2016
-
ঠিকানা তোমার হারিয়ে ফেলেছি
সালেহা চৌধুরী লিলিকে অয়ন প্রথম দেখেছিল ভিনসেন্ট বুলাভার্ডে। একটি ফুলের দোকানে ফুল কিনছিল লিলি। অয়ন তখন পড়াশোনা করত প্যারিসে। অয়নের পরীক্ষা হয়ে গেছে। দুদিন পরে সে দেশে ফিরে যাবে। ঠিক তখনই। চমৎকার ফরাসি মেয়ে। ভাঙা-ভাঙা ইংরেজি বলে। একরাশ লম্বা চুল। আর একটি কিউট মুখ এবং অড্রে হেপবার্নের মতো হাসি। সেই হাসি থেকেই কাছাকাছি আসা। অয়ন…
-
আমার আব্বার স্মৃতি : তাঁর গান, বই আর লেখার জগৎ
তীব্র আলী রক্ত আর মাংসের একজন মানুষ যখন আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যান তখন তাঁর স্মৃতি আমরা কীভাবে বাঁচিয়ে রাখব? বিস্মৃতির অবধারিত অগ্রযাত্রার মুখে পরাজিত হয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসাও। পরাজিত হতে হয় স্মৃতিতে ধরে রাখার দৃঢ়তম সংকল্পকে। কিট্স্ (Kitsch) – এই শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো, কোনো চিত্রকলা বা শিল্প যা অগভীর, ভানপূর্ণ ও অসার।…
-
আমার বন্ধু আবদুল আলী
আনিসুজ্জামান এ জেড এম আবদুল আলীর সঙ্গে আমার যোগাযোগের একটা কৌতূহলোদ্দীপক পারম্পর্য আছে। সে-কথাটা বলেই আরম্ভ করি। স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আমরা ঢাকায় আসি ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে। আমাদের বাসস্থান নির্ণীত হয় শামিত্মনগরে – পরে সে-বাড়িটি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বাসভবনরূপে সুপরিচিত হয়। দক্ষিণ দিকে, তখনকার রামকৃষ্ণপুর (এখন নয়া পল্টন) ও শামিত্মনগরের সীমান্তে, ছিল গাজী শাহাবুদ্দীনদের বাড়ি। মনু আমার…
-
কালি ও কলমে প্রকাশিত শহীদ কাদরীর কবিতা
একে ব’লতে পারো একুশের কবিতা এই কবিতাটি সরাসরি একুশের কবিতা নয়, কিন্তু যদি তুমি অপলক তাকিয়ে থাকো এই শব্দমালার দিকে, তুমি দেখতে পাবে এই কবিতার ভেতর ফল্গুধারার মত বয়ে চলেছে শ্রাবণের রাঙা জল – একে তুমি একুশের কবিতা বলতে পারো। এই কবিতাটি সরাসরি একুশের কবিতা নয়, কিন্তু যারা প্রেমিক তাদের চোখে ঠিক…
-
মানবিক ঋতুর কবি : ইয়ান্নিস রিৎসস
শহীদ কাদরী ইয়ান্নিস রিৎসসের নির্বাচিত কাব্যসংকলন প্রকাশিত হওয়ার পর ইউরোপের সারস্বত সমাজে আলোচনার ধুম পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৭৪-এর আগে পেঙ্গুইন পকেট-সংস্করণের নজরে এই গ্রিক কবি পড়েননি। রিৎসস তাঁর স্বদেশে অর্থাৎ গ্রিসে তিরিশের দশক থেকেই একজন প্রধান কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও – আমাদের কাছে তো বটেই – ইউরোপীয় কলারসিকদের কাছেও অজ্ঞাত…
-

শামসুর রাহমান : শিল্পে শহীদ
শহীদ কাদরী শামসুর রাহমানের প্রয়াণের খবর এখনো আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। আমি বিহবল এবং বাক্যরহিত। আণবিক বিস্ফোরণের পর আমার সবচাইতে প্রিয় শহর যেন পরিণত হয়েছে একটি বিশাল ধ্বংসস্তুপে। এ-মুহূর্তে স্মৃতিচারণও সম্ভব নয় আমার পক্ষে। আমি বিভিন্ন সময়ে বহুবার বলেছি, শামসুর রাহমান আমাদের সাহসের সীমানা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সত্যি কথা বলতে কী, সাতচলিস্নøশে যখন পর্দা উঠলো,…
-
বুদ্ধদেব বসু
