May
-
সর্ষেচাষি
আশরাফ আহমদ শীতে যারা জবুথবু আগুন পোহায়, সেই দল ছেড়ে জীর্ণ ঘোড়ার দলে, প্রতিযোগে, ঊর্ধ্বশ্বাস ছোটে, ক্লামিত্মতে পরাক্রান্ত হয়ে নিরাশার পা স্পর্শের আগে যদি মনটা কেমন করে? যদি থেমে যাই! স্বপ্ন সর্ষে হয়ে ধু-ধু প্রান্তরে যদি বিছায় হলুদ শাড়ি, তবে প্রথম প্রেমের চোখও দৃষ্টিহীন আনন্দে মাতাল পৃথিবী সর্ষেময়। চোখভর্তি জটে অদৃশ্য দশদিক। যদি…
-
শীতঘুম
তুষার কবির শীতের কোরক খোলো – তোরঙ্গের নিচে আছে ওম আরো আছে খড়কুটো; দেশলাই জ্বেলে দাও রাতে কুঠুরির স্বর শোনো – বজরায় নিভে যায় মোম বাইজির ভাঁজ খোলে, জ্বলে ওঠে কুমুদ মৌতাতে। পুরনো পিয়ন হাঁটে ধূলিখামে কিশোরীর ঘুম চিঠির গহিনে আছে অক্ষরের স্বাতিতারা স্বর – কিছুটা তোমার কথা আরো শোনো জলের মাতম তবে…
-
নির্বাসন দিচ্ছো দাও
হাসান হাফিজ আদিভাষা শরীরেরই শুধুমাত্র নয়। চৈতন্যেরও একই ভাষা। মনেরও তাহলে? এই কথা পুনরম্নক্তি দোষে দুষ্ট, তাও যাই বলে নিরঞ্জন প্রভু জানে, তোমারই তপস্যা আমি করছি আড়ালে এই পঙ্ক্তি রচনায় উপবাসে তোমারই উপমা মনে-মনে যাচ্ঞা করে শর্তহীন ক্ষমা জানি না করবে কি-না সুন্দরী পরমা না-ই করো দুঃখ নাই এ-কথা জানাই বিরহের প্রস্তাবনা…
-
আকাশে মেঘ
আশিস সান্যাল আকাশে দুরন্ত মেঘ হাওয়া বয় শোনা যায় দূর থেকে সমুদ্রের স্বর। পাতা ঝরে – মনে হয় অন্ধকারে ত্রসত্ম যেন সমসত্ম প্রহর। হয়তো এখানে আমি মনে পড়ে হায় একদিন স্বপ্নময় বিজন সন্ধ্যায় তোমার দু-হাত ভরে দিয়েছি বকুল ছুঁয়েছি স্বপ্নের মাঝে জলের মতন স্নিগ্ধ তোমার বর্তুল। তারপরে ভেসে গেছি দুজন দুদিকে হায়…
-
ভূমিকা
রেজাউদ্দিন স্টালিন জীবনের বিরম্নদ্ধে যারা অত্যন্ত গোপনে তারাও বিশ্বাস করে সুদিন আসবে। একজন ভিখারিও বিশ্বাস করে দাতাদের অন্তর আরো দয়ার্দ্র হবে। খরাকবলিত কৃষকের বিশ্বাস এই খাঁ-খাঁ প্রান্তরে বর্ষণ হবে একদিন। মা ভাবে তার নিরম্নদ্দিষ্ট সমত্মান দিগমেত্মর খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসবে, রংধনু। পরাজিত নিরস্ত্র ভাবে, বন্দিশালার দেয়াল অকস্মাৎ একদিন ভেঙে পড়বে। একজন ঈশ্বরে অবিশ্বাসীও ভাবে,…
-
কাটাকুটি
শিহাব সরকার ধ্রম্নবসত্য অবশেষে বোবাকান্না, কাটাকুটি ছিঁড়ে-ছেনে কত পঙ্ক্তি বানাই, পঙ্ক্তি ভাঙি ছিল এইসব আমাদের কুহেলিকালে নিকষ অন্ধকারে এখন চোখ খুলি রাত জেগে সারারাত তারা খুঁজি আকাশে। নক্ষত্রেরা জ্বলে ওঠে কী মনোহর উজ্জবল আকাশের ওপারে শোক, আহা, ওই সুপারনোভা! অন্ধগলি ধরে হাঁটার পরে মৃত্যুর কুয়াশা পথ গিয়ে ঢুকেছে হারানো গুহামুখে। ওইখানে…
-
বাগানের দেবী
রণজিৎ দাশ যখনই তোমাকে দেখি, অদম্য রমণী তুমি – চৈত্রঝড়ে তছনছ বাগানের মতো এত প্রাণবন্ত, টাটকা, সতেজ? ভাঙা ডালে, ছেঁড়া ফুলে, ঝরাপাতা, পাখির পালকে ল-ভ-, বৃষ্টিভেজা মাটির সুগন্ধে-ভরা দুরন্ত যুবতী! তোমাকেই দেখি আমি, ঘুরেফিরে, শীতে গ্রীষ্মে কলহে বিচ্ছেদে অটুট, ভ্রূক্ষেপহীনা; যেন তুমি তুফান-শিকারি – বজ্রপাতে শুদ্ধ-হওয়া তোমার বাতাসে আরো ঘন অক্সিজেন বুক ভরে টানি,…
