সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা কালি ও কলম বাংলাদেশের নবীন কবি ও লেখকদের সাহিত্যের সৃজনধারায় গতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে ২০০৮ সাল থেকে ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ প্রদান করে আসছে। এ পর্যন্ত ৫৪ জন কবি ও লেখক এ পুরস্কার অর্জন করেছেন। এই পুরস্কার নবীনদের সাহিত্যচর্চা ও সাধনাকে সঞ্জীবিত করছে।
আইএফআইসি ব্যাংক-নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২২’ প্রদান উপলক্ষে এবার দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রথমদিন ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজন করা হয়েছে ‘কবিতা ও কথন’ শীর্ষক কবিতা পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে বিগত বছরে ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ বিজয়ী কবি ও লেখকরা অংশগ্রহণ করবেন।
দ্বিতীয়দিন ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, শনিবার, বিকেল ৫টায় প্রদান করা হবে ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২২’। এতে সভাপতিত্ব করবেন কালি ও কলম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান।
অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্বে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ অনুসরণে শুভাশিস সিনহার নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় ‘কহে বীরাঙ্গনা’ পরিবেশিত হবে।

উভয় আয়োজনে আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।

২৬ জানুয়ারি ২০২৩, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৬টা
‘কবিতা ও কথন’ কবিতা পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান
এদিন ২০০৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্য থেকে কয়েকজন কবি ও লেখক এদেশে সাহিত্যবিষয়ে আলোচনা এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন। আমন্ত্রিত কবি ও লেখকরা হলেন –
ওবায়েদ আকাশ, সাইমন জাকারিয়া, আহমাদ মোস্তফা কামাল, মোশতাক আহমেদ, রাজীব হাসান, টোকন ঠাকুর, পিয়াস মজিদ, সাকিরা পারভীন, মাসুদ পথিক এবং রঞ্জনা বিশ্বাস

২৮ জানুয়ারি ২০২৩, শনিবার, বিকেল ৫টা
আইএফআইসি ব্যাংক-নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২২’ প্রদান এবং ‘কহে বীরাঙ্গনা’ মঞ্চায়ন
বেঙ্গল শিল্পালয়, লেভেল ৪, বাড়ি ৪২, সড়ক ২৭
শেখ কামাল সরণি, ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৯

মণিপুরী থিয়েটার প্রযোজনা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত-বিরচিত বীরাঙ্গনা কাব্য অবলম্বনে কহে বীরাঙ্গনা
সম্পাদনা ও নির্দেশনা: শুভাশিস সিনহা

কাহিনি-সংক্ষেপ
১ম পর্ব : দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা
শকুন্তলা বিশ্বামিত্রের ঔরসে ও মেনকানাম্নী অপ্সরার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে শৈশবেই পিতামাতার কাছ থেকে পরিত্যক্ত হলে কন্বমুনি তাঁকে প্রতিপালন করেন। একদিন মুনিবরের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়ায় তাঁর আশ্রমে প্রবেশ করলে শকুন্তলা রাজ-অতিথির যথাযথ সেবাযত্ন সম্পন্ন করেছিলেন। রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলার অসাধারণ রূপলাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে এবং তিনি যে ক্ষত্রকুলসম্ভবা – এ কথা শুনে তাঁর প্রতি প্রেমাসক্ত হন। পরে রাজা তাঁকে গোপনে গান্ধর্ববিধানে বিবাহ করে স্বদেশে ফিরে যান। স্বরাজ্যে ফিরে গিয়ে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলার আর কোনো খোঁজখবর না নিলে, কোনোরূপ যোগাযোগ রক্ষা না করলে, শকুন্তলা তাঁর কাছে একটি চিঠি লিখে পাঠান। সেই চিঠিতে তাঁর মনের কষ্ট, বিরহ ও যন্ত্রণা লিপিবদ্ধ হয়। এই পর্ব সেই চিঠিরই ভাবরূপায়ণ।

২য় পর্ব : অর্জুনের প্রতি দ্রৌপদী
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির যখন পাশাখেলায় পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত হয়ে বনে বাস করছিলেন, বীরবর অর্জুন শত্রু দমনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রবিদ্যা গ্রহণের জন্য সুরপুরে চলে গেলেন। অর্জুনের বিরহে কাতর হয়ে পত্নী দ্রৌপদী দেবী তাঁকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে প্রকাশ পায় সুরপুরে অর্জুনের ভোগবিলাসের কথা ভেবে তাঁর ঈর্ষা, ক্ষোভ এবং মর্মবেদনার বিবৃতি। সেই কথামালাই নাট্যরূপায়িত হয়েছে এই পর্বে।

