নিজের হৃৎপিণ্ড নিজেই কীভাবে ক্ষত-বিক্ষত করে দিতে হয়
লোকটি এতোদিন পরে শিখেছে। এটিই ছিল তার সরল স্বীকারোক্তি।
কাজটি সে জেনে না কি না-জেনে করেছিল, এখনো বুঝতে পারছে না।
যদি সে জেনে করে থাকে, তবে অপরাধী কিনা; আর যদি না-জেনে
তাহলে তাকে বেনিফিট অব ডাউট দেয়া যাবে কিনা।
লোকটি কোনো উকিল দেয়নি, নিজেও নিজের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো কথা
বলেনি। বাদী কেউ ছিল না, বিবাদীও কেউ নয়। লোকটি নিজেই বাদী-বিবাদী।
কোনো সাক্ষী-সাবুদও ছিল না।
জজ সাহেব আদ্যোপান্ত সব শুনে, অনেক রকমের জেরা করে কোনো কূল-কিনারা
পেলেন না। অতএব অনেকক্ষণ নীরব থাকলেন।
দর্শকের কৌতূহল ছিল আদালতের চত্বর ছাড়িয়েও প্রান্তর থেকে প্রান্তরে।
জজ সাহেব সবার প্রতিক্রিয়া দেখলেন। অবশেষে বললেন : “জেনে করেছে কিনা
তার যেমন অকাট্য প্রমাণ নেই, না-জেনে কিনা তারও নেই। সুতরাং, তিনি যেহেতু
নিজেই বাদী ও বিবাদী, তিনিই ঠিক করে নিন, কেমন শাস্তি তিনি সইতে পারবেন,
অথবা বেনিফিট অব ডাউটের সুযোগে তিনি অন্তঃসলিলা হাসিতে আপ্লুত হবেন কি না।”
লোকটি কেমন বিহ্বল চোখে লক্ষ-কোটি দর্শকের দিকে চেয়ে সবার জন্য মঙ্গল কামনা
করে তাকালো জজ সাহেবের ঢেউ-খেলানো উইগের দিকে : “ধর্মাবতার, এই রক্তাক্ত
হৃৎপিণ্ডের ভার নিয়ে আমাকে এই কাঠগড়াতেই আজীবন দাঁড়িয়ে থাকতে দিন।”২/১/০৪

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.