2012
-
নিজের মতামতে অনড় একজন নিভৃতচারী
স্ট্যানলি টাইগারম্যান ১৯৬০-এর সেপ্টেম্বর, আমি ক্লান্ত। বিগত শিক্ষাবছর (ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার স্নাতক থিসিসের বছর) আমাকে কাঁদিয়েছে। আসলে মাস্টার্স প্রোগ্রাম আবারো একইভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ক্লাসে নতুনদের আগমন নিশ্চিত করল যে, বছরটি ভালো যাবে না। অধিকাংশই, যাঁদের আমি বলতে পারি ‘শ্রেষ্ঠ ফসল’, তাঁরা কেউই সেরকম নন। তখন ব্রিটিশ টুইডের স্যুটপরিহিত এক ভদ্রজনের…
-
মাজহারুলদা
সন্তোষ ঘোষ মাজহারুলদা চলে গেলেন, খবরটি পরে পেলাম। মর্মাহত হয়ে অনেক স্মৃতি এসে গেল। মাজহারুল ইসলাম আমার চেয়ে দশ-বারো বছরের বড় ছিলেন বয়সে। আমরা দুজনেই বিখ্যাত বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়েছি। মাজহারুলদা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছিলেন, পরে আমেরিকায় স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়েন। তাঁর সহপাঠী বন্ধু বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বিশুদা নামেই সর্বজনবিদিত ছিলেন তিনিও তাই করেছিলেন। মাজহারুলদা ছিলেন ঢাকায়…
-
স্মৃতি অম্লান
মীর মোবাশ্বের আলী এ অঞ্চলে স্থাপত্যের ভুবনে এক কিংবদন্তির নায়ক মাজহারুল ইসলাম। ১৯১২ সালের ১৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। যদিও তিনি বিগত দুই দশক ধরে স্থাপত্য পেশায় সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত ছিলেন না, তবু তাঁর তিরোধান স্থপতিকুলের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। একটা পরিবারে এক বর্ষীয়ান গুরুজনের অবস্থান বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং মনে…
-
স ম্পা দ কী য়
বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যচর্চার পথিকৃৎ মাজহারুল ইসলামকে নিয়ে কালি ও কলমের এ-সংখ্যাটি প্রকাশিত হলো। তাঁরই একক প্রচেষ্টা, চর্চা ও সাধনায় এদেশের স্থাপত্য বোধে, মননে ও শৈল্পিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়েছে; স্থাপত্যচর্চার প্রসারও ঘটেছে। তাঁর সৃজন-কৌশলে, ভাবনায় ও জিজ্ঞাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উত্তরকালের স্থপতিরা নিজেদের ক্ষেত্রে নতুন ধারণা তৈরি করেছেন। পঞ্চাশের দশকে পাশ্চাত্যে স্থাপত্যবিদ্যায় উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের পর তিনি…
-

এইচএসবিসি-কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০১২
বাংলাদেশের নবীন কবি-লেখকদের সাহিত্যচর্চা ও সাধনাকে গতিময় এবং তরম্নণদের সৃজনধারাকে সজীবিত করার লক্ষ্যে এইচএসবিসি এবং কালি ও কলম ২০০৮ সাল থেকে তরম্নণ কবি ও লেখক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। এই পুরস্কার নবীন লেখকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পঞ্চমবারের মতো এবারও কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ গবেষণা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য – এই চারটি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। আমরা…
-
সৃষ্টি ও দেশাত্মবোধের সম্মিলন
