বাংলায় ‘ঘরকুনো’ শব্দটাতে একধরনের নেতিবাচক ব্যঞ্জনা রয়েছে। আর তাতে বোধকরি অবাক হওয়ারও তেমন কিছু নেই। ‘পায়ের তলায় সর্ষে’ প্রবচনের মাঝে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বাঙালিয়ানাতেই বাঙালির ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে/ দেখবো এবার জগৎটাকে’ অন্তরমহল প্রকাশমান। বাঙালি বরাবরই ভ্রমণপিপাসু। তার দেশান্তরে গমন বা বিশ্বযাত্রার ইতিহাসও খুব নতুন নয়। সেই কোন প্রাচীনকালে মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগরের দেখা মেলে। তাঁর বাণিজ্যতরী সপ্তগ্রাম ও গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত ত্রিবেণী হয়ে গভীর সমুদ্রের পথে যাত্রা করতো সেই সেকালে। কিংবদন্তি চাঁদ সওদাগরের মতোই নানান বাঙালি সওদাগর কিংবা নাবিক এই ‘বঙ্গদেশে’ই তৈরি হওয়া জাহাজ নিয়ে দূর-দূরান্তে পাড়ি দিতেন সেই প্রাচীন বা মধ্যযুগেও। আঠারো-উনিশ শতকেও কালাপানির নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বাঙালি পাড়ি জমিয়েছে বিলাতে। ১৭৬৫ সালে কূটনৈতিক কাজে বিলাতের মাটিতে পা রেখেছিলেন বাঙালি তরুণ মির্জা ইতিসামুদ্দীন। আর বিংশ-একবিংশ শতকে এসে বাঙালি দেশ ছেড়ে পরবাসী হয়েছে নানা কারণে। এখন পৃথিবীর এমন কোনো জায়গা খুঁজে বের করা সত্যিই খুব দুঃসাধ্য যেখানে বাঙালির দেখা মিলবে না।
বাংলাতে যে আঞ্চলিক প্রবাদ আছে, ‘স্থান ছাড়লে মান যায়’, তাকে মিথ্যা প্রমাণ করে বাঙালি এখন পৃথিবীর বিভিন্ন কোণে তার নিজের ‘স্থান গেড়ে’ নিয়েছে, গড়ে নিয়েছে নতুন আবাস। এসব নতুন আবাসে বাঙালি আর পরবাসী নয়, বরং অভিবাসী। ‘অনাবাসী’ শব্দের মাঝে যে ‘স্থান ছাড়লে মান যায়’ সূচক স্থানচ্যুতির নেতিবাচক দ্যোতনা আছে তা ছাপিয়ে অভিবাসী বাঙালি তার নিজের নতুন আবাসে বৈশ্বিকতার পরিপ্রেক্ষিতে নতুনভাবে আত্মানুসন্ধান করে, ভিন্নমাত্রিকতায় তার নিজস্ব বাঙালিয়ানাকে উদযাপন করে নিরন্তর।
পৃথিবীর নানান কোণে বাঙালি আর এখন প্রবাসী বা পরবাসী নয়, বরং অভিবাসী। যদিও চলতি বাংলায় আজো আমরা বলি ‘অমুকে বিদেশে থাকেন’; কিন্তু ‘অমুকের’ জন্য এখন সেই ‘বিদেশ’ হয়তো ‘দেশান্তরে আরেক স্বদেশ’। এই দেশান্তরের প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরের বেদনা যেমন থাকে, তেমনি থাকে নতুন আবাসের সঙ্গে সমন্বয়ের নিরন্তর আকাক্সক্ষা আর প্রচেষ্টা। এই প্রবাসী থেকে অভিবাসী হয়ে-ওঠার ব্যাপারটা এক প্রবহমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াতে আত্তীকরণ আছে, আছে সংশ্লেষণ আর এই আত্তীকরণ ও সংশ্লেষণের মধ্য দিয়েই ঘটে অভিযোজন। এই প্রক্রিয়া চলমান যেমন সত্যি, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যি হলো, এই প্রক্রিয়া প্রত্যেক অভিবাসীর ক্ষেত্রেই অনন্য আর ভিন্নমাত্রিক।
