2015

  • চিত্তরঞ্জন অথবা যযাতির বৃত্তান্ত

    হরিশংকর জলদাস   ‘খেয়াল করেছ?’ ‘কী?’ ‘ছেলেটা কেমন করে দিন দিন বদলে যাচ্ছে।’ চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলেন চিত্তরঞ্জনবাবু। স্ত্রীর কথায় চোখ তুলে তাকালেন। কিছুটা আন্দাজ করেছেন তিনি। তারপরও বললেন, ‘কার কথা বলছ?’ ‘তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, ছেলে আমাদের ডজনখানেক।’ একটু করে হাসলেন সুপ্রভা দেবী। বললেন, ‘ছেলে তো আমাদের ওই একটাই, অর্ণব। তার কথাই তো…

  • ব্রিফকেস

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্র একটা ব্রিফকেসের গল্প জুড়ে দিলো। তার গলা এমনিতে নিচু, তারপর তোতলামি আছে কিছুটা। আর গল্প যদি বলতেই হয় বাবা, মৌচাকের সামনের জলকাদা আর আবর্জনাময় রাস্তার কাঁধটা কেন বেছে নেওয়া? রাস্তা দিয়ে বাস ট্রাক রিকশা যাচ্ছে যে যার মতো সময় নিয়ে, আর মোহাম্মদ আলী ইনিয়ে-বিনিয়ে মুখ খিঁচিয়ে…

  • নির্বাসন

    রেজাউর রহমান মে ১৯৭১। ট্রেনের যাত্রীরা কেউই রাজেন্দ্রপুর রেলস্টেশনে পৌঁছুতে কতটা সময় লেগেছে, তা এ মুহূর্তে আন্দাজ করতে পারবে না। পারার কথাও নয়। আর এখানকার সময়টাই-বা কত তাও-বা কে বলবে? ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের চোখ-মুখের অবস্থাও এতটা নিমগ্ন ও আতঙ্কিত যে, তাঁদের চেহারা-সুরত, ইঙ্গিত-ইশারার সময় বিবেচনা করার মতো মনের অবস্থা কারো ছিল না। আশপাশের বনজঙ্গলের…

  • ভালো লাগে না, কেবল মনে মনে!!!

    মালেকা পারভীন ভালো লাগে না – এই শব্দজোড়া আমাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে, ভাবছি। ভালো যদি না-ই লাগে, কী করব তাহলে। বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়তে পারি অথবা কাগজ ছিঁড়ে কুটিকুটি। তাতে লাভ? জিরো। মাঝখান থেকে আমার চেহারার সর্বনাশ। চুলবিহীন মাথাটা কল্পনা করে একটু হাসার চেষ্টা নিষ্ফল হলো। বরং আবার সেই কিছুতেই কোনো কিছু ভালো…

  • কাচ ভাঙা আয়না

    মুর্শিদা জামান রাজ্যের কাজ ঘাড়ে চেপে বসেছে। নিজের দিকে পর্যন্ত তাকানোর সময় নেই। দিনদুয়েক হলো লাগাতার বুকে ব্যথা করে চলছে। বাড়ির কাউকে জানায়নি আহসান কবির। ভাবছে আজ অফিস থেকে বেরিয়েই সোজা ডক্টরের কাছে যাবে। যেতেই হবে ওকে। টেলিফোনের দিকে হাত বাড়াল সে। মাকে জানিয়ে রাখতে হয় সবটা সময়। বাড়ি ফিরতে দেরি হলে মায়ের শরীর খারাপ…

  • জ্বলে ওঠা বারুদ

    স্বকৃত নোমান জেলা শহর থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে, যেটির নামের ওপর ‘জাতীয় দৈনিক’ এবং নিচে ‘সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন’ লেখা এবং যেটির সার্কুলেশন সাকল্যে দুশো কপি, কিন্তু সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা সর্বত্র দুই হাজার কপি বলে প্রচার করে থাকেন, বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর শহরের সাহিত্যবোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন তিনি। কবি খায়রুল বাশার প্রমুখ, ব্যতিক্রমী নামটাই…

