ছোট গল্প
-
মনে করি এই গল্পটি গার্সিয়া মার্কেজের
পিয়াস মজিদ মহিমান্বিত আপনাদের আমি একান্ত গাবো। জ্যোতিঃপ্রভাময় সময়ে আমি লিখতে চেয়েছি তমসলেখা কারণ সূর্যের চেয়ে বেশি মালঞ্চে আমি অস্ত যেতে দেখেছি গোলাপগুচ্ছর। মাকোন্দোর ছলে আমি তো শুধু মাকোন্দোর কথাই বলিনি বরং আমার মাকোন্দো ছড়িয়ে আছে হাভানা থেকে হাতিয়া অবধি। যেখানেই ক্ষুধা, লুটপাট, মাফিয়া, স্বৈরাচার, গুণ্ডাপান্ডা, দুর্নীতি, সেখানেই অনিবার্য মাকোন্দো। ফি-সন মঙ্গা আর বন্যায় ভাসা…
-
দুপুর রাতের দিন
পারভীন সুলতানা কী দ্রুতই না পার হচ্ছি শহর-নগর-গঞ্জ, গ্রাম, হাট-বাজার, নদী-খাল আর সারবাঁধা ক্ষেতিখলা। সবকিছুই ঘুমন্ত এখন। মাঝরাতের ট্রেন ঘুমকাতর আধবোজা স্টেশনে কিছু কিছু মানুষ নামাচ্ছে বা তুলছে। ট্রেনের ভেতর যাত্রীরাও ঘুমে লতোপতো। ছুটে-চলা অধৈর্য ট্রেনটার ওপর রাগ হয় আমার। কাকচোখ জ্যোৎøায় ভেসে যাচ্ছে বাইরের দুনিয়া। কিন্তু দেখার উপায় কই! দুরন্ত গতির তোড়ে কী নদী,…
-
প্রফেসর পিটার এবং…
মালেকা পারভীন পিটার উইলিয়ামস বা এরকম কিছু একটা নাম-টাম হবে হয়তো। আমার ভালো মতো মনে নেই। তবে যদি কখনো তার ব্যাপারে আগ্রহ বোধ করি, নামটা ঠিকভাবে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবো নিশ্চিত। এখন ততটুকুই বলি যতটুকু ঘটেছে। অবশ্য বলার মতো আসলেই কি কিছু ঘটেছে? বুঝতে পারছি না। বাট, দ্যাটস অ্যান ইন্টারেস্টিং এনকাউন্টার, আই মাস্ট অ্যাডমিট। গতকাল…
-
দিল্লি বহু দূর
বদরুন নাহার আমার পা ক্রমশ শ্লথ হয়ে আসে, অথচ এতক্ষণ রেজওয়ানের আগে আগে হাঁটছিলাম। থেমে যাওয়ায় ও পেছন ফিরে এক ঝলক দেখে কোনো প্রশ্ন না ছুড়েই একা একা এগিয়ে গেল জামে মসজিদের অসংখ্য সিঁড়ি পেরোতে। সাধারণত এসব স্থানে থেমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক জেনে এসেছি। সেই ছেলেবেলায় আমপারা পড়তে ঢুকেছিলাম মসজিদের বারান্দায়। ছোট হুজুর পড়াতেন আলিফ ……
-
জন্মান্ধ দিনের শেষে
ইমতিয়ার শামীম ভরআশ্বিন গ্রামে অরিত্র কোনোদিন যায়নি। কিন্তু কবে যেন সেখানে সে যেতে চেয়েছিল। এমন নয় তা কথার কথা, সত্যিই সে চেয়েছিল তখনি রওনা হতে। যদিও পকেটে টাকা-পয়সা ছিল না তেমন (তখন তো টাকা-পয়সা থাকার বয়সও নয়!), তাছাড়া কেন যেন রেল-বাসও চলছিল না কোনো রুটে। তবে সত্যিই যেতে চেয়েছিল সে – মনে হয়েছিল, ভরআশ্বিন গ্রাম…
-
আবদুল আহাদের মুখ
স্বকৃত নোমান চৌত্রিশ বছর পর ক্যাপ্টেন সৈয়দ ওয়াসেত আলি করাচি জুমা মসজিদের অজুখানায় অজু শেষে সাদা লম্বা দাড়িতে হাত বুলিয়ে পানি ঝরাতে ঝরাতে তারই মতো সাদা লম্বা দাড়িওয়ালা, গায়ের রং বাঙালিদের মতো কালো, বেঁটেখাটো, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি ও পরনে সাদা লুঙ্গি পরা, দেখতে অনেকটা ডিসি আবদুল আহাদের মতো, বুড়ো লোকটাকে দেখে চমকে ওঠে। চেহারার মিল…
-
সত্য যখন মিথ্যাকে আলিঙ্গন করে