শামীম আমিনুর রহমান ১৯৮০ সালের প্রথম দিকের কোনো একদিন হঠাৎ করেই নামটি শুনেছি। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্থাপত্যে ভর্তি হওয়ার আশায় বুয়েটে গিয়েছি। স্থাপত্য ফ্যাকাল্টির নিচতলার খোলা পাকা জায়গাটিতে বসে আলাপ করছিলাম কোনো জ্যেষ্ঠ স্থাপত্যের ছাত্রের সঙ্গে। পরামর্শ চাইছিলাম তাঁর কাছে ভর্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে। নানা কথার ফাঁকে বললেন, আমি যেন এদেশে কাজ করেছেন এমন কয়েকজন স্থপতি…
-
সূ চি প ত্র
৭ এক মহান স্থপতির সহকর্মীর অভিজ্ঞতা – শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ১৫ স্মৃতি অম্লান – মীর মোবাশ্বের আলী ১৯ মাজহারুলদা – সন্তোষ ঘোষ ২২ নিজের মতামতে অনড় একজন নিভৃতচারী – স্ট্যানলি টাইগারম্যান ২৪ মাজহারুল ইসলাম : চলে যাবার পর – সৈয়দ শামসুল হক ২৭ শুদ্ধাচারী মাজহারুল ইসলামকে সালাম – বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ২৯ গৃহ ও গৃহীর…
-
বাজ
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আয়াজের বাবা যখন পা রাখেন আটিরচরে, যমুনা খুব দয়ালু ছিল বড় এই চরটার প্রতি। প্রতি বছর এর আয়তন বাড়ত; চরের মানুষ কিছু ধান, কলাই বাদাম ফলিয়ে গরু চরিয়ে বেশ চালিয়ে দিত দিনকাল। রাজাপুর থেকে নৌকায় ঘণ্টাখানেক লাগত আটিরচরে পৌঁছাতে। তারপরও ব্যবসায়ীরা দলবেঁধে আসত। আয়াজের বাবা বলতেন আয়াজকে, এই বছর সাতেক আগেও, নদী…
-
দেহাবশেষ
জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত প্লাবন সব ভাসিয়ে নিয়ে যায় Ñ রেখেও যায় কিছু, ফিরিয়েও দেয় কিছু কখনো। বর্ষায় ফুঁসে ওঠা, গ্রীষ্মে ক্ষীণতোয়ার শরীর যখন নিরাভরণ, তখন দেখা যায়। গভীর জলাশয়ের সব সম্পদ নদীতে ফিরে গেলেও পলিতে গাঁথা থাকে তস্কর প্লাবনের লুণ্ঠিত কিছু সামগ্রী। তবে ঠিক যেমনভাবে তাকে নিয়ে গেছিল, তেমন করে ফিরিয়ে দেয় না, সেই চেহারায়ও নয়।…
-
হরকিশোরবাবু
হরিশংকর জলদাস সেদিন সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে হরকিশোরবাবু মারা গেলেন। বইচাপা পড়েই মারা গেলেন তিনি। তাঁর মারা যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। বয়স তাঁর ৫৫ হলেও শরীরে কোনো রোগবালাই ছিল না। প্রেসার ছিল নরমাল, ডায়াবেটিস, ক্ষুধামান্দ্য, মাথা ঝিমঝিম, হাঁটতে কষ্ট – কোনোটাই ছিল না হরকিশোরবাবুর। পাঁচ ফুট আট ইঞ্চির হরকিশোরবাবুর শরীর ছিল সুঠাম, শুধু গলার…
-
পায়রা হামার লদীটো! – কুথা কুন্ঠে বটে তু?
আবুবকর সিদ্দিক চোতবোশেখের নিদয়া রোদে সীসা গলে আসমান ঝলসায় নদীতে আগুন লাগে। দূরে পায়রা নদীতে তপ্ত লাভা ঝলকায়। ওপারে ধোঁয়া ধোঁয়া ঝাপসা আমবাগান। তারো পারে দিগন্ত তামাপোড়া। লয়াগন্জের চক ওটা। এপারে এটা খোজাপুরের দিয়াড়। এখানে গ্রামগুলো গায়ে গায়ে হুমড়ি খেয়ে : নোনাডাঙ্গা, ক্যাশরডাঙ্গা, ঢুলিগাতী, হোসেনগন্জ যেন মায়ের পেটের ভাইবোন। দেখেশুনে একটা শেঁয়াকুলঝোপের আড়াল নিয়ে আরাম…
-
কাছে দূরের গান
প্রশান্ত মৃধা রেণুকা এসেছে! ফ্ল্যাটের ঝুলবারান্দামতন চিলতে জায়গাটায় বিরজাবালা নাতি কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে নিজের অজান্তেই অপেক্ষা করছে, ছেলে নিখিল কখন আসে। সেই সকালবেলা যায় নিখিল, একটা বড়োসড়ো গাড়ি আসে নিতে, তারপর নাকি কোথায় কোথায় ঘোরে; বলে, ফিল্ডে কাজ। তাই সন্ধ্যার আগে আগে, না তাও সবদিন নয়, কোনো কোনো দিন বিকেলের আলো সামনের বাড়িগুলোর গা থেকে…
