হায় রে, ইলা মিত্র যদি এই সন্ধ্যাটা দেখে যেতে পারতেন

লেখক:

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

আমি এখন একা একা থাকি। আমার স্ত্রী একটা ফ্ল্যাট কিনে দিয়ে গেছেন। দোতলার ফ্ল্যাটের সামনে একসার শিশুগাছ। গাছগুলো একটা অরণ্যের আবহ তৈরি করে রেখেছে। গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে দেখা যায় দক্ষিণের হ্রদ। হ্রদটা পুব এবং উত্তর ঘেরা। আমি অধিকাংশ সময় পুবের বারান্দায় বসে হ্রদের দিকে চেয়ে থাকি। তখন নিঃসঙ্গতা আমাকে ঘিরে ধরে। আমার বন্ধুদের অধিকাংশ মারা গেছে। যারা বেঁচে আছে, তাদের কেউ কেউ বিদেশে। যারা এখানেই থাকে, তারা মাঝে মধ্যে আসে।
আমরা পুরনো দিনের কথা বলি।
আমার এই বন্ধুটি ডাক্তার। এখন ডাক্তারি করা ছেড়ে দিয়েছে।
তোমার মনে আছে?
কী?
চৌ এন লাইর ঢাকা আসার কথা?
কী করে ভুলি বলো।
সুনামগঞ্জের সেই কমরেডের কথা।
ভুলিনি। কিছুই ভুলিনি।
তুমি তো তখন রিসেপশন কমিটির সেক্রেটারি।
আমার বন্ধুটির চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। আরো একবার তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠেছিল। পার্টির নির্দেশে গ্রামে চলে গিয়েছিল ডাক্তারি করতে। গ্রামেই থেকেছে শেষ পর্যন্ত। এই বন্ধুটি মধ্যে মধ্যে এখন আসে। আমরা পুরনো দিনের কথা বলি।
আমি বলি, তুমি সুনামগঞ্জের কমরেডের কথা বলছিলে।
বলছিলাম।
অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলছিলে, সেই কমরেড অফিসে এসে হাজির। তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে, কমরেড আপনি।
কমরেডটি বলেছিল, আমি সুনামগঞ্জের। হেঁটে এসেছি কমরেড চৌকে দেখার জন্য। হেঁটে কেন? ভাববেন না, আমি নিঃস্ব গরিব। চীনা কমরেডরা যদি লংমার্চ করতে পারে, আমরা কেন পারব না। আমার হেঁটে আসা আমার লংমার্চ। পা তুলে দেখাল। বাঁ পা ফুলে ঢোল হয়ে আছে। ব্যথা ব্যথা ব্যথা। আমার যদ্দুর করার করেছি। তুমি ডাক্তার যদ্দুর পারো করেছ। চৌ এন লাই চলে যাবার পর, কমরেডের পা কেটে ফেলা হয়েছে। গ্যাংগ্রিন। আমি ভুলিনি। তুমি ভুলোনি। সুনামগঞ্জের কমরেডের কথা আমরা কেউ ভুলিনি।
আমরা দুজন চুপ করে থাকি। চোখের সামনে গাছের অরণ্য আবহ, হ্রদের ঢেউ, পাখির ওড়াওড়ি। আমরা দুই বন্ধু এসবের মধ্যে  চুপ করে বসে থাকি। আমাদের দিগন্তের দিকে চেয়ে থাকা বাদে করার কিছু নাই। বন্ধুটি ফের বলে, আমরা নিঃসঙ্গ।