প্রথমেই প্রশ্ন হলো আত্তীকরণ, সংশ্লেষণ আর অভিযোজন আপাতঃবোধে এই ভারি শব্দগুলো আসলে কী অর্থ বহন করে। সংশ্লেষণ শব্দের আভিধানিক অর্থ ইঙ্গিত করে সংযোগের, যখন ভিন্নমাত্রিকতার সংমিশ্রণে নতুন জীবনদর্শন বা মূল্যবোধ তৈরি হয়, সেও তো একরকম সংশ্লেষণ। আর আত্তীকরণ নতুন কিছু গ্রহণ করে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বই অন্য কিছু নয়। অভিবাসী জীবনে অভিযোজন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এক প্রক্রিয়া, যা প্রকৃত অর্থে মূল ও গৃহীত উভয় সংস্কৃতির এক সংশ্লেষণ। এই প্রক্রিয়া অভিবাসীর ব্যক্তিগত মনোজগতেও বিশাল প্রভাব ফেলে। সুতরাং অভিবাসীর অভিযোজিত সত্তা সামাজিক, সাংস্কৃতিক আর মনস্তাত্ত্বিক মিথস্ক্রিয়ার ফল। আবার এটি মনে রাখা খুব জরুরি যে, এই অভিযোজন প্রক্রিয়া চির চলমান বলেই প্রত্যেক অভিবাসীর অভিযোজিত সত্তাও নিরন্তর পরিবর্তিত আর পরিবর্ধিত হতে থাকে। অভিযোজনের এই চলমান প্রক্রিয়া এমন কিন্তু নয় যে, অভিবাসী ব্যক্তিটি মূল সংস্কৃতির সবটুকু ছেড়ে দিয়ে বা ত্যাগ করে গৃহীত সংস্কৃতির সবটুকু আত্তীকরণ করেন। এই সংশ্লেষণের বিষয়টি ব্যক্তিবিশেষে, ক্ষেত্রবিশেষে, সময়বিশেষে আলাদা মাত্রা তৈরি করে। খুব সহজভাবে বলতে গেলে, জন্মভূমির জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য আর পরিচয় নিয়ে ‘এলেম নতুন দেশে’ আর সেখানে সেই অন্যভূমের জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য আর পরিচয়ের সঙ্গে মিশেলে নিজের সত্তার নতুন যে এক জন্ম হয় সেটিই অভিযোজিত তৃতীয়মাত্রিক সত্তা। বাঙালি অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সে একই সঙ্গে বাঙালি আবার হয় আমেরিকান কিংবা অস্ট্রেলিয়ান বা ব্রিটিশ বা কানাডিয়ান বা ফরাসি কিংবা অন্য কিছু। অভিযোজিত এই তৃতীয়মাত্রিক সত্তার উদ্ভব মানে কিন্তু বাঙালিয়ানার বোধকে বিসর্জন দিয়ে নতুন আত্মপরিচয় গ্রহণ নয়, বরং দুইয়ের মিশেলে এক নতুন আত্মসত্তার আবির্ভাব, যা কি না সময়ের সঙ্গে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে, পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রমশ বহমান থাকে।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, অভিবাসী পরিবারে দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি যাদের জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবাংলার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে, জন্মাবধি ঘরে-বাইরে, জীবনের নানান অধ্যায়ে তাদেরও আত্তীকরণ-সংশ্লেষণ-অভিযোজনের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক নানান দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সংঘর্ষ আছে, যা কি না একেবারেই অনন্য আর ভিন্নমাত্রিক। এই দ্বিতীয় প্রজন্মকে ‘বাঙালি অভিবাসী’ না বলে ‘বাঙালি বংশোদ্ভূত’ বলাই হয়তো অধিকতর যুক্তিযুক্ত। এদের অন্তর্জাগতিক মনন-বোধ-মানস যেমন বাঙালি অভিবাসীদের থেকে আলাদা, তেমনি আলাদা তাদের বহির্জাগতিক আচরণ, প্রকাশভঙ্গি, জীবনাচরণের উপাচার তথা সার্বিক পরিপ্রেক্ষিত। সুতরাং খুব স্বাভাবিক নিয়মেই এদের সঙ্গে বাঙালি অভিবাসীদের আত্তীকরণ-সংশ্লেষণ-অভিযোজনের প্রক্রিয়ার মাঝে বিস্তর ফারাক আছে। তাই এই দুই প্রজন্মকে ‘অভিবাসী’র এক ছাঁচে ফেলে ভাবার অবকাশ নেই। সে-আলোচনা এখানে উহ্যই থাক।
