অনভিহিত
বাংলাদেশের আধুনিক প্রজন্মের অন্যতম শিল্পী হামিদুর রহমান। তিনি বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত, বাঙালির অহংকার ও গর্ব কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্রষ্টাদের একজন।
পঞ্চাশের দশকে ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পর্যায়ের শিল্পীদের মধ্যে আধুনিকতার পথনির্মাণের যে-স্বপ্ন স্পন্দিত হয়েছিল হামিদুর রহমানের সৃষ্টিতে তারই ছাপ স্পষ্ট। বাংলাদেশের চিত্রকলাকে নবীন সৃজনধারায় আলোকিত করার জন্য তাঁর ভেতর যে জিজ্ঞাসার জন্ম হয়, সেই জিজ্ঞাসায় সঞ্জীবিত হয়েই তিনি পাড়ি জমান পাশ্চাত্যে। ১৯৫১ সালে তিনি চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ ও আধুনিক চিত্রশৈলী আয়ত্ত করতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সে যান। পরে কিছুদিন ইতালিতে কাটান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ম্যুরাল চিত্রে দক্ষতা অর্জন করেন।
এই সময় থেকে তিনি বিমূর্তরীতিতে চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে আশ্চর্য দক্ষতার পরিচয় দেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকায় যে একক প্রদর্শনী করেন, প্রচলিত শিল্পপ্রয়াসে তা নবতরঙ্গের সূচনা করেছিল।
আশির দশক থেকে তিনি কানাডার মন্ট্রিলে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তবু দেশের যে-কোনো সংকটেই তিনি আন্দোলিত হয়ে ছবি এঁকেছেন। বিশেষত সত্তরের প্রলয়ঙ্করী ঝড় ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তাঁর সৃজনবৈভবে নবমাত্রা সৃষ্টি করেছিল। এইসব চিত্রে দেশের ও মানুষের জন্য তাঁর ভালোবাসা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
তাঁর জন্ম ঢাকায় ১৯২৮ সালে। মৃত্যু ১৯৮৮ সালে মন্ট্রিলে।প্রচ্ছদের চিত্রকর্মটি ১৯৮৪ সালে তেলরঙে অঙ্কিত। ছবিটির সংগ্রাহক আসফার খায়ের।


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.