অমিয় দেব
-

ছেলেবেলার কথা
অধ্যাপক অমিয় দেব তুলনামূলক সাহিত্যের যশস্বী শিক্ষক। দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন যাদবপুর বিশ^বিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। তাঁর হার্দ্য, অনুভববেদ্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্য সমালোচনার নৈর্ব্যক্তিক ঘরানার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিরন্তর পাঠকের সাহিত্যপাঠের পদ্ধতিকে প্রশ্নে তাড়িত করে এবং সাহিত্যের সঙ্গেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানকে সম্পৃক্ত করে নেয়। বুদ্ধদেব বসু ও সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে তাঁর লেখা…
-

আনিসুজ্জামানকে স্মরণ
কালি ও কলম পত্রিকার প্রস্তাবক যে-সভা কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় তাতে আমি আহূত হয়েছিলাম। চিঠিটা এসেছিল আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে। কী কারণে মনে নেই আমি তাতে যেয়ে উঠতে পারিনি। আনিসুজ্জামান লিখছেন, তার একটা আলাদা দাম ছিল। অন্তত এটা যে কোনও হেলাফেলার ব্যাপার হতে যাচ্ছে না, কোনও অভিনব স্ফুলিঙ্গ মাত্র, তা নিশ্চিত লেগেছিল। মুরলীধর বসুর কালিকলম-এর কথা শুনেছি,…
-
ও আমার দেশের মাটি
অমিয় দেব আমার বাংলাদেশ সুশীল সাহা যুক্ত ঢাকা, ২০১৯ ৪০০ টাকা যে -মাটিতে আমরা জন্মাই ও বেড়ে উঠি তা যদি ছেড়ে আসি, তার কি এক টান থেকে যায় না? কিন্তু যদি এমন হয় যে, যেখানে এলাম সেখানেও বেড়ে ওঠা চলতে থাকে, অর্থাৎ এক দ্বিতীয় শেকড় সেখানেও গাড়া হয়, তাহলে কি ওই টানটাই অমোঘ হয়ে থাকবে?…
-

আনিসুজ্জামান স্মরণ
আনিসুজ্জামানের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় শিকাগোর ইন্টারন্যাশনাল হাউজে, ১৯৬৫-তে। আমার বন্ধু কে.এল. কৃষ্ণ তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পিএইচ.ডি করছেন; আমি ব্লুমিংটন, ইন্ডিয়ানা থেকে তাঁর কাছে বেড়াতে এসেছি। আনিসুজ্জামান ‘দক্ষিণ-এশীয় ভাষা ও সভ্যতা’ বিভাগে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো। কৃষ্ণই বোধহয় আলাপ করিয়ে দিলেন। ঢাকার মানুষ। নম্র। তাঁর বিদ্যাবত্তার কথা তখন কিছুই জানি না। কিন্তু পরে যখন ১৯৭০-এ…
-

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ
বাংলাদেশ এই ভুবনের একমাত্র দেশ, যার রাষ্ট্রভাষা বাংলা। আর তার জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে যেখানে আমরা বাংলায় কথা বলি তাদের এক ঋণ হয়ে আছে তাঁর কাছে। তাঁর জন্মশতবর্ষ সেই ঋণ স্বীকারের এক সুসময়। সেইসঙ্গে, তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে যে-লক্ষকোটি পূর্ববঙ্গবাসী বাঙালি রক্ত দিয়ে তাঁদের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন এবং বাংলা ভাষাকে সার্বভৌম করে তুলেছেন,…
-

তালাশ
রিভিউ নয়, শাহীন আখতারের তালাশ নিয়ে এক হ্রস্ব গদ্য পাঠ লিখতে বসেছি। বসেই বুঝতে পারছি কাজটা কঠিন। যে-অভিজ্ঞতার আখ্যান তা তাতে সমানুকম্পন খুব সহজ নয়। ‘অনাস্থার অস্থায়ী অপনোদন’ ঘটিয়ে সত্যিই কতদূর এগোনো যায়? স্থানকালের দিশা মিলতে পারে, ঘটনাবৃত্তের নির্ঘণ্টসাধনও অসম্ভব নয়, এমনকি ঘূর্ণিসদৃশ আকস্মিকতাও ইতিহাসের ওজর তুলে জায়গা করে নিতে পারে। কিন্তু যারা একাত্তরের অগণিত,…
