February 2018
-
জয়ের সঙ্গে
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত জয়ের সঙ্গে অসমাপ্ত দেখা হলো নজরুলের পুরস্কার তার হাত থেকে নেওয়ার সময়, সুচিন্তিত তার ভাষণে ধর্মসমন্বয়ে আমার ভূমিকা নিয়ে প্রতিটি কথা মণিমুক্তায় খচিত ছিল। কমিটি থেকে সদস্যেরা সবাই যখন বিদায়োন্মুখ, দুরুদুরু কাঁপছিল বুক জয় কি আমার সঙ্গে কোনো অন্তরঙ্গ কথা বলবে? হঠাৎ দেখি ভিতরঘরে বাগেশ্রী রাগ নিয়ে কিছু কথা বলল …
-

‘উদ্বেগে দুঃখ পাওয়া ছাড়া আর কী করার থাকে’ সৌরীন ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথোপকথন
চিন্ময় গুহ [অর্থনীতির অধ্যাপক, সমাজতাত্ত্বিক, সংস্কৃতি-পাঠক ও চিন্তক হিসেবে সৌরীন ভট্টাচার্য (জ ১৯৩৭) বাংলা সংস্কৃতিজগতে একটি বিশিষ্ট নাম। তাঁর নিরপেক্ষ, পরিমিত চিমত্মা আমাদের কালের নানা মানবিক বিতর্কে সর্বদাই যুক্ত করে নতুন এক যুক্তিবাদী মাত্রা। তাঁর সাহিত্যপাঠ, ইতিহাস ও দর্শনভাবনা সবই এক সামগ্রিক চিমত্মায় মানুষ ও পৃথিবীকে বুঝতে চায়। তাঁর বইগুলো পরিবর্তনের ভাষা (১৯৯৩), রাজনীতির বয়ান…
-

জগন্ময় মিত্র প্রণয়-বিরহের যুগলবন্দি
আবুল আহসান চৌধুরী সুরসাগর জগন্ময় মিত্র (১৯১৮-২০০৩) সম্পর্কে তাঁর এক খ্যাতিমান অনুজ-শিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন : জগন্ময় মিত্র এক অসাধারণ সঙ্গীতপ্রতিভা। একসময় এক বিশেষ ধরনের গানে সমগ্র বাংলাকে মাতিয়ে দিয়েছিলেন। সর্বনিম্ন এক লাখ রেকর্ডের গান যদি বিক্রি হতো, সেটা তাঁর কাছে ছিল চিমত্মার বিষয়। অত্যন্ত স্পষ্টবাদী আর অভিমানী জগন্ময়বাবু। আত্মসম্মানজ্ঞান এত বেশি ছিল…
-

উনপঞ্চাশের ভাষা কমিটির প্রতিবেদন : একটি সমীক্ষা
বিশ্বজিৎ ঘোষ ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান নামের এক কৃত্রিম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ববাংলার ভাষা নিয়ে বিতর্ক জমে ওঠে। পূর্ববাংলার জনগণের ভাষা সহজ ও প্রমিতকরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানামাত্রিক আলোচনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে পূর্ববাংলা সরকার ১৯৪৯ সালের ৯ মার্চ ‘পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি’ (East Bengal Language Committee) নামে একটি কমিটি গঠন করে। ‘পূর্ববাংলায় প্রচলিত বাংলা…
-

বুদ্ধদেব বসুর কয়েকটি চিঠি অমিয় দেবকে লেখা
যে-কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ শুরু করেছিলেন বুদ্ধদেব বসু, তাদের একজন আমি। পাশ করার পর তাঁর অধীনে পড়াবার কাজ পাই। ধীরে ধীরে তাঁর স্নেহেও বৃত হই। এই চিঠিগুলি সেই স্নেহেরই স্বাক্ষর। তারা বিবিধ পর্বে লেখা। ১৯৬১-তে তিনি রবীন্দ্রশতবর্ষ উপলক্ষে নানা দেশ থেকে বক্তৃতার আমন্ত্রণ পান। সেইসঙ্গে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়াবারও আমন্ত্রণ। প্রথমে…
-