শহীদ কাদরী আপনার সবচেয়ে প্রিয় কবি কে?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে সেদিন বলেছিলাম ‘বুদ্ধদেব বসু’। পরিণামে আমাকে (পঞ্চাশের দশকের একজন সাম্যবাদে অঙ্গীকারবদ্ধ কবি) ভীষণভাবে তিরস্কার করেছিলেন। হ্যাঁ, আমি এখানে তৎকালীন পূর্ব-বাংলার কথাই বলছি। বুদ্ধদেব বসু অবধি পৌঁছানোর আগে আমিও সুকামত্ম, সুভাষ, মঙ্গলাচরণ, রাম বসু প্রমুখকে নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছি বুদ্ধদেবের ঢাকা শহরেই। অথচ কী আশ্চর্য,…
-

জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের আলাপনে শহীদ কাদরী
পিয়াস মজিদ লেখা না-লেখার গল্প’, ‘কবির মুখোমুখি’ এবং ‘শহীদ কাদরীর বাছাই কবিতা’ – এই তিন পর্বে বিন্যাসিত জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের গ্রন্থ শহীদ কাদরী লেখা না-লেখার গল্প (অন্যপ্রকাশ, ফেব্রম্নয়ারি ২০১৩)। ছয় অনুচ্ছেদ-ব্যাপ্ত ‘লেখা না-লেখার গল্পে’র প্রারম্ভেই জ্যোতিপ্রকাশ বলেন – শহীদ কাদরী, বন্ধুবরেষু – কত সহজেই না লিখতে পারি। যদি লিখতে হতে বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষ শহীদ…
-
শহীদ কাদরীর কবিতায় তাঁর মনোভঙ্গি ও আর্তস্বর
গোলাম কিবরিয়া পিনু শহীদ কাদরীর কবিতা প্রায় সবই পড়েছি। তাঁর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থটি বেইলি রোডের এক বইয়ের দোকান থেকে কিনে নিয়ে পড়েছি। আগের কবিতাগুলোও আমার কাছে আছে। তাঁর মৃত্যুসংবাদটি পাওয়ার পর অফিস থেকে ফিরে বাসায় গিয়ে আবার তা বইয়ের সেলফ থেকে নিয়ে পড়তে থাকলাম। কোনো কবি মারা গেলে তাঁর কবিতা আবার কাছে নিয়ে পড়ি। পড়তে-পড়তে…
-
একাকী পথিক ফিরে যাবে তার ঘরে
আদনান সৈয়দ কবি শহীদ কাদরীর নামের আগে ’প্রয়াত’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে এই লেখাটি লিখতে হবে তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। জানি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন, ২০০২ সাল থেকে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিসের মতো কঠিন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছিল। প্রায় সময়ই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে তিনি যেতেন আবার হাসপাতাল থেকে হাসিমুখেই বাড়ি…
-
শহীদ কাদরী : নিজকীয় বৈশিষ্ট্যের এক অনন্য কবি
মঈন শেখ শহীদ কাদরী (১৯৪২-২০১৬) লিখেছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু লিখেছেন খুবই অল্প। তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা চার। এই চারটি গ্রন্থে কবিতা রয়েছে ১৫০টির মতো। আবার গ্রন্থ চারটির প্রকাশকাল দেখেও আমরা বিস্মিত হই। প্রথমটি অর্থাৎ উত্তরাধিকার প্রকাশিত হয় কবির ২৫ বছর বয়সে ১৯৬৭ সালে। দ্বিতীয়টি অর্থাৎ তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়…
-
শহীদ কাদরীকে নিয়ে কয়েকটি অতিপরিচিত কথা
সৌভিক রেজা উত্তরাধিকার তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা, কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই – শহীদ কাদরীর এই ত্রয়ী কাব্যের শেষটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। তারপর এই আটত্রিশ বছরে শহীদ কাদরীকে নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সেসব আলোচনায় শহীদ কাদরী ও তাঁর কবিতা নিয়ে প্রাসঙ্গিক সব কথার বেশিরভাগই বলা হয়ে গেছে বলে ধারণা করা যায়। আমরাও এখন যা বলব সেসবের…
