February 2013

  • মাংস

    বদরুন নাহার রুদ্রপুর গ্রামের কিশোর মোস্তফা কোনো ভিক্ষুক বা ফকির নয়, তবে সে কোনো ছাত্রও নয়। কারণ সে কোনো স্কুল বা মাদ্রাসায় পড়তে যায় না। সারাদিন টোটো করে ঘুরে বেড়ানো, গ্রামের অন্যদের সঙ্গে ডাংগুলি খেলা বা গাছে উঠে ফলটল পাড়া কোনো কাজের কাজ না। এক কাঁদি নারকেল পাড়তে পারলে দুইটা নারকেল মেলে। অতএব মোস্তফা মোস্তফাই,…

  • বিপ্লবের শ্বেতপত্র

    আবুবকর সিদ্দিক হ্যাঁ  দাদু! তোমাকে চিঠি লিখেছিল মাওদাদু, তাই না? – আরে দূর! সব কাগজঅলাদের গুলপট্টি। খবর আর পায় না তো খুঁজে! – এই দ্যাখো! তুমি কিন্তু স্লিপ কেটে যাচ্ছো দাদু। আচ্ছা এবারে হলপ করে বলো তো, চারুদাদুর সঙ্গে তোমার কী কথা হয়েছিল? জোতদারদের গলা কাটতে অর্ডার দিয়েছিল তো? – আরে দূরো! দ্যাখাই হয়নি তার…

  • নষ্ট সময়

    পারভেজ হোসেন ওরা আমাকে তন্নতন্ন করে খুঁজছে। সম্ভাব্য এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে ওদের ছায়া পড়েনি। মির্জাদের পোড়োবাড়ি, আমতলির জঙ্গল, পুলিশের দাবড়ানি খেয়ে পালিয়ে বেড়ানোর গোপন সব আস্তানা, সন্ধ্যায় বিলে জলের মধ্যে ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রামের কোনখানে নয়! কিন্তু পেলো না ওরা। কী করে পাবে? এক উদ্দেশ্য এক আদর্শ আর একই শিক্ষণে বেড়ে উঠেছি…

  • বিসর্জন

    আনোয়ারা সৈয়দ হক মেলেটারি আইত্যাছে! মেলেটারি আইত্যাছে! রাতের নিস্তব্ধতার বুকে হঠাৎ করে কারা যেন বর্শা ফুঁড়ে দিলো। ঘুমের আচ্ছন্নতার ভেতরেও জেগে ছিল যে-ইন্দ্রিয়, পাহারায় ছিল অস্তিত্ব রক্ষার, তাই নাদের মোল্লাকে তড়াক করে যেন ছুড়ে ফেলল বাঁশের জালিপাতা মাচা থেকে মাটির মেঝেয়। মাটির মেঝে নিশুতি রাতের ঠান্ডায় জমে থাকা পাথরের মতো শক্ত। হাঁটলে ঠক-ঠক করে বাজে;…

  • সেই নারী : এই শিল্পী মাইকেল এঞ্জেলো

    বাংলা রূপান্তর : সৈয়দ শামসুল হক তুমি যদি পাথরেই গড়া তবে আমার বিশ্বাস আমার এ-হৃদয়ের আর্তির ছোঁয়ায় তুমি প্রাণ পেয়ে যেতে, পড়তো নিঃশ্বাস, দৌড়ে তুমি এসে যেতে আমার দোলায়। যদি তুমি মৃত তবে ওই ঠোঁটে ভাষাও দিতাম। অথবা এমন যদি – জন্ম অপেক্ষায়! – তবে আমি স্বর্গ থেকে তোমাকে তো নামিয়ে নিতাম অশ্র“পাত করে করে…

  • ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম বাংলা ভাষার প্রশ্নটি তুলেছিলেন’

    সাক্ষাৎকারগ্রহণ : শ্যামল চন্দ্র নাথ সরদার ফজলুল করিম বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, প্রবন্ধকার। জন্ম ১৯২৫ সালে বরিশালের আঁটিপাড়া গ্রামে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। অনার্স ও এমএ উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ১৯৪৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা বিভাগে নিয়োজিত হন।…

