March
-
এখন আর
আশিস সান্যাল এখন আর তোমার কথা ভাবি না। তোমার কথা ভাবতে গেলেই আমার শরীরে একটা অবসাদ দাপাদাপি করতে থাকে। অথচ তোমার জন্যেই একদিন আমি নির্মাণ করেছিলাম এই আশ্চর্য তোরণ আসলে এর মধ্যেই তুমি পালটে ফেলেছ তোমার খোলস। তাই চকচক করছে মেরুদ-হীন তোমার শরীর। লোভ আর হিংসায় এখন বিষাক্ত করতে চাইছ আমাকেও। এখন তোমার কথা ভাবতে…
-
এই তো সেদিন
মোহাম্মদ রফিক এই তো সেদিন, মা ডাকেন, দাওয়ার ওপর থেকে, খোকা, এই খোকা, বাইরে শীত, জামা গায়ে দিয়ে যাও; এই তো সেদিন, দাদি কন, পাটিটা বিছিয়ে নিয়ে ভালো করে দুধে কলা, এবার মাখিয়ে নেও, সোনামণি; এই তো সেদিন এই বাবার সাইকেলে পিছে চেপে বৈটপুর সাইনবোর্ড বাদাল বনগাঁ তারপর কত দূর কত তেপান্তর, মরা খালে নদী…
-
ফাউ অর্থাৎ কনজুমার্স সারপ্লাস
আসাদ চৌধুরী টিকা-টিপ্পনী-বিহীন জ্বলে-ওঠা আড্ডা-লাইব্রেরি (প্রকাশনা-সন-তারিখের নাম গন্ধ নেই)। তাত্ত্বিক এবং অ্যাকটিভিস্ট সিগারেট ভাগাভাগি করে, বাক্যে গরম হরফ নেই, তাদের আস্তিন যথাস্থানে, হয়নি গোটাতে। আমার নিজস্ব জ্ঞান-চর্চা এই মতো, বাপ-চাচাদের কাছ থেকে পাওয়া, (প্লিজ, আমাকে না দেখাবেন এথেন্স শহর, না হাইকোর্ট)। মনে-মনে আরো একবার হেমন্তের ইয়াব্বড়ো চাঁদটিকে শশি বলে ডেকে উঠলাম। এই নামে নবাগতা এক…
-
চড়াইভাতি
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী শীতকালে দু-দুটো দিন ছুটি পাওয়া যায়। পঁচিশে ডিসেম্বরের বড়দিন আর পয়লা জানুয়ারি। তারই মধ্যে ওরা একদিন দল বেঁধে এই অজ পাড়াগাঁয়ে পিকনিক করতে এসেছিল। ওরা মানে মাইল পঁচিশেক দূরবর্তী এক শহরের এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে। যে মিনিবাসে ওরা এসেছিল, তা থেকে সেদ্ধ ডিম, কলা, পাউরুটি, সবজি ও মাছ-মাংসে ভর্তি গোটাকয় প্ল্যাস্টিকের থলিও নামে আর…
-
শ্রী শ্যামাচরণ কবিরাজ ভবন
আহমেদ মুনির হাফসাকে নিয়ে মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ি আমি। ওর সঙ্গে কোন অভিজ্ঞতাটা বাস্তবে ঘটেছে আর কোনটা স্বপ্নে, সেটা গুলিয়ে ফেলি। যেমন জেলরোডের ঘটনাটা বাস্তবে ঘটেছিল কিনা আমি নিশ্চিত নই। বছরখানেক আগে হবে। এক সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরি থেকে বেরিয়েছি। ফুটপাতের এক কোণে ভ্যানের ওপর তালের ডাবের স্তূপ। নিপুণ দক্ষতায় তালশাঁস কেটে দিচ্ছিল ভ্যানওয়ালা। পেছন থেকে…
-
একজন কলগার্লের বায়োস্কোপে ভাসা কৈশোর
কা জী রা ফি শহর ছেড়ে দূরে ঐতিহাসিক ভিমের জাঙ্গালের বিস্তৃতির ওপর, টিলামতো উঁচু অংশে তিন মেয়ে আর এক ছেলে সন্তানের জনক ফয়েজের দোচালা টিনের বাড়ি। এই বাড়ির চারপাশের প্রকৃতির অবগুণ্ঠনে লুকিয়ে। থাকা ছন্দপ্রবাহ ছোটবেলা থেকেই তার মেজ মেয়ে মালিহাকে নাচের প্রতি উৎসাহিত করে থাকবে হয়তো। বাড়িটার পুবে এককালের প্রমত্তা কলুতু আর বর্তমানের শুকিয়ে খালের…