অভিবাসী জীবনের অভিযোজনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন গৃহীত সংস্কৃতির সঙ্গে আত্তীকরণ থেকে মূল ও গৃহীত উভয় সংস্কৃতির সংশ্লেষণে পর্যায়ক্রমিকভাবে তৃতীয়মাত্রিক অভিযোজিত সত্তার উদ্ভব হয়, তার উপস্থিতি বা অস্তিত্ব আসলে অনেক সময় অভিবাসী ব্যক্তিটি নিজে উপলব্ধিই করেন না। কিন্তু এই তৃতীয়মাত্রিক অভিযোজিত সত্তাই আসলে তার প্রত্যক্ষ প্রকাশমান সত্তা। আবার এটি মনে রাখা খুব জরুরি যে, এই তৃতীয়মাত্রিক অভিযোজিত সত্তাটিও কোনো স্থায়ী বা চিরন্তন, অবিনাশী সত্তা নয়। এরও ক্রমাগত পরিবর্তন আর পরিবর্ধন হতে থাকে নানামুখী সংশ্লেষ, সংযোগ আর সংঘাতের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক নিরন্তর চলমান প্রক্রিয়ায়।
খানিক অদ্ভুত শোনাবে হয়তো অনেকের কাছে, কিন্তু ‘গানের ভেতর দিয়ে’ ভুবন দেখা এই আমি ভারতীয় মার্গ সংগীতের অতিপরিচিত জয়জয়ন্তী রাগের রূপবৈশিষ্ট্যের মাঝে গভীরভাবে এক অভিবাসী জীবনের গল্প খুঁজে পাই। রাগ জয়জয়ন্তী একদিকে যেমন খাম্বাজ ঠাটের শুদ্ধ রে, গা আর ধা আর শুদ্ধ-কোমল দুই নি স্বরে নিজেকে প্রকাশ করে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে কাফি ঠাটের কোমল গা ও নি স্বরেও নিজের রূপ মেলে ধরে। এখানে খাম্বাজ আর কাফিতে কোনো দ্বন্দ্ব তো নেই-ই বরং এই দুইয়ের ভিন্নমাত্রিকতার পারস্পরিক সহজাত সংশ্লেষণ জয়জয়ন্তীকে ভারী অনন্য করে তুলেছে। রাতের এই রাগ এক দারুণ মিশ্র অনুভূতির চিত্রকল্প তৈরি করে। একই সঙ্গে এই রাগ প্রকাশ করে আনন্দ, জয়ের সুখানুভূতি, আবার এর সুর গেয়ে যায় হারানোর বিষাদ যন্ত্রণা। সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুই আবেগানুভূতি এই রাগের চলনে এনেছে গভীরতা আর গম্ভীরতা – সেখানে আনন্দের উচ্ছলতাকে হারানোর বেদনা প্রগলভ হতে দেয় না, আবার বিচ্ছেদের বেদনাকে প্রাপ্তির আনন্দ দেয় না অকল্পনীয় দুঃসহ হয়ে উঠতে। অভিবাসী জীবনটাও তো ঠিক তেমনি, তাই না? এই জীবনে আছে বিচ্ছেদের বেদনা; কিন্তু সঙ্গে নতুন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন আর আনন্দ। আমার মতো সকল বাঙালি অভিবাসীর জীবনের প্রেক্ষাপট জুড়ে আছে এই দুই অনুভূতির মিথস্ক্রিয়া আর তাকে মানিয়ে জীবনকে ভালোবাসবার গল্প – এ গল্প তাই ঠিক যেন জয়জয়ন্তী রাগে বাঁধা। এ যেন ‘তোমায় নতুন করে পাবো বলে, হারাই ক্ষণে ক্ষণ, ও মোর ভালবাসার ধন’।