  • যে-শহরে এখন শেষরাত

    নুরুল করিম নাসিম মধ্যরাতে গোলকধাঁধার মতো ঘুরতে লাগল মগবাজারের ভয়ংকর মোড়ে। এতরাত তবু ঢাকা শহরের যানজট একটুও কমে না। একটুও কমেনি। কী বিচিত্র, কী দুর্বিষহ এই শহর। সে চলে গেছে, ভালো হয়েছে। সে বেঁচে গেছে। শৈশবের এই প্রিয় শহর এখন তার কাছে খুবই অপ্রিয়। সে চলে গিয়ে বেঁচে গেছে। যে-শহরে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা, যৌবনের…

  • নিশিরঙ্গিণী

    স্বকৃত নোমান আমার বন্ধু সীমান্ত নওশের প্রায়ই বলে – জীবন একটাই বন্ধু। এই সুন্দর মুখ নিয়ে পৃথিবীতে তোমার একবারই আসা। জীবনের সব রং একটু-একটু করে মুখটাতে লাগাতে হবে। নিশিরাতে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েটস অফিসের একতলার ছাদে দাঁড়ালে নওশেরের কথাটি বারবার উঁকি দেয় মনে। পেছনের গলিটা তেমন চওড়া নয়, বড়জোর দুটি প্রাইভেট কার ক্রস…

  • ডিপফ্রিজে মুণ্ডুটা কার

    আন্দালিব রাশদী আমার এপিএস আবুল হুসসাম জানে আমার ডিপফ্রিজে কাটা মুণ্ডুটা কার। এপিএস মানে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রাইভেট সেক্রেটারি – সহকারী একান্ত সচিব। তাকে গোপনীয় অনেক কিছু জানতেই হয়, কিংবা সে গোপনীয় অনেক কিছু জানে বলেই তাকে এপিএস করা হয়। পিএস জানে না। তাকে না জানলেও চলে। কারণ আমি তার ওপর খুব একটা নির্ভর করি না। আমার…

  • হরিণের মাংস

    আহমেদ মুনির কদিন ধরে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। আমি বাসায় ফিরে দেখছি ঘরদোর পরিপাটি করে গোছানো। বিছানা, এলোমেলো বইয়ের তাক সব ঠিকঠাক। প্রথমে ভাবলাম, না – এটা আমারই ভুল। হয়তো বেরোনোর আগে নিজেই সব গুছিয়েছি। হিসাব করলাম তিনদিন ধরে এমনটা ঘটছে। অথবা বলা যায়, আমার এই বিভ্রম দিন তিনেকের পুরনো। রহমতগঞ্জে তিন রুমের ব্যাচেলর কোয়ার্টারে…

  • দ্বন্দ্বের মাঝখানে

    প্রশান্ত মৃধা জাহেদ দেখল, নয়াবাড়ির কেয়ারটেকার বুড়োমেয়া একটা ঝাঁকায় কী যেন ঢেকে নিয়ে যাচ্ছে। বুড়োমেয়ার মুখটা উলটোদিকে ঘোরানো। হতে পারে, জাহেদ যে তাকে দেখছে, সেটা সে বুঝতে দিতে চায় না। হতে পারে, সে যে জাহেদকে দেখেছে, এটাও যেন ঘটেনি। তাই জাহেদ যখন দাঁত ব্রাশ করতে করতে কলেজের পোলের ওপর দাঁড়িয়ে, সে-সময়ে বুড়োমেয়ার রিকশা হঠাৎ তার…

  • থুতু

    হরিশংকর জলদাস চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সারিবদ্ধ মানুষ দাঁড়িয়ে। তাদের প্রত্যেকের হাতে প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডে নানা কথা লেখা – ‘একাত্তরের রাজাকার এখন যে দেশদরদি, ওদের হাতে মরেছিল বাবা এবং বড়দি।’ ‘আর কিছু নয় চাইছি বিচার দেশজনতা বাদী ফাঁসির মঞ্চে ঝুলে থাকুক যুদ্ধাপরাধী।’ মাথার ওপর ভাদ্রের কড়া রোদ। দরদর করে ঘামছে মানুষগুলো। বয়সীরা পকেট থেকে রুমাল বের করে…