April

  • নস্টালজিয়া

    রত্নমঞ্জুলিকা মুখোটি আজকাল আমার ভেতরে স্মৃতির আনাগোনা শুরু হয়েছে অদ্ভুতভাবে। যেমন, ভিড় বাসে দাঁড়িয়ে হাঁপিয়ে উঠছি, ঠিক তখনি চোখ ঝাপসা করে বুকের ভেতর উথাল-পাথাল করে উঠল, মুহূর্তে এলোমেলো হয়ে গেল জাগতিক সব কিছু। মরিয়ার মতো বাস থেকে নেমে খুঁজতে থাকি একটা নির্জন জায়গা। যদি একটা ফাঁকা পার্ক নজরে পড়ে যায়, দেরি না করে চলে যাই…

  • নীল কষ্টের বয়ান

    দেলোয়ার হোসাইন বিড়ম্বনা পোহাতে হবে বলে আমি আমার মুখের লাগাম টেনে রাখি বেহায়া সন্দেহ আমাকে তবু আটকে রাখে অস্থির কানাঘুষায়, বেহুঁশ বাতাসে ভেসে আসে নীল কষ্টের বয়ান। আমি দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরি, তবু মন ভাঙার শব্দ আমাকে দুমড়ে-মুচড়ে কাত করে রাখে বেদনার উঠানে। আমি বেদনার গালে শেষ চুম্বন দিয়ে নিজেকে নাইতে নিয়ে গেলাম…

  • এখানে নিদারুণ শীত

    সৌভিক রেজা কাজে লাগবে জেনেই পাতাঝরা দিনগুলো চাইতে না-চাইতেই ডাকে পাঠিয়েছিলাম; তা-ও আবার ক্যুরিয়ারে… তাতে পয়সাও লাগলো বেশি; এখন বেশ বুঝতে পারি এই বৃদ্ধ বয়সে টাকা-পয়সার কথা ভুলে-যাওয়াটা আহাম্মকি; কথা ছিল দিনগুলো এক মাসের মধ্যে ফেরত পাবো; এদিকে মরুঝড় বন্যা ভূমিকম্প হিমযুগ – সব পার করে বিছানায় একা বসে আছি। যা দিয়েছি, হেনাদি, তা ফেরত…

  • বসন্ত রজনীতে বসিয়া রচিত কবিতা

    টোকন ঠাকুর নিষ্প্রয়োজনে আমি ছোট নাম লেখাতে গেছি কবির খাতায় নিজ প্রয়োজনে আমি নক্ষত্রের দেনা নিয়েছি মাথায় বিষ-প্রয়োজনে আমি সাপ ও বেদেনি চেয়েছি দুটোয় দুহাতে দুধের ছানা, বেপরোয়া মুঠোয় মুঠোয় সম্পূর্ণ ফুটেও নারী ক্লাসিক্যালি অস্ফুট সুতরাং,  আজ আমাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে  হলো – আমি কি কবি ছিলাম? সাপুড়ে ছিলাম? নাকি ছিলাম যা, তাই? শিস প্রয়োজনে…

  • যেন কাঠকয়লা যেন তুষের অনল

    তমিজ উদ্দীন লোদী যেন কাঠকয়লা যেন তুষের অনল-অগ্ন্যুৎপাত নয় যেন জলকণা যেন বৃষ্টি-জলোচ্ছ্বাস নয় যেন লাভা যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি-বিস্ফোরণ নয়। তবু কীভাবে যেন অগ্ন্যুৎপাতে জলোচ্ছ্বাসে বিস্ফোরণে ফেটে পড়ছে। ফেটে পড়ছে তরুণ-তরুণী-যুবক-বৃদ্ধ আপামর – মানুষের অভীপ্সার সমান্তরালে ভেসে যাচ্ছে খড়কুটোর মতো ভীরুতা ও কৌটিল্য। পুঞ্জীভূত ক্রোধ পুঞ্জীভুত ঘৃণা একটি অহিংস অবয়বে তারুণ্য কী প্রজন্মের হাত ধরে…

  • বাংলাভাষা

    কাজল চক্রবর্তী স্বরের ব্যঞ্জনে যা উঠে এলো দুহাতে সেইটুকু অর্জন আমার সংগ্রহে থাক জলাধারের একপ্রান্তে বকের প্রতীক্ষায় এবার ছুড়ে দেবো উদ্দাম শ্রীচরণ প্রতীক্ষা জুড়ে জেগে উঠবে প্রাপ্তিবিম্ব আর সেই বিম্ব জুড়ে থাকবে আমার পৌরুষ মেঘের পাহাড়ে জেগে থাকবে ভেজা চাঁদ আমার আলোয় আলোকিত সেই চাঁদে একবার উপরে উঠবো, তারপরে নিচে বাতাসে ভাসবে ক্রমশ উজাড় করা…