অভিবাসী জীবনের প্রেক্ষাপট জুড়ে দেশান্তর বা বিচ্ছেদের বেদনার সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন আর প্রাপ্তির আনন্দ যেমন আছে, এও ঠিক সকল অভিবাসীর জীবনের গল্প কিন্তু এক তারে বাঁধা নয়, এক সুরে গাঁথা নয়। এর মূল কারণ হলো, প্রত্যেকের দেখার, শোনার, বোঝার প্রক্রিয়া ও মানসিকতা ভিন্ন। এটি আবার নির্ভর করে প্রত্যেকের পূর্বতন অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিদ্যমান বর্তমান অভিজ্ঞতার মিথস্ক্রিয়ার ওপর। কেননা ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনদর্শন, জীবনাচরণের উপাচার, মূল্যবোধ, ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক আচার-বিশ্বাস এই সবকিছুই তার অন্তর্গত দৃষ্টি আর বহির্জাগতিক আচরণ ও ব্যবহার তৈরিতে গভীর ও অনন্য ভূমিকা রাখে। আমাদের অন্তর্জাগতিক মনন-বোধ-মানস যেমন প্রত্যেকের আলাদা, আলাদা আমাদের বহির্জাগতিক আচরণ-প্রকাশভঙ্গি-জীবনাচরণের উপাচার, তেমনি আমাদের অভিযোজনের প্রক্রিয়াও আলাদা। অযুত মিল সত্ত্বেও বঙ্গভূমে জন্ম নেওয়া – বসবাসকারী সব বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি এক ছাঁচে ঢালা নয় বলেই জগৎময় ছড়িয়ে থাকা অভিবাসী বাঙালির মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমাত্রিকতা। অন্যভূমে তার প্রবাসের শুরুতে প্রতিটি প্রবাসী সেই নতুন দেশের ভাষা-সংস্কৃতি-আচার তথা ওই দেশের আপামর জনগোষ্ঠী ও তাদের জীবনাচরণকে দেখে অন্তর্জাগতিক আয়নায় তথা একান্ত নিজস্ব মানসচক্ষে। আমরা যে যেভাবে দেখি মনের আয়নায়, তার প্রতিবিম্বও তৈরি হয় সেই নিজস্ব বোধ থেকে। মানসচক্ষের ‘দৃষ্টি’ আর চর্মচক্ষের ‘দেখা’র মিথস্ক্রিয়াতেই শুরু হয় আত্তীকরণ থেকে সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া আর তা অভিযোজনে পূর্ণতা পেলেও থেমে যায় না, বরং থাকে চিরবহমান।
একদিকে প্রত্যেক অভিবাসী একান্ত নিজস্বতায় তার অভিযোজিত তৃতীয়মাত্রিক সত্তার জন্ম দেয়, তাকে মনের অজান্তেই লালন করে, পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করে। অন্যদিকে সমান্তরালে নতুন বাসভূমে চলতে থাকে তাদের মানিয়ে নেওয়া, মেনে চলা আর চিনে নেওয়া, চিনিয়ে দেওয়ার অবিরাম উদ্যম আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। এই দুই প্রক্রিয়াতেই জন্মভূমি থেকে বয়ে আনা পূর্বতন জীবনাভিজ্ঞতা, আজন্ম লালিত মূল্যবোধ, আশৈশব চর্চিত ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক আচার-বিশ্বাস, অনুশীলিত জীবনদর্শনের পাশাপাশি নতুন আবাসে স্থানান্তর-পরবর্তী পারিপার্শ্বিকতা, সুহৃদ-হিতৈষীসহ প্রাথমিক সকল লব্ধ অভিজ্ঞতা বিরাট ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেক অভিবাসীর অভিযোজনের গল্প আলাদা, এর দৈর্ঘ্য আলাদা, এর প্রস্তাবনা-প্রবর্তন-পরিক্রমণ-উপসংহার আলাদা; কিন্তু ভারী আশ্চর্যজনক হলেও এতোসব ভিন্নতার মাঝেও দেশ-কাল-নির্বিশেষে অভিবাসীর দিনগত জীবনযাপনের গল্পে যে প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা আর অবিরাম সংগ্রামের যে প্রেক্ষাপট আর পটভূমি থাকে তাতে যেন কোথায় এক দারুণ গভীর সাদৃশ্য আছে। আর তাতেই বোধকরি মানসিক, সামাজিক আর অর্থনৈতিক দুস্তর পার্থক্য সত্ত্বেও অভিবাসীদের ব্যক্তিগত ভিন্নমাত্রিক জীবনকাহিনির সঙ্গে সামষ্টিক আখ্যানের সমপাতন ঘটে।