আমি হ্যাঁ-না কিছুই বলি না। আমি দূরের কথা ভাবি। সেই পুরনো দিনের বিশ্বাস কতো দূর, যেখানে এখন চোখ যায় না। সব ধূসর। বিবর্ণ। অস্পষ্ট। বন্ধুটি ফের বলে, তুমি সোশ্যালিজমের কথা ভেবে নিঃসঙ্গ।
আমি চুপ করে থাকি। কথা বলার কী আছে। বন্ধুটির মৃদুভাষণ আকাশে উড়ে যায়।
বন্ধুটি কাপে শেষ চুমুক দিয়ে বলে, আমি আমার গ্রামটার কথা ভুলি না। আমি সুনামগঞ্জের কমরেডের কথা ভুলি না। আমি সোশ্যালিজমের লড়াইয়ের কথা ভুলি না। আমি কিছুই ভুলি না।
আমি ভাবি এবং বলি, আমি মধ্যে মধ্যে নিঃসঙ্গ। আমি নিঃসঙ্গ  এবং বিষণœ।
বন্ধুটি যেতে যেতে বলে, আমিও বিষণœ।

দুই
আমার ডাক্তার বন্ধুটি মধ্যে মধ্যে আসে। তখন আমরা পুরনো দিনের কথা বলি।
আমি বলি, কোনোকিছুর জন্য আমি নিঃসঙ্গ না।
কথার বান আমার মধ্যে জাগে, আমার কাজ আমি করেছি। ওইটাই সত্য।
বন্ধুটি খুব নরম গলায়, খুব আস্তে, পদ্মপাতায় বৃষ্টির ফোঁটার মতো বলে, তোমার বন্ধুদের কথা ভুলে যেও না। তারাও সত্য, তাই না। তাদেরও একটা দাম আছে।
আমি আস্তে আস্তে বলি, বন্ধুটি শুনতে পায় কিংবা শুনতে পায় না, আমি বন্ধুদের মিস করি। কখনো কখনো নিঃসঙ্গ বোধ হয়।  সে-সময় ইমপরট্যান্ট বিষয়ের জন্য নিঃসঙ্গ বোধ করতাম। এখন নিঃসঙ্গ বোধ করি আনইমপরট্যান্ট বিষয়ের কথা ভেবে।
বন্ধুটি বলে, তুমি বিষণœ না। মনে রেখো তুমি বিষণœ না।

তিন
আমার সম্বন্ধে আমার পারলোকগত স্ত্রীর উচ্চ ধারণা ছিল। শিক্ষক হিসেবে আমার যথেষ্ট সুনাম, লেখক হিসেবে আমার যথেষ্ট সুনাম, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমার যথেষ্ট সুনাম। এসব বিবিধ সুনামের অধিকারীর একটা বায়োগ্রাফি থাকা দরকার। আমি শুনেই হেসেছি, যে-হাসি আকাশ স্পর্শ করে এবং যে-হাসি অতল স্পর্শ করে। আমার স্ত্রী খুবই জেদি মহিলা, তিনি তার এক বন্ধুকে আমার বায়োগ্রাফি লেখার দায়িত্ব দিয়েছেন।
আমার স্ত্রীর বন্ধুটি একটা প্রাইভেট কলেজের ইকোনমিক্সের শিক্ষিকা। এক সময় বিবাহিত ছিলেন, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
আমার স্ত্রীর নাম শামিম, স্ত্রীর বন্ধুটির নাম সুলতানা। সুলতানা সপ্তাহে একদিন আসেন। তার আসাটা একটা ভিজিটের মতো। স্ত্রী বেঁচে থাকতে একটা নিয়ম বেঁধে দিয়েছিলেন। তার ভিজিটের দিন আমি যেন একটা কেক নিয়ে আসি। কেক আনার অর্থ কেক কাটা, ভিজিটটাকে ফরমাল করে তোলা। স্ত্রী মারা যাবার পরও, এই নিয়মের ভুল হয়নি।  