অবচেতনের আধো আলো থেকে

আমি কি প্রত্যহ ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ হয়ে কাটাবো সময়?

আমাকে মোড়ল আর তার

সাঙাত এবং তল্পি-বাহকেরা

  দেখাবে রক্তিম চোখ যখন তখন

আর আমি মাথা হেঁট ক’রে

দূরে চলে যাবো আর গৃহকোণে লুকাবো নিজেকে?

তাহ’লে আমি কি এভাবেই

কাটাবো এখানে দিনরাত?

বালিশে লুকিয়ে মুখ নিজেকে ধিক্কার

দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে

ছিঁড়বো মাথার চুল? অমাবস্যা-রাতে

হবো আত্মঘাতী?

কী আমার দান এ সমাজে?

আমি কি পেরেছি বদলাতে সমাজের

  চেহারা নিজের সাধ অনুসারে? পেরেছি কি

   ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতে কুসংস্কার?

পারিনি এখনো আমি আমার কাছের

মানে অন্তরঙ্গ জনদের ভাবনা-চিন্তাকে ঠিক

আমার ধারায় এনে সমাজের চেহারায় আলোর ঝলক

       সৃষ্টি ক’রে নিজেরা ক্রমশ ধন্য হ’তে।

আসন্ন সন্ধ্যায় অন্ধকার ছিঁড়ে আমরা কি

পারবো না পূর্ণিমার চাঁদ এনে আমাদের সব

অকল্যাণ মুছে ফেলে আগামীকে কল্যাণের আলোয় প্রদীপ্ত

   ক’রে এক নতুন পৃথিবী জন্ম দিয়ে ধন্য হ’তে?

জানি, চতুর্দিকে মাটি ফুঁড়ে সংখ্যাহীন দানবের

মাথা উঠে আসছে এবং

হাহাকার যাচ্ছে শোনা পাড়ায় পাড়ায়। ডানে বামে

নর নারী কোলে শিশু নিয়ে দিগি¦দিক যাচ্ছে ছুটে।

তা’হলে কি এতক্ষণ কাটিয়েছি দুঃস্বপ্নের ঘোরে?

নাকি ঘটবে যা ভবিষ্যতে

তারই প্রতিচ্ছবি অবচেতনের আধো-আলো থেকে

    ভেসে উঠে বিচলিত, আর দ্রুত সচেতন করছে আমাকে!৩১/১০/২০০৪