বাঙালি অভিবাসীর সামষ্টিক জীবনযাপনে আর উদযাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাচার হলো বাংলা ভাষা। দৈনন্দিন ব্যবহারের মাত্রায় কিংবা শুদ্ধতায়, প্রায়োগিকতায়, উচ্চারণের শৈলীতে, বাচনভঙ্গিতে আছে ভিন্নতা; কিন্তু এর প্রতি মমতায়, একে লালনে, একে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় নেই কোনো খামতি। বাংলা ভাষা পৃথিবীময় অভিবাসী বাঙালিকে এক অদৃশ্য সুতায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। ভারী মজার ব্যাপার হলো, যে-বাঙালি আর্থিক বা সামাজিক অবস্থানকে বরাবর মুখ্য ভেবে ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই’ আউড়েছে গভীর বিশ্বাসে, সে-বাঙালি তার অভিবাসী জীবনে দৈনন্দিন জীবনযাপনের শব্দকোষের প্রায়োগিকতায় সেই দুস্তর ব্যবধানকে উপেক্ষা করে আন্তরিকতায়। যেমন সুপ্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী অভিবাসী বাঙালির সকলে ‘কাজ’-এ যায়। রেস্তোরাঁর মালিক অথবা কর্মচারী দুজনেই ‘কাজে’ যান, ঠিক তেমনিভাবেই ‘কাজে’ যান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এখানে কর্মস্থল বহুজাতিক ‘অফিস’ নাকি ‘কারখানা’ নাকি ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নাকি ‘দোকান’ সে-বিষয় গৌণ হয়ে গিয়ে ‘কাজের জায়গা’ হিসেবেই তা পরিচিতি পায়। এই প্রায়োগিক ব্যবহারে সাম্য আর সমতাবাদের প্রকাশ ও প্রতিফলন ঘটে।
এ যেমন একেবারে অন্য এক প্রকারে অভিবাসী বাঙালির অভিযোজিত সত্তাকে চিনিয়ে দেয়, তেমনি নানা নতুন শব্দ অভিবাসী বাঙালি তার দৈনন্দিন বাংলাতে যুক্ত করে নিয়েছে খুব সহজাতভাবে। ‘মোটরওয়ে’ বা ‘ফ্রিওয়ে’ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে অভিবাসী বাঙালি প্রতিদিন ‘কাজে’ যায় আর দিনমান খেটে ‘টাকা’ রোজগার করে। অবাক হলেন? ভাবছেন, অভিবাসী বাঙালি তো হয় ডলারে, নয় পাউন্ডে, নয় দিনারে, নয় ইউরো ‘কামাচ্ছে’ আর যথেচ্ছ ‘ওড়াচ্ছে’, তাই না? মোদ্দা ব্যাপার হলো, বছরের পর বছর নতুন আবাসে কাটিয়েও অভিবাসী বাঙালি ‘টাকা’তেই আটকে থাকে। ‘টাকা’ তার কাছে দেশীয় মুদ্রার নাম নয় বরং অর্থ, ধন বা বিত্তের শাব্দিক প্রকাশ। তাই কখনো কোনো অভিবাসী বাঙালিকে ভুলেও বলতে শুনবেন না ‘অমুকের বড় ডলারের গরম’ কিংবা ‘তিনি তো পাউন্ডের কুমির’ অথবা ‘অমুকে তো ইউরোর শ্রাদ্ধ করছে’। নতুন আবাস যেখানেই হোক, অভিবাসী বাঙালির মনের খেরো খাতাতে ‘টাকা-আনা-পাই’তেই হিসাব চলে আজীবন।
আবার সেই অভিবাসী বাঙালির কাছে ‘দেশ’ মানে জন্মভূমি আর তাই বছরে-দুবছরে ছুটি জমিয়ে ‘দেশে’ তাকে যেতেই হয়। ঢাকাতে বসবাসকারী কোনো বাঙালি যখন আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনি ঈদের ছুটিতে ‘দেশে’ যাবেন কি না, তখন আপনি বুঝেই নেবেন সেই ‘দেশ’ মানে গ্রামের ভিটা। অন্যদিকে নিউইয়র্কে বসবাসকারী কোনো বাঙালি যখন আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনি ছুটিতে ‘দেশে’ যাবেন কি না, তখন সেই ‘দেশ’ মানে কিন্তু আপনার ফেলে আসা জন্মভূমি। আমার বিশ্বাস, সময়-স্থান-প্রজন্ম-নির্বিশেষে বাঙালির কাছে ‘দেশ’ শব্দের শাব্দিক ও প্রায়োগিক অর্থ অনেক গভীর, এর পরিব্যাপ্তি বহুবিস্তৃত। ‘দেশ মৃন্ময় নয়, সে চিন্ময়। দেশ মাটিতে তৈরি নয়, দেশ মানুষের তৈরি।