সুলতানা মেনে নিয়েছিলেন নিয়মটা। আমাকে কেমন বোকা বোকা মনে হয়। সুলতানা সব সময় সন্দেহের চোখে কেকটা এবং কেক কাটা দেখতেন, যেন একটা অ্যানিভার্সারি আমরা দুজন উদ্যাপন করছি। আমার শিক্ষকতা এবং আমার পার্টির কাজকর্মে ভিজিট করত এক ধরনের গ্যালান্ট্রি। সুলতানাকে সুন্দর লাগত, অন্য সময় ওকে কেমন লাগত, জানি না। আমি ওর বাসায় কখনো যাইনি, ওকে নিয়ে কোনো গান-বাজনার আসরে যাইনি। সবাই জানে ও আমার বায়োগ্রাফি লিখছে, ওকে এ-দায়িত্বটা আমার স্ত্রী বেঁচে থাকতে দিয়ে গেছে। আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পর সুলতানা এই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। কেন বায়োগ্রাফি লেখা শেষ হয় না, আমার বন্ধুরা মধ্যে মধ্যে ঠাট্টা করত। সুলতানা বাসি কেক খেতে খেতে, ঠান্ডা কফিতে চুমুক দিতে দিতে, কলম থামিয়ে, আয়ত চক্ষু মেলে জিগগেস করতেন, তারপর।
যে-সময়ের কথা বলছি, তখন কৃষক বিদ্রোহ নিস্তেজ হয়ে এসেছে। বিদ্রোহের নেতারা একের পর এক ধরা পড়ছেন। তাঁদের ওপর নির্যাতনের সীমা-পরিসীমা নাই। সে-সময় ধরা পড়লেন ইলা মিত্র, কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী, অগ্নিশিখা। মুসলিম লীগ সরকারের পুলিশ, মুসলিম লীগের গুণ্ডারা তাঁর ওপর যত রকম সম্ভব শারীরিক নির্যাতন করেছে। তাঁকে নোয়াতে পারেনি। অগ্নিশিখা জ্বলন্তই থাকে। তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাঁকে সর্বক্ষণ ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং গোয়েন্দারা। বাইরের কারোর তার কাছে যাওয়া নিষেধ। একদিন আমার কাছে নির্দেশ এসেছে পার্টির কাছ থেকে। ইলা মিত্র কেমন আছেন দেখে আসতে হবে। স্ত্রীকে আমি যেন সঙ্গে নিয়ে যাই। হয়তো মহিলা দেখলে গোয়েন্দারা এবং পুলিশ অতটা হইচই করবে না।
দেশের সবাই ইলা মিত্রের বিদ্রোহের ঘটনা জানে। ছাত্র শিক্ষক পুরুষ নারী সাংবাদিক ব্যবসায়ী : পূর্ববাংলার সবাই তাঁর ওপর নির্যাতনের খবর জানে। মনে হয় সবাই যেন বলে, আগুন জ্বালিয়ে দাও। এই রাষ্ট্র আগুনে ছাই করে দাও।
আমি শামিমকে বলি, যাবে দেখতে?
ইলা মিত্রকে?
আমি শামিমের হাত ধরে বলি, যাবে দেখতে।
শামিম বলে ওঠে, তুমি কেমন কমিউনিস্ট! ইলা মিত্রকে দেখা নিয়ে আমাকে জিগগেস করো।
শামিম, কাল তুমি আর আমি তাঁকে দেখতে যাব হাসপাতালে। নিরাপত্তার বেড়াজাল ভেঙে ফেলে। গোয়েন্দারা কী করবে আমাদের। অ্যারেস্ট করবে, এই তো।
পরদিন শামিম আর আমি হাসপাতালে যাই। পুলিশ এবং গোয়েন্দার দল বারান্দায়, তার বেড ঘিরে, ফিসফিস করছে। একজন ডাক্তার, পরে জেনেছি তার নাম ডা. আলম, তিনি আমাদের দেখে বললেন, দেখতে এসেছেন?
