প্রচ্ছদ

হাশেম খান বাংলাদেশের চিত্রকলার সৃজনধারায় এক সমাজমনস্ক চিত্রকর। তাঁর ক্যানভাসে ধরা আছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতার নানা রূপ। প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষ তাঁর চিত্রের মুখ্য বিষয়। ১৯৪১ সালের ১লা জুলাই চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী শৈশব ও কৈশোরে অবলোকন করেন নিরন্ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। এই স্মৃতি তাঁর সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলেছে। পাখি ও কাক তাঁর প্রিয় বিষয়। এদের মধ্যে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন চলমান জীবনের প্রবাহকে। আর রিকশা-সিরিজে ধৃত হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম। তাঁর শিল্প-অঙ্গীকার বহুস্তরবিশিষ্ট বলে বাঙালি জীবনের সংকটকে তিনি কখনো প্রতীকের আশ্রয়েও রূপায়িত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রগুচ্ছেও তিনি বাঙালির অসম সাহস, শৌর্য ও বীরত্ব এবং ঐতিহাসিক পটভূমিকে মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপিত করেছেন। আশির দশকে কৃষ্ণসাগরের উপকূলের পাখি সিরিজে কৃষ্ণসাগর ও পাখি তাঁকে বিমোহিত করেছিল। চার দশক ধরে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার বইয়ের নকশা অঙ্কন করেছেন বলে তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই শিশুর এক তৃতীয় নয়ন সৃষ্টি হয়। পাখি, ফুল, বৃক্ষ ও লতাপাতার যে-অবয়ব নির্মাণ করেছেন, তা শিশুর কল্পনার জগৎকে প্রসারিত করে।
তিনি ১৯৬১ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে চিত্রকলায় প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান গ্রন্থ অলংকরণের প্রধান শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন।
প্রচ্ছদে ব্যবহৃত চিত্রকর্মটি ২০১০ সালে অ্যাক্রিলিকে আঁকা। সংগ্রাহক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।