March 2015

  • রবিজিজ্ঞাসা খেলো কেন অমন খেলা তুমি সবার সনে

    রণজিৎ বিশ্বাস যখন শুনি ‘কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে,/ তখন তুমি ছিলে না মোর সনে\’ অথবা, ‘মনে রবে কি না রবে আমারে  সে আমার মনে নাই। ক্ষণে ক্ষণে আমি আসি তব দুয়ারে, অকারণে গান গাই।’ কিংবা, ‘তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখ/ ওগো ঘুম-ভাঙানিয়া।/ বুকে চমক দিয়ে তাই তো ডাক ওগো…

  • কাব্য-প্রবক্তার দৃষ্টিকোণে

    শহীদ ইকবাল কবিতার অপরূপত্ব অনেক রকমের। কবির হাতে অনুভবের অপরিহার্য উচ্চারণটুকু শামিল হয় ভাষার প্রতীকে। এই প্রতীকে বহুবিস্তর স্বপ্ন প্রতিপাদ্য থাকে। পুরাণ-প্রত্ন অবিনাশী হয়ে ওঠে। জ্যাক লাঁকা ভাষার সঙ্গে স্বপ্নমাখা জীবনকে মিলিয়ে মনের অন্দর-সদরের, গোপন-উন্মুক্ততার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। মনের কোণের আয়নাকে কোনো ধ্বনি-প্রতীকে বাইরের প্রতিবেশের সঙ্গে সংযোগ করেছেন। তাতে আছে সামগ্রিক চেতনার প্রয়াস। যিনি কবি –…

  • অমিয়ভূষণের প্রেম ও যৌনচেতনা

    মোসাদ্দেক আহমেদ অমিয়ভূষণ মজুমদার সূচনা থেকেই পাত্রপাত্রীর প্রেম ও যৌনচেতনায় সুস্পষ্ট সীমারেখা টেনেছেন। তাঁর বিবেচনায় ভাত ও মদ যেমন পৃথক, তেমনি প্রেম ও কেচ্ছাও ভিন্ন। প্রেম যদি আলো হয়, তবে কাম-অঙ্গার-পোড়া চারকোলের ছাই। প্রেমে চরিত্ররা যত জীবন্ত হতে পারে, বাস্তবের বিশ্বাস উৎপাদন করতে পারে, কেচ্ছায় তা বিপ্রতীপ, উপরন্তু তা বেয়াড়া অশ্লীল বলে অভিযোগও উঠতে পারে;…

  • জন্মশতবর্ষে মতিউল ইসলাম

    মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম   মতিউল ইসলাম জন্মেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুনিয়াউক গ্রামে, ৫ নভেম্বর ১৯১৪ সালে। তাঁর পিতা শাহ ছালামত আলী ও মাতা জিন্নাতুন্নেসা – দুজনই বিশিষ্ট কিছু গুণের অধিকারী ছিলেন। মতিউল ইসলামের জীবনীতে উল্লেখ পাওয়া যায়, তাঁর পিতা সংবাদমূলক সাহিত্যের চর্চা করতেন। মা আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় দক্ষ ছিলেন। পারিবারিক ‘শাহ’ পদবি মতিউল ইসলাম বর্জন…

  • শওকত ওসমানের  মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস

    শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস

    মুক্তিযুদ্ধকে পটভূমি করে তিনি লিখেছেন চারটি উপন্যাস

  • গ্যোয়টে ও রবীন্দ্রনাথ মার্টিন কেম্পশেন

    অনুবাদ ও সম্পাদনা : জয়কৃষ্ণ কয়াল   আমরা যারা বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানিতে বড় হয়েছি, সেখানের স্কুল-পাঠশালায় পড়েছি – তারা সবাই বাধ্য ছিলাম গ্যোয়টের লেখাপত্রে ভালো রকম আত্মস্থ হতে। বিশেষ করে তাঁর কবিতা আর নাটকে। আমার বিশ্বাস, দ্বিতীয় বিশবযুদ্ধ এবং তৃতীয় রাইখে আমাদের পিতৃপ্রজন্মের আমূল বিপর্যয়ের পরে এই ক্ল্যাসিক জার্মান সাহিত্যিকে, সেইসঙ্গে শীলার (Schiller), ক্লাইস্ট (Kleist) এবং…

