May
-
আড্ডা
কমলেশ দাশগুপ্ত কিছুই তো নয় শুধু অর্থহীন আলাপের টেবিলে কিছু খুচরো বিষয়েরা নিয়েছে মুজরো কেউ তো নেয়নি ভাগ সময়ের ঋণ। কতবার ব্যর্থ শব্দের টেবিলে; অনান্তরিক হয়তো কেউ কি ছিলে কবিতার কায়া পিষ্ট নখরে অপবিত্র করে দিলে। তাই তো জাগেনি একটিও কুঁড়ি দূষণের আঁচে অংকুর; নিষ্ফলা কৃষক, ফলনের ছবি টোকাতেই ভাংচুর। কতদিন…
-
আমিহীন আমার ছায়ারা
ওমর কায়সার আমার আড়াল থেকে ওরা বেরিয়ে এসেছে হেঁটে গেছে সীমানা চিহ্নের বাঁধ ভেঙে চলে গেছে কোন পরবাসে। আমিহীন আমার ছায়ারা পথে প্রান্তে ঘুরে ঘুরে কোনো ব্যস্ত কোলাহলে থমকে দাঁড়িয়েছে। অথবা নির্জনতার অতীব প্রাচীন কোনো গোলকধাঁধায় হারিয়েছে পথ। কিংবা কোনো ঘুমন্ত নদীর বাঁকে আড়ি পেতে দু-একটা বেদনার গানে আমারই প্রতিচ্ছবি কল্লোলিত হতে…
-
নির্জনতা ও কোলাহল
মাহবুব বারী নির্জনতা খুব ভালোবাসত, অনন্ত; তাই সে নির্জনতায় ঢুকে নির্জনতা না দেখে চিৎকার করে ওঠে। তার স্ত্রী তখন কোলাহলে ব্যস্ত। চিৎকার শুনে হন্তদন্ত হয়ে নির্জনতা পৌঁছে দিলো। নির্জনতার ঘ্রাণ নিল সে, প্রাণভরে। তারপর দরজা বন্ধ করে অনেকক্ষণ নির্জনতার মধ্যে ডুবে থাকল – কী সুন্দর নির্জনতা! ঘুমেভরা আচ্ছন্ন মায়াবী! এরকমই আকাঙ্ক্ষা ছিল, চেয়েছিল এরকমই…
-
থাকা না থাকা
আশরাফ আহমদ অর্ধসত্যে যদি অথবা না ভেবে ভ্রমে, তবে তার মীমাংসা জরুরি। দীর্ঘভ্রমণ শেষে শূন্যহাত এইবার পকেটে রাখার মহাক্ষণ। নির্বোধ, কাকে কার কথায় জড়াই, কাকে ফেলে কাকে টানি কাছে, না জেনে সংযোগসূত্র, সম্পর্কের গূঢ়মন্ত্র অপঠিত রেখে, কী গড়ার নেশায় যে দিনরাত! অবোধের এইবার থামার সময়। নিজের নিখোঁজবার্তা প্রচারের আগে, জানা চাই –…
-
ছয়টি চার পঙ্ক্তির পদ্য
রবিউল হুসাইন এক. নিজের আমার কিছুই নেই ব্যক্তিত্বহীন আমি-র দেহ তৈরি পিতামাতার মনটি অন্তর্যামীর দুই. পরিখাটি চারিদিকে প্রাচীর প্রাসাদ ঘিরে তবু আসে শত্রু বারে বারে ফিরে তিন. মাঝরাতে বাজ পড়ে ঠা-ঠা – বিদ্যুতায়িত কর্ণকুহরে পৌঁছুলেই সবকিছু সত্যায়িত চার. পাঁচমিশালি পাঁচে নয় অগণন তার সংখ্যা হয়তো দুই-তিনে মেশে…
-
বিভাবরী
বীথি চট্টোপাধ্যায় শখ করে শুয়েছিলাম এত গভীর ছিল সে কাম… বিদ্যুতে বর্ষণে কয়েকবার; যেন প্রথম সরে গেল অন্ধকার কিছু দূরে পড়েছিল জামাকাপড় সবকিছু বদলে দেয় সেই আদর, চাঁদের আলো, থরোথরো মধ্যরাত চমকালো বিপর্যয় উঠে আসে বুকের ওপর বিদ্যুতে বর্ষণে তারাভরা কত আদর এত সাহস; ভেঙে পড়ে গেল সমাজ বড় বড় দুর্যোগে প্রেমের তো এটাই…
-
কেঁপে-ওঠা
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত শেষ-মিনিট-টিকিট পকেটে অদূর পাল্লার প্লেনে যেতে-না-যেতেই অকল্যাণের শব্দে কেঁপে উঠি। যেই গেছি গোরখপুর থেকে বারাণসী শুভার্থীর ছদ্মবেশে আমায় অস্পষ্ট লোক দুটি ডেকে বলল মহম্মদ রফি আর নেই। একবার ভিয়েনা থেকে ডালহৌসি স্কোয়ারে ফিরে আসবার মুখে শোকসভা ভেসেছে জোয়ারে, পরলোকে সুরশিল্পী হারবার্ট ফন কারায়ান। ঘরকুনো আছি তাই। নিতান্ত যেতেই যদি…
