January 2017
-
মিরুজিন নদীর তীরে
ইকবাল আজিজ ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হাজি মাহবুব আলী আজ দুপুরেও ভাবছিলেন, তার আগামীদিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে। এরকম তিনি প্রায়ই ভাবেন। তার ছোট্ট রাজনৈতিক দলটির নাম ‘নয়া বাংলা কৃষক-শ্রমিক জোট’। বাংলাদেশের অসংখ্য নামগোত্রহীন রাজনৈতিক দলগুলোর মতো এও এক প্যাডসর্বস্ব সংগঠন। মাহবুব আলীর সঙ্গে যারা সন্ধ্যাবেলা মদ খান, তার মতো কুরুচিপূর্ণ যারা এবং যারা প্রায়…
-
তুঘলক
সাদিক হোসেন ঠিক এই মুহূর্তে ১০০ পাওয়ারের বাল্বের নিচে শুয়ে তুঘলক বুঝতে পারে, এই হাওয়ালাতের ভেতর, এই হাওয়ালাতের ভেতর গরাদের গা থেকে বেরিয়ে আসা আলো, ও সেই আলোর পরিপ্রেক্ষিতে তার চোখের দিকে ধাবমান কালারগুলো, খৈনি ঝাড়ার শব্দ, লাঠির ঠুকঠাক, এটাসেটা সবই আসলে ওই ১০০ পাওয়ারের বাল্বের গায়ে জাপ্টে থাকা ধুলোর মতো, শ্রেণিশত্রম্নর পকেট কেটে পাওয়া…
-
শিশু-নাটকের উদ্ভব ও বিকাশ
মোনালিসা দাস যাকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ, সেখানে শিশুদের জন্য রচিত ছড়া, গল্প, ধাঁধা, রূপকথা, লোকগাথা, লোকগীতিকা ইত্যাদি ছিল ঠিকই, কিন্তু তা ছিল মৌখিক এবং শ্রম্নতিবাহিত। তখন শিশুকে ভোলানোর জন্য রচিত হয়েছে ছড়া ও গান। ছোটরা, বিশেষ করে, বালক-বালিকারা ঘরে ও বাইরে খেলা করার সময় এক ধরনের খেলার ছড়া গড়ে উঠেছে মুখে-মুখে।…
-
খেলনা
তৃষ্ণা বসাক বিছানায় শুতে গিয়ে চমকে উঠল নিখিল। তার বালিশের পাশে একটি নারীমু-। সোনালি চুল, নীল চোখ, পাতলা গোলাপি ঠোঁট আর হলুদ জবার মত গায়ের রং। কে এ? খুব গরম পড়ায় আজকাল মশারি টাঙায় না আর। তাই সেই নারীমু- খুব স্পষ্ট করেই দেখতে পেল নিখিল, মশারির জালে তা আবছা হয়ে গেল না। মশার ধূপ জ্বলছিল।…
-
রুস্তম সিংয়ের তরবারি
বিশ্বজিৎ চৌধুরী জোড়দিঘির ভাঙা ঘাট পেরিয়ে বাড়ির প্রায় কাছাকাছি এসে সে দেখতে পেল কৃষ্ণা দাঁড়িয়ে আছে। রাত বাড়লে মাঝে-মাঝেই এসে দাঁড়ায়। কেন যে দাঁড়ায়! হয়তো টলোমলো পায়ে, কিন্তু এতটা পথ যে লোকটা দিব্যি হেঁটে চলে আসতে পারল, বাকি সামান্য পথটুকুর জন্য তাকে আগ বাড়িয়ে নিতে আসা কেন বুঝতে পারে না নীলকমল। নেশা করে বাড়ি ফেরে…
-
বইপত্র….
