কবিতা
-
বালক, তুমি একদিন
দূরপ্রান্ত বালক, আমি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি, একদিন কবি হবে তুমি। বাইচের নৌকোর টান তোমার শরীরে এখন তরতর করে উঠছে, বীজতলার সবুজ তোমার চুলে এখনই, তোমার শাপলা এখনি লাল, সরল স্বচ্ছ জল এখন নালার ওপর দিয়ে বহে যাচ্ছে, তুমি পা ডুবিয়ে, মাছের বা নক্ষত্রের ঝাঁক চঞ্চলতাই যেন এখন তোমার করোটিতে, গুঞ্জন করছে অরুণ পতাকা হাতে ভোর…
-
মৌন
কখনও কখনও মৌনই হতে পারে মানুষের প্রকৃত আশ্রয়, তার যোগ্য পথ হতে পারে সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যাওয়া; যদি হয়ে যেতে পারো থেমে-যাওয়া বাঁশির সংগীত হতে পারো নিস্তরঙ্গ সমুদ্রের ঢেউ, নৃত্য থেমে যাওয়া প্রশান্ত ঘুঙুর, শুধু তাহলে করতে পারো সব দুঃখ ভোলার প্রার্থনা। মানুষ বোঝে না, কখনও কখনও তার মৌনই হতে পারে একমাত্র ভাষা এই নিঃশব্দ…
-
ঘড়ির বাইরে, চিরদিন
চিরদিন ঘড়ির বাইরে থাকতে তো চেয়েছি, বন্ধু, হঠাৎ এমন কী হলো ঘড়ির ভেতরেই ঢুকে যেতে হবে এই আমাকেই এখন! বুঝি না জীবনাচার এমনটি হবে এই ক্ষুদ্র জীবের জীবনে, আর ধরো যদি এমনটি হয় ঘড়ি স্তব্ধ হয়ে যাবে— যেতে পারে, কারু পক্ষে সম্ভব হবে না এর ব্যতিক্রম করা!- জন্মাবধি ঘড়িকে অবজ্ঞা করে এসে আজ এই এতোটা…
-
ইচ্ছে হয় চাঁদটিকে ছিঁড়ে আনি
যে যায় তোমাকে ছেড়ে দূরে, বহুদূরে, প্রকৃতই সে কি চলে যায়? না, সে যায় না তোমাকে ছেড়ে অন্য কোনওখানে। সে-তো কখনো হঠাৎ ভোরবেলা সহস্র মাইল থেকে তোমার শয্যার পাশে এসে দাঁড়ায় প্রসন্ন মুখে এক লহমায়, স্মৃতিময় কথা বলে। যদি বলো কাউকে এ-কথা, নিশ্চিত সে গাঁজাখুরি গল্প ভেবে হেসেই উড়িয়ে দেবে, জানি। এ-ঘটনা বান্ধব মহলে রটে…
-
বিহানবেলায়
ধানখেতের ধারে কাঁটাতার। টানা কাঁটাতারের দুই দিকে এই বিহানবেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পরস্পরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দুইজন মানুষ। কেউই বলছে না কোনো কথা। ওরা প্রতিবেশী। মাঝে-মাঝে এইরকম হয়। মাঝে-মাঝে কাঁটাতারে আটকে থাকে বহতা সময়। কেউই বলে না কোনো কথা। মানুষ বলে না কথা, সমুদ্র ও নদীও বলে না। পাহাড় তো জন্মাবধি নির্বাক, কখনও সে কোনো ব্যাপারে…
-
হার মানি
সাধ ছিল যত, ছিল না সমান সাধ্য। আরাধ্য বেশিটাই তাই বাকি র’য়ে গেল। এলোমেলো কাজ যেখানে যা রেখে যাই তা নিয়ে বড়াই করিনি, করিনি আমি। জানে অন্তর্যামী। প্রাণে ছিল যত ভালবাসা, ভাষাহীনতায় সব শেষ হয়ে যায়। হায়, বলি বলি করে বলা যে হ’ল না। ছলনা সে নয়, নয় । কি ভয় আমার গলা চেপে ধরে…
-

পাবলো নেরুদার কবিতা, শতবর্ষে পুনঃপাঠ
পাবলো নেরুদার কবিতায় মহাসমুদ্রের নিনাদ শোনা যায়, বলেছিলেন স্পেনিশ কবি মিগুয়েল হারনান্দেজ। আমরা ঐ মহাসমুদ্রকে স্থান এবং কাল উভয়ের রূপকই ভাবতে পারি। নেরুদা শুধু চিলির এবং মধ্য বিশ শতকের কবিমাত্র নন, তিনি হয়ে উঠেছিলেন উপনিবেশিক তৃতীয় বিশ্বের যুগ পরম্পরার শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। একটা সময় ছিল যখন পাবলো নেরুদা সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে মায়াকভস্কির প্রতিস্পর্ধী ছিলেন জনপ্রিয়তায়; আফ্রো-এশীয়-লাতিন…
