Event

  • এম আবদুল আলীম

    পাবনায় ভাষা আন্দোলন প্রকাশনী : রোদেলা এম আবদুল আলীম জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৭৬ প্রবন্ধ, গবেষণা ও নাটক শাখায় পাবনায় ভাষা আন্দোলন গ্রন্থের জন্য ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার, ২০১৪’ অর্জন করেছেন তরুণ গবেষক এম আবদুল আলীম। ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলন হাজার বছরের বাঙালি জাতির ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়। ঢাকায় সংঘটিত এই আন্দোলন অতিদ্রুত…

  • সাকিরা পারভীন

    বৃষ্টির মাতলামি প্রকাশনী : ভাষাচিত্র সাকিরা পারভীন জন্ম ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৮ কবিতা শাখায় বৃষ্টির মাতলামি গ্রন্থের জন্য ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার, ২০১৪’ অর্জন করেছেন তরুণ কবি সাকিরা পারভীন। বৃষ্টির মাতলামি সাকিরার অন্তরঙ্গ জীবনের নিপুণ শিল্পভাষ্য। জীবনের নানামাত্রিক সংকট ও সংঘর্ষ, স্বপ্নভঙ্গ আর রিক্ত আশা, বেদনা আর বিষন্নতার স্নিগ্ধ নিনাদ বৃষ্টির মাতলামি।…

  • কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০১৪

    ঢাকা: ২৪ মে ২০১৫ সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা কালি ও কলম ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনজন তরুণ কবি ও লেখককে ২০১৪ সালের ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালের পুরস্কার অর্জন করেছেন – কবিতা বিভাগে সাকিরা পারভীন; প্রবন্ধ, গবেষণা ও নাটক বিভাগে এম আবদুল আলীম এবং…

  • নিদ্রালু সুন্দরী এবং অ্যারোপ্লেন গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

    অনুবাদ : সম্পদ বড়ুয়া মহিলা সত্যিই সুন্দরী, নমনীয়। গায়ের ত্বক কোমল – অনেকটা পাউরুটির রঙের মতো। চোখদুটো যেন সবুজ বাদামের শাঁস। মাথার কালো চুল সোজা কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে। এনডিনের মতো ইন্দোনেশীয় প্রাচীনত্বের আলোকিত আভা সেখানে ফুটে আছে। পোশাক-পরিচ্ছদে তার রয়েছে সূক্ষ্ণ অন্তর্নিহিত রুচি। গায়ে পিঙ্গল জ্যাকেট, নরোম ফুলের কারুকাজখচিত কাঁচা রেশমের ব্লাউজ, স্বাভাবিক লিনেনের…

  • বাংলাদেশে চারুকলার ৫০ বছর শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতিচারণ

    হাসান হাফিজ তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের চারুকলার জগৎ অনেকটাই এতিম হয়ে গেছে বলা চলে। আমাদের গ্রেট মাস্টারদের অন্যতম ছিলেন মহান এই শিল্পী। প্রগতির লড়াইয়ে তিনি সবসময় ছিলেন অগ্রসেনানী। জাতির মননে তিনি জারিত করে চলেছিলেন নান্দনিকতার চেতনা, রুচি ও সৌন্দর্যবোধ। এই দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননের অঙ্গনে তিনি ছিলেন অভিভাবকপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। রীতিমতো একটি প্রতিষ্ঠান। ৮২ বছর…

  • প্রিয় কাইয়ুমভাই, কাইয়ুম স্যার

    প্রিয় কাইয়ুমভাই, কাইয়ুম স্যার

    কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর জীবনে কত রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তা কি আমি জানি?

