August 2016

  • আধুনিক এক শিল্পীর প্রয়াণ ও কিছু কথা

    মাহমুদ আল জামান কে. জি. সুব্রহ্মণ্যন ভারতবর্ষের আধুনিক ও অগ্রণী শিল্পীদের অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী শিক্ষক, শিল্পকলা-বিষয়ক গ্রন্থের লেখক, লোকশিল্প ও উপজাতীয় শিল্পের বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের কয়েকজন শিল্পী বরোদায় তাঁর কাছে চিত্রবিদ্যা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। প্রভাবশালী এই শিক্ষক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁদের দীক্ষা দিয়েছেন। শিল্পের প্রকরণের অভিমুখীনতা ও ঐতিহ্য-জিজ্ঞাসায় এই শিক্ষা তাঁদের সর্বক্ষণ দীপিত করেছে।…

  • শিল্পী কে. জি. সুব্রহ্মণ্যন : শ্রদ্ধায় স্মরণ

    সুশোভন অধিকারী সদ্য প্রয়াত হলেন দেশের অন্যতম প্রবীণ শিল্পী কে. জি. সুব্রহ্মণ্যন, সকলের ‘মানিদা’। আধুনিক শিল্পকলার প্রেক্ষাপটে তিনি যে বিশেষ অগ্রপথিক, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সদ্য প্রয়াত হয়েছেন বলে আবেগের বশে নয়, বরং একটু তলিয়ে দেখেই বলতে হয় – শিল্পের ইতিহাসে এমন সৃষ্টিশীল আর্টিস্টের দেখা সহসা মেলে না, যিনি তিরানব্বই বছর…

  • বাড়িতে আছেটা কী

    ওবায়েদ আকাশ আবার তোমার জন্য গাছ ডাল থেকে পাতা খসিয়ে প্রশান্তি খসিয়ে অন্যের জন্য গোছগাছ রকম একটা কিছু না দেখালে নাম উঠবে কেন বাড়ির   পাতাবাহার সে আছে? ডেটল নেই দাম্পত্য নেই, সন্তানের দুঃখিনী বায়নার মতো যে অবিশ্বাস্য স্নেহটুকু ঘোড়ার লাগাম ধরে উঠোনে ঝুলে থাকবার কথা, আজ অন্তত সেটুকুও ক্যারিবীয় দস্যুবাহিনী ঘিরে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের ভাষায়…

  • কবিতাভ্রমণ

    (উৎসর্গ : রফিক আজদ)   ফারুক মাহমুদ   সব অশ্রু পুড়ে যায়   পায়ে হেঁটে নয়। তুমি, পদব্রজে এসে গেলে এতটা সুদূর…   নিজে একা। একা নিজে। বানিয়ে রেখেছ চুড়ো মানবিক আগুনপাহাড় জেগে থাকে দীর্ঘ চোখে, যেদিকে সুন্দর হেঁটে যায়   কেউ কেউ চলে আসে – পানীয়জলের জন্য ক্ষতদগ্ধ হাতে সত্যের সামান্য অংশ, অবিকল্প নিদ্রা…

  • গ্রন্থাগার-প্রাঙ্গণ…

    মনিরুল আলম   নিমগাছটায় একটা দোয়েল বসে আছে – তারপর – আরো একটা, অতঃপর ওরা দুজনে; ওরা মাটিতে নেমে এলো; সকালের খাবার খাবে তো তাই! আমি ওদের মাটিতে নেমে আসা দেখলাম যেন ওদের বাসা এখানেই – ওদের বাচ্চারা, অপেক্ষা করছে – ওই যে-গাছটা; ওদের বাসা ওখানেই; গাছের ডালে-মরচেপড়া গাড়ি আর কলতলায় শুকনো পানি।

  • জ্যোৎস্না ও জোনাকির গল্প

    জরিনা আখতার তবে এখানেই থাকো তোমরা – এই নিশিপুর গ্রাম তোমাদের অভয়াশ্রম, এখানে এভাবে না এলে তো তোমাদের সঙ্গে দেখাই হতো না! জোড়াদিঘির প্রান্ত ছুঁয়ে বনে-বাদাড়েই খেলা করো তোমরা অবাধ স্বাধীনতায়, নিশিপুর মানে মুক্তি – প্রকৃতির সাথে জীবনের নিবিড় সখ্য কয়েকটি দিন; দুপুরের প্রখর রোদে জোড়া দিঘিতে জলক্রীড়ায় মেতেছে কয়েকটি বালক মেঠোপথে মানুষের আসা-যাওয়া নীরবতায়…