আমরা কিছু বলি না। ইলা মিত্রের শরীরে কিছু নাই। তাঁর শরীর এবং বিছানার মধ্যে তফাৎ নাই।
ইলা মিত্র কথা বলতে পারেন না। কৃষক-বিদ্রোহের নেতা, অগ্নি মশাল, কথা বলতে পারছেন না। তিনি হাসলেন। তাঁর অনিন্দ্য হাসি, তাঁর আশ্চর্য হাসি বুকে ভরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসি। বুঝি বিদ্রোহ সকল সর্বনাশের ভিতরে অসহ্য এক হাসি। অসম্ভব এক বিস্ফোরণ।
রাস্তায়, বের হবার পর, দেখি আমার স্ত্রী, শামিম কাঁদছে। এই কান্নার শেষ নাই, তল নাই, সীমা নাই। কাঁদতে কাঁদতে শামিম বলে ওঠে, আমি এখন বুঝেছি মানুষ কেন বিদ্রোহ করে।
যে-রিকশায় যাচ্ছি, সে-রিকশাওয়ালা বলে, দেখে এলেন।
আমার স্ত্রী মাথা নাড়ায়, হ্যাঁ।
রিকশাওয়ালা ফের বলে, এমন মানুষ হয় না।
রিকশাওয়ালা কয়েক লহমা চুপ থেকে বলে, ভাইসাব ভাবিসাব এই রাস্তা থেকে কখনো সরবেন না। আপনারা না থাকলে আমাদের গরিবদের কে দেখবে।
মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে আমি এবং আমার স্ত্রী বহুদিন কারণে-অকারণে হাঁটাহাঁটি করেছি। কখনো দুজনে একসঙ্গে বলেছি, ওইখানে ইলা মিত্র আছেন। কখনো দুজনে চুপচাপ হেঁটেছি, ওইখানে ইলা মিত্র আছেন।
মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তা একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা। রাস্তার নাম ইউক্যালিপটাস এভিন্যু। রাস্তার দুধারে সার সার দীর্ঘদেহী ইউক্যালিপটাস। আশ্বিনের বিকেল এবং সন্ধ্যায় এ-এভিন্যু আশ্চর্য, অসম্ভব আশ্চর্য হয়ে ওঠে। একটি গোলচাঁদ ইউক্যালিপটাস গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে আকাশকে আশ্চর্য করে তোলে। বাতাস মদির হয়ে যায়। দুঃখকষ্ট কোথাও নাই। আছে আকাশ, আছে চাঁদ, আছে ইউক্যালিপটাস গাছের সারি। শামিম আস্তে আস্তে, মৃদু কণ্ঠে, আকাশের ওইপাড়ের পাখির ঝাপটানির দিকে চেয়ে বলে, ইলা মিত্র যদি এ-সন্ধ্যাটা দেখতে পেতেন।
হায় রে, ইলা মিত্র যদি এই সন্ধ্যাটা দেখতে পেতেন।
আমি এসবই বলি সুলতানাকে। আমার স্ত্রীর বন্ধু, আমার বায়োগ্রাফির রচয়িতা, কলম থামিয়ে, আয়ত চক্ষু মেলে জিগগেস করেন, তারপর।

চার
ইলা মিত্রের সঙ্গে আমার আর দেখা হয়নি। কিন্তু ইলা মিত্র যে- এলাকায় বিদ্রোহ করেছেন, সে-এলাকায় গিয়েছি অনেক অনেক বছর পর। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ইলা মিত্র নাচোল এলাকায় সাঁওতাল কৃষকদের নিয়ে বিদ্রোহ করেছেন। জমি কৃষকদের, সে-অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই একই এলাকায় আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাই গবেষণার কাজে। সাঁওতাল কৃষকদের জমির ওপর অধিকার কতটুকু বেড়েছে তা নিয়ে আমাদের গবেষণার কাজ।