৩য় পর্ব : জয়দ্রথের প্রতি দুঃশলা
অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের কন্যা দুঃশলা দেবী সিন্ধুদেশাধিপতি জয়দ্রথের স্ত্রী। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অন্যায়ভাবে কৌরবেরা অর্জুনপুত্র অভিমন্যুকে বধ করেন, সেই হত্যাকর্মে অন্যতম হোতা ছিলেন জয়দ্রথ। পুত্রশোকে উন্মাদপ্রায় অর্জুন প্রতিজ্ঞা করেন, অভিমন্যুর হত্যাকারী জয়দ্রথকে তিনি নিজ হাতে বিনাশ করবেন। অন্ধরাজ ধৃতরাষ্ট্রের দূত সঞ্জয়ের মুখে এ-খবর জেনে ভয়ে কম্পিত দুঃশলা পতি জয়দ্রথের কাছে একটি চিঠি লিখে পাঠান। সেই চিঠিতে একদিকে প্রকাশ পায় স্বামীর প্রতি তাঁর আকুল ভালোবাসার কথা, স্বামীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরানোর জন্যে তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে অসংখ্য যুক্তি হাজির করেন, স্বামীপক্ষ কৌরবেরাও যে অনেক অন্যায়ের ধারক, সেসব সত্যও তিনি উল্লেখ করেন। দুঃশলা হয়ে ওঠেন এক রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন নারী। সবকিছুর পরেও তিনি স্বপ্ন দেখেন শান্তির, প্রেমের ও এক স্বপ্নময় জীবনের, যেখানে আত্মার মুক্তি। চিঠির ভেতরকার সেই ভাবপ্রবাহই এ-পর্বে নাট্যায়িত।

৪র্থ পর্ব : নীলধ্বজের প্রতি জনা
মাহেশ্বরী পুরীর রাজা নীলধ্বজের পুত্র প্রবীর অশ্বমেধ যজ্ঞে উৎসর্গীকৃত ঘোড়া ধরলে অর্জুন তাঁকে যুদ্ধে নিহত করেন। রাজা নীলধ্বজ রায় অর্জুনের সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ না হয়ে উল্টো তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলে নীলধ্বজের পত্নী জনা পুত্রশোকে একান্ত কাতর হয়ে স্বামীর কাছে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে পাওয়া যায় উন্মাদিনীপ্রায় জনার বিক্ষুব্ধ মনের স্পর্ধিত কথামালা। স্বামীকে ব্যঙ্গ করেন, শ্লেষে শ্লেষে ঝাঁঝরা করেন তিনি। অর্জুনের ভয়ে হার-মানা স্বামীকে তাঁর ক্ষত্রিয়ধর্ম, বীরনীতি ভুলে যাওয়ার জন্য মুহুর্মুহু অপবাদ দেন জনা। একদিকে ক্ষোভ, ঘৃণা, আত্মশ্লাঘা, অন্যদিকে মৃত পুত্রের জন্য গগনবিদারী আর্তনাদ Ñ সবকিছু একাকার হয়ে ওঠে। দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতক সব কাপুরুষের প্রতি যেন বর্ষিত হয় জনার এই অশ্রুরক্তক্ষরিত বাক্যবর্শামালা। নাট্যমঞ্চে চিঠির লিপিবন্ধ ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়ে বিপর্যস্ত আবেগ ও দ্রোহ।

