2015
-
ভাষার জীবন-মরণ
পবিত্র সরকার প্রাথমিক কথাবার্তা : ভাষার ক্ষয়, ভাষার মৃত্যু দীর্ঘদিন পর্যমত্ম আমরা ভাষার মৃত্যু কথাটাকে কিছুটা আংশিক ও খ–তভাবে দেখতে অভ্যসত্ম ছিলাম। ‘ভাষার মৃত্যু’ বলতে বুঝতাম পুরো গোষ্ঠী নয়, কিন্তু গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার কিছু লোক নিজেদের ভাষা ছেড়ে দিচ্ছে, সমত্মানদের সে-ভাষা শেখাচ্ছে না – তাকে ব্যক্তিগত বা পরিবারগতভাবে ভাষার ‘ক্ষয়’ বা loss…
-
যাপিত জীবনের বিচিত্রতা
ইব্রাহিম ফাত্তাহ্ শৈল্পিক দক্ষতা প্রকাশের হাত ধরে ক্ষুদ্রকায় শিল্পসৃজনের সূত্রপাত সভ্যতার আদিকাল থেকে। চিত্রশিল্পীর দক্ষতার উৎকর্ষ-নিদর্শন হিসেবে সারাবিশ্বেই ক্ষুদ্রকায় শিল্পসৃজনের গুরম্নত্ব যেমন আগেও ছিল, এখনো আছে। বাংলাদেশের শিল্পীরাও ক্ষুদ্রকায় চিত্রপটে ছবি আঁকেন, ভাস্কর্য গড়েন। বেশ কিছুকাল ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে – নানাবিধ কারণে সারাবিশ্বেই শিল্প-সংগ্রাহকদের কাছে ক্ষুদ্রকায় শিল্পকর্মের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে গত শতকের নববইয়ের…
-
কর্ণফুলী ফোক ট্রিয়েনাল : শিল্পের সত্তায় সংস্কৃতির সেতুবন্ধ
সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী উনিশশো বাইশ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আলাপকালে ইংরেজি ‘কালচার’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ‘সংস্কৃতি’ শব্দের ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রবীন্দ্রনাথ পূর্বে ‘কৃষ্টি’ শব্দটি ব্যবহার করলেও ওই বৈঠকে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে বলেন যে, ইংরেজি ‘কালচার’ শব্দের বাংলা ‘সংস্কৃতি’ই যথার্থ। ‘সংস্কৃতি’ শব্দটির উনিশশো ত্রিশের আগে তেমন একটা ব্যবহার লক্ষ করা যায় না। আজকাল…
-
লোক-ঐতিহ্যের সন্ধানে
মোবাশ্বির আলম মজুমদার আমি তো ওরাং জাতি, বৃক্ষবাসী, বৃক্ষের পাতায় লেগে আছে পৌরাণিক ঘ্রাণ আমার জন্মের। পূর্বে বৃক্ষ ছিলো, ফুল পাখি লতা ছিলো বিবর্ণ, বন্ধনহীন; মধ্যে আমি। – ‘প্রত্নজীব’, অলকা নন্দিতা হাজার বছরের গ্রামীণ জনপদের দেখা-অদেখা, শ্রম্নত-অশ্রম্নত গীতি-আলেখ্য, গল্প, আখ্যান বাঙালির দীর্ঘ বছরের সংস্কৃতিরই নাম। আবদুস শাকুর শাহ্ বাংলার লোকজ সংস্কৃতির উপাদান নিয়ে ক্যানভাস…
-
লাল অন্তর্বাস
দেবাশিস্ চক্রবর্তী হরেন মন্ডল দুপুরের দিকে এলো। বেলাবেলি এলে তবু কথা ছিল। সরমা তখন বেরোবে ঠিক করেছে। দুপুরের দিকে কেউ আসে? লোকটার জ্ঞানগম্যি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়! সরমার বিরক্তি! হার্বাল প্রোডাক্ট বিক্রি করতে আসে হরেন মন্ডল। কথা বলতে বলতে অকারণে হরেন মন্ডল থুতু গেলে। ছবির মতো ঘর সরমার। ড্রয়িংরম্নমে যেখানে যেটা থাকা উচিত…। হরেন মন্ডল…
-
অস্তিত্ব
