2015
-
প্রথম দিনের মতন
ভূমেন্দ্র গুহ কেমন ক’রে-যে প্রথম দিনের মতন এ-মুহূর্ত – সকালের ও বিকেলের রোদের ভিতরের এই নগ্নতা – যা ছিল সেই প্রথম দিনে। শীত এখন, এবং আলো দেরি ক’রেই আসে, তা হলেও আসে উৎসবের মতনই, আর, এই-যে ঢিমেতালের আলো, তা-ই যথেষ্ট, মনে হয়; আলোর একটা ধারণা – এবং তার দিকে নগ্ন হেঁটে যাওয়া। তার পরেই…
-
নিঃসঙ্গ মানুষের কোনো বন্ধু হয় না
রবিউল হুসাইন নিঃসঙ্গ মানুষের কোনো বন্ধু হয় না মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় মানুষ সব সময় খুব একা নিঃসঙ্গতা ছাড়া মানুষের কোনো বন্ধু নেই একজন একাকী মানুষের কোনো বান্ধব জোটে না কেউ তার সঙ্গী হতে চায় না ওই যে-বিকেল সে খুব একা সকালও তাই মধ্যাহ্নও তেমনি অপরাহ্ণ সন্ধ্যা এবং গভীর রাত নিজেরা ছাড়া ওদের আর…
-
নয় লক্ষ পৃষ্ঠার বই
মণীন্দ্র গুপ্ত ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমির বিবাহকালে গাছটি ছিল ফুলে ফলে ভরা যুবতী চার যুগ কেটে যাবার পরে গাছটা এখন ফোকলা, কোটরে কোটরে গর্ত, হাঁটুর মালাইচাকি বাদ গেছে। গাঁটে ভরা, ফাঁপা বুড়ো গাছের বদলে ওরা এখন একটা অতি প্রাচীন ভাঙা বাড়িতে বাস করে আর সারা দিনরাত ধরে কথা বলে – কথা কথা কথা – খনার বচন-গ্রামের রূপকথা-গল্পকথা-…
-
মৌলভীবাজার খুব দূর নয়
শাহজাহান হাফিজ মৌলভীবাজার খুব দূর নয়, অথবা অনেক দূর – নাগাল পাবো না কোনোদিন! অথচ এমন ছিল একদিন, অরণ্যকে ভালোবেসে অরণ্যের কাছে গেছি; বলেছি, তোমাকে ভালোবাসি! অথচ এমন ছিল একদিন, একা-একা, উদাসী পাহাড় বেয়ে, গেছি বহুদূর; বলেছি, তোমাকে ভালোবাসি! এসবই স্বপ্ন আজ! স্বপ্নের ভিতর আজো টের পাই : ঝরে জল, ঝরে জল – ঝরে শুধু…
-
মুহূর্তপুরাণ
মুহম্মদ নূরুল হুদা মুহূর্তের গর্ভ-জাত, তোমার তো অন্য কোনো পরিচয় নাই; সময়ের গর্ভ ছেড়ে চিরকাল সময়ের গর্ভে থেকে যাই। কে গেছে তোমাকে ছেড়ে? সে কি তবে অধরা পালক? যে গেছে তোমাকে ছেড়ে তার সাথে তোমার তো লেনদেন নাই। যেতে যেতে ফিরে আসি, ফিরে ফিরে দেখি সব পথ, শ্বেত বলো কৃষ্ণ বলো সব পথে সমুড্ডীন…
-
একটি স্থিরতা
আলোক সরকার এক দুপুরে তার প্রয়োজন অপ্রয়োজন হল। যা শুরু হয়েছে তার দিকে নিস্পৃহ হও। হওয়ার দিকে নিস্পৃহতা বিরামের দিকে নিস্পৃহতা। এমন একটা কোলাহল যার কোনো শব্দ নেই। দিক দিগন্ত ব্যাপ্ত করা নিশ্চয়। নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না নিশ্চয় অঙ্গীকার করছে না। কালো এক ঢেলা অন্ধকার আর অপ্রতিরোধ্য একাদিক্রম।
-
অরণ্যের অন্ধকারে
