January
-
দৃশ্যকলার বাঁশিওয়ালা
অশোক কর্মকার ইয়েলো অকার যাঁর প্রিয় রং। সোনালি আভায় উদ্ভাসিত যাঁর ক্যানভাস আর প্রচ্ছদপট। বাংলাদেশের চিত্রকলা আর ব্যবহারিক শিল্পে যাঁর তুলির আঁচড়ে আমাদের রুচির নির্মাণ। তাঁর আঁকা একটি পোস্টার প্রথম দেখি ১৯৭২ সালে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-প্রকাশিত ‘লাখো শহিদের আত্মদানে মুক্ত স্বদেশ এসো দেশ গড়ি’, অসাধারণ এক পোস্টার – যা আজো আমার চোখে লেগে আছে। তখন…
-
বাংলাদেশে চারুকলার ৫০ বছর শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতিচারণ
হাসান হাফিজ তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের চারুকলার জগৎ অনেকটাই এতিম হয়ে গেছে বলা চলে। আমাদের গ্রেট মাস্টারদের অন্যতম ছিলেন মহান এই শিল্পী। প্রগতির লড়াইয়ে তিনি সবসময় ছিলেন অগ্রসেনানী। জাতির মননে তিনি জারিত করে চলেছিলেন নান্দনিকতার চেতনা, রুচি ও সৌন্দর্যবোধ। এই দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননের অঙ্গনে তিনি ছিলেন অভিভাবকপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। রীতিমতো একটি প্রতিষ্ঠান। ৮২ বছর…
-
আমার বাবার মুখ
মইনুল ইসলাম জাবের ‘অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি’ প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে বাড়ি থেকে বেরুতে হতো আমার আর আমার বাবার। স্কুলে পৌঁছুতে হবে পৌনে ৮টার মধ্যে – কারণ তখন পিটি করে ক্লাস ধরতে হতো সকাল ৮টায়। বাবা ঘুম থেকে উঠতেন সকাল সাড়ে ৬টায় আর তার পরপরই মা আর আমি ৭টায়। বাবার প্রথম কাজ স্যান্ডউইচ তৈরি…
-
তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে
রাতুল দেব বর্মণ ঢাকায় গেলে কাইয়ুমভাইয়ের সঙ্গে দেখা হবেই। তাঁর সঙ্গে দেখা না হলে, কথা না হলে ঢাকা সফর বা বাংলাদেশ বেড়ানোর কোর্স পুরো হয়নি। দাওয়াত থাকত প্রতিবারেই। কখনো তাঁর বাড়িতে, কখনো ঢাকা ক্লাব কিংবা অন্য কোনো বন্ধু-গুণিজনের বৈঠকখানায়। দেখা-সাক্ষাৎ, আড্ডায় ডুবে যেতাম দীর্ঘসময়। এমন প্রাণোচ্ছল, প্রকৃতি ও মৃত্তিকালগ্ন মানুষ আমি কজন দেখেছি জানি না।…
-
এত দূরে চলে গেলেন কী করে?
রফি হক শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী প্রসঙ্গে লিখতে বসে আমার আর্ট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার দিনটির কথা মনে পড়ে গেল। সেই বিরাশি সালে কুষ্টিয়া থেকে অনেকটা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে আর্ট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল এমন যে, ঢাকার আর্ট কলেজটিতে গেলেই আমাকে ভর্তি করে নেবে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে হলো নানারকমের। সেখানেই প্রথম দেখি কাইয়ুম…
-
ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিক বর্ণচ্ছটা
হারিসুল হক স্বপ্ন ও সত্যের অদ্ভুত দোলাচলে সৃষ্টিশীল মন উদ্বেল হয়ে থাকবে – এ আর নতুন কী! কাইয়ুম চৌধুরীও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। ফলে যে অপার সুড়ঙ্গপথে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন, সে-পথ তিনি যথার্থ অর্থেই একসময় খুঁজে পেয়েছিলেন। একসময় হাজারো বিনিদ্র মুহূর্তের ভাবনাপুঞ্জ একীভূত হয়ে পাখা মেলল তাঁর সৃষ্টির আকাশে এবং তার সে অনিবার্য যাত্রা…
-
আমাদের সুরুচির বরপুত্র
রশীদ আমিন কাইয়ুম চৌধুরীর অকস্মাৎ মহাপ্রয়াণে সত্যি আমাদের শিল্পাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; কারণ কাইয়ুমবিহীন আমাদের এই শিল্পের ভুবন কল্পনাই করা যায় না। তিনি ছিলেন আমাদের এই ভুবনের সুরুচির বরপুত্র। আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণির রুচিনির্মাণে তিনি ছিলেন কান্ডারি। স্বাধীনতা-উত্তর এই দেশের শিল্পের সুলুক সন্ধানে কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন নিরলস অভিযাত্রী। তাঁর শিল্পযাত্রা হয়ে উঠেছিল বহুমুখী, চিত্রকলার নিজস্ব…
-

কাইয়ুম চৌধুরীর চলচ্চিত্র-অনুরাগ
চলচ্চিত্র দেখতে দেখতে চলচ্চিত্রবিষয়ক সবকিছুর ব্যাপারে আগ্রহ ও কৌতূহল জন্মেছিল সেই কৈশোর থেকেই।
-
কাইয়ুম চৌধুরীর স্বদেশ-সজ্ঞানতা
সুশান্ত মজুমদার কাইয়ুম চৌধুরীর শিল্পীসত্তার বহুমুখিনতা বুঝি মাধুকরী ছিল। বিভিন্ন পুষ্প থেকে মধু সংগ্রহের মতো স্বদেশভূমির বিবিধ নির্যাস গ্রহণ করে আবার তা স্বীয় সৃষ্টির মধ্যে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন। শিল্পী নিংড়ে তুলে নিয়েছেন বাংলার চিরন্তন প্রকৃতি, বহমান নদী, উপকূলভাগের মনোহারী শোভা, সৌম্যশান্ত পরিবেশ, ভাসমান নৌকো। ঢেউ ও জলপ্রবাহের ধ্বনি ধারণ করে বাংলার প্রায় সব আকৃতির সুকুমার…
-
কাইয়ুম চৌধুরী
দেবব্রত চক্রবর্তী বিশিষ্ট শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী চলে গেলেন। ওপার বাংলার শিল্পী হলেও এপার বাংলায় তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্তসংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সৌভাগ্যবশত আমি তাঁর খুব কাছে আসতে পেরেছিলাম এবং স্নেহধন্যও হয়েছিলাম। খুব বেশিদিনের জন্যে নয়। কারণ ২০১০ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আহবানে এপার বাংলার ক্যালকাটা পেইন্টার্সের পা পড়েছিল বাংলাদেশে। এপার আর ওপার বাংলার যৌথ চিত্র-কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।…