  • ঢেউ উপাখ্যান

    শিহাব সরকার   ঢেউ আসে, ঢেউ যায় ঢেউ গোনে দুঃখী দীর্ণ রমণীরা সৈকতে ঝিনুক অচেনা লতাগুল্ম। জেলে, মাঝিমাল্লার লাশ জোয়ারে। আহা বৃদ্ধ ডলফিন অন্ধ তুমি? স্মৃতি-হারানো দলছুট   সমুদ্র রচিছে ঝড়ের পটভূমি   মধ্যরাতে প্রত্ন-দানবের গর্জন জলতলে। প্রলয়মঞ্চের বাইরে দূরদেশে শান্ত নদী বয়ে যায়, বেলাভূমিতে উৎসব বাগানে পড়ে আছে মৃত পাখিরা।   দ্যাখো ধ্বংসস্তূপে সারি…

  • আত্মজা

    আত্মজা

    অফিস থেকে ফিরে স্নান। শীতের কদিন অবশ্য কেবল হাতমুখ ধোয়া। তারপর পাতা ভিজিয়ে চা বানানো। খাবার টেবিলে মুড়ির টিন আর খোসা ছাড়ানো বালিতে ভাজা বাদামের কৌটো রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা। দু-চার মুঠো মুড়ি আর দু-চারটে বাদাম মুখে নিয়ে চিবোতে চিবোতে গ্লাসভর্তি চায়ে চুমুক দেওয়া। এরপর চায়ের গ্লাস ও বাসন ধোয়া, মোছা এবং তুলে রাখা। তারপর বিছানায় দুটো পা টানটান করে রিমোট হাতে টিভির চ্যানেলের পর চ্যানেলে পরিক্রমা। রাজনীতি নিয়ে অনুষ্ঠান হলে ওর মনে হতো, এসব ফালতু ব্যাপার। অন্য চ্যানেলে সামাজিক বিষয় নিয়ে সিরিয়াল হলে ও ভাবত, যতসব বানানো গল্প। যৌবন ও যৌনতা-বিষয়ে অনুষ্ঠান হলে ও বিড়বিড় করত, এসব দেখে রাতের ঘুম নষ্ট। খেলাধুলা সম্প্রচার হলে ও ভাবত, আবার পরের জন্মে খেলব। জীবজন্তু নিয়ে অনুষ্ঠান দেখলে ও নিজের কাছে জানতে চাইত, এই জগতে সবচেয়ে সুন্দর জীব কে? নিজেই উত্তর দিত, আমার বাবা-মা। বড় আদর-যত্নে আমাকে মানুষ করেছিল। তবে আমার জন্ম নেবার কোনো দরকারই ছিল না, অকারণে এই বেঁচে থাকার বোঝা বয়ে চলেছি। এভাবে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গড়াত। নটা নাগাদ কলিংবেলের শব্দ। বিছানা ছেড়ে নামার সময় শোনা যেত হাঁটু ভাঙার শব্দ Ñ মট্। দরজার বাইরে রাতের খাবারের ডিবে হাতে ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে ক্যাটারারের লোক। সকালে দিয়ে যাওয়া খালি ডিবে ফেরত দেবার সময় ও রোজই বলত, কাল একটু সকাল সকাল এসো ভাই। সকালে ঘুম থেকে উঠে জল ও চা পান করবার পর পায়চারি করতে করতে ও রোজই আপনমনে বিড়বিড় করত, কাল রাতে ইসবগুলের ভুশি খেয়েছিলাম তো? মা মারা গেছে শৈশবে। বাবার মৃত্যুবার্ষিকী সাত পেরিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর আত্মীয় ও সামাজিক সম্পর্কগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হতে এটাই প্রসূনের রোজকার জীবন। ঘরের বাইরে ও অবশ্য আর পাঁচজন নাগরিকের