পিনাকী ঠাকুর

  • দুটি কবিতা

    পিনাকী ঠাকুর ছবির মতো গ্রাম   তিস্তা শুয়ে থাকে, পাহাড়ি স্পাইর‌্যাল রাস্তা ঘুরে ঘুরে শীর্ষে চলে গেছে ট্র্যাফিক ছুটে যায় ত্রস্ত, সাবধান   হঠাৎ ধস ওই পাহাড়ি ঢাল বেয়ে গাড়ির কনভয় থমকে, ফ্রিজ শট! মাথার উপরেই ছবির মতো গ্রাম…   ছবির মতো! তবু জলের হাহুতাশ স্কোয়াম, লাল মোটা চালেরও অনটন পৃথিবী থেকে দূরে কাঠের ক’টা…

  • স্বপ্নে

    পিনাকী ঠাকুর   যখন ছিলাম ধ্বংসপ্রবণ যখন ছিলাম স্বেচ্ছাচারী কোথায় তোমার স্নানের ঘরে গন্ধমদির রঙিন সাবান? আবার আমি সৃষ্টিসুখেই তোমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৈরি করছি অণুর গঠন, ফুটন্ত এই গ্রহের মাটি   লক্ষ কোটি বছর পরে ভোর জেগেছে পাহাড়চূড়ায় থমকে যাওয়া সময় চরছে নীলচে ঘাসের তরাই জুড়ে; চোখের জলের ঝরনা নেমে তেষ্টা মেটায় এই অরণ্যে…

  • ফেব্রুয়ারি, ‘প্রজন্ম চত্বর’

    পিনাকী ঠাকুর হারিয়ে যাওয়া গানের খাতা ঝড় তুলেছে ‘প্রজন্ম চত্বর’   ফিরে যাবার রাস্তা বন্ধ রাত্রি নামছে বিপজ্জনক   প্রশ্ন আর বিক্ষোভে ভরা সোনার বাংলা সুর ধরেছে –   ‘রক্তঋণ শোধ করো বিচার চাই, বিচার চাই’   শহর, বাজার, অন্ধিগলি মেঘের ’পরে রঙিন মেঘ   হারিয়ে যাওয়া গানের খাতা বৃষ্টি নামাও!

  • ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স

    আমরা ছিলাম গোপাল উড়ে। আমরা ছিলাম জেলেপাড়ার সঙ। কবিগানের চাপান উতোর। দল বেঁধে সেই নগরে কীর্তন। রাত্রি জেগে যাত্রাপালা। হাফ আখড়াই। আজান। আগমনী। নিধুবাবুর টপ্পা শুনে আমরা ছিলাম ‘আর একটা হোক, আরও’ – ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়’। অর্কেস্ট্রায় সুরের নোটেশন। লোকাল ট্রেনের অন্ধ দুজন। হারমোনিয়াম। বীণার পাশে বেণু। আমরা ছিলাম বসন্ত আর বর্ষাবরণ। ছাত পেটানোর…

  • নাট্যস্বপ্নকল্প : হ্যামলেট

    ডানদিকে হিমঘর, বাঁয়ে লাল রেলের কলোনি এরপর স্টেশন আসবে, কালের যাত্রায় হুহু ধ্বনি ধৈর্য ধশ্রে শুনতে হয় – কেমনে ধৈরজ ধরি, সই? সে আমার সুরধনি, আমি তার কিছু একটা হই! পকেটে কমদামি সেন্ট, ট্রেনে কেনা শস্তা চানাচুর, নাটকে টিকিট কাটা, ধূপছায়া রঙের দুপুর … বিকেলে টেনশন বাড়ছে, বাড়িতে নির্ঘাত কিছু হবে তবুও দলবল মিলে যাওয়া…