কবিতা

  • জল পড়ে পাতা নড়ে

    ইমরোজ সোহেল   ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’… আমি তো নড়ি না পাতার মতন আমি পেতে আছি পাটি তুমি জল হয়ে পড়ো আমার ঘাঁটিতে আমি নড়ে নড়ে খাঁটি হয়ে যাই!   খাঁটি হওয়া এতই সহজ? সবকিছু ভরে আছে খাদে, সোনা-দানা তাও সত্যের ভেতর খাদ খাদভর্তি হাড়ে গড়া মিথ্যার পাও দুঃখ এক কোণে পুষে রাখে জলজ্যান্ত খাদ…

  • এক বৃষ্টির বিকেলে

    সুহিতা সুলতানা   এক বৃষ্টির বিকেলে পর্যাপ্ত শীতও ছিল চারপাশে সৌন্দর্যের বরফকুচি ক্রমশ ঢেকে দিচ্ছিল রাতের পূর্ণ চাঁদকে! তৃষ্ণার্ত কবি জ্যোৎসণাহীন সমুদ্রের নির্জনতায় একটু একটু করে নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠে। দূরে বহুদূরে আগলে রাখে পথের আল। ভিন্ন চোখে যা দেখা যায় অসংখ্য বালুরাশি জীবনকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। আনন্দহীন অদ্ভুত অতীত গ্রামে প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য নেই সে…

  • দুটি কবিতা

    অমিতাভ মৈত্র   প্রজাপতিদের শান্ত করে দাও   সারাজীবন দৌড়ে ঘড়িকে পরাভূত করে শেষ পর্যন্ত মোট এগারো দিনের মতো সময়টুকুই টেনেটুনে বাঁচাতে পারবে হয়তো।   কিন্তু এতগুলো বছর একবারও হাওয়া আর ঘাসদের না শুনে প্রজাপতিদের শান্ত না করে এই পরিত্যক্ত অসহায় আর নির্জন এগারোটা দিন তোমার কোনো কাজে আসবে হেনরি!   একটি হাতের অন্যায়  …

  • সময়ের আয়নায় ১৭-কে আমি ৭১ দেখি

    তারিক সুজাত   রাষ্ট্র যখন প্রতিদ্বন্দ্বী কী আর করা! তসবির দানার বদলে যারা আমার পূর্বপুরুষের খুলি দিয়ে জপমালা গেঁথেছিলো তাদের দাড়ি আর আলখালস্নায় আকাশ কালো করে এ-বৈশাখে ফের ঝড় ওঠে! রুগ্ণ সংবিধানটিকে যেদিন ধর্মের পোশাক পরানো হলো সেই মুহূর্তেই নগ্ন হলো মাতৃ-প্রতিভূ শহিদমিনার, ’৫২-র উৎসভূমি থেকে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে আসে প্রতিবাদী বর্ণমালা!   সময়ের…

  • দাগি

    শামীম আজাদ   দ-প্রাপ্ত দাগির মতো ভিন দেশে ভিন্ন সিথানে শুয়েও চমকে থমকে উঠছি বাংলাদেশের বিবিধ সময়ে।   দারুণ এক অভ্যাসের দায়ে জন্মদাগে বারংবার অশ্রুত গান্ধারে স্পৃষ্ট হচ্ছি আঘাতে আঘাতে কেঁপে  উঠছি নিরন্তর।   কান থেকে গহনা ছুড়ে ফেলেছি নির্ধারিত সেইসব ক্ষণ, সময় ও তারিখে সুস্পষ্ট শুনছি ওই দূরের রক্তচাবুকের শব্দ আর ছলকে উঠছি পরিযায়ী…

  • মেঘেরা ভাবে, সার্কাস!

    মিনার মনসুর   কাচের চেয়েও ভঙ্গুর যে-জীবন আমি তাকে নিয়ে সংশয়ের সূক্ষ্ম সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যাই। আশায় আশায় থাকি, যদি মেঘের দর্পণে বিম্বিত হয় তার অদেখা মুখখানি! সে খুব মজা পায়। ঘাড়ে বসে ডিগবাজি খায়। থুথু দেয় নাকে-মুখে। পরক্ষণে স্যাঁতসেঁতে অষ্টপায়ের ফাঁস বানিয়ে বানরের মতো ঝুলতে থাকে আমার গলায়। কানে সুড়সুড়ি দেয়। নিচে নদী…

