2017
-
আধুনিক প্যালেস্টাইনি সাহিত্য : ছোটগল্প
নাজিব ওয়াদুদ অতীতে, সুদূর অতীতে, প্যালেস্টাইন গণ্য ছিল বৃহত্তর আরবভূমির অংশ হিসেবে। তার ভাষা বরাবরই আরবি। সুতরাং ‘প্যালেস্টাইনি সাহিত্য’ বলে আলাদা কোনো সাহিত্যের অস্তিত্ব আগে, বিশেষত বিংশ শতাব্দীর চতুর্থ দশকের পূর্বে ছিল না। প্যালেস্টাইন অঞ্চলে বসবাসকারীরা যেমন আরব হিসেবে পরিচিত হতো, তেমনি তাঁদের রচিত সাহিত্যও আরবি সাহিত্য হিসেবে পরিগণিত হতো। ১৯৪৮ সালে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী…
-
কিস্সা বলেন শেহ্রজাদে
রবিশংকর বল ॥ ৬ ॥ ৬ এপ্রিল সকালবেলা সিদ্ধিচেনাঞ্জ গ্রাম অভিমুখে রওনা হই। নারায়ণগঞ্জ মহকুমার মধ্যে এই গ্রামটি। শুনিয়াছিলাম যে, এই অঞ্চলটিতেই দুর্ভিক্ষ ও মহামারির সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লাগিয়াছে। এক ঘণ্টা চলার পর গ্রামে আসিয়া পৌঁছিলাম। সিদ্ধিচেনাঞ্জ গ্রামটি চিনিতে কষ্ট হইল না। সামনেই চোখে পড়িল ভাঙা বাড়ি খালি পড়িয়া আছে আর চারিদিকে কবরের সারি।…
-
স্মৃতির ছায়াপাত
শাহীন আখতার ‘হাবিয়া দোজগ! হাবিয়া দোজগ! এর আজাবের শেষ আছে?’ নিজের হাতে চোখে ড্রপ দিতে দিতে বলেন নীহার বানু। সাবিনা বালিশ পেতে দিলে আপত্তি করেন না। চোখ বুজে শুয়ে পড়েন। এশার নামাজ পড়া বাকি, এখন ঘুমাবেন না নিশ্চয়! সাবিনাকে অপেক্ষা করতে হয় না। ‘বই পড়া, বাগান করা আর সেলাই-ফোঁড়াইয়ের নেশাটা ছিল বইলাই বাঁচছি।’ নীহার বানু…
-
সাহিত্যের মহোৎসব
সুমনকুমার দাশ উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ^াস (১৯১২-৮৭) তাঁর আত্মজীবনী উজান গাঙ বাইয়া বইয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত একটি সাহিত্য সম্মেলনের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে : ‘১৯৪৩-৪৬ সালের মধ্যে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের আমন্ত্রণে পরপর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সিলেটে আসেন। তাঁদের কেন্দ্র করে প্রগতি সাহিত্য সম্মেলনগুলিতে সিলেট শহরে যে বিরাট সমাবেশ ঘটেছিল…
-
রূপলাবণ্যের নিসর্গ দর্শন
জাহিদ মুস্তাফা বিচিত্র রূপের বাংলাকে আমরা দেখতে পাই তার প্রকৃতির ভেতর ঢুকলে। বাংলা প্রকৃতির রূপলাবণ্য নিয়ে আমাদের প্রধান শিল্পীরা অসংখ্য ছবি এঁকেছেন, আঁকছেন নবীনরাও। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের চিত্রপটেও আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাপ্রকৃতির সৌন্দর্যবর্ণনা। সম্প্রতি শিল্পী মোখলেসুর রহমানের একক চিত্রপ্রদর্শনীতে আবার আমরা বাংলাদেশের রূপলাবণ্যের মাধুর্যকে তাঁর চিত্রপটে নতুন করে দেখতে পেলাম। গত ২৮ জানুয়ারি শনিবার থেকে ১০…
-

স্তব্ধতাই কীভাবে কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে’
শঙ্খ ঘোষ সাক্ষাৎকার গ্রহণে দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ প্রশ্ন : পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ-কবিতাটি কি স্বপ্নে-পাওয়া কবিতা? উত্তর : অনুমানটা ঠিকই। বেশ কয়েকটি লেখা আমার আছে, যা স্বপ্ন থেকে শুরু, কয়েকটির পুরোটাই স্বপ্ন। যেমন এই একটা। প্রশ্ন : ভিন্ন অর্থে এই কাব্যগ্রন্থে আপনাকে সঞ্জয়ের মতো মনে হয় আমাদের, যিনি নামহারা গহ্বরের দিকে ফিরে…
-
সিসিফাস
আহমেদ বাসার ওই তো দেখা যাচ্ছে নীল পাহাড়-চূড়া, খুব বেশি দূরে নয় তবে, ক্লান্ত নদদ্বয় তোমরা সক্রিয় থাকো আর কিছুক্ষণ, মাথার ওপর সেই বিকট পাথর বড় বেশি পতনোন্মুখ, দুহাতে রেখেছি ধরে যদিও অজস্রবার বিশ্বাসঘাতক প্রপঞ্চে পড়েছে গড়িয়ে এ বিশাল পাহাড়, একের পর অনন্ত শূন্য দিতে দিতে উঠেছি, নেমেছি আবার একের আগে অজস্র শূন্য দিতে…
-
বৃষ্টি, আজ কেন হবে লাশ?