  • কার্তিকে কালো নদী

    রাহমান ওয়াহিদ ঝিমধরা পাতার শুকনো ডানায় ঝরে পড়ে ঝুমকো বকুল। দুপুরের শাদা চাঁদা গিলে খায় হেমন্তী কাঁচা রোদ। আমি এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যেতে চাই, যাবো একটুখানি। হাজারটা ঘর নাকি উঠেছে ঘরের ভেতর। ভাতগন্ধ বিকেল ও-ঘরে জ্বালাবে আজ নবান্ন ময়ূখ। যাবো আমি একটুখানি। শিশিরের গন্ধ ছুঁয়ে ছুঁয়ে। কোথা পথ? এই কার্তিকেও পথের আদলে আশ্চর্য শুয়ে আছে…

  • হুর

    মিজানুর রহমান বেলাল   কেউ অরণ্যের কাছে যায় না – অরণ্যই ডাকে সবুজ বুকে যেখানে দুরন্তপাখিদের সমাবেশ, সবুজ পালকের ফলক স্থির দাঁড়িয়ে থাকে – কালের আবরণ ও রহস্য নিয়ে।   মেঘের ছাউনিঘেরা ঘুড়ি-ওড়া গ্রাম, চোখের দেয়াল যুবতী বাঁশের খোড়লে ঘুমিয়ে থাকা হীরের জল সবই আমার একাকিত্ব ধার করা প্রজাপতিজন।   যতদূর জানি – অরণ্যে কোনো…

  • মধুমতি খেয়া

    সেলিম মাহমুদ   প্রজা-বিদ্রোহের চেয়ে কঠিন সংবাদ মুহূর্তে ছড়িয়ে দিতে পারো রাজ্যেশ্বরী আমরা ভচকে যেতে পারি, তাতে কী তোমার মধুমতি খেয়া বন্ধ হবে রোজ রোববার!   এমন কী দিন নেই, এমন কী নাম নেই যারা দ্বারা জালে জালে বিদ্যমান সড়ক ও জনপথ ট্রাফিক আইন মেনে চলা ট্যাক্সিক্যাব ট্রাক বলবে না আর, ন্যাড়া কি বারবার বেলতলা…

  • ভালোবাসার মতো কেউ

    শিউল মনজুর ভালোবাসার মতো বিশেষ কেউ একজন আসছে; এই ভেবে কুয়াশাভোরে, বাসস্টপে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য প্রতীক্ষায় কাঁপন ধরে শরীরে, তবু অপেক্ষা করতেই হয়…। ভালোবাসার মতো বিশেষ কেউ একজন আসছে; ট্রেন এসে পৌঁছুতে পারেনি, ওয়েটিং রুমে গভীর রাত পর্যন্ত ঝিমুতে ঝিমুতে ক্লান্ত শরীর আর যেন চলে না, তবু অপেক্ষা করতেই হয়…। ভালোবাসার মতো বিশেষ কেউ…

  • আত্মমোচন

    আহমদ আজিজ   ক্ষরিত রক্তে রক্তলিখন হৃৎপত্রের সমাপ্তি হোক ভুল অভিলাষ দগ্ধপাঁজর ধুলোলাঞ্ছিত কল্পনালোক;   রৌদ্রতাপিত মুগ্ধসকাল বর্ষামুখর উদ্যান-বন বিস্মৃত হোক কামনাচারিতা পুড়ে ছাই হোক স্মৃতির-বসন;   করুণাকাতর মলিন সন্ধ্যা নির্বাক চোখ রক্তিমাকাশ প্রতিবিম্বিত রক্তপুকুর ক্ষতবিক্ষত বিমূর্ত হাঁস;   দহনবিদ্ধ হৃৎকারিগর আজ তবে হোক গ্রন্থিমোচন দূরপ্রান্তর ডাকে আয় আয় হাতছানি দেয় আলোর নাচন।

  • দুটি কবিতা

    ইকবাল হাসান   জলের আকুতি   মাগো একটু জল দাও। দুপুরের ছায়া হয়ে অন্ধ ভিখিরি এক তোমার দুয়ারে দ্যাখো দাঁড়িয়ে রয়েছে যেন চৈত্রের তৃষ্ণা বুকে নিষ্পত্র দেবদারু। মাগো একটু জল দাও এই অন্তহীন তৃষ্ণার্ত আগুনের পদমূলে।   এতো জল চারদিকে, তবু মাগো বৈষ্ণবের জলতেষ্টা কখনো মেটে না।   বাউল   বেরিয়ে ছিলাম ঘর ছেড়ে এক…