December

  • স ম্পা দ কী য়

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জন্ম (১৮ই জানুয়ারি ১৯৫১ সালে) সিলেট শহরে। ১৯৬৬ সালে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন যথাক্রমে ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে। ১৯৮১ সালে তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়…

  • তার তো সময় ছিল না সময় নষ্ট করবার

    তার তো সময় ছিল না সময় নষ্ট করবার

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আমার ছাত্র ছিল। সরাসরি, ক্লাসরুমের ছাত্র। ছাত্র হিসেবে সে যে ছিল অত্যন্ত মেধাবী সেটা বিভাগের সকল শিক্ষকই জানতেন, অজানা ছিল না আমারও। অনার্স ও এমএ-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া তার মেধার সাক্ষ্য বহন করে। আমি দেখতাম মনজুর অতিদ্রুত যে-কোনো বিষয় অনুধাবন করতে পারে, এবং সুশৃঙ্খল, সাবলীলভাবে, যুক্তিসহকারে তা প্রকাশ করতে দক্ষ। ছাত্রজীবন…

  • অনুজের জন্য শোক

    অনুজের জন্য শোক

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিল অনুজপ্রতিম। ১৯৫১ সালে তার জন্ম, সিলেটে। আমি তখন চট্টগ্রামে। দেশ ভাগ হয়ে গেছে। ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে স্থিতি। সরকারি এম. ই. স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি। এক যুগের ছোট। বাকি জীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজনই সহকর্মী। অনুজ ছিল তাই সব সময় অগ্রজের সম্মান দিয়ে কথা বলত। বন্ধু হওয়ার সুযোগ বাস্তবে ছিল না। মানসে সহোদরপ্রতিম।…

  • এত তাড়া কীসের ছিল?

    এত তাড়া কীসের ছিল?

    মনজুর যে আমাদের কত কাছের মানুষ ছিলেন, তা নতুন করে অনুভব করতে পেরেছি চিরতরে চলে যাওয়ার আগে তাঁর এক সপ্তাহকাল হাসপাতালে থাকার সময়ে। প্রায় প্রতিদিনই অন্তরের টানে হাসপাতালে গিয়ে কিছুক্ষণ থেকেছি, তাঁর সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ নিয়েছি আর তাঁর গুণগ্রাহীদের সঙ্গে স্মৃতি রোমন্থন করেছি। সবারই প্রার্থনা ছিল, মনজুর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি…

  • স্বল্প পরিচয়, গভীর রেখাপাত

    স্বল্প পরিচয়, গভীর রেখাপাত

    আমি চারুকলায় পড়াশুনো আর খানিক কর্মজীবনের কারণে গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকে প্রায় বছর আট-নয়েক টানা ঢাকায় ছিলাম। তখন সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে চিনতাম না। তিনি আমার চেয়ে বেশ কয়েক বছরের ছোট, সম্ভবত এটিই কারণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর দেখলাম শিক্ষকতা করতে গেলে ছাত্রের চেয়ে শিক্ষকেরই বেশি পড়াশোনা করা দরকার পড়ে। বইপত্র খুঁজতে আর ঘাঁটতে গিয়ে…

  • আকস্মিক এবং খুব দ্রুত

    আকস্মিক এবং খুব দ্রুত

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম – যাঁকে তাঁর ছাত্র, বন্ধু ও সহকর্মীরা ভালোবেসে এস.এম.আই. বলে ডাকতেন – তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমার এক বছর সিনিয়র ছিলেন। এমন অবস্থায় যেমনটি ঘটে থাকে, আমাদের চলাফেরার বৃত্ত আলাদা ছিল। আমরা মূলত একে অন্যকে ভালোভাবে চিনতে শুরু করি যখন আমরা দুজনই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হই। একদিন আবিষ্কার করলাম,…

  • সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এক গভীর অবলোকন

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এক গভীর অবলোকন

    ইংরেজি বিভাগে আমাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে খুব বেশি সময় শিক্ষক হিসেবে পাননি। দ্রুতই তিনি গবেষণার কাজ নিয়ে সম্ভবত কানাডায় চলে যান। তখন তাঁর চুলে বাবড়ি, সোনালি ফ্রেমের গোল কাচের চশমা। শুধু দেখেছি রশীদ-ঠাকুরতা সেমিনার কক্ষের কাছে নিজের অফিসকক্ষের দরজার তালা খুলে ঢুকছেন কিংবা বন্ধ করছেন। তারপর কোথাও যাচ্ছেন খুব দ্রুতপায়ে। এই দ্রুতগতি আমার…

  • মৃত্যুঞ্জয়ী মনজুর

    মৃত্যুঞ্জয়ী মনজুর

    সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দালিলিকভাবে আমার চাইতে পাঁচ বছরের ছোট। ‘দালিলিক’ শব্দটি ব্যবহার করছিএ-কারণে যে, আমরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, একই বিভাগে পাঁচ বছরের তফাতে পড়াশোনা করেছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি স্নাতক সম্মানে ভর্তি হই ১৯৬৩ সালে আর মনজুর ওই একই বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬৮ সালে। ফলে তাঁর সঙ্গে আমার বিশ্ববিদ্যালয় পাঠকালে পরিচয় ছিল না।…

  • প্রিয় মানুষ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

    প্রিয় মানুষ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

    চলতি বছর ১০ই অক্টোবর আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন একজন যশস্বী শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়েছেন, পড়িয়েছেন। ছিলেন কালি ও কলম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি। তাঁর ছাত্র কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। ২০২০ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের…

  • নিভে গেল বাতিঘরের আলো

    নিভে গেল বাতিঘরের আলো

    খুব কাছের সবাই সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে ‘মনজুরভাই’ বলতেন। আমি ‘র’টা বাদ দিয়েছিলাম। বলতাম ‘মনজুভাই’। কেন বলতাম তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ব্যাখ্যা আবার একটু আছেও। বলতে ভালো লাগত। ওই নিয়ে তিনি কখনো কোনো কথা বলেননি। ফোন তুলে ‘মনজুভাই’ বললেই তিনি হাসিমুখে বলতেন, ‘বলো, মিলন।’ সত্তরতম জন্মদিন উপলক্ষে আমাকে নিয়ে একটি লেখা লিখেছেন। এত ভালোবেসে লেখা, ওরকম…

  • বেড নম্বর ১২, সিসিইউ ১ বিশাল মৃত্যু

    বেড নম্বর ১২, সিসিইউ ১ বিশাল মৃত্যু

    মাস্ক পরে দাঁড়ালাম ১২ নম্বর বেডের সামনে। ধানমণ্ডি ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ১-এর (সিসিইউ ১) ভেতরে কর্তব্যরত কয়েকজন চিকিৎসকও পাশে দাঁড়ালেন। কোনো অধ্যাপক কিংবা সিনিয়র চিকিৎসক ‘অন কলে’ রোগী দেখতে গেলে জুনিয়ররা এভাবেই পাশে এসে দাঁড়ান। তাঁদের চোখের কৌতূহলী প্রশ্ন নিবৃত্ত করে বললাম, ‘অন কলে আসিনি, আমাদের প্রিয় সাহিত্যিকবন্ধুকে দেখতে এসেছি।’ তাঁরা স্বাগত…

  • এ এক গভীর শূন্যতা!

    এ এক গভীর শূন্যতা!

    আমার ঠিক মনে পড়ছে না, মনজুরভাইকে আমি প্রথম কোথায় দেখেছি, কোথায় তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। প্রায়শ বলছি, আমেরিকায় প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট হাসান ফেরদৌসের বাড়িতে, যেভাবে একজন সিনিয়র লেখক, ইংরেজির অধ্যাপকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের মধ্যে তেমন কোনো ঘনঘটা ছিল না, ন্যূনতমও। ডিনারের আগে আগে। আরো অনেকেই ছিল, আড্ডা হচ্ছিল তুমুল, যখন ডিনারের জন্য ডাকা…