আশরাফ আহমদ

  • খালি ভেঙে যায়

    বাড়ি যদি বলি, শান্তি তবে ওখানে থাকে না। সংসার ভর্তি বহু আগুনের ফুল, ভাঙি-ভাঙি চীনামাটি আছাড়ে উন্মুখ। অবস্থা এমন – প্লেটে নিয়ে মাছ-ভাত-ডাল, আসার সময় হাত ফসকে যা হওয়ার হলো। ছিটকে পড়া খাবারের সাথে, কর্ত্রীর আগুন আর কাজের মেয়ের থরোথরো মিলেমিশে কুড়ানো খিচুড়ি হলো। বেড়াল বেড়াতে গেছে, খাদ্য থেকেও নেই, প্লেট নেই, ফেভিকলও নেই । প্রাথমিকে নদী ছিল পাশে, মেঠোপথ ছিল, এখন তা ভাঙনে বিলীন ফলে, পা দুটো দাঁড়িয়ে – সংসার ভাঙার দৃশ্যে দর্শকও ফ্যালফ্যাল! এখন আমার ভাই মাথায় বরফ নিয়ে অডজবে যায়, তার স্ত্রী বাসন মাজে, ঘরদোর মোছে, আমার বোনও খালি ইউরো জমায়। মা-চাচিরা চাইলেও দু-চুলায় ব্যর্থ হয়ে যেত, অথচ আমরা সবাই আজ দূরে দূরে, ভেঙে ভেঙে গেছি। একান্নবর্তী ঘরে শীতলপাটিতে বসে বেলা যায়, খাবারের দেখা নাই। অনেক মানুষ ভেঙে, আমি হলে আমিহীনও হই। আমার আনন্দ যারা পকেটে রেখেছে, তাদের কষ্টেও ছিল আমাদের মলম-বোলানো হাত, আজকাল কেউ আর কাউকে চিনি না।

  • বিলম্বিত আশরাফ

    আশরাফ আহমদ   ত্রস্ত যখন, কোথাও যাওয়ার খুব তাড়া, মোড়ে মোড়ে মাসিক রঙের চোখ, আমি অনড় অর্ধেক! যখন, কোথাও যাওয়ার নেই, আমার বালকমন দ্রম্নতগামী অশ্বের পিঠে! মা-বাবার প্রস্থানের পর আমার মাছের চোখ শুধু ফ্যালফ্যাল, অনেক বছর পর মাঝরাতে একা একা কাঁদি। প্রতিপদে বিলম্বিত বোধেরা দীর্ঘ হতে হতে শেষাবধি অসহায় আজকের বেলালের চতুর্থ সময়েও।   বারবার…

  • সর্ষেচাষি

    আশরাফ আহমদ   শীতে যারা জবুথবু আগুন পোহায়, সেই দল ছেড়ে জীর্ণ ঘোড়ার দলে, প্রতিযোগে, ঊর্ধ্বশ্বাস ছোটে, ক্লামিত্মতে পরাক্রান্ত হয়ে নিরাশার পা স্পর্শের আগে যদি মনটা কেমন করে? যদি থেমে যাই! স্বপ্ন সর্ষে হয়ে ধু-ধু প্রান্তরে যদি বিছায় হলুদ শাড়ি, তবে প্রথম প্রেমের চোখও দৃষ্টিহীন আনন্দে মাতাল পৃথিবী সর্ষেময়।   চোখভর্তি জটে অদৃশ্য দশদিক। যদি…

  • থাকা না থাকা

    আশরাফ আহমদ   অর্ধসত্যে যদি অথবা না ভেবে ভ্রমে, তবে তার মীমাংসা জরুরি। দীর্ঘভ্রমণ শেষে শূন্যহাত এইবার পকেটে রাখার মহাক্ষণ।   নির্বোধ, কাকে কার কথায় জড়াই, কাকে ফেলে কাকে টানি কাছে, না জেনে সংযোগসূত্র, সম্পর্কের গূঢ়মন্ত্র অপঠিত রেখে, কী গড়ার নেশায় যে দিনরাত! অবোধের এইবার থামার সময়।   নিজের নিখোঁজবার্তা প্রচারের আগে, জানা চাই –…