  • উনার নাম আলাউদ্দিন

    শাহ্নাজ মুন্নী আলাউদ্দিন জীবিত না মৃত সেটাই এখন নগরবাসীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শুধু বড় নয় বরং ঝুলন্ত ও জ্বলন্ত একটি প্রশ্ন। একেবারে গ্যাস, ডিজেল বা পেট্রোলের আগুনের মতো দাউ-দাউ করা জ্বলে উঠে, বাঁকা হয়ে ঝুলে থাকা বিরাট প্রশ্ন এটি। দগদগে ঘায়ের মতো প্রশ্নটা একটু একটু করে নগরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছিল, আর  নগরজুড়ে সংক্রমণ, যন্ত্রণা…

  • সন্ধ্যা : প্রেম আর বিচ্ছিন্নতা নামের এক লগ্নের নাম

    কাজী রাফি আট মে সন্ধ্যা সাতটায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের ঠিক পূর্বমুহূর্তে তোমার মনে পড়ল, তোমার দাদি প্রায় সত্তর বছর আগে ‘সাঁঝের মায়া’ কেমন তা সরেজমিনে দেখানোর জন্য এক সন্ধ্যায় পুকুরপাড়ে বসে চাঁদের ভেতরের কালো কালো দাগমতো দৃশ্য দেখিয়ে তোমাকে চাঁদ-বুড়ির চরকা কাটার গল্প শুনিয়েছিলেন। সন্ধ্যা নিয়ে তোমার রয়েছে আশ্চর্যজনক অনুভূতি আর বিধুরতা। সন্ধ্যা তোমাকে আনমনা করে…

  • শুঁড়

    রশীদ হায়দার গল্পটি বলার চেষ্টা করছি ১৯৫৩ সালের জুলাই থেকে। বহুবার লিখতে বসেছি, দশ-বারো লাইন, দেড় পাতা-দুপাতা লেখার পর মনে হয়েছে, ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে তা আসছে না, কিছুতেই আসছে না। ব্যর্থতায়, অসমর্থতায় নিজেকেই গালমন্দ করেছি, বড় বড় লেখক কীভাবে লেখেন বোঝার জন্য অনেক লেখা পড়েছি, এমনকি আমার নিজের লেখাও, যা একটু-আধটু প্রশংসা পেয়েছে, সেগুলোও পড়েছি,…

  • চমক রহম

    মাহবুব তালুকদার চমক নামের মধ্যে একটা চমক আছে। নিজের নাম নিয়ে রীতিমতো গর্ব অনুভব করে সে। আজকাল সব লেখক নিজেরা নিজেদের নামকরণ করে থাকে। পিতৃপ্রদত্ত হাবীবুর রহমান ওসমানী বাদ দিয়ে এখন সে চমক রহম। রহম শব্দটা রহমানের শর্টকাট। রহমানকে কোনো কোনো কবি-লেখক রাহমান বা রেহমান করেছেন। কিন্তু রহম কথাটা রহমানের অপভ্রংশ হিসেবে বেটার। নতুন নাম…

  • মায়া

    আনোয়ারা সৈয়দ হক লোকটার নাম বুড়ো আর মহিলার নাম বুড়ি। বয়সেও তারা বর্তমানে বুড়ো ও বুড়ি। একজনের বয়স পঁচাত্তর, আরেকজনের সত্তর। জাগতিক জীবনের সব কাজ মোটামুটি তাদের সারা হলেও তাদের মনে কোনো স্বস্তি নেই। সেই হিসাবে শান্তিরও কিছু অভাব। এর প্রতিফলন ঘটে ভোরবেলায়। যখন তারা দুজনে নামাজ পড়ার জন্যে ভোরে বিছানা ছাড়ে। নামাজ পড়া তো…

  • চোরের স্যান্ডেল

    বদরুন নাহার আবদুর সাত্তার আজ হাঁটতে পারছেন না। যদিও কোহিনূর পাবলিক লাইব্রেরি থেকে তিনি হেঁটেই বাড়ি ফেরেন। কিন্তু আজ তাঁর পায়ে বড় অস্বস্তি, এমনকি খানিকটা কুটকুটে অ্যালার্জি সমস্ত পায়ে জড়ো হয়েছে আর তাতে হাত নিশপিশ করে উঠলে হাতে ধরা বইটি পড়ে যায়, উবু হয়ে তা তোলার ফাঁকে ভাবেন খানিকটা পায়ে নোখের অাঁচড় বসিয়ে নেবেন কিন্তু…