কবিতা
-
চতুর্দশপদী ২০১৫
কালীকৃষ্ণ গুহ তমসাপারের গল্প তোমাকে বলেছি। পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাউলসাধক – তার গল্প, অবিশ্বাস্য, বলেছি তোমাকে যদিও তা অবিশ্বাস্য নয় বাসত্মবিক। ধীরে ধীরে শামত্ম হয়ে আসে বসবাস – ট্রেন ছাড়ে, কিন্তু কোথায় তা যাবে কেউ জানে না। তবুও ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। নিরম্নদ্দেশে যায় না কিছুই কোনোদিন। তমালগাছের গল্প দিঘির নির্জনে রাখা থাকে,…
-
জলকপাট
আমি সারা শহর তন্নতন্ন করে খুঁজেছি তাকে, না। সে কোথাও নেই তবে কি সে ব্রান্ডি আর নীল বস্নাউজের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে আছে? তার সাথে শেষ দেখা হবার আগে, তাকে এলোমেলো আর অর্ধমৃত ঘোড়ার মতো ঠাওর হয়েছিল! অদৃশ্য জলের রেখা ঢেকে দিয়েছিল তার নিখাদ মুখোশ। আমি লণ্ঠন হাতে তার অদৃশ্য পথের ওপর ভোরের আলোর…
-
মিছিলের নাম
দুলাল সরকার এই মিছিলের নাম দেব কী প্রথাবিরোধী? সূর্যমুখী ডানপিটে রাত, উলটো পথিক ঊরম্নর সন্ধি – কী নাম দেব ধ্রম্নবতারা, গভীর রাত্রি – গ্রন্থিমোচন? কী নাম দেব আকাশগঙ্গা নদীর ভাঙন-স্বরলিপি কত্থক নৃত্য? চরের কৃষক কী নাম দেব – রৌদ্রকণা ডানার গ্রন্থি নীল সরোবর গণসংগীত অনূদিত প্রেম – এসব কথাই মিছিলের নাম ডাকব…
-
অযথা
সব্যসাচী দেব চাঁদ ডুবে গেলে নীল নক্ষত্রের নিচে পৃথিবীর রূপকথা শুরম্ন নাকি শেষ! খাদের কিনারে যদি কিছু ভালোবাসা লিখে যাই, যদি তার সামান্যই রেশ নিয়ে তুমি হেঁটে যাও সীমানা ছাড়িয়ে তোমার অাঁচলে যদি ছায়াপথ থেকে আলো এসে মুখ রাখে, তুমি ফিরে যাবে জলের কিনারে শুধু পদচিহ্ন রেখে! রোদ উঠলে মুছে যায় সব জাদুমায়া;…
-
মধ্যরাতে হাওয়াবন্দরে
শিহাব সরকার শূন্যে উড়ে অলীক মধ্যরাত্রি দেখা যায় তখন মরূদ্যানের হামামে প্রচুর হিমজল গড়ায় এরকম প্রহর অনেকের আসে কিংবা আসে না, যেরকম বাগানের ঘাসে দু’কদম পেরিয়ে শিশিরকণা দেখার ভাগ্য হয়নি আমার, দেখেছি খুব পাহাড়-পরগনা। নিষ্ফল ঘোরা শুধু উপত্যকা ও অববাহিকায় ছড়িয়েছি মোহর রাশি রাশি পাড়া-বেপাড়ায়। নিশিলাগা নরনারী নির্ভুল পড়ে যেতে পারে সময়ের ত্যানা…
-
থিওডোর বস্নখ, ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ
গৌতম বসু বৃষ্টি মাথায় ক’রে উঠোন পার হতে দেখলেই তাঁর বউমা যতবার হাঁই-হাঁই ক’রে উঠতেন ততবার বেলামা সহাস্যে তাকে বোঝাতেন, ওরে, বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় পড়া মঙ্গল, বুদ্ধি গজায়। কামিনী স্টোর্সের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়েছিলাম পুরনো কথাটা সহসা মনে প’ড়ে গেলেও, স্যর ওটা বৃষ্টিপতন সংক্রামত্ম ক্ষণেকের মোহঘোর, অধুনা আমি আপনার কথাই ভাবি, ঘুরে-ফিরে কাজে-অকাজে আপনার কথা,…