  • কবিতা সবসময় সত্যিকথা বলে

    রবিউল হুসাইন   ভালোবাসা দুই রকমের – মনোমিলনের আর মনোমালিন্যের   বিয়েও এমনতরো হয় প্রেমও অথবা হয় না হলেও ভেঙে যায় কখনো কখনো   এমতো বিয়েও দুই ধরনের – মূলত মেয়েদের জন্যে বন্দোবস্তের এবং বসত্মাবন্দির পছন্দ থাকে না কোনো   সাধারণত এই পুঁজিবাদী সামন্তচক্রে ভালোবাসা বা বিয়ে একটি উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষণতার সমাজতাত্ত্বিক ব্যবসা হিসেবে সেই আদিকাল…

  • তোমার গল্প

    শ্যামলকান্তি দাশ   কীভাবে আসরে গল্প নামাও তুমি, কোথা পাও এতো জ্বালা, পোড়া, দগ্ধানি, কোত্থেকে আনো অত মাখো মাখো প্রেম, এত সংঘাত… এতসব হানাহানি!   কীভাবে গল্প এত ছিলা- টানটান, কোথা পাও শ্যাম-শ্যামাঙ্গিনীর কথা, সংক্ষক্ষপে বলো, আরো বেশি সংক্ষক্ষপে, কীভাবে ফাটাও জাদু ও বাস্তবতা!   ঈর্ষার চোখ… দাঁতে দাঁতে কিড়িমিড়ি, হাঁড়ি-কলসিতে লুকোনো বারুদ ফাটে, চাঁদের…

  • তলোয়ার মেলে ধ’রে মৃত সৈনিকেরা

    শিহাব সরকার খাপখোলা তলোয়ার মেলে ধ’রে মঞ্চ থেকে লাফিয়ে নামছে সারি সারি মৃত সৈনিক শোনোনি এই গল্পগাছা; সিনেমায় দেখে চমকে ওঠোনি, পর্দায় যে-ছবিমালা দৈনিক   ঘোরে আর ঘোরে অন্ধকারে সকালে সন্ধ্যায়? তার থেকে যোজন যোজন দূরে আরেক সত্য অন্য কোনো আকাশে তারা হয়ে যায়।   এখন মঞ্চে ধুলোর গন্ধ, আরশোলা হাঁটে পর্দা নেমে গেছে সেই…

  • শেষ মেয়েটি [কবি আসাদ চৌধুরী শ্রদ্ধাভাজনেষু]

    মাকিদ হায়দার   চৈত্র মাসের তিরিশ দিনে নিজের দেহ পোড়াই রোদে কেঁদে ভাসাই মনের যতো ক্লেদ যাতনা।   কেন পোড়াই, কেন ভাসাই, জানতো শুধু কাজীবাড়ির শেষ মেয়েটি, জানতো আরো বাঁশবাগানের পায়ের নিচে পড়ে থাকা মচমচানো বাঁশের পাতা।   কাজীবাড়ির শেষ মেয়েটি বলেছিলো, আর হবে না আগের মতো… শেষ করেনি পরের টুকু।   চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ,…

  • অকবিতা

    পলাশ দত্ত   এক বৃষ্টির মতো অন্ধকার; বাতাসে বিলীন হতে-হতে   একটা শাদা সকালে; স্বেচ্ছায় আবার, সূর্য হয়ে ফোটে;   দুই মরণোত্তর ছাউনির এক প্রামেত্ম, বসে নশ্বর নীরবতা।   বছরামেত্ম দেখে, তুমি নাই; অনমত্ম নিঃসঙ্গতা।   তিন শামত্ম ঠান্ডা সকালে; সামান্য পশ্চিমে অনিচ্ছুক হেলে;   অলস বৃমত্ম-দোলায় আগুন দিলে, অনিবার্য খরায়…

  • প্রেম

    নওশাদ জামিল   জীবন তো এক কানামাছি খেলা। যদি সাগরে লুকাবে, যদি সমাহিত হবে বালুকাবেলায়, তবে কেন অভিমান? প্রেমের সরণি ধরে হেঁটে যেতে যেতে চোখে পড়ে সবুজ বনানী, কুঁড়েঘর আমরা না হয় ওই ঘরে কাটিয়েছি দিনগুলি, আবেগের সেই মেঘগুলি হাওয়া এসে, রোদ এসে ভাঙিয়েছে ঘুম সবুজ পাতার ফাঁকে বসেছে পাখিরা ডেকেছে মধুর আর ঢেলেছে মধুর।…