কবিতা
-
প্রতিশ্রুতির কথা
শাহজাদী আঞ্জুমান আরা আমরা কি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পরস্পরের নিকট কী নিয়ে? কোন কথায়? না, কিছুই জানা নেই। তুষারের নিচে পড়ে থাকা চাপা ঘাস আমি তুলছি, তুমি তুলছো এক এক করে কোথাও সবুজ নেই, সবটাই বিবর্ণ, মলিন তবুও তুলছি, তুমি সরাচ্ছো পাথর কিন্তু কেন, কিছুই তো জানা নেই। শব্দের অভাব এতো! হেঁটে যাই অনেকদূর শব্দের খোঁজে টুক…
-
দুটি কবিতা
খালেদ হোসাইন স্বপ্নে খানিক ঠাঁই দিও আমাকে একটু ঠাঁই দাও না তোমার স্বপ্নে! চুপটি করে বসে থাকবো রাত্রিভর। স্বল্পে তুষ্ট মানুষ আমি, তেমনকিছু চাইবো না দেখবো তোমার লীলালাস্য কী বিচিত্র রং-বেরং! যা খুশি তা কোরো তুমি যেমন করো নিত্যদিন স্নানঘরে বা রান্নাঘরে আমার দুচোখ কী নির্মল পোশাক পাল্টে শাড়ি পরো কপালে টিপ এব্বড়ো ঠোঁটে একটু…
-
অনন্ত বিরহ
ইকবাল হাসান তোমাকে মানায় খুব সুতির শাড়িতে অশ্লীলতার কথা ভেবে পরিহার করে চলি গোলাপি স্তনের বিভা, পেটিকোটের মায়াবী বাঁধন আর কালো ব্রেসিয়ার যখন বাড়িতে থাকো নিঃসঙ্গ অধিক ফ্যানের ব্লেডের নিচে উড়িয়ে আঁচল পরী ভেবে ভুল করে দূরের পথিক পথে ও বিপথে ঘুরে ফিরে আসে তোমার দুয়ারে সমুদ্র জেগে ওঠে ভাতঘুম থেকে দেখি, সঙ্গমে নয় –…
-
আমি পক্ষীগোত্র
বায়তুল্লাহ্ কাদেরী আমি কি বলতে পারি না ঘোড়াটি কাহার লেজে নেচেছিল লেজের ওপর? ডিম্বাণুর ঘোড়া মেঘের ভেতরে মুখ ডোবায়-ভাসায় আবার ঘুরতে থাকে… উপত্যকা বেয়ে গিরিখন্দে কিংবা অদ্ভুত পাতালে জলডুবি কলসির ভিতরের গতিপথে ওই আসিতেছে পুণ্যবতী আসিতেছে আর্যতের মগধের মটকাতে পুরনো স্নানের কীর্তি আমি যার ভাগ্যের উদোম সৌন্দর্যের সঙ্গে কিছু আড়িয়াল, কিছু পৈকগাছা, কিছু গঙ্গাফুঁর কিছু…
-
একদিনের কথা
শাহজাহান হাফিজ এক একদিনের কথা, আমার খুব মনে পড়ে! স্বপ্নময় সুনিবিড় ছায়াচ্ছন্ন, রাজা শশীকান্তর বাগানবাড়ির পথটি ধরে, আমি চলেছি; তখন দুপুর, পথটি নির্জন, পাখিদের কোনো সাড়াশব্দ নেই। আমি সাদা ফিতের মতো, সরলরেখার মতো সুন্দর পথটি ধরে এগিয়ে যেতেই, অল্প বাতাস, পাতা ঝরতে লাগলো, অজস্র পাতা! আমি ছিলাম একাকী, আমি ছিলাম নিঃসঙ্গ। আমার নিঃসঙ্গতার মধ্যে কেবলই…
-
আনিসুজ্জামান
মারুফুল ইসলাম পার্থিব সন্ধ্যায় আমি তাঁর নেমন্তন্ন পাই অনুভবের ছায়ায় বসে থাকি পাশে আমাদের অপার্থিব গান শোনান অপত্যস্নেহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে-বাতাস কাউকেই মানে না সেও প্রিয় পাখি হয়ে মূর্ছনা ছড়ায় চিম্বুক-চুড়োয় কোথা থেকে আলো আসে? এতো আলো কে তবে উপুড় করে সুরভির শিশি মধ্যরাতে মাঝপথে রেলগাড়ি থামে খুব কাছে কে যেন আবৃত্তি করে পুরনো গদ্যের…
-
জীবনের বাঁশি
মাহবুব সাদিক জানালার বাইরে তাকাই বসন্তের মধুর হাওয়ায় নেচে ওঠে মেহগনি গগন শিরীষ – ডাল থেকে উঁকি-মারা নতুন পাতায় বেজে ওঠে জীবনের গান, কালঘুম ভেঙে যেন সবাই উঠেছে জেগে আমি শুনি দূরাগত জলের কল্লোল – জীবনের মোহময় বাঁশি; সবুজ পাতার আলো পিছলে নেমে গিয়ে ভোরবেলাটিকে আগাগোড়া ঢেকে দেয় সবুজে-সোনায় – মিঠে আঁচে ঝলসানো স্মৃতির তেলালো…
-
সাতাশ জুলাই
সুরজিৎ দাশগুপ্ত সূর্যদেব যখন আকাশ জুড়ে সেই এক জুলাই-দুপুরে মৃত্যু বের হলো তার নিষ্ঠুর শিকারে – কখন ঝাঁপাবে কার ঘাড়ে, কার টুঁটি টিপে ধরে টুঁ শব্দটি না করে বিদ্যুৎ ঝলকে চতুর চিতার মতো পালাবে পলকে। সেই মৃত্যু খুঁজে খুঁজে এসে পেল কি না মনুয়াকে শেষে!
-
দুটি কবিতা
আলতাফ হোসেন নিজের পায়ে নিজের পায়ে নিজের পথে নিজের নাকি পায়ে, নিজের নাকি পথে ঋত্বিককুমার ঘটকের নাকি বই সরল যন্ত্রপাতি নিয়েই নাকি কাজ চালাতেন আগেকার কারিগরেরা পরে অনেক হার্ডল রেস এসেছে যা আবার আগে থেকেও ছিল অন্ধকার ছিল তবু আই লাভ ইউ বলতে গিয়ে বই পড়া হয় নাটকীয় পাত্রপাত্রীদের নাম লেখা খুঁজে বেড়াই একেবারে মোক্ষম…
-
দেহতরী মনতরী
মুহম্মদ নূরুল হুদা হৃৎদুনিয়ার বীজে ফুটে যদি এ-মৃৎদুনিয়া ব্রহ্মফুলে ম-ম ত্রিভুবনে সোনার খামার, মানুষ, তরু ও প্রাণী-অপ্রাণীর সকাতর হিয়া অলক্ষে ফুটিয়ে তোলে যুগলাত্মা তোমার আমার। তখন দুহাত মেলে উড়ে যাই দূরের আকাশে, যুগল পাদুকা বৈঠা ঘাই মারে নদীজলে উদাম বাতাসে, আমাদের দুই চোখ দিনরাত চাঁদ ও সুরুজ হয়ে হাসে। যতদূর যেতে চাই, ততদূর যাই চলে…
-
তিনটি কবিতা
অনিতা অগ্নিহোত্রী জোনাকি আমাদের জনারণ্য আজ একটি জোনাক-জ্বলা গাছ জ্বলা ও নেভার ছন্দে পথ কাঁপে, কলরোলে অট্টালিