রৌদ্রের ঝলমলে উচ্ছ্বাস, তেজি উত্তাপে দাহ হয় মধ্যাহ্নের নরম শরীর।
জলতেষ্টায় মলিন কামিনীর ঘ্রাণ।
শীতল জলে ডুবে থাকা চাতকের তৃষ্ণার্ত চঞ্চু জুড়ে আমাদের আবহমান দুঃখগাথা।
ধানক্ষেতের সোনালি সবুজ আভায় উঁকি দেয় শেকড়সন্ধানী মানুষের অযুত নিযুত ইচ্ছে।
তারা ভেসে বেড়ায় নদীবক্ষে, স্রোতের টানে, মাঝিমল্লার ভাটিয়ালি সুরে।
আমাদের দগদগে ক্ষতগুলো এখনো আরক্ত শুঁড় নাড়িয়ে ভয় দেখায়।
জাজ্বল্যমান দৃষ্টি মূহূর্তেই ঝাপসা হয়ে ওঠে স্মৃতির সুতীব্র আর্তনাদে।
মাটির সোঁদা গন্ধ, বর্ষার অঝোরধারায় কদমের উল্লাস,
বুনোফুলে মোড়ানো মেঠোপথ, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, প্রোথিত আমাদের অস্তিত্বের গভীরে।
আমাদের রক্তাপ্লুত দেহ, দুর্মর হাহাকার মিলিয়ে যায় সবুজের শ্যামলিমায়।
ফসলের প্রাচুর্যে অন্তহীন সুখৈশ্বর্য।
পাহাড়ি ঝিরির পথ, ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম আমাদের শান্তির নীড়।
সমুদ্রের জলকল্লোল, নোনা ঘ্রাণ, জলতলে অনন্ত প্রাচুর্য
এই নিয়ে আমাদের বারোমাসি গল্প।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.