-
জলের দাগ
সা দি য়া মা হ্ জা বী ন ই মা ম সেদিন মাঝরাতে আজইগাঁতির মানুষ দেখল, ভৈরবের দিকে পাগলের মতো অন্ধকারে একজন দৌড়াচ্ছে। খালি পায়ের ধুলো উড়িয়ে দিচ্ছে বাতাসে। হালকা কুয়াশা শুরু হয়েছে, এদিককার মানুষ ডাকে ‘হিম’। হিমের ভেতর মিশেমিশে যাচ্ছে ধুলো। মানুষটার হাতে বাদামি রঙের কাপড়ের মতো কিছু একটা। ওটাও সঙ্গে যাচ্ছে, যেন নৌকার…
-
রুপার গল্প, হয়তো অনেকের…
মা লে কা পা র ভী ন আমি রুপা। এটা আমার গল্প, আবার হয়তো অনেকের – আমার মতো অথবা একেবারেই আলাদা কারো। এই গল্প বা কথাগুলো পড়তে পড়তে আপনার মনে ভেসে উঠতে পারে কোনো একজনের কথা, যাকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছেন জীবনের আশ্চর্য গতিময় ঘূর্ণিপাকে। অথবা হয়তো এটা আপনারই কাহিনি। এমন স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি করবেন বলে…
-
হলদে ফুলের বিকেল
পা প ড়ি র হ মা ন চৌকোনো আরশির ভেতর দিয়ে সাত্তার মিয়া একজোড়া চোখ দেখেছিল। চারপাশে তখন এতটাই হুলস্থূল আর ঠেলাঠেলি, হাসি-ঠাট্টার-উপচানো-স্রোত, উৎসুক-দৃষ্টি – সেসব এড়িয়ে সাত্তার মিয়ার অন্যকিছু দেখার উপায়ও ছিল না। কিন্তু সাত্তার মিয়া হাল ছাড়ে নাই। যতটুকু দেখা যায় তার চেয়েও অধিক-কিছু দেখবে বলে উদগ্রীব ছিল। শাহ্নজর বলে কথা! লোকে বলে…
-
আদর্শলিপি
মনি হায়দার কী হয়েছে তোমার? বসার ঘরে গম্ভীরমুখে শাহাদাতকে বসে থাকতে দেখে অবাক জাহাঙ্গীর। কথা বলতে বলতে বসে পাশে। শাহাদাত হোসেন সরকারি বড় কর্মকর্তা। থাকে ঢাকায়। জাহাঙ্গীরের ছোট বোনকে বিয়ে করেছে কয়েক বছর আগে। বিয়ের আগে শাহাদাত আর জাহাঙ্গীর বন্ধু ছিল। দুজনে মাস্টার্স করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জাহাঙ্গীর মাস্টার্স করে চাকরি না খুঁজে ভা-ারিয়া উপজেলা…
-
ফিরে যাওয়া
হ রি শং ক র জ ল দা স ‘আমি একবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেতে চাই।’ চিত্রগুপ্ত অতিশয় পুরনো বালামের একটি পৃষ্ঠায় গভীর মনোযোগ দিয়ে কী যেন দেখছিলেন। পৃষ্ঠাটি নানা সংখ্যায় ভর্তি। মঘি, শকাব্দ, খ্রিষ্টাব্দ, বঙ্গাব্দ – এসবের হিসেবপত্তর আছে তাতে। চিত্রগুপ্তকে দেখে মনে হচ্ছে, কোনো একটা সন-তারিখের গরমিলে তিনি উদ্বিগ্ন। এ-কারণেই বোধহয় বক্তার আর্জি চিত্রগুপ্তের কানে…
-
পাপ ও পুণ্যস্নান
রা শে দ র হ মা ন কবুল করছি, অকপটে; মনে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব না-রেখে; তনুশ্রীকে আমি ফাঁদে ফেলেছিলাম। জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো নিটোল, মেদহীন শরীর তনুশ্রীর। অভিমানী চোখ – ওর চোখের দিকে তাকালে আপনি দেখবেন, একজোড়া রাজহাঁস সাঁতার কাটছে ওর চোখের ভেতর – সেই তনুশ্রীকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে অরুণ – এটা আমি সহ্য করতে পারছিলাম…