সাঁওতাল কৃষকদের বাড়িঘর মুসলমান কৃষক এবং হিন্দু কৃষকদের চেয়ে অনেক অনেক সুন্দর। মাটির বাড়িঘর নিকোনো, পরিচ্ছন্ন। সাজানো, ছবির মতো। বাংলাদেশের সাঁওতাল কৃষকদের পরিবার থেকে কেউ শিল্পী হয়েছে কি-না, আমার জানা নাই। ভাবছি এসব নিয়ে আরেকটা গবেষণা করব।
আমার স্ত্রী ক্যামেরায় ছবির পর ছবি তুলছেন। সকালবেলা, দুপুরবেলা, বিকেলবেলা, রাত্রিবেলা; ওদের ঘরবাড়ি। বাড়িঘেরা গাছপালা, উঠোনে মুরগির পাল। মেয়েদের পরনে রঙিন শাড়ি এবং পুরুষদের পরনে সাদা শার্ট; লুঙ্গি অথবা ধুতি। তাদের মুখ হাসিভরা।
দুপুরে ওদের মণ্ডলের বাড়িতে ভাত খাই। মাটির বারান্দায় ভাত সাজিয়ে রাখা। প্রথমেই ডাল, মিষ্টি দেওয়া, একটা সবজি এবং একটা মুরগি। আমরা বাঙালিরা ডাল পরে খাই এবং ডালে মিষ্টি দিই না। আমরা খেতে খেতে এসব ভাবি এবং ওদের নিকোনো, আলপনা দেওয়া ঘরের দেয়াল দেখি। আমাদের খাওয়া ফুরিয়ে যায় এক সময়; কিন্তু আমাদের দেখা, বোধহয় ফুরোয় না।
আমরা, স্বামী-স্ত্রী, পেশায় গবেষক, ফিসফিস করে বলি, এদের পূর্বপুরুষ, ইলা মিত্রের নেতৃত্বে একদিন এ-অঞ্চলে, ধান ও জমির লড়াই করেছে। মারা গেছে, মার খেয়েছে, জেলে গেছে; কিন্তু লড়াই থেকে পিছু হটেনি। সালাম, সাঁওতাল কৃষক, তোমাদের সালাম; ইলা মিত্র এখন কিংবদন্তি, তোমাকে সালাম।
আমার হঠাৎ মনে হয় আমাদের চারপাশে বহু দরজা খোলা। নিঃসঙ্গ হওয়ার কোনো কারণ নাই। বন্ধুরা দরজা খোলা।
এই বিকেলবেলা, সাঁওতাল পল্লীর ওপর আকাশের নীল চাঁদোয়া। নীল বদলে যাওয়া শুরু করেছে অস্ত সূর্যের লালে। মেঘ উড়ছে সাদা থেকে সাদায়, কী নরম তাদের পাড়, কোথাও কোনো শব্দ নাই, আকাশে মেঘ উড়ছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে, দূরে কোথাও উড়ে চলেছে শব্দহীন। কোনো একদিন, কোনো সাঁওতাল শিল্পী, এই ছবিটা আঁকবেন, যেখানে থাকবে মৃত্যু এবং ভালোবাসা এবং হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো। এ ধরনের আকাশ জয়নুল আঁকতে ভালোবাসতেন। বেঁচে থাকার মহান নাটকের মুখোমুখি আমরা।
মণ্ডল সাব।
বলেন।
আপনাদের প্রত্যেকের বাড়িতে তীর-ধনুক সাজানো। কারণটা কী?
আমাদের লড়াই করে বাঁচতে হয়।
লড়াই?
আমাদের ছেলেমেয়েদের অল্প বয়স থেকে তীর-ধনুক চালাতে শেখাই।
কার বিরুদ্ধে লড়াই?
ভদ্রলোকেরা সুযোগ পেলেই আমাদের জমি দখল করে। জমি বেহাত হলে আমরা বাঁচব কীভাবে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। ইলা মিত্রের আকাশে চাঁদ ওঠে। গোল এবং লড়াকু চাঁদ। হলুদ এবং লাল চাঁদ। মণ্ডল স্তব্ধ, আমরা চাঁদের দিকে তাকাই।
জীবনের বিভিন্ন দরজা খুলে যায়। ইলা মিত্র, ইলাদি আমরা বিষণœ না।
আমরা কেন বিষণœ হবো, যখন তোমার মতো কিংবদন্তি আমাদের ঘিরে আছে। জীবনের বিভিন্ন খোলা দরজার সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। তোমার নামে দরজাগুলি খুলে যায়।