সাইফুল আলম

  • কাজী আবদুল ওদুদের ‘সৃষ্টিধর্ম’

    কাজী আবদুল ওদুদের ‘সৃষ্টিধর্ম’

    পাশ্চাত্যে প্রাচ্যদেশীয় সমাজ বিশ্লেষণে একটি মডেল বিদ্যমান। মডেলটি হলো, প্রথাগত বা সনাতন ধর্মব্যবস্থা – পুনর্জাগরণ বা রেনেসাঁস – আধুনিকতা। শাহাদাত এইচ খান তাঁর ‘Th e Freedom of Intellect Movement (Budhir Mukti Andolan) (1926-1938) in Bengali Muslim Thought’(Ph.D dissertation, University of Toronto, 1997)’ শীর্ষক গবেষণাকর্মে এই চিন্তা ছকেই বাঙালি মুসলমান লেখকদের জীবনজিজ্ঞাসার স্বরূপ আলোচনা করেছেন। তবে এক্ষেত্রে তাঁর স্বতন্ত্র অনুসন্ধানও লক্ষণীয়। তিনি আজিজ আহমেদের Islamic Modernism in India and Pakistan 1857-1964 (London, Oxford University Press, 1967), এইচ. এ. আর. গিবের Modern Trends in Islam (London, Victor Gollancz Ltd. 1946) এবং ডব্লিউ. সি. স্মিথের Islam in Modern History(London, Oxford University Press, 1966) প্রভৃতি গ্রন্থে বাঙালি মুসলমানের চিন্তা ও কর্ম না থাকার কারণ চিহ্নিত করেছেন। পাশ্চাত্যে উপমহাদেশের মানববিদ্যা চর্চায় ভারতের আধুনিকতাবাদী মুসলমানদের মধ্যে শুধু উর্দুভাষী মুসলমান বুদ্ধিজীবীর প্রসঙ্গ এসেছে। যদিও কোনো কোনো রচনায় বাঙালি মুসলমানের প্রসঙ্গ আসে, তবে তা বিচার ও বিশ্লেষণ ব্যতীত শুধু উল্লেখ করা হয়েছে। শাহাদাত পাশ্চাত্য চিন্তার মডেল অস্বীকার করেননি। তবে বাঙালি মুসলমানের মুক্তচিন্তাপ্রসূত সমন্বয়ধর্মী, যুক্তিবাদী ধারাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। উপমহাদেশের মুসলমানরা পাশ্চাত্য থিসিস অনুসারে সনাতনপন্থী কিংবা আধুনিক উদারনৈতিক – এমন ধারণার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন। শাহাদাত বিশ শতকের প্রথমার্ধের বাঙালি মুসলমান চিন্তকদের তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন – নব্য গোড়াপন্থী, উদারপন্থী ইসলামি বুদ্ধিজীবী,…