তুমি বারবার নতুন কিছু শুনতে চাইলে
বোল্লে : ‘আমাকে নতুন কিছু শোনাও’
আমি বোল্লাম : ‘অমাবস্যার পুঞ্জপুঞ্জ অন্ধকার
একদল কালো মুখোশ-পরা
ডাকাতের মতো
শিকার করতে চাইছে শাদা খরগোশের মতো কম্পমান
চাঁদটাকে’
তুমি বোল্লে : ‘এর কোনো অর্থ নেই!’
আমি আবার বোল্লাম : ‘তুমি কী শোনোনি
তিনটে মাছের আক্রমণে নিহত মাছরাঙা প’ড়ে আছে নদীর
ওপারে’
তোমার চোখের তারা
অবিশ্বাসে বারবার নেচে উঠলো : ‘এটা একটা
প্রকৃতি-বিরুদ্ধ ঘটনা, হ’তেই পারে না’
আমি এবার একটু উঁচু গলায় : ‘বিশ্বাস করো অরণ্যের অব্যাহত
আক্রমণে দারুণ সংকুচিত হয়ে পড়ছে
আমাদের শহরগুলো।’
ম্লান হেসে তুমি বোল্লে : ‘ব্যাপারটা বরং উলটো
মানুষের হন্তারক হাতের কল্যাণে এ-দেশে
পুষ্পল ঋতু আর দেখাই যায় না’
আমি এবার রেগে উঠলাম : ‘তুমি জানো
সমুদ্র প্রত্যাখ্যান করেছে আমাদের নদীগুলোকে,
তারা ফিরে আসছে তাতার দস্যুর তরঙ্গের মতো
আমাদের গ্রাম ও শহরের দিকে।’
হেলায়-ফেলায় তুমি বোল্লে : ‘অমন অলক্ষুণে কথা
শুনতেও নেই!’
আমি আবার বোল্লাম : ‘ঐ দ্যাখো হরিণশাবকের তাড়া খেয়ে
দিশেহারা ডোরাকাটা বাঘগুলো
দিগি¦দিক
পালাচ্ছে ছুটে।’
তুমি ম্লান হেসে বোল্লে : ‘এমন সুদিন কখনো কি আসবে?’
বস্টন, ১৯৯০এত ঐশ্বর্য, এত স্বাধীনতা
শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়
বিদেশে এসে বুকুন অন্যরকম হয়ে গেছে।
এমন একটা জায়গা যে আছে পৃথিবীর কোথাও
ও ভাবে নি কখনো।
এত ঐশ্বর্য এত স্বাধীনতা।
মা-বাবা কেবল ফিরে যেতে বলছে,
ফিরে গিয়ে কী পাবে কেউ খুলে বলছে না।
ওই ভাল্লুক আর বেড়ালের মনে দুঃখ দিয়ে লাভ নেই
ওদের কাছে ও ঋণী –
ওদের টিকিট পাঠিয়ে দিল বুকুন
আট হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তোমরা এসো
ঘুরে বেড়াও, একমাস থেকে যাও, দেখে যাও
তারপর ফিরে যাও স্বদেশে –
আমাকে আর ফিরে যাওয়ার কথা বোলো না।
বিক্রি করে দাও আমার খাট আর টেবিল।
ফেলে দাও আমার ডুগি-তবলা।
আমার ঘর খালি করে সেখানে ঠাকুরের ছবি রাখো
প্রার্থনা করো,
তারপর একে একে তোমরা বুড়ো হয়ে মরে যাও
বাড়িটা দান করে দাও মিশনকে।
ও সব সস্তা জিনিসে আমার আর দরকার নেই।
এদেশে পটল পাওয়া যায়, বড়ি পাওয়া যায়,
চাইলেই বান্ধবী মেলে,
পাবদা মাছ আসে বাংলাদেশ থেকে। দুর্গাপুজো হয়।
মায়ের হাতের মাছের ঝোল আমরা মাঝে মাঝে খাই
তবে পিৎসা আর হ্যামবার্গার আমার বেশি প্রিয়।
এই বুকুনই ইশকুল থেকে ফিরে মাকে বলতো
চাউমিন দাও, চাউমিন দাওআমি দুধ খাবো না।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.