-
বইপত্র
কেরানির ভেতরে বাংলাকে দেখা মনি হায়দার কেরানিও দৌড়ে ছিল সৈয়দ শামসুল হক ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ ঢাকা, ২০১৩ ৩২০ টাকা মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন বোঝার উপায় থাকে না, সদ্য ভূমিষ্ঠ মানুষটি কতদূর যাবে। জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে মানুষটি রেখে যায় ‘দাগ’। কর্মের দাগ। লোভের দাগ। প্রেরণার দাগ।…
-
সূ চি প ত্র
৭ এ-বছরে পালিত হচ্ছে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে নিজের প্রতিভাবলে তিনি বিশ্বের সেরা পণ্ডিতদের সঙ্গে আসনলাভ করেছিলেন। বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কিত গবেষণাগ্রন্থ তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কর্ম। তাছাড়া পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, ইরান ও আফ্রিকার সংস্কৃতি সম্পর্কে অত্যন্ত মৌলিক পর্যবেক্ষণ তাঁর রয়েছে। নানাদেশের ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি, সমাজ…
-
প্রচ্ছদ-পরিচিতি
বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্য চর্চার পথিকৃৎ নভেরা আহমেদ ৬ মে ২০১৫ পারী শহরে পরলোকগমন করেছেন। আমরা তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত। দীর্ঘদিন থেকে তিনি পারীতে বসবাস করছিলেন। নভেরা আহমেদকে প্রথাশাসিত এই সমাজ ভাস্কর্য চর্চার জন্য কোনো অনুকূল পরিবেশ প্রদান করেনি। তিনি নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাস্কর্য চর্চায় ব্যাপৃত রেখেছিলেন। সৃজন ও জীবনযাপনে তিনি সময়ের চেয়ে অগ্রসর ছিলেন।…
-
ভারতরঙ মহোৎসবে সিএটির নাটক
আবু সাঈদ তুলু চারদিকের বিদ্যমান সহিংসতা, জটিলতা কিংবা বিধ্বস্ত বাস্তবতায় মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষার জীবন্ত শিল্প ম্যাকাব্রে। বন্দিদশায় নানা ঘাত-প্রতিঘাত কিংবা বিধ্বস্ত প্রতিকূল বাস্তবতায়ও মুক্তির সন্ধানে অনিঃশেষ যাত্রার গল্প ম্যাকাব্রে। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ভারতরঙ মহোৎসব-২০১৫’তে ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার কামানি অডিটরিয়াম প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটারের (সিএটি) সাম্প্রতিক প্রযোজনা ম্যাকাব্রে…
-
দ্য স্পিগ্যালকে গুন্টার গ্রাস ভাষা ক্রমাগত নবায়ন হবে
অনুবাদ : আতাউর রহমান রাইহান ১৯২৭ সালে পোল্যান্ডের গ্যাডন্সক শহরে জন্ম নেওয়া গুন্টার গ্রাস সেনাবাহিনীর চাকরি ও যুদ্ধবন্দি থাকার পর খামার এবং খনি-শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গ্যাডন্সক তখন ডানজিগ নামে পরিচিত ছিল। লেখাপড়া করেন জার্মানির ডুসেলডর্ফ ও বার্লিনে। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি চারুশিল্পী হিসেবেও পরিচিত। নিজের বইয়ের সব কাভার করেছেন নিজ হাতেই। ১৯৫৯ সালে তিনি লেখেন…