ইতিহাসের উপকরণ তপন বাগচী মীর মশাররফ হোসেন : অপ্রকাশিত ডায়েরি সংকলন, সম্পাদনা ও ভূমিকা আবুল আহসান চৌধুরী পাঠক সমাবেশ ঢাকা, ২০১৫ ৫৫৯ টাকা মননসাহিত্যের ধারায় আবুল আহসান চৌধুরীর বিচিত্রমুখী অবদান এখন দেশে-বিদেশে সমান স্বীকৃত। কৈশোরে কবিতাচর্চার মাধ্যমে সৃজনসাহিত্যে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও ক্রমে তিনি সরে এসেছেন গবেষণা ও প্রবন্ধ রচনার বিসত্মীর্ণ…
-
কিস্সা বলেন শেহ্রজাদে
রবিশংকর বল \ ৫ \ এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হল। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখতে-দেখতে… বৃষ্টিধারা দেখে ক্লান্ত হতে-হতে বাক্যটি মনে পড়ে গেল রঘুপতির। মনোরম মনোটোনাস শহর… তিনটি শটে একটা শহরের ছবি ফ্রেমবন্দি হয়ে যায়। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ গল্পের শুরু হয়েছিল ওই বাক্যটি দিয়ে। মনোরম আর মনোটোনাস, মনোরম আর…
-
স্মৃতির ছায়াপাত
শাহীন আখতার । ২। চিঠিতে মা আরো লিখেছেন – ছেলেটা এত কম কথা বলত! একদিন তা শুধোতেই নিরো বলে – ‘ওর বাড়ি ত্রিপুরা জেলায় (বর্তমান কুমিল্লা), মা। কথায় বাঙাল টান তো, তাই তোমার সামনে মুখ খুলছে না।’ তাতে সম্ভবত শ্লাঘা বোধই করেছিলেন আমার মা লীলাবতী। যে-ছেলে কলকাতায় ডাক্তারি পড়ে, কদিন পর আইএমএফ ডাক্তার হবে, সে…
-
ফাদার দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যের রম্যদূত
সুরঞ্জন মিদ্দে খ্রিষ্ট-সন্ন্যাসী : মিশনারি জীবন ফাদার দ্যতিয়েনের জন্ম ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর। পুরো নাম ফাদার পল দ্যতিয়েন (এস. জে.)। তাঁরা ছিলেন পাঁচ ভাই। ছিল না বোন। চার ভাই সন্ন্যাসী বলে ‘কুমত্মীর দ্রৌপদীকে বাড়ি আনবার সুযোগ হয়নি’ (‘বিশ্রী নিয়ম’, ডায়েরির ছেঁড়া পাতা)। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে পল ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি গম্ভীর দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে লিখেছেন :…
-
ফাদার দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যে অনন্য ঝংকার
কৃষ্ণা সেন ফাদার দ্যতিয়েন নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শুভ্রবসনে শরীরমোড়া একজন মানুষ, যাঁর জীবনবোধের একাংশকে আচ্ছন্ন করে রাখে গির্জার শান্ত সমাহিত পরিবেশ। আমরা, যাঁরা ভিক্তর হুগোর লেখা ল্যে মিজেরাব্ল পড়েছি অনুবাদে বা মূলে, সেখানে পেয়েছি শান্ত, সৌম, স্থিতধী একজন যাজকের ছবি। দ্যতিয়েন সাহেবকে সেরূপে ভেবে নিতে পারলেই কল্পনা অন্তত একটা ভিত্তিভূমি পেয়ে যায়।…
-
লংকাপুরীর দিনরাত্রি
নওশাদ জামিল কলম্বোতে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের জন্য গল ফেস সৈকতে যাওয়াটা ফরজ কাজ! কলম্বোর প্রাণকেন্দ্রে ফুরফুরে হাওয়া বিলিয়ে দিচ্ছে অনিন্দ্যসুন্দর এই সৈকত। পাশেই দাঁড়িয়ে কলম্বোর বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক এলাকা। ঠিক সামনেই পুরনো পার্লামেন্ট ভবন। খানিক এগোলেই সৈকতঘেঁষে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত গল ফেস হোটেল। কলম্বোর বেশকিছু দর্শনীয় জায়গা ঘুরে একদিন বিকেলে হাঁটতে-হাঁটতেই আমরা চলে আসি…
-
ঢাকায় ভারতের দুই তরুণ চিত্রকর
জাহিদ মুস্তাফা বাংলাদেশ এবং ভারতের চারুশিল্প ও শিল্পীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্কের দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভারতে আমাদের শিল্পীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও প্রদর্শনী করতে যাচ্ছেন, আবার সেদেশের শিল্পীরা একইভাবে একই প্রয়োজনে এদেশে আসছেন। ফলে অতীতের যে-কোনো সময়ের তুলনায় এ দুই মিত্ররাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে চারুশিল্পীরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি ঢাকায় প্রদর্শনী করতে এসেছিলেন ভারতের…