মাসউদুল হক তখনো আমাদের আকাশে সূর্য ওঠেনি। অন্য কোনো আকাশে ওঠা সূর্যের দু-একটা দুর্বিনীত রশ্মি আমাদের আকাশের অন্ধকারের সঙ্গে কাটাকুটি খেলায় মত্ত হয়েছে মাত্র। বড় আলস্যের সময় তখন। এমন সময় প্রচণ্ড গতিতে দুটি গাড়ির ব্রেক কষার শব্দ শুনে, আমাদের যাদের ঘুম পাতলা তারা, একটু নড়েচড়ে উঠলেও অন্য সময়ের মতো জানালা দিয়ে মাথা বের করি না।…
-
দ্য ট্রায়াল
কাজী রাফি জবুথবু গাছগুলোতে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো টলটল করছে। সংরক্ষিত এলাকার নির্জন গলিগুলোতে কেউ নেই। বিকেলের ম্লান আলোর সঙ্গে মেঘ-বৃষ্টির এই আধো-আঁধারি লগ্ন আরো মগ্নতায় প্রাচীন এক পৃথিবীর সঙ্গে ফিসফিস কথোপকথনে ব্যস্ত। কর্নেল নাদিম বিকেলের অবসরে দূর-আকাশের কোনো এক অসীম প্রান্তরে তাকিয়ে আছেন। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজ তাকে অনন্য এক বাণী শুনিয়েছেন – ‘ছোট ছোট ভুল…
-
জানালা অথবা বিবিধ মৃত্যুপ্রতীক্ষা
আবু হেনা মোস্তফা এনাম একাকী, নিঃসঙ্গ কথার নক্ষত্রবীথি মনের অতল আঁধারে লুব্ধক, চাঞ্চল্য আর অন্তহীন। অন্তহীন এ-কথা সে-কথার আশ্চর্য বুদ্বুুদ। কথা – কথা – কথা! কথা কী যে সব অদ্ভুত ম্যাজিক! কথার জন্যই পৃথিবীর যাবতীয় সভ্যতা, কথার ভেতর সভ্যতার নিস্তব্ধ ইতিহাসের নিগূঢ় প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের মর্মার্থ, কথার ভেতর পৌরাণিকের ঐশ্বর্য, কথার ধ্বনিপুঞ্জে সাম্প্রতিকের সৃজন-অভ্যুদয়, কথার…
-
চিহ্নহীন
মণিকা চক্রবর্তী সূর্যটা তখন সমস্ত আকাশ পারাপার করে পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। কোথা থেকে একটা প্রবল বাতাস এসে দুলিয়ে দিলো তার ঘাড়ের কাছে ঘামে লেপ্টে থাকা উদ্দাম চুলগুলোকে। চল্লিশ ফুট উঁচু বাঁশের ঝোলার ওপর দাঁড়িয়ে ঝুলতে ঝুলতে শাজাহান ভাবে, আইজকার লাইগ্যা কাম শেষ হইল। ঝুলতে ঝুলতেই সে তার শার্টের পকেটে রাখা বিড়িটি ঠোঁটে চেপে রেখে অতি…
-
মন-সংক্রান্তি
মনি হায়দার নাহার এমনিতেই সুন্দরী। অফিসে যাওয়ার সময় হালকা সাজলে চোখ ফেরানো কঠিন। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে ড্রয়িংরুমে ঢোকে। ড্রয়িংরুমে নিবিড়মনে পত্রিকা পড়ছে খালেদ। হাতে সিগারেট। মুখে আর নাকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি। নাহারকে দেখে পত্রিকা থেকে চোখ তোলে – অফিসে যাচ্ছো? হ্যাঁ। তুমি কখন যাবে? যাবো একটু পর। খালেদের কথায় হাসে নাহার। তুমি হাসছো…
-
ইও নলো সো
মাহবুব রেজা কয়েকদিন ধরে ব্যাপারটা হয়ে আসছিল। ও আমাকে সহ্য করতে পারত না। আমার জায়গায় ওর দেশের এক ছেলেকে ঢোকানোর জন্য শেফ নাশা আমার ওপর বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। আমার কাজে-কর্মে সামান্য ভুল হলে ওটাই বড় করে মালিকের সামনে তুলে ধরত আর যাচ্ছেতাই ভাষায় আমাকে গালাগাল করত। ইতালিয়ান মালিক অ্যান্তোনিও তখন শেফের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাকে…