মতো। বাস কেন এত আস্তে চলে, রাস্তায় কেন এত গর্ত – এসব নিয়েও মাথা ঘামায়। অফিসের আচরণও পাঁচজন কেরানির মতো। সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞের সমান মতামত দেয়, অথচ নিজের অফিসের কাজে বাচ্চাদের মতো ভুল করে। প্রসূনের রোজকার এই জীবনযাপনে আলোড়ন তোলার ক্ষমতা রাখত ওর ভাই, অরুণ। অরুণ অনিয়মিত বাড়ি ফিরত, সঙ্গে থাকত সবসময়ের সঙ্গী একটি স্প্যানিশ গিটার। মুখে মদের গন্ধ এবং গালাগাল ও অভিযোগ। অরুণ কলেজে ঢুকে কবিতা লেখা শুরু করেছিল। তখন ওর প্রিয়তম কবি সুনীল, স্বপ্নের নারী নীরা। তারপর কবছরের জন্য নকশাল-রাজনীতি নিয়ে মাতে, বিনোদ মিশ্রের ব্যক্তিত্বের টানে কমিউনে বসবাস করবার জন্যে ভোজপুর চলে যায়, কলেজের লেখাপড়া শেষ না করেই। ফিরে আসার পর ও রূপান্তরিত মানুষ। ঘরের কোণে কমাস নির্বান্ধব কাটাবার পর একটি আমেরিকান মুভি দেখে ব্রেক ড্যান্সকে জীবিকার পাথেয় ধরে নেয়। তখন কলকাতায় ফাঙ্গাস গজানোর মতো ব্রেক ড্যান্স শেখাবার অনেকগুলো স্কুল। ব্রেক ড্যান্স শিখে মাড়োয়ারি, সিন্ধি, পাঞ্জাবিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে নেচে ভালোই রোজগার করত সে-সময় অরুণ। হঠাৎই কলকাতায় গিটার বাজিয়ে স্বরচিত গান গাইবার ব্যাপক চল শুরু হলো। অরুণ ব্রেক ড্যান্স ছেড়ে গিটার তুলে নিল, নিজের ঘরের দরজায় সাঁটল বব ডিলানের ছবি। মদ খাওয়া শুরু করেছিল আরো আগেই। নিজের মায়ের সঙ্গে ওর পরিচয় দেয়ালে টাঙানো ছবি দেখে। এর মধ্যে ওদের বাবাও ছবি হয়ে দেয়ালে মায়ের পাশে ঝোলা শুরু করে দিল। অবিবাহিত এবং সাংসারিক বুদ্ধিজীবী প্রসূন তখন বলেছিল, ‘ভাই! আমি তো একটা চাকরি করি। বাবার রেখে যাওয়া টাকাগুলো দিয়ে তুই একটা ব্যবসা কর।’  কোনো মহিলা ঘনিষ্ঠ হয়ে কথা বললেই প্রসূনের বুকের খাঁচায় সদ্য জবাই হওয়া মুরগি ডানা ঝাপটায়। তাই নিজে কোনোদিন বিয়ের কথা ভাবেনি। পরিকল্পনা ছিল ব্যবসায় লাভের মুখ দেখলে ও অরুণের বিয়ের ব্যবস্থা করবে। আশা ছিল অবসর-জীবনে ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে মোটামুটি যত্ন পাবে, একা থাকার কষ্টও পেতে হবে না। কিন্তু ব্যবসার নামে বাবার জমানো টাকা বরবাদ করতে অরুণ খুব বেশি সময় নেয়নি। টাকা শেষ হয়ে যাবার পর অনিয়মিত হয়ে গেল ওর বাড়ি ফেরা। বাড়ি এলে নিজের ঘরে আটকে থাকত, দিনে দু-একবার মদ-সিগারেট কিনতে যাবার জন্যে দরজা খুলত। মাঝে মধ্যে শোনা যেত তারস্বরে গাওয়া গান। খিদে পেলে টিনের মুড়ি, কৌটোর বাদাম কিংবা প্রসূনের জন্য সদ্য দিয়ে যাওয়া ডিবের মাছ-ভাত কোনো কথা না বলে সাবাড় করে দিত। মদ, সিগারেট কেনার টাকা ফুরিয়ে এলে প্রসূনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলত, ‘বিজনেসে লস হয়ে গেছে। ফ্রেশ ক্যাপিটাল দরকার। বাড়ি ভাগ কর। আমার পোরশান বিক্রি করব।’ দুই সাময়িক অন্ধত্ব পেতে চাইলে চোখ বন্ধ করাই সহজতম উপায়। কিন্তু চোখ বন্ধ করলে আজকাল প্রসূনের দেখার ক্ষমতা অতি ক্রিয়াশীল হয়। চোখ খোলা অবস্থায় যা আবছা দেখে, চোখ বন্ধ করলে আবছা ভাব কেটে যায়, স্পষ্ট দেখতে পায় সিলিং ফ্যান থেকে অরুণ ঝুলছে। ওর দু-হাত পালোয়ানের মতো ছড়ানো। অরুণের রুগ্ণ ও পলকা বুক, পেট, পা সবই ফোলা ফোলা, যেন মেদ-সমৃদ্ধ। কেবল বাঁ দিকে হেলে থাকা মুখটা অবিকৃত। চোখদুটো ঠেলে বেরুচ্ছে। ওর চোখদুটো সবসময়ে জ্বলজ্বলই করত। ওভাবে কতক্ষণ ঝুলে ছিল অরুণ? কী সুখ ওভাবে ঝুলে পড়ায়? সুখী মানুষ ছাড়া রাতারাতি কারোর শরীরে অমন স্ফীতি হয়, প্রসূন জানত না। মায়ের মৃত্যু ওর মনে নেই। বাবা ভুগে ভুগে কৃশ ও শীর্ণ হয়েই মারা গিয়েছিল। অন্য কোনো মৃত্যু এত কাছ থেকে কখনো দেখেনি ও। এক রাতে প্রসূন অপেক্ষায় ছিল কখন ক্যাটারারের লোক খাবারের ডিবে নিয়ে আসবে। কলিংবেলের শব্দ শুনে টিভির চ্যানেল থেকে চ্যানেলে পরিক্রমা বন্ধ রেখে দরজা খুলেই ও অবাক। অরুণের দু-হাতের আশ্রয়ে একটি সদ্যজাত শিশু এবং সঙ্গে মাথায় ঘোমটা দেওয়া এক মহিলা।  প্রণাম করার জন্য মহিলাটি সামান্য ঝুঁকতেই প্রসূন আঁতকে বলেছিল, মানে? আমার স্ত্রী আর মেয়ে। আশীর্বাদ কর দাদা। Ñ ছোট ভাইয়ের মুখে মেঘফাটা জ্যোৎস্নার মতো হাসি। সেভাবে একটা মশাও মারতে পারে না প্রসূন, টিপ করতে করতে রক্ত খেয়ে মশাটা উড়ে যায়। সেদিন বিনা টিপেই ছোটভাইকে এলোপাথাড়ি মেরেছিল। একটা দুটো নয়, অগুনতি চড়-থাপ্পড়। নকশালদের কমিউন-ফেরত অরুণ বাধা দেয়নি। মার হজম করতে করতে কাতর অনুরোধ করেছিল,…

  • অনুবাদ সাহিত্যে গুরুত্ব দিন

    আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। কালি ও কলম প্রথম সংখ্যা-প্রকাশে আপনাদের আন্তরিক সদিচ্ছা এর প্রতিটি পাতায়ই পরিদৃষ্ট। প্রতিটি যুগেই যখন মহান সাহিত্যিক ও দার্শনিকরা আপন মেধাকে বিকশিত করেছেন তখনই কোনো-না-কোনো তৎকালীন সাহিত্যপত্রিকাকে তাঁরা অবলম্বন করেছেন তাঁদের সাধনার মাধ্যম হিসেবে। তৎকালীন পত্রিকাগুলোর কর্তাব্যক্তিরাও নিজের নাম উজ্জ্বল করার চেয়ে প্রতিভা-বিকাশে ও কালজয়ী সাহিত্য ও দর্শন-সৃষ্টিতে অধিকতর মনোযোগী…