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ-কথায় বাঙালির অন্তরমহলে লুকিয়ে থাকা ‘দেশ’ শব্দের ব্যঞ্জনা প্রকাশমান হয়। ‘দেশ’ শব্দে বাঙালি খুঁজে পায় ‘শেকড়ের ঠিকানা’ যেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রাণ উতলা হয়। ‘দেশ’ শব্দে লুকিয়ে থাকে সকল স্বজন, সুজন, আত্মজনের মমতাময় সুগন্ধ, মায়ের আঁচলের উষ্ণতা। তাই বাঙালি জীবনের প্রয়োজনে যেখানেই থাকুক মন তার বড় আকুল হয় সেই টানে, তাই বারংবার ফেরে সে ‘শেকড়ের ঠিকানা’তে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি অভিবাসীর দুটি ‘ঘর’, দুটি ‘আবাস’ – একটিকে ছেড়ে অন্যটিতে গেলে পিছুটান রয়েই যায় সকল আত্তীকরণ-সংশ্লেষণ-অভিযোজন প্রক্রিয়াকে ছাপিয়ে।
সুদীর্ঘ অভিবাসেও ‘দেশ’ মানে সেই ‘শেকড়ের ঠিকানা’। আর ‘মৃন্ময়ী নয় চিন্ময়ী’ সেই ‘শেকড়ের ঠিকানা’ থেকে বয়ে আনা খাদ্যাভ্যাস, খাবারের পদ-প্রকরণ, রন্ধনপ্রণালি, উপাচার-উপাদানগুলোকেও অভিবাসী বাঙালি পরম যত্নে ধারণ করে, লালন করে। কারণ এর মাঝে লুকিয়ে থাকে শৈশবের মধুর স্মৃতি, মায়ের স্নেহের পরশ কিংবা এসব হয়ে ওঠে ফেলে-আসা দিনের, ছেড়ে-আসা জন্মভূমির উজ্জ্বল স্মারক। ভোজনরসিক বাঙালি তার নতুন আবাসে তার রসনাবিলাসে বাঙালিয়ানাকে উদযাপন করে, রোমন্থন করে তার অতীতের সুখস্মৃতিকে। আর এই স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন আর সানন্দ রোমন্থনের মাঝে বাঙালি নতুন আবাসে তাঁর সুখ, স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের রসদ খুঁজে পায়। এই রসদ অভিবাসী বাঙালিকে থিতু হতে সাহস দেয়, নিজের নতুন করে ‘গজিয়ে’ ওঠা চারাগাছের ‘শেকড়ে’ বেঁচে থাকার খোরাক জোগায়। এমন অভিবাসী বাঙালির সংখ্যা কম নয় যারা ‘দেশ’ ছেড়ে এসে তবেই মুড়ি বা চিড়ে বা চানাচুর বা নিমকির মতো সাধারণ খাবারকে অনন্য ভাবতে শিখেছেন। করলা বা উচ্ছে কিংবা ঝিঙে বা পটোল যে কী আহামরি তাই বা কে জানতো ‘দেশ’ ছেড়ে আসার আগে! বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে ডাল, ভাত, মাছ, নিরামিষ খাওয়ালে অভিবাসী বাঙালি অতিথি আপনাকে ‘ধন্য ধন্য’ করবে, ভুলেও বলবে না চায়নিজ বা ইতালিয়ান বা বড়জোর বিরিয়ানি কেন হলো না? ভোজনরসিক বাঙালির ভালো খাবারে ‘জিভে জল আসে’।
