Event
-

কিস্সা বলেন শেহ্রজাদে
রবিশংকর বল \ ১২ \ বেশ কিছুদিন হলো, মাঝে-মাঝেই কিছুক্ষণের জন্য ঘুম ভেঙে যায় রঘুপতির। জেগে উঠে কখনো আকাশে চক্কর মারা যুদ্ধবিমানের শব্দ পায়, তারপরই কোথাও একটা বিস্ফোরণ। শোবার ঘরটাকে বাঙ্কারের মতো মনে হয় তার। আবার কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাতের শব্দ শোনা যায়, যেন দীর্ঘ সময়জুড়ে সে শুয়ে আছে আর মাসের পর মাস কেটে…
-
মা
রা শে দ র হ মা ন জোছনাবৃষ্টি শুরু হলেই মা আমাকে ডাকে…। দেশের আর কোথাও, কোনো গাঁ-ঘরে জোছনাবৃষ্টি হয় কিনা জানি না। কিন্তু আমাদের গাঁয়ে জোছনাবৃষ্টি হয়। প্রত্যেক পূর্ণিমায় জোছনাবৃষ্টির বান ডাকে গাঁয়ে। ঘরের চালে, খড়ের পালায় নৃত্য করে জোছনাবালিকার দল। সে এক দৃশ্য বটে! যাদের ওই নৃত্য দেখার চোখ আছে, সবার নেই; তারাই…
-
শৈল্পিক আত্মপ্রকাশ
জাহিদ মুস্তফা শিল্পের সঙ্গে ঘর করছেন চার দশক ধরে। দেশ-বিদেশে আয়োজিত নানা দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, গ্রম্নপ-শো করেছেন, কিন্তু একক প্রদর্শনী করেননি। এবারই প্রথমবার ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে তাঁর একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। প্রচারবিমুখ এই শিল্পী হলেন – সিদ্ধার্থ তালুকদার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ১৯৮৪ সালে চিত্রকলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতায় যোগ দেন রাজশাহী…
-
কবি সমর সেন ও তাঁর কবি-ব্যক্তিত্ব
সৌভিক রেজা মানুষের ব্যক্তিত্বের গড়নটা ব্যক্তিভেদে নানারকমের। আবার সেই ব্যক্তিত্বের যে-জোরের কথা আমরা বলে থাকি, সেটিও সবার সমান নয়। সমর সেন ছিলেন সেই ধরনের একজন মানুষ, যাঁর বেলায় ওই জোরটুকু নানাভাবে অনুভব করা যেত। আর সে-কারণেই যখন তিনি কবিতা লিখেছেন, তাঁর প্রতি পাঠক-সমালোচক মহলে একটা আগ্রহ বজায় ছিল; যখন তিনি অনুবাদ করছেন, গদ্য লিখছেন কিংবা…
-
হলদে ফুলের বিকেল
পা প ড়ি র হ মা ন চৌকোনো আরশির ভেতর দিয়ে সাত্তার মিয়া একজোড়া চোখ দেখেছিল। চারপাশে তখন এতটাই হুলস্থূল আর ঠেলাঠেলি, হাসি-ঠাট্টার-উপচানো-স্রোত, উৎসুক-দৃষ্টি – সেসব এড়িয়ে সাত্তার মিয়ার অন্যকিছু দেখার উপায়ও ছিল না। কিন্তু সাত্তার মিয়া হাল ছাড়ে নাই। যতটুকু দেখা যায় তার চেয়েও অধিক-কিছু দেখবে বলে উদগ্রীব ছিল। শাহ্নজর বলে কথা! লোকে বলে…
-
অপ্রকাশিত আটটি কবিতা
সৈয়দ শামসুল হক এক সমস্ত দিনের ক্লান্তি লাল নীল জামা সমস্ত রাতের কষ্ট ভয়াবহ বীজ বৃক্ষডালে জামা আমি ঝুলিয়ে রেখেছি কতকগুলো কর্কটবৃক্ষের পায়ে রোপণ করেছি এখন অনেক রাত এক্ষুনি শিশির ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়বে মাটির গভীর থেকে জেগে উঠবে কষ্ট আর ক্লান্তির দু’টি দগ্ধ গাছ আর আমার করোটি জলে সাঁতরাবে খেলা করবে লাল নীল নিষ্পলক…
-

-
অবস্থান
হাবীবুলস্নাহ সিরাজী অনেকদিন থেকে ছিলাম না কিংবা বহুদিন থেকেই আছি পুরোনো কিংবা নতুন শত্রম্নর কাছাকাছি। পথ ছিলো না জলে কিংবা জলপথেই আছি শাসন আসন থেকে মজুরের পাশাপাশি কুমারের স্রোতে ভেসে বুড়িগঙ্গায় জাগিয়াছি মিত্রের কানামাছি। শূন্যে ছিলাম শর্তের বহুডোরে গর্ভে ছিলাম নির্জন প্রহরে অতীতের মায়া ভবিষ্যতের ঘোরে শাদা ও লালের মত্ত সমস্বরে। …
-
রাতের হাড়গুলো
হাসান হাবিব যখন দৃশ্যগুলো অবাধ মিশে গেল উষ্ণ মেঘে হিম পালঙ্কে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষের আলস্য ফিরে গেল জানালায় – রংচঙে শার্টগুলো উড়ছে বারবনিতার স্নানে… মেঘের অনেক মুখোশ; দেয়ালের ভঙ্গি কেউ বোঝে না – শুধু নদীর উষ্ণতা বুক ভরে নেয় আদিম আকাশ সে কত ঘুম তোলে। অবিরত লাঙল কাঁধে একাকী নিশীথে ছোটে হিম…
-
শীতের প্রকার
ওবায়েদ আকাশ ধাবমান এই বর্তমানে স্থান ও কালের প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তনশীল। আমাদের শান্তশ্রী গ্রাম আর তার প্রকৃতির জৌলুস আজ শুধু স্মৃতির মাধুরী। বিশ্বায়নে ভাবজগৎ যতটা আলোড়িত তার চেয়ে বেশি বস্ত্তজগতে আগ্রাসনের পীড়ন-তাড়না। বিপর্যয় আজ নিসর্গে, বহির্জগতে, বিপন্ন আজ মনোজগৎ, হতবাক সংবেদনশীল মানস। কবির জন্যে কঠিন এ কাল, চেনা পথে আর চলার…