-
পা দুটিকে বলি
মিনার মনসুর বন্ধুদের নিয়ে কে না গর্ব করে। একজন এইমাত্র বঙ্গোপসাগরকে ধরে এনে চেপেচুপে ঢুকিয়ে দিলো তার ব্যক্তিগত সুইমিংপুলে। দুর্গম দ্বীপে জন্ম। সমুদ্র তাকে কতভাবেই না হেনস্থা করেছে হতদরিদ্র শৈশবে! এখন তার শখ সমুদ্র পোষা। দ্বিতীয়জনের রক্তে মিশে আছে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্য। স্বভাবতই সে ইয়ার-দোসত্মদের নিয়ে ঘটা করে ঘুড়ি ওড়াতে পছন্দ করে। তাই একদিন সে…
-
মুহূর্তপল
অমিতাভ গুপ্ত আজো এই মহাবিশ্বদ্যুলোকের দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে অজস্র অজস্রতর মহাবিশ্বদ্যুলোকের কম্পিত দুঃখের মতো সেইসব অজ্ঞাত যুগ আর যুগামত্মর যারা আমাদের সবুজাভ গ্রহটির আঙিনায় পুটুসফুলের ঝাড়ে কলাবতী ঝোপে হৈমবতী প্রতিমাকে সাজিয়ে রেখেছে অন্যদিকে নীলকণ্ঠ। যেদিকে বেদনাহত ক্ষিপ্ত গরল যেদিকে আপন সজ্জা থেকে সর্বোত্তম ভুজঙ্গটি তিনিই মোচন করেছেন এই-যে মুহূর্তপল, আজো এর অমত্ম নেই,…
-
দুটি কবিতা
কামাল চৌধুরী প্রতিবিম্ব প্রতিবিম্বের চিৎকারে ভেঙে যাওয়া নিদ্রার পাশে তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছি আহত দৃষ্টি নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা নিয়ে দিগমেত্ম গভীর হচ্ছে মধ্যরাত সম্পর্ক রেখেছি তবু ভাঙা সংলাপে অসমাপ্ত, জাগরণে রক্তপাতহীন দূরত্বের গ্রামে কোথাও অঝোর বৃষ্টি কান্নার আগে যে জেগে উঠছে, এখনো সে অমুদ্রিত প্রেম। লবণ ঝরে পড়া ছায়া থেকে সামান্য…
-
আশা আর আসা
রবিউল হুসাইন কী এমন প্রত্যাশা যে আসতেই হবে প্রতিবার না এসেও তো আসা যায় মনে মনে আশা যায় আশা আসে বারংবার আসা যায় আসার আশায় বসা যায় সিংহাসনে আশা নেই আশা কখনো থাকে না অমন আসা-যাওয়ার মধ্যেই আশার সরল মন ওই যে বিন্দু বিন্দু আলো ওরা কারো নয় তেমন ওরা সবার ওরা খুব…
-
কান্না
শ্যামলকামিত্ম দাশ আগে খুব কাঁদতে পারতাম। রাজপথ ভিজিয়ে ভেউ ভেউ করে কাঁদতাম। ঝিরিঝিরি কান্নাগুলো ছিল দেখবার মতো। জঙ্গলে গোধূলি, তবু থামবার নাম নেই। এখন আর তেমনভাবে কাঁদতে পারি না। চোখ পাথর। বুক আইঢাই। মন ঝাপসা। কান্নাগুলো অমত্মঃপুরের রাসত্মায় থমকে দাঁড়িয়ে থাকে। বেরোবার রাসত্মা খুঁজে পায় না।
-
দাহ
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত প্রায় প্রত্যেকে চুলিস্নতে দেবে বলে এনেছিল কাঠ, অমিতেশ কোথা থেকে নিয়ে এসেছিল প্রিয়ঙ্গুশাখা, অরম্নণেশ এনেছিল কাকডুমুরের একখানি ডাল সুগন্ধে আমোদিত, আগুনে আমায় সেঁকবার মুখে আমি বলে উঠলাম : ‘কোথায়, তোমরা শিশুগাছ থেকে মঞ্জুরি আনোনি তো, তার ভালো নাম শিংশপা ফুল, কপিল বর্ণ তার, আরেকটি নাম ভস্মগর্ভা, ভস্মাবশেষ থেকে ছেঁকে নেয় সে তো দিব্য…
