কবিতা
-
আরো গভীরে আরো ভিতরে
শিউল মনজুর এখানেই শেষ নয়। সামনে রয়েছে আরো অসংখ্য রহস্যময় পথের বাঁক। রয়েছে সোনালি পথের ধূলি। বাঁকে বাঁকে শালিক, টিয়া, ময়না ও নানা রং পাখিদের মুখ রয়েছে লুকিয়ে। আর মনে রেখো পথের ধূলিতে উড়ছে দশকে দশকে হারানো ডাক পিয়নের চিঠি অথবা মার্বেল খেলার দিন। অথবা কোথাও কোথাও দাঁড়িয়ে আছে নক্ষত্র বেদনার পাঠশালা। এখানেই শেষ নয়।…
-
একটি ঘোষণা
চঞ্চল শাহরিয়ার লেখার স্টাইল চেঞ্জ হবে আগামী সপ্তায় নদী, মাছ, সমুদ্দুর ক্যাম্পাসের মিষ্টি বড় আপু সহপাঠীদের উজ্জ্বল হাসি, খামোকা রিকশায় ঘোরার দিন রেললাইন ধরে হেঁটে আসার সুখ গলির মোড়ে ফুরিয়ে যাওয়া বালিকা মসজিদের আজানের ধ্বনি দুঃস্বপ্নে কাটানো কৃষকের রাত ময়দানে নেতার ভাষণ ফিরে আসবে নতুন নির্মাণে। দীর্ঘকাল আমি-তুমি, তুমি-আমি অনেক হয়েছে একটু আলাদা…
-
রাধামোহনপুর
স্নেহাশিস পাল জীর্ণ সৌধে নামহীন মরশুমি ফুল প্রজাপতি খোঁজে কচি পাপড়ির মৃদু বাঁক দূরের মরমি ভাটিয়ালি-ঘেঁষা ঝুরো কূল গোধূলি-হাওয়ায় ট্যুরিস্ট-দল যে নির্বাক আমিও আহুতি, দুঃখ ঝরনা ঢালি শুধু কোন বিশ্বাসে সব পথ হয় নির্মাণ না-বুঝে সাজাই শুকনো পাতায় ধুধু পাগলের শিসে আহত পাখির শেষ গান অবহেলা আর খেলার মাঝে যে-সাঁকো সেসব পেরিয়ে…
-
দৌড়
দিব্যেন্দু রায় ছুটছে শহর, ছুটছে মানুষ, সকাল, দুপুর, বিকেল ছুটছে শতাব্দী, রাজধানী, দুরন্ত এক্সপ্রেস পাঁচতলা শপিংমলে জমেছে কেনাকাটা ঝকঝকে বিজ্ঞাপন আলোর রোশনাই তিনটে কিনলে একটা ফ্রি বাড়তি উপহার। সওদা করে ঘরে ফেরে ভিনগাঁয়ের চাষি বউ মন উচাটন, ধান মেলেছে রোদ্দুরে চড়ুই শালিক মেতেছে পিকনিকে। আকাশ ছুঁয়েছে টাওয়ার যেন শহরের অহংকার। …
-
মানুষ তুমি
মাহবুব বারী সংসারে আর একটি সংসার কেন পেতেছ এ কি তবে শুধু খেলা? সংসারে আর সংসারে এ-খেলাতে কোন বেলাতে কখন কোথায় থাকো যে মানুষ তুমি কেমন করে পার হও তুমি আবার আসো ফিরে দিনে-রাতে আসা-যাওয়ার পথে, কত শত মতে সঙ্গী পাবে কাকে, বন্ধু হবে কারা, গুরু হবে কে যে মানুষ তুমি পথের মতো যেতে…
-
আত্মসমর্পণের খসড়া
প্রবালকুমার বসু জলে ডুবে যাই, জলে ভেসে উঠি, চারপাশে কোলাহলে কাছে দূরে দেখি ঘর, বাড়ি, পাড় – শব্দেরা ভেসে চলে আমিও ঝাঁপাই শব্দের পিছু, কী নিয়ে লিখব তবে সময় ফুরোলে কিছু শব্দেরা মানেহীন ঠিকই হবে জলে ডুবে যাই, জলে ভেসে উঠি, জমাবে অভিপ্রায়ে জল থেকে দেখি শব্দগুলোকে মেয়ে এক লুকোতে চায় …
-
মানুষের কথা