মাহবুব সাদিক নির্বান্ধব অরণ্যের কোলে এক শীতের বিকেলে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিলো আমার – সারাদিন দখিনা বাতাসে দোল খেয়েছে সবুজ পাতারা, যেন স্মৃতিকাতরতাময় শরীর দুলিয়ে কেউ নিজের ভান্ডার থেকে সবুজ ফেরি করছে সারাদিন, তারপর সেই ঘন সবুজের মধ্য দিয়ে অলস বিকেলে নিজের রাজকীয় গাম্ভীর্যে উদাস আর নির্ভীক উঠে এলো রাজার মতো বাংলার বাঘ –…
-
একটি ছোট্ট ক্লু
আসাদ চৌধুরী তিনি আশ্বিনের পর পাতে ইলিশের আয়োজন দেখে খুশি নয়, বরং দু-চার কথা রেখেমেগে শোনাতেন। মানুষের বাড়া বেশি ভুলো মন; তাঁর উপদেশ, মুচকি হেসে, পাওনা টাকা পেতে হলে বারবার চাইতে হবে, চুল পেকে গেলে বান্ধবের ঘাটতি হবে নিজের ছায়ার সাথে শুধু স্মৃতি নিয়ে কত আর আড্ডা দেবে ভ্রাতঃ? শোনাতেন, বলদে হলুদ কেনে, আদা…
-
অধস্তন
শঙ্খ ঘোষ স্বপ্নই দেখেছি তবে। বাস্তবে তো এমন হবে না! অধস্তন দিনগুলি হঠাৎ উড়েছে ডানা মেলে তোমার পায়ের কাছে সমর্পণে, নিরহংকারে – তুমি আছো মেঘেরই মতন আসন্নবর্ষণ, ঘন। কখনো-বা স্নান দেবে তারই প্রতীক্ষায় থেকে থেকে জড়িয়ে নিয়েছে তার সমস্ত পুরোনো অবসাদ সব গ্লানি, মনোভার, শরীরের সব ক্ষতজ্বালা। তোমার পায়ের কাছে উড়ে গিয়ে বলেছে সে :…
-
বিষয়বদল
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত শিল্পসরস্বতীর নির্দেশে ঝাউ জোনাকিদের নিয়ে সেমিনারের তোড়জোর চলছে এমন সময় অদূর ধুবুলিয়ার ক্যাম্পে মোকাম্মেল তানভীর আর এপার-বাংলা থেকে তাঁর সহযোগী সুশীল সাহা এসে হাজির তাঁরা তুলে রাখছেন দেশবদলের শামিল মানুষজনের কান্না এই মুহূর্তে শাশবতের প্রকল্পে ঘোষিত জোনাকিদের আমি কিছুতেই অন্তর্গত করে নিতে পারি না জোনাকিরা এখনো দারুণ…
-
অপ্রকাশিত জীবনানন্দ দাশ
ভূমেন্দ্র গুহের সৌজন্যে ৩৪-সংখ্যক কবিতার পান্ডুলিপির খাতা থেকে ৩৪/৬৮ ভোরের বেলা এই সাগরের নিঃশব্দ বাতাসে দু’-একটা শুকতারা মর্মর পাথরের মত হয়ে আসে মুছে যায় আকাশের থেকে এখানে ভোরের স্পষ্টতায় সব উঁচু গাছ নিজেদের শান্ত ছায়া দেখে নয় মাইল সান্ত্বনার কথা বলে যে যাহার পাশে সে-সব গাছের দেহ পৃথিবীতে ম’রে গিয়ে আজ…
-
সোনালি কৈ-এর জীবন
বদরুন নাহার লাক্কাতুরায় চা-বাগানের কাঠুরিয়ার মেয়ের নাম আমরা জানতে পারি নাই, তবে ছোলেজা বেগমের মেয়ের নাম যে রামেছা সে-বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। মেয়েটির নাম স্থানীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে। শহরের মানুষ দ্যাখে, ছোলেজা বেগমের চোখ মাছের চোখের মতো পলকহীন। সেই চোখ কোনোদিন বন্ধ হতো কি-না তা নিয়ে কানাঘুষা হয়, কেউ তাকে সে-বিষয়ে প্রশ্ন করতে…