নতুন বাসভূমে বাঙালির সবচাইতে বড় বিলাসিতা বা সম্ভোগন হলো তার বাঙালি রসনার বিলাস। মাইল কে মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অভিবাসী বাঙালি চাল-মসলা-মাছ কিংবা সর্ষের তেলসহ বাঙালি রান্নার উপাচার-উপাদান কিনতে ছোটে সপ্তাহান্তের ছুটিতে। অভিবাসী বাঙালি ‘দেশে’ বেড়াতে গিয়ে মাটির হাঁড়ি, লোহার কড়াই কিংবা শিলনোড়া কিনে আনে। আবার সেই বাঙালিই ‘গ্রিল’ বা ‘বেক’ করে তার হেঁসেলে। অভিবাসী বাঙালির রসুইঘরে পালং শাক রসুন ফোঁড়নে চিংড়ি মাছ দিয়ে যেমন রান্না হয়, ঠিক তেমনি সেই পালং শাকেই তৈরি হয় ‘স্পিনাচ রিকোটা পাই’। ঘিতে মাখা আলুভর্তার কদর অভিবাসী বাঙালির পাতে যেমন আছে সবসময়, ঠিক তেমনি যোগ হয়েছে তালিকায় ‘ম্যাশড পোটেটো’। অভিবাসী বাঙালি সকালে ‘সিরিয়াল’ খায় হয়তো কিন্তু পরোটা-আলুভাজি কিংবা লুচি-আলুর দম তার বিলাসী উদযাপন।
বাঙালির হৃদয়পূর্তি আর উদরপূর্তি যে পারস্পরিক সম্পূরক, তার প্রমাণ মিলবে অভিবাসী বাঙালির জীবনযাপনে ও উদযাপনে। পৃথিবীর নানা দেশে বসবাসরত এই অভিবাসী বাঙালিদের সপ্তাহান্তের লোকগ্রাহ্য তথা সর্বজনপ্রিয় সামাজিক কর্মকাণ্ডটি হলো ‘দাওয়াত’ খাওয়ানো আর ‘দাওয়াত’ খাওয়া। সপ্তাহজুড়ে অষ্টপ্রহর খেটে, ঘরে-বাইরে ‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ’ সামলে, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের হাজারটা বায়নাক্কা সামলে সপ্তাহান্তে বাঙালি মাইল কে মাইল গাড়ি চালিয়ে সেজেগুজে আরেক বাঙালির বাড়ি ছোটে ‘দাওয়াত’ খেতে। অথবা সপ্তাহের অতশত ঝামেলার পর হাসিমুখে বাজার করে ‘কুটনো কুটে’, ‘বাটনা বেটে’, রেঁধে-বেড়ে, ঘরদোর পরিষ্কার করে মহানন্দে সেজেগুজে অতিথি আপ্যায়ন করেন নিজের বাড়ির ‘দাওয়াতে’। হয়তো দেখা গেল, সারা সপ্তাহের চেয়ে বেশি সপ্তাহান্তেই এই ‘দাওয়াতে’র পেছনে কায়িক শ্রম হলো বহুগুণ বেশি, বিশ্রামের হলো জলাঞ্জলি! তাতে ‘কুছ পরোয়া নেহি’। অভিবাসী জীবনে ‘দাওয়াত’ নামক ‘সামষ্টিক রসনাবিলাসে’র এই উদযাপন ‘নতুন বাসভূমে’ অধিকাংশ বাঙালির অভিযোজনের গল্পের এক অচ্ছেদ্য অংশ।
খুব আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, অভিবাসী বাঙালির অভিযোজনের ব্যক্তিগত গল্পের অনন্যতার সঙ্গে সামষ্টিক গল্পের ঐক্যের যে সমপাতন, তাতে তার নিত্যকার আটপৌরে খাদ্যাভ্যাস আর রসনাবিলাসের প্রয়াস এক বিরাট ভূমিকা রাখে। সেখানেও ঘটে অভিযোজন। ভাষা আর ভাবনাতে যেমন নতুন শব্দ যোগ হয়, ঠিক তেমনি উপাচার-উপাদানের দুষ্প্রাপ্যতায় কিংবা সুলভতায় নতুন উপাদান যুক্ত হয়। ইলিশ না পেলে তাই ব্রিসবেন কিংবা বোস্টনের বাঙালি হয়তো সর্ষে বাটা দিয়ে স্যামন রাঁধবে। পাটালি গুড় যদি বাড়ন্ত হয় অভিবাসী বাঙালির হেঁসেলে তবে ‘ব্রাউন সুগারে’ পায়েস রান্না হবে। আরে বাঙালির ভাষাতেই তো আছে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো’র কথা। এই যে সহজাত মিশেল, পাশাপাশি সহাবস্থান অথবা নতুনের মাঝে পুরনোকে খুঁজে বেড়ানো – এই সবই তো অভিবাসী বাঙালির আত্তীকরণ-সংশ্লেষণ-অভিযোজনের উদাহরণ।