মনি হায়দার এগারোজন মানুষ আগুনের নীরবতায় একে অপরকে সহ্য করছে। তিনজন নারী, বাকি আটজন পুরম্নষ। আটজন পুরম্নষের মধ্যে পাঁচজন সৈন্য। দুজন বেসামরিক নাগরিক। পাঁচজন সৈন্যের একজন ক্যাপ্টেন দিদার। সুন্দর গোলগাল মুখ। নাকের নিচে হালকা কালো গোঁফ। ছিমছাম পেটানো শরীর। হাতে একটা ছোট্ট কিন্তু সুদৃশ্য লাঠি। মাঝে মাঝে হাতের লাঠিটি নাড়ানোয় নিঃশব্দ ক্ষমতার একটা দাপট…
-
কুরুক্ষেত্রের দিকে
সুদর্শন সেনশর্মা গোপাল লাল কাঞ্জিলাল সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছেন ততক্ষণে। তাঁকে অনেক দূরে ফিরতে হবে। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড থেকে বেহালা চৌরাসত্মা কম দূর নয়। ফাঁড়ির হাজরা রোডের মুখ থেকে অটো ধরে যতীন দাস পার্ক, তারপর মিনি বা বাস… পৌনে ন’টা বাজে… এ-সময় দরজায় জলতরঙ্গ বেজে উঠল… মহাবিষ্ণু অস্থির গলায় বললেন, গোপাল দেখুন তো আবার কে…
-
মুখার্জি পরিবার
হরিশংকর জলদাস অরিন্দম মুখার্জি বিয়ে করেছে। একটা গল্পের সূচনা-লাইন এরকম ম্যাড়মেড়ে হলে কি কেউ আর গল্পটা পড়তে চাইবে? এই লাইনে কোনো চমক নেই, ঠমকও নেই, নেই কোনো কৌতূহল – উদ্রেককারী তথ্য বা তত্ত্ব। পাঠকের কী দরকার পড়েছে সাদামাটা একটা পঙ্ক্তি দিয়ে শুরম্ন করা গল্পকে এতটা সময় দেওয়ার? মানুষের কাছে সময়ের এখন অনেক দাম। কোনো শিক্ষিত…
-
জলকপাট
আমি সারা শহর তন্নতন্ন করে খুঁজেছি তাকে, না। সে কোথাও নেই তবে কি সে ব্রান্ডি আর নীল বস্নাউজের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে আছে? তার সাথে শেষ দেখা হবার আগে, তাকে এলোমেলো আর অর্ধমৃত ঘোড়ার মতো ঠাওর হয়েছিল! অদৃশ্য জলের রেখা ঢেকে দিয়েছিল তার নিখাদ মুখোশ। আমি লণ্ঠন হাতে তার অদৃশ্য পথের ওপর ভোরের আলোর…
-
মিছিলের নাম
দুলাল সরকার এই মিছিলের নাম দেব কী প্রথাবিরোধী? সূর্যমুখী ডানপিটে রাত, উলটো পথিক ঊরম্নর সন্ধি – কী নাম দেব ধ্রম্নবতারা, গভীর রাত্রি – গ্রন্থিমোচন? কী নাম দেব আকাশগঙ্গা নদীর ভাঙন-স্বরলিপি কত্থক নৃত্য? চরের কৃষক কী নাম দেব – রৌদ্রকণা ডানার গ্রন্থি নীল সরোবর গণসংগীত অনূদিত প্রেম – এসব কথাই মিছিলের নাম ডাকব…
-
অযথা
সব্যসাচী দেব চাঁদ ডুবে গেলে নীল নক্ষত্রের নিচে পৃথিবীর রূপকথা শুরম্ন নাকি শেষ! খাদের কিনারে যদি কিছু ভালোবাসা লিখে যাই, যদি তার সামান্যই রেশ নিয়ে তুমি হেঁটে যাও সীমানা ছাড়িয়ে তোমার অাঁচলে যদি ছায়াপথ থেকে আলো এসে মুখ রাখে, তুমি ফিরে যাবে জলের কিনারে শুধু পদচিহ্ন রেখে! রোদ উঠলে মুছে যায় সব জাদুমায়া;…
-
মধ্যরাতে হাওয়াবন্দরে
শিহাব সরকার শূন্যে উড়ে অলীক মধ্যরাত্রি দেখা যায় তখন মরূদ্যানের হামামে প্রচুর হিমজল গড়ায় এরকম প্রহর অনেকের আসে কিংবা আসে না, যেরকম বাগানের ঘাসে দু’কদম পেরিয়ে শিশিরকণা দেখার ভাগ্য হয়নি আমার, দেখেছি খুব পাহাড়-পরগনা। নিষ্ফল ঘোরা শুধু উপত্যকা ও অববাহিকায় ছড়িয়েছি মোহর রাশি রাশি পাড়া-বেপাড়ায়। নিশিলাগা নরনারী নির্ভুল পড়ে যেতে পারে সময়ের ত্যানা…