-
শাদা হাতি চুরি-বৃত্তান্ত
মার্ক টোয়েন ভাষান্তর : রেজাউদ্দিন চৌধুরী [বিদেশে এক ভবঘুরে-বই থেকে এ-লেখা বাদ দেওয়া হয়েছিল এই আশঙ্কায় যে, এর কিছু বর্ণনা সম্ভবত অতিরঞ্জিত এবং অন্য অংশ সত্যি নয়। এই সন্দেহ ভিত্তিহীন প্রমাণ হওয়ার আগেই বইটি প্রেসে চলে গিয়েছিল। – এম. টি।] এই কৌতূহলোদ্দীপক ইতিহাসটি আমার কাছে বয়ান করেছিলেন হঠাৎ পরিচিত হওয়া এক রেলওয়ে যাত্রী।…
-
অন্যতমা অন্যদিকে যায়
নাসরীন জাহান আমি বিমূঢ়, সত্মব্ধ বিস্মিত, ধেয়ে আসছে নদীটি… যার স্রোতের নির্মল ঢেউয়ে প্রচ্ছন্ন ছায়া ফেলছিল অরেঞ্জ রং… ভাঁজে-ভাঁজে যেন আকাশের মেঘ… তুলো-তুলো কখনো, কখনো হরিণ… হাতি… কিন্তু আমি জলের মধ্যেও শুধু হাজারো ঢেউ ভেঙে একটা মুখকে স্থিত হতে দেখেছি। যার চোখ কেবল আমাকে দেখলেই ভাষা বদলায় দেখি। সেই নদী… বন্যার উদ্দামতা নিয়ে… কোমল নখর-মিশ্রণ…
-
গ্রামের টান মার্টিন কেম্পশেন
অনুবাদ : জয়কৃষ্ণ কয়াল আমার ছোটবেলাটা কেটেছে একটা আদ্যিকেলে খামারবাড়ির পাশে। জার্মানির এক অমত্ম্যজ শহরের একটা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন আমার বাবা। জায়গাটা পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা, হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা বাতাসের জন্যে বিখ্যাত। সেই শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটা গ্রামের ধারে বাসা নিলাম আমরা। আমাদের ঠিক পাশের বাড়িটা ছিল ট্রাপ পরিবারের। তাঁরা কিছু জমি-জায়গা চাষবাস করতেন, গরম্ন-মুরগি-শূকর পুষতেন।…
-
প্রিয় বন্ধু কবি রফিক আজাদ এখন গভীর ঘুমে
রবিউল হুসাইন ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়াজুড়ে উন্মাতাল, উত্তেজনাময়, উদ্দীপক বিট, বিটল্স, হাংরি জেনারেশন – সেই ষাটের দশকে স্যাড জেনারেশন বা বিষণ্ণ প্রজন্ম আন্দোলনের ঘোষণায় কবি রফিক আজাদ উচ্চারণ করেছিলেন, আমরা গতানুগতিকতাবিরোধী, সমাজবিচ্ছিন্ন, আত্মধ্বংসী, মৃত্যুপরায়ণ, বিষণ্ণ। আমাদের একমাত্র বন্ধু সিগারেট, আমাদের রক্তের মধ্যে বিস্ফোরণোন্মুখ ডিনামাইট (জীবন নিরর্থক জেনে), আমরা নিঃশেষিত, বিব্রত, ক্লান্ত এবং বিষণ্ণ। ১৯৪১-এর ১৪ ফেব্রম্নয়ারি…
-
দুই স্রষ্টাকে নিয়ে সামান্য কথা
আহমাদ ইশতিয়াক মাথাভর্তি উদ্ভ্রান্তের মতো চুল, বহুদিন খুরের আঁচড় না পড়া চুপসে যাওয়া গালে খোঁচা দাড়ি, ঠোঁটে বিড়ি আর হাতে বাংলা মদের বোতল। পরনের পাজামা-পাঞ্জাবি ময়লায় মলিন আর চোখভর্তি স্বপ্ন! চোখের কালো ফ্রেমের চশমাটায় এক অবিন্যসত্ম দৃষ্টি! জিজ্ঞেস করলেই বলতেন, এক মাতালের ধারে এসে পড়লে যা হাল হয়। দূর থেকে দেখলে নিতান্তই অপরিচিত ঠেকবে ঋত্বিক…