  • এখন আমার সময় আমিই শাসাব

    হারিসুল হক   এখন আমার সময় আমিই শাসাব হে আমার সময়, তুমি এখন কব্জিবন্দি  ভীরু ভিমরুল আমার আস্তিনের কোণে ঢাকা পড়ে আছ থাকো একান্ত অনুগত সারমেয় সেজে নিশ্চুপ থাকো যদি সাধ হয় মাঝে মাঝে আমার নামের সাথে ওংকার তোলো   তুমি জান ইচ্ছে করলেই এখন  আমি  চাকা  ঘুরিয়ে রাতকে দিন আর দিনকে রাত করতে পারি।…

  • জন্মদিনে

    গৌতম হাজরা   ছুড়ে দিচ্ছি লাল আলো তুই লুফে নে লুফে নে, কারণ ট্রাফিক সিগন্যাল পালটে গেলেই সব একাকার ধাক্কাধাক্কি, রক্তারক্তি ভিড়-ভাংচুরে, দৃশ্যে কোথাকার জল কোথায় দাঁড়াবে কে জানে!   পৃথিবীতে আজ আশ্চর্য স্রোত অথচ কোনো প্রতিধ্বনি নেই ভিজে আকাশ, মেঘের ফাটলে রোদ শূন্যতা মুখ দেখে তোমার আমার   তাই তোর জন্মদিনে ভাবছি ভোররাত্রে যদি…

  • তিনটি কবিতা

    মারুফুল ইসলাম   কুতুবমিনার, দিল্লি পাথরে উৎকীর্ণ নাম দেখে জুড়োই দুচোখ ভুলে যাই মাটির মহিমা তাই কি এখানে এসে দাঁড়াই সন্তাপে মুঠোর বাগানটুকু বাড়াই সমুখে…   জয়পুর, রাজস্থান   জয় নয়, পরাজয় নয় এখানে কেবল কথা কয় ইতিহাস পরাক্রান্ত পানপাত্রে তরল সাম্রাজ্য বালির বিস্তারে বাড়ে দিনান্তের অন্ধকার   আট দিগন্তের দূরত্বে তোমাকে খুঁজে খুঁজে অবশেষে…

  • ক্যামেরা কলমের যুগলবন্দি

    আফজাল হোসেন সাংবাদিকতা আমার ক্যামেরায় পাভেল রহমান মাওলা ব্রাদার্স ঢাকা, ২০১৬ ১৫০০ টাকা   তাকে নিয়ে আমরা প্রায়ই হাসাহাসি করতাম। বন্ধুত্বের অধিকারে হাসাহাসি। হাসাহাসির কারণ ঠিক না বেঠিক হিসাব করা হয়নি। পেশার প্রতি তার যে-আত্মনিবেদন তা বুঝে ওঠার বয়স তখন নয়। এখন বুঝতে পারি, ওই বয়সে যতটা নিবেদিত হওয়ার সাধ্য তার ছিল, তা বিস্ময়কর। তখন…

  • বকলম

    বিশ্বজিৎ মণ্ডল   ঘরকন্না ছেড়ে সোমত্ত বেরিয়ে পড়লে আমার সঙ্গে…   নির্বিকল্প জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে – বৈষ্ণবীর ধাম আধ-হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে কখনো কৃষ্ণনাম ভুলে উচ্চারণ করেছো – পরিযায়ী প্রণয়ীর   যেভাবেই ভেবেছো পরিত্যক্ত সংসার… বিষাক্ত গ্রহ থেকে ঝিরিজল বেয়ে ধুয়ে গ্যাছে তোমার প্রাক্তন জীবন   ঘর আর ছাড়লাম কোথায়? তুলসীতলায় প্রবঞ্চনা খুলে রেখে, শুরু করি…

  • দুটি কবিতা

    শাহজাহান হাফিজ   হে রূপসী, রহস্যময়ী   ভোর হলো; বিষণœ নদীর স্রোতে ভেসে এসে, নারী তুমি, বললে : প্রণাম! হে রূপসী, রহস্যময়ী, কোথায় বসত বলো, কী তোমার নাম?   ফুলগুলি ঝরে যাবে, যৌবনের মতো; বসন্তের হিল্লোলের মতো! জমবে ধুলো, উড়বে স্মৃতি; সময় হারিয়ে যাবে, সময়ের মতো! থাকবে না জীবনের কোনো স্মৃতি আর!   তবু তুমি…