নির্দেশকের কথা : কবিতা, – একেবারেই দুরূহ আপাত অনধিগম্য শব্দবর্মপরিহিত কবিতাকে দীর্ঘসময় ধরে একই অভিনেতার মধ্য দিয়ে নাট্য করে তোলার প্রক্রিয়াটি আসলেই কষ্টসাধ্য, প্রথম প্রথম অসম্ভব মনে হয়েছিল, ক্রমে দুঃসম্ভব, আর এখন মনে হয় খানিকটা হলেও সম্ভব হয়েছে সেই কাজ। তাও সন্দেহ থেকে যায় বলে শিরতিলক পরিয়ে দেওয়া হলো Ñ নাট্যকাব্য।
অর্থাৎ কাব্যনাট্য নয়, নাট্যকাব্য। নাট্যকে আশ্রয় করে এটি শেষতক একটি কাব্যই হলো-বা। আদতে সে-চেষ্টাও করেছি। অজস্র উপমা-উৎপ্র্রেক্ষা রূপক অলংকারে বিপর্যস্ত সুন্দর অনুপম পঙ্ক্তি ঘুরে বেড়াক-না মঞ্চে, একজন মাত্র শিল্পীর বচনে! সেই স্বপ্ন নিয়ে শুরু করে অবশেষে সেখানে আর আটকে থাকতে পারিনি। শেষাবধি আমরা তো থিয়েটারই করি।
এখন কাজ দাঁড়াল কবিতার দৃশ্যরূপের সমস্ত ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে তার নাট্য-অঙ্গ নির্মাণের প্রয়াস। দ্বিতীয় দফায় সে কাজ হয়েছে। প্রতিটি শব্দ ধরে এগিয়েছি আমরা। শব্দ থেকে শব্দবন্ধে, তা থেকে বাক্যে, তা থেকে আবার চরণে স্তবকে এবং আরো বিস্তৃত পরিসরে। এভাবেই কাজটাকে ভেঙে ভেঙে করার চেষ্টা হয়েছে।
একজন শিল্পী তাঁর শিল্পক্ষেত্রে যতটুকু শ্রমসময়মেধাপ্রেম খরচ করতে পারে, তার সবটুকুই করেছে জ্যোতি সিনহা। প্রথম পক্ষকাল জুড়ে ছিল পাঠ-অর্থ ব্যঞ্জনা, ধ্বনি ও শব্দের শ্রুতিবিশিষ্টতার ও স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র রূপের দিকে আলোকপাতের পর্ব। এরপর মধ্যম পর্যায়ে কাব্যের নাট্যায়নের বিন্দু বিন্দু ভাষার সূত্র তৈরির চেষ্টা Ñ অঙ্গে, বচনে ও অভিব্যক্তিতে।
টানা তিন মাস বিভিন্ন পর্যায়ে নাটকটি নিয়ে কাজ করেছি। নাটকের কোনো টেক্সটকে বা পাঠকে যদি ধার্মিকের ধর্মগ্রন্থের মতোই সমান মর্যাদা দিয়ে কর্মে ব্রতী হওয়ার কথা থাকে, এই নাটকের ক্ষেত্রে আমরা তেমনটিই করার চেষ্টা করেছি।
তারপরও ত্রুটির সীমা থাকবে না। আক্ষেপের শেষ থাকবে না। অসম্পূর্ণতারও অনেক কিছু রয়ে যাবে। বাস্তব নানা প্রতিকূল রোধক তো আছেই। আমাদের এই শিখরস্পর্শী আকাক্সক্ষাকে প্রান্তিক কিছু শিল্পপ্রাণ মানুষের স্পর্ধিত স্বপ্ন হিসেবে দেখবেন, সেই দৃষ্টিতে সবকিছু বিবেচনা করবেন, এ-ই প্রার্থনা।
– শুভাশিস সিনহা

কলাকুশলী

মঞ্চে : দ্রৌপদী, শকুন্তলা, দুঃশলা ও জনার ভূমিকায় জ্যোতি সিনহা
ভাব-মুদ্রা-রূপায়ণে : অরুণা সিনহা, শ্যামলী সিনহা, শ্রাবণী সিনহা, মনীষা সিনহা, আশা সিনহা, স্বাগতা
সংগীতে : শর্মিলা সিনহা
বাদ্যে : বিধান চন্দ্র সিংহ, বাবুচান সিংহ, লক্ষ্মণ সিংহ, সুনীল সিংহ, উজ্জ্বল সিংহ
নেপথ্যে : মুদ্রাবিন্যাস, জ্যোতি সিনহা, বিধান চন্দ্র সিংহ
আলোক প্রক্ষেপণ : মো. শাহজাহান মিয়া
দৃশ্যসজ্জা : আলী আহমেদ মুকুল, সজলকান্তি সিংহ
পোশাক পরিকল্পনা : জ্যোতি সিনহা
নাট্যপরিকল্পনা, সুর-সংযোজনা ও নির্দেশনা : শুভাশিস সিনহা
অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি দেখানো হবে : www.facebook.com/kaliokalam www.facebook.com/IFICBankLimited

Leave a Reply