ঋত্বিক ঘটকের দলিল নাটকে উদ্বাস্ত্ত বিপন্নতার চিত্র
অমিতাভ বিশ্বাস ‘রিফিউজি’ শব্দটির দুটি বাংলা প্রতিশব্দ আছে। একটা হলো ‘শরণার্থী’, যার আক্ষরিক অর্থ হলো এমন কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো ঊর্ধ্বতন শক্তির শরণ নিয়েছেন অর্থাৎ আশ্রয় এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছেন। এই শরণার্থী সম্পর্কে ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ-কর্তৃক শরণার্থী মর্যাদাবিষয়ক সম্মেলনে অনুচ্ছেদ ১-এ সংক্ষিপ্ত আকারে ‘শরণার্থী’র সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়। একজন ব্যক্তি যদি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন ও…
-

শোভা সেনকে স্মরণ
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় শোভা সেন : শতবর্ষের মানচিত্রে ১৩.৮.২০১৩-তে শিল্পী শোভা সেনের ৯৩ বছর বয়সে জীবনাবসান আক্ষরিক অর্থেই বাংলা চলচ্চিত্র-নাটক-যাত্রাশিল্পের একটি ধারার অবলুপ্তির স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যবয়স থেকে সে-শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, বাংলা নাটকের আধুনিক যুগ তাঁর প্রসন্ন প্রশ্রয় পেয়েছে, আর সেসঙ্গে যাত্রাশিল্পের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্তি ছিল সম্ভ্রান্ত ও তাৎপর্যময়। তাঁর সুদীর্ঘ জীবন…
-
সিগনেট প্রেসের রূপসী বাংলা বনাম জীবনানন্দ দাশের পান্ডুলিপি
ফয়জুল লতিফ চৌধুরী আমাদের মনঃপূত হোক বা না-হোক, রূপসী বাংলা কবি জীবনানন্দ দাশের জনপ্রিয়তম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয়েছিল জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর – ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে, প্রকাশক কলকাতার সিগনেট প্রেস। ভারত ও বাংলাদেশের বাজারে রূপসী বাংলার অনেক সংস্করণ লভ্য। কার্যত সবই ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত সিগনেট সংস্করণকে অনুসরণ করেছে। আদৌ অস্বাভাবিক নয় যে, সিগনেট সংস্করণের ভুলভ্রান্তিগুলো পরবর্তী…
-

মেজর করনেইলির বঙ্গদর্শন
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ মেজর জন করনেইলি রবার্ট ক্লাইভের বাহিনীর সৈনিক হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন পলাশীর যুদ্ধে। বাবাকে লেখা তাঁর একগুচ্ছ জার্নাল বা দিনপঞ্জি পাওয়া গিয়েছিল প্যারিসে গত শতকের মাঝামাঝি। সুইস বংশোদ্ভূত বাবাও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। লন্ডনের ফোলিও সোসাইটি ১৯৬৬ সালে জার্নালগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে। আশ্চর্যের বিষয়, দেশে-বিদেশের কোনো ইতিহাসবিদ পলাশীর যুদ্ধ, নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবন বা…
-

তিনটি স্মৃতিকথা ও দেশভাগ
গৌতম রায় দেশভাগ-বিষয়ক তিনটি স্মৃতিকথা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধ। স্মৃতিকথাগুলো বহু বছর আগেই বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং সমাদৃতও। এগুলো হলো – মিহির সেনগুপ্তের বিষাদবৃক্ষ, সুনন্দা শিকদারের দয়াময়ীর কথা এবং সীমা দাশের দ্যাশ থেকে দেশে। প্রসঙ্গত, এর মধ্যে সীমা দাশের বইটি প্রকাশিত হয়েছে সবচেয়ে শেষে – বইয়ে লিখিত সময়কাল হলো ২০১০ সাল। আবার মিহির…


