সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : জীবনপঞ্জি

১৯৫১   ১৮ই জানুয়ারি সিলেট শহরের মির্জা জাঙ্গালের মনিপুরী রাজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আমীরুল ইসলাম এবং মা রাবেয়া খাতুন।

১৯৬৬  সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৬৮  সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন।   

১৯৭১   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

১৯৭২   একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

১৯৭৩  সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয় তাঁর ‘বিশাল মৃত্যু’ গল্পটি। এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প। এরপর দীর্ঘ ৪৩ বছরের সাহিত্যজীবন অতিবাহিত করেন তিনি। মাঝে প্রায় দেড় দশক তিনি লেখালেখি থেকে স্বেচ্ছাবিরতি নেন। পরে আশির দশকে আবারো সাহিত্যজগতে ফিরে আসেন। ১৯৮৯ সালে বিচিন্তার ঈদসংখ্যায় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে সাহিত্যের জগতে আবারো পদার্পণ করেন। শুধু গল্পই নয়, তিনি উপন্যাস, সাহিত্য ও চিত্র সমালোচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন।

১৯৭৪   অক্টোবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।        

১৯৮১   কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উব্লিউ বি ইয়েটসের ওপর পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৬  নন্দনতত্ত্ব গ্রন্থের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৫  প্রথম আলো বর্ষসেরা সৃজনশীল বইয়ের পুরস্কার পান।

২০০৬  কাগজ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন।

২০১৬   কাজী মাহবুবুল্লাহ পুরস্কারে ভূষিত হন।

২০১৭   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এই বছরই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্বাচন কমিশনের সদস্য মনোনয়নের লক্ষ্যে গঠিত সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়।

২০১৮  দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন। একই বছর তিনি পেন বাংলাদেশের সভাপতি নিযুক্ত হন।

২০২৩  ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ইংরেজি বিভাগে এমেরিটাস অধ্যাপক নিযুক্ত করে।

২০২৫ ৩ অক্টোবর আকস্মিক কার্ডিওঅ্যারেস্টের কারণে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ অক্টোবর তিনি মারা যান। পরদিন তাঁকে শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম অধ্যাপনা ছাড়াও তিনি অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সহ-সভাপতি। শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক ইংরেজি পত্রিকা যামিনী এবং বাংলা পত্রিকা শিল্প ও শিল্পীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আমৃত্যু সেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

গ্রন্থসমূহ

কবিতা : সমুদ্রের স্বরলিপি।

গল্প :   স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯৪), থাকা না থাকার গল্প (১৯৯৫), কাচ-ভাঙা রাতের গল্প (১৯৯৮), অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প (২০০১), প্রেম ও প্রার্থনার গল্প (২০০৫), সুখদুঃখের গল্প, বেলা অবেলার গল্প (২০১৪), মেঘশিকারি (২০১৫), তালপাতার সেপাই ও অন্যান্য গল্প (২০১৫), ভুলে থাকা গল্প (২০১৬), সেরা দশ গল্প (২০১৬), একাত্তর ও অন্যান্য গল্প (২০১৭), বিচিত্র স্বাদের গল্প (২০১৭), কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প (২০১৯), গল্পসকল – প্রথম খণ্ড (২০২০), চিরায়ত দশ বাংলা গল্প (২০২১), সেরা দশ গল্প (ভারত থেকে প্রকাশিত)।

উপন্যাস : আধখানা মানুষ (২০০৬), তিন পর্বের জীবন (২০০৮), কানাগলির মানুষেরা (২০০৯), আজগুবি রাত (২০১০), দিনরাত্রিগুলি (২০১৩), শকুনের ডানা (২০১৩), যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক (ব্রাত্য রাইসু সহযোগে), উপন্যাস ত্রয়ী (২০২০), নন্দীছড়ার যোদ্ধারা (২০২৩)।

প্রবন্ধ ও গবেষণা :       নন্দনতত্ত্ব (১৯৮৬), কতিপয় প্রবন্ধ (১৯৯২), অলস দিনের হাওয়া, মোহাম্মদ কিবরিয়া (সুবীর চৌধুরী সহযোগে), রবীন্দ্রনাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্পপ্রসঙ্গ, লেখাজোখার কারখানাতে (২০১৫), Essays on Ekushey The Language Movement ১৯৫২ (২০১৬), আমাদের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০১৭), রবীন্দ্রনাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্পপ্রসঙ্গ (২০১৯), ইতিহাসের রূপকার তাজউদ্দীন আহমদ (২০১৯), বায়ান্ন থেকে একাত্তর বাংলাদেশের গল্প (২০২১), Mosques of Bangladesh (মুহাম্মদ জমিরের সঙ্গে যৌভাবে, সম্পাদনা – মুহাম্মদ লুৎফুল হক ও শামসেদ মর্তুজা, ২০২১), Mosques of Bangladesh (আনিসুল হক, রিফাত বিন সাত্তার ও রাশেদা কে চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে, ২০২২), ৫০ পেরিয়ে শিশুদের বাংলাদেশ (আনিসুল হক, রিফাত বিন সাত্তার ও রাশেদা কে চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে, ২০২২), Travels Through Bangladesh (২০২১), Title : Bangladesh : Six Decades (১৯৪৭-২০০৭) (মুহাম্মদ জামির ও আনিসুজ্জামানের সঙ্গে যৌথভাবে), Festivals Of Bangladesh (শামসুজ্জামান খান ও আনিসুজ্জামানের সঙ্গে যৌথভাবে), Travels Through Bangladesh (নিয়াজ জামানের সঙ্গে যৌথভাবে), হাছন রাজা সমগ্র : তিনশো তেতাল্লিশটি নতুন আবিষ্কৃত গানসহ মরমী সাধকের জীবন ও কর্মের নতুন তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী আকরগ্রন্থ অ্যালবামসহ (শামসুজ্জামান খান, মোমেন চৌধুরী, দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা ও আবুল আহসান চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে), আনিসুজ্জামান সম্মাননা গ্রন্থ (সুবল কুমার বণিক, শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন, মারুফুল ইসলাম ও আবুল হাসনাতের সঙ্গে যৌথভাবে)।

সম্পাদনা :      শ্রেষ্ঠ শিল্প প্রবন্ধাবলী (অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ২০১৩), অরিত্র ধীরোদাত্ত (২০১৭), সুবর্ণরেখায় বাতিঘর : ৭৫ এ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার সম্মাননাগ্রন্থ (২০১৮), হুমায়ূন আহমেদ রচনাবলী-১২ (২০২৩)।

অনুবাদ : Hudson’s Gun (সৈয়দ শামসুল হক, ২০১৭)। এছাড়াও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও জার্নালে তাঁর অসংখ্য লেখা ও কলাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক সংবাদ-এ ‘অলস দিনের হাওয়া’ পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।