকের ফাঁক দিয়ে দেখলাম ভাড়া করা মাইক্রোবাসটা গেটের সামনে দাঁড়ানো। দোতলা থেকে গাড়ির ছাদটা পরিষ্কার দেখা গেল। দুটো-তিনটে স্যুটকেস সেখানে এঁটেই যাবে, বাকি আমরা দুজনসহ ভেতরে। বড় আসবাবগুলো ট্রাকে ভরে পাঠিয়ে দিচ্ছিলাম তিনদিন ধরে। রাস্তার মাথায় একটা ছোট্ট সাইনবোর্ডে লেখা, ‘ট্রাকে ট্রাকে মালামাল পাঠানো হয়’। যেমন বারবার ট্রাকের কথা লিখেছে, তেমনই বারবার…
-
বাঁশরি আর ওরা
অর্ণব রায় সুয্যি উঠে পড়েছে। বাঁশরিও উঠে পড়ে। না উঠে উপায় আছে? ওদের মধ্যে অনেকে সকাল হতে-না-হতেই উঠে পড়ে যে। কেউ-কেউ অবশ্য বেলা দুপুর গড়িয়ে দেয় উঠতে-উঠতে। কেউ আবার উঠে পড়ে, তবে ঘণ্টাদুয়েক যেতে-না-যেতে ঘুমের দেশে তলিয়ে যায় আবার। বাঁশরি চেষ্টা করে সারাদিনে অন্তত একবার হলেও সকলের কাছে যেতে, সকলকে দেখা দিতে। শুধু গেলে তো…
-
ফণীন্দ্র
মাদ্রাসার ভিটেয় উঠতে গিয়ে সিঁড়িতে এক পা রেখে থমকে থেমে যায় ফজল। ভবনটি ছিল একতলা। এখন দোতলা ভবনে সবলসিংহপুর সিনিয়র মাদ্রাসার নামফলকটি শোভিত। সে যখন দেখেছে তখন ছিল জুনিয়র মাদ্রাসা; স্থাপিত ১৯২৬। একতলার রূপটি ছিল হালকা-পাতলা ছিমছাম। এখন ভার বেড়েছে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে। একটু অচেনা মনে হয়। এখানে সে পড়েনি। গুরুত্বটা বেশি বাবা পড়েছেন বলে।…
-
মধ্যরাতে তসিলদার
সৈয়দ শামসুল হক গল্পপট। পট খুলে যায়। বিস্ময়ের মধ্যে বিস্ময়, আর কারো নয়, জলেশ্বরীর সবচেয়ে হতভাগা গরিবুল্লার মুখ ভেসে ওঠে। আমাদের এ-তল্লাটে সবচেয়ে নিরীহ সবচেয়ে নিরুপদ্রব সবচেয়ে একা মানুষ এই গরিবুল্লা। ছিল তারা এগারো ভাইবোন, বাপ মরার পর ছোট ভাইবোনেরা বলল, তুই তো চাইরের চার বচ্ছর বাপের কোলে একাই উঠিছিস, মায়ের কোলও মুখ রাখি নিন্দও…
-
মনগড়া কুকুরের কনে দেখা
সৈয়দ শামসুল হক অন্তত এখন ভয়ের এমন একটা রূপ ফুটেছে যে, দিন যত বাড়ে ততই সে প্রকাশ হয়ে পড়ছে। আমাদের বন্ধুটির নাম ছিল মকবুল। ব্রিটিশ আমল হলে তাকে নকল কুত্তা বলা যেত। কেন? এক – বাঙালি পাদরি এসেছিলেন জলেশ্বরীতে, নলিনীকান্ত। বরিশালের এক বিশেষ স্কুলে তার শিক্ষা শুরু হয়। তার স্ত্রী শ্রীমতী কল্যাণী দাসি আমাদের হাসপাতালের…