  • দুটি কবিতা

    দিলারা হাফিজ মেয়ে তুমি বড় হচ্ছো এতোটা বয়স হয়নি মেয়ের এখনো বোঝে না সে যে কি কথা যায় না বলা তার স্বরে কী কথা বলতে হবে কানে কানে এখনো বোঝে না সে যে ভাইটি কেন বা হিসি করে রোজ উঠানে দাঁড়িয়ে মা তাকে কেন যে বাধ্য করেন আড়ালেতে গিয়ে শিশিরের মতো নিঃশব্দ ত্যাগে এখনো বোঝে…

  • মরুর যে-মেঘ

    আমিনুর রহমান সুলতান পাহাড় পাহাড়ই, পাহাড় বলেই তার কোলে নেমে আসে মেঘ পাহাড়ের ক্ষয় নিয়ে ঢলে ঢলে বয়ে চলে মেঘ নদী হয়ে যায়… মরু সে-মরুই মরুর মেঘ নামতে দেখেনি কেউ। মরু ছাড়া। পাহাড় ভুলে যায় তার কোলের মেঘের স্মৃতি মরুই ভোলে না স্মৃতি মরুর যে-মেঘ উড়ে উড়ে ছায়া দেয় কুয়া খোঁড়া তার জলে… মরুর কুয়ার…

  • কালো গোলাপ ও প্রবালদ্বীপের স্বপ্ন

    নাসির আহমেদ অসংখ্য লাল গোলাপ দেখেছি জীবনে, দেখেছি দু-একটি সাদা গোলাপও কিন্তু যে গোলাপ কখনো দেখিনি – সেই কালো গোলাপের পাপড়ি গতরাতে ছুঁয়ে গেছে আমাকে ঘুমের মধ্যে। তারপর থেকে আমি কালো গোলাপের জন্য তৃষ্ণার্ত জেগে উঠি প্রতিদিন। এক আশ্চর্য হাহাকারে। যাইনি প্রবাল দ্বীপে কস্মিনকালেও, সূর্যস্নান করিনি কখনো সৈকতের রুপালি বালিতে ঝলমলে ভোরের আলোয়। অথচ আশ্চর্য…

  • এতোটা সরল তুমি (অমৃত মাইতি বন্ধুবরেষু)

    মুহম্মদ নূরুল হুদা এতোটা সরল তুমি এতোটা সহজ এতোটা ভনিতাহীন এতো অভিমানী ধর্মাধর্মে আস্থাহীন, স্থির কর্মধ্যানী, তর্কসূত্রে গড়ে নাও অভেদের ঘর : মানুষ-পতঙ্গ-ঘাস কেউ নয় পর। মাটিকে আদর করে ডাকো তুমি ‘মা’ আগুন যদিও দাহ্য, বলো অগ্নিদেব, জলের সান্নিধ্যে তুমি করো গঙ্গাøান : সর্বভূতে লীন হতে তবে কার ভয়? : এ মহাবিশ্বের মতো ব্যক্তিও অক্ষয়।…

  • পর্যবেক্ষণ

    আসাদ চৌধুরী গুণীজন তাঁর বদলেমানতেই হবে নাম তাঁর আল-বেরুনি,ঋতু সম্পর্কে সমবয়সী নারকোলগাছটির বিবরণ, জুড়ে দিলেন : অভিজ্ঞতা আমার চেয়ে বেশি। কেন নেই লাল চিরুনি!শীতে কাঁপে বৃষ্টিতে সারাক্ষণ ভেজে এখনো পায়রা দুটোরোদে পোড়ে, একটু বেশিই পোড়ে ওরা তাই জাতিচ্যুত, না পারে বকম বকম,কোনো বৃক্ষই লেখাপড়া জানে না, স্টুডিয়োর সময় খতমটিপসইও দেয়নি বোকা কৃষকের মতো একটি শিশুও…

  • দুটি কবিতা

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত পাখিদের খাবারদাবার দীঘা থেকে আমি ঝিনুকের জালবোনা চারুশিল্পের একখানি আলপনা তুলে এনে যেই বাগানে শিরীষডালে টাঙিয়ে দিলাম, শালিখেরা জানত না তার আস্বাদে কীরকম সান্ত্বনা গচ্ছিত আছে, ফলত উঁচকপালে উড়ে গেল ওরা দূরের এক তমালে। আমিও ছিলাম কাছেপিঠে অনাবাসী Ñ তিন ঋতু পরে মালঞ্চে ফিরে দেখি ঝুলে আছে জাল, ঝিনুকেরা সুনসান, আমি বেঁচে নেই…