মারুফ রায়হান
-
দুটি কবিতা
মারুফ রায়হান ফ্ল্যাটের বিড়াল স্বজন স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন বিদগ্ধ এক প্রাণ বসে থাকে দিনভর সূর্যের থাবায় পিঠ দিয়ে ভঙ্গিটি আয়েশি নয়, ঋজু, উৎসুক, গভীর চিন্তাশীল নিজ শব্দ নেই কোনো, সাড়া নেই সশব্দ সংস্রবে তার চোখদুটো দেখি – নিপাট বিড়াল-চোখ এই গ্রহ ভেদ করে দূর কোনো নির্জন নক্ষত্রে ছড়িয়ে পড়েছে দৃষ্টি, সেখানে রয়েছে বুঝি কাক্সিক্ষত…
-
নভেরা নেভেনি
মারুফ রায়হান নীলিমা তখনো পরেনি নীলাম্বরী বায়ু আর জলে চলছিল বোঝাপড়া এসে পড়ল সে-তারকা স্বয়ম্বরী সে এক নবীন আলো জমকালো পুরুষ প্রকৃতি আর কে কে চমকালো কোন কোন পাড়ায় শুরু হলো ঢি-ঢি পড়া অপেক্ষমাণ মাটি ও পাথরে মূক নিশ্চলে জাগলো জবান নন্দনবনে ফোটে শোভা থরে-থরে পৌরুষ কেন পরশ্রীকাতর ঈশ্বরী কেন হে…
-
তাবরেজির তবলাবাজি
মারুফ রায়হান তিনি জাদুকর : ঝালাই-ঢালাই শব্দে কড়ি ও কোমলে তাল ঠুকে দেন গাল যত বিসদৃশ বেভুল বিটেল বোল তুলে অাঁকছেন ভোল পালটানো বহুল ভ্রান্তি ঠোঁট টিপে স্বচ্ছন্দে সাধছেন সম, নেই বিন্দুসম শ্রান্তি পুব বা ঈশান কোণ হতে আনেন একটি স্বরবর্ণ জোড় খুঁজে নেন তার সুদূর নৈঋত নভঃ ছেনে আওয়াজ বিনাই শব্দ দিয়ে মুহুর্মুহু…
-
পথ রোধ ক’রে বারেবার
মারুফ রায়হান জোছনা-ধোয়া রাত্রি যখন কাবার পথ রোধ ক’রে দাঁড়ালে আবার এ ক’টা বছর কোথায় ছিলে হে ফাঁদ দেরি হলো যে আসতে গোঁফের তলায় শয়তানি হাসি হাসতে ভেবেছ ভয়ে কাঁপব নবীন লতার মতো হবো টলমল সাগর ফুঁড়ে আসা রাক্ষসের সামনে যেমন বাতাস বিহবল! তিরিশ বছরে ঝড় কতবার উড়িয়ে নিতে এলে ঘনান্ধকার দানো হয়ে…
-
অপার্থিব সেই রাত
মারুফ রায়হান নদীতীর বারান্দায় মধ্যরাত চুম্বনে চুম্বনে আশ্চর্য বিহবল – চাঁদ নেই তবু জোছনা অপার রচিত হয়েছে এইখানে অভিনব অভিসার দুটি নরনারী জানে এই রাত স্বপ্নমূল্যে পাওয়া হয়তোবা ভোরে এ-সৌন্দর্য মিলাবে ধুলায়, তবু যতক্ষণ জীবন্ত এ-রাত ততক্ষণই স্বর্গসুখ ওঁৎ পেতে থাকে যদি দোজখ তো থাক – অধরের অনিঃশেষ তৃষ্ণা নিয়ে অন্ধকার আরো ঘন হোক…