শ্যামলকান্তি দাশ মানুষ বড়ো হচ্ছে। একটু একটু উঁচু। মঞ্চ থেকে যাতে লোকে দেখতে পায়। চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলছে। জিভ আলগা। দাঁত ফাঁকা। হুহু করে কথা বেরিয়ে যাচ্ছে। তার আঙুল ঘূর্ণ্যমান। পাখনা উড়ন্ত। উড়তে উড়তে সে এস্পস্ন্যানেড যাচ্ছে। পার্ক স্ট্রিট যাচ্ছে। খিদিরপুরের ট্রাম খুঁজতে খুঁজতে ফুটপাতে গলা ভিজিয়ে নিচ্ছে। তার গায়ে চুন। মুখে কালি।…
-
নিশিজন্ম
নাজমীন মর্তুজা যাক রজনীতে ঝড় হয়ে যাক তুমুল তোমায় বৃষ্টির গানে সাজাবো – সম্পূর্ণ রাতের শেষে প্রিয় পরিচ্ছন্ন ঘুমে! আমার অনিয়ম লাবণ্য সরোবরে আত্মার পূর্ণস্নান করো জেনে রেখো আমার শরীরের উপত্যকায় খুঁজে পাবে নিরাকার সত্য ও প্রত্যক্ষ বাস্তবের সন্ধিক্ষণ। আমরা উঠবো গগনতলে সমস্ত কুজ্ঝটিকাকে দূরে ঢেলে অযুত আঙুলের ছোঁয়ায় জ্বলে উঠবে শরীরে জল…
-
মমি ও মর্মরিত ধ্বনি
রাহমান ওয়াহিদ শিল্পী, তুমি দারুণ আঁকো, নিখুঁত পরিপক্বতায়। মুজিবের ধূমায়িত পাইপের দ্রোহী উদ্গিরণ নূর হোসেনের অবিস্মরণীয় খোলা বুক বিস্ফোরণ এমনকি মোনালিসা হাসির অবাক সিম্ফনিও তোমার রংতুলিতে নিখুঁত হয়ে ওঠে, যেন তুমিই সদ্য জেগে ওঠা পিকাসো, অনন্য কাইয়ুম। সেই তোমার রংতুলিটা এমন বিবর্ণ, ডিমশাদা কেন? আমার মুখের ফ্রিকোয়েন্ট বিবর্তনে বিব্রত কি তুমি? ধরতেই পারছো…
-
দুটি কবিতা
রঙ্গীত মিত্র রেললাইন তখনো নীলরঙা ট্রেনটি বিকেল নিয়ে আসেনি পাহাড়ের ঢালে সূর্য গড়িয়ে পড়েছে। যদিও আমাদের পায়ে, তুমুল শীতকাল অভিজ্ঞ গাছেদের সাক্ষী রেখে কুয়াশাকে ডেকে আনতে গেছে। অথচ এখনো তোমার স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজেনি। টাইমলাইনের মতো জেগে আছে পাহাড়ের নিচের রেললাইনটা। বিপদ জল নেই, ঝরনাও শুকিয়ে গিয়েছে। বৃদ্ধ ঘোড়ার মতো, পাহাড়ের শরীর…
-
পোশাক
কামরুল ইসলাম ব্যক্তিত্বের হ্যাংগারে ঝোলানো কারিকুলাম – এইসব পোশাক-আশাক মধ্যপ্রহরের প্রার্থনা বেয়ে ঢুকে পড়ে বসন্তের এলোমেলো বাগানে- পোশাক মূলত একরং থেকে আরেক রঙে যাবার সহজ উপায়, আর এই জাগতিক খেলা পাতাঝরার আকৃতি নিয়ে বনবাদাড়ের স্বপ্নের দিকে ওড়ে খোলা পথের চারপাশে বিবাহিত মনের কুমারীগণ বৈধব্যের পাঠ নিচ্ছে এমনই ছায়ায়। পোশাক কখনো জটিল জ্যামিতির অদৃশ্য থিওরেম…
-
দুটি কবিতা
একরাম আলি এক আমরা পাশের বাড়ি থাকি এ-বাড়িতে কেউ থাকে দুটো ছায়া নড়েচড়ে, ঘোরে কখনো লম্বা কখনো এইটুকু মা আর মেয়ে সারা দিন গান শোনা যায় সারা রাত থিতিয়ে থাকে গান পরী, ওগো শীতল হাওয়ার পরী ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ কার? মায়ের পোশাকে মেয়ে, মেয়ের পোশাকে মা ডানা মেলে ওড়ে, হাঁটে, তর্ক…