সাখাওয়াত টিপু কে তুমি কোমল জল, বলো : বরফের কলা বৃষ্টি যেন বিঁধে আছে মিকাইল, গাঙুরের ফলা না উত্তুরে, বহুদূরে এখন কেবল গাইবে বাতাস লাল হয়ে ইতিহাসে ভেসে যাবে মানুষের লাশ! আজ ঝড়ে বর্ণ মুছে যায়, কে তুমি সুসুপ্ত চোরাটান খোলা মুনাফার মতো ঝরে ঝরে যাও, কি একাকী প্রাণ! না হয় চিনবো পরে,…
-
ফেরা
মিজানুর রহমান বেলাল স্মৃতিফসিল নিয়েই নাটোর স্টেশনে দাঁড়িয়ে – একা বাঁ-পাঁজরে খামচি কাটে – ঘুম হারানো রাত ঘামফুল ঘ্রাণ নিয়ে দেখি – লোকাল ট্রেনের নীরবতা দেখি – কংক্রিটের কদমফুলে হলুদ আলোর সার্কাস স্টেশন মাস্টারের হাতে – সবুজ জোনাকির দৃশ্যকল্প ধাতব ধূসর রেল আর চাকার যাবজ্জীবন চিৎকার সময় হারানো হরিণের ছোটাছুটি – বদলে যায়…
-
বসে আছি
শতরূপা সান্যাল বহু বহু চান্দ্রমাস এভাবেই পথ চেয়ে আছি অগ্নিভুক কাল বসন্ত খেয়ে গেছে অর্জুনের বীথি তোমার পায়ের চিহ্ন রেখে গেছে অনিরুদ্ধ দাগ তারাদের গুঁড়ো দিয়ে কবে ভরবে এই শূন্য সিঁথি। পড়ন্ত রোদের লাল এখনো এ-জানালায় আসে এখনো বাতাসে ভেসে আসে দূর যূথীর সুবাস আর আসে মন খারাপের কিছু দূরাগত গান এভাবেই পথ…
-
কাঁটা
সেলিম মাহমুদ সাবধানে পথ চলো, পথ যেন না হয় পিচ্ছিল। কাঁটা, ঝোপঝাঁড় থাকলেও সাথে না থাকুক সীমা-লঙ্ঘনের কাঁটাতার। বড় বৈরিতায় বয়স বাড়ছে আজকাল না পাচ্ছি বন্ধন, না কোনো প্রণোদন। ইলিশের কাঁটা নিজেই গলার কাঁটা হয়ে ভয় দেখাচ্ছে রসনা-বাসনায়। কেমন যেন শরীর-সওয়া এক গা-ঘিনঘিনে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্যাপন করছি সেরা, মরা দিনগুলি!
-
বন
শুভাশিস সিনহা ভেবেছি বনের মাঝখানে গাছ হয়ে ছলে ভানে ঝড়ে জলে শীতল-শীতল শিহরণে নিজের ভেতর থেকে কোনো এক পরশন টের পাওয়া যাবে, ছুঁতে গিয়ে আঙুলে অনুভূতির মরা-ভাষা পাঠে ভুল করে ভয়ে-ডরে পালানোর প্রেমরাত ভরিয়ে রেখেছে দেহ, মনের কোটরে পুরে রাখা পাখি, গান শেখে নি কখনো, শুধু সুর পেলে বাতাসে বাতাসে ঠোঁটে তার যাতনার শিস,…