ফেলে-আসা দেশ থেকে বয়ে-আনা অতি সাধারণ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বর্ণ-গন্ধ-রসকেও অভিবাসী বাঙালি আঁকড়ে ধরে প্রাণপণে। এ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার, আত্মপরিচয়কে বাঁচিয়ে রাখার নিরলস প্রয়াস। যে-কারণে বাঙালিয়ানার উৎসব উদযাপনে তার উদ্যম ব্যক্তিগত থাকে না, হয়ে ওঠে সামষ্টিক। মতভেদ আছে, আছে দ্বন্দ্ব, বিদ্বেষও আছে; কিন্তু তাকে ছাপিয়ে ওঠে বাঙালিয়ানার উদযাপন। দিনশেষে বাঙালির ভাষাবিলাস আর রসনাবিলাস তার ব্যক্তিমানসের অযুত ব্যবধান ছাপিয়ে সামষ্টিকতায় এক অনন্যমাত্রা আনে। দৃশ্যমান বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানান উপাদান বা উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে বিকাশমান-বিবর্তিত-বিভাবিত দার্শনিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সূক্ষ্ম উপাত্তসমূহও প্রতিটি অভিবাসী বাঙালির প্রত্যক্ষ প্রকাশমান তৃতীয়মাত্রিক অভিযোজিত সত্তায় ভিন্নতা আনে। কিন্তু অন্যদিকে এই ভিন্নতার মাঝেও এক অদৃশ্যমান সাযুজ্য আনে ‘গরজ বড় বালাই’ আর তাই সকলের জীবনের সাতকাহনের ভিন্নমাত্রিকতাতেও প্রচ্ছন্ন সাদৃশ্য মেলে। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিকূলতা আর প্রতিবন্ধকতার জট ছাড়াতে ছাড়াতে নিজেদের অবচেতনে বা মনের অলক্ষ্যেই অভিবাসী বাঙালি একে অপরকে জাপটে ধরেন পরম নির্ভরতায়। এই নির্ভরতায় কখনো নির্ভার হওয়া যায়, কখনো আশাভঙ্গের বেদনা জমে, কখনো পরম স্বজনের দেখা মেলে, কখনো গভীর বিরূপতা জমে। এ সবই অভিবাসী বাঙালির আত্তীকরণ-সংশ্লেষণ-অভিযোজন প্রক্রিয়ার অচ্ছেদ্য অংশ।
অভিবাসী বাঙালির বাঙালিয়ানা অনন্যমাত্রিক, তাই তার গল্পগুলোও ভিন্নমাত্রিক। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অভিবাসী বাঙালির মনোজাগতিক, সৃজনশীল আর বৌদ্ধিক প্রকাশের উপাচার, মাধ্যম, প্রকাশভঙ্গিও ভিন্নতর তথা অনন্যসাধারণ। বৈশ্বিকতা আজ বাঙালিয়ানাকে ছুঁয়েছে নানাভাবে, নানামাত্রায়। বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গে বাসরত বাঙালির বৈশ্বিকতার ভাবনার সঙ্গে অভিবাসী বাঙালির বৈশ্বিকতার ভাবনার ফারাক আছে, আর তা থাকাই স্বাভাবিক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অভিবাসী বাঙালির জীবনে আত্তীকরণ থেকে সংশ্লেষণ হয়ে তৃতীয়মাত্রিক অভিযোজিত সত্তার উদ্ভব আর বিকাশের চলমান অদৃশ্য অনালোচিত প্রক্রিয়াটিকে আমাদের জ্ঞানজাগতিক ও সৃষ্টিশীল বৌদ্ধিক সংলাপের অতি আবশ্যিক অংশ করে নেওয়ার সময় এসেছে। অভিবাসী বাঙালির জাগতিক বোধ-অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে তার জীবনাচরণের মনস্তাত্ত্বিক দর্শন থেকে তার সৃষ্টিশীলতা-সৃজনশীলতার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারে এই চলমান প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু শুধু জ্ঞানজাগতিক ও সৃষ্টিশীল বৌদ্ধিক সংলাপই নয়, সময় এসেছে সাধারণের মতো করে সাধারণের জন্যও অভিবাসী বাঙালির অনন্যসাধারণ সব আখ্যান তুলে ধরার। এটাও তো ভিন্নমাত্রিক ষোলো আনা বাঙালিয়ানারই গল্প। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অভিবাসী বাঙালির ষোলো আনা বাঙালিয়ানার গল্প ছাড়া বাঙালির সাতকাহন অপূর্ণ রয়ে যায় যে!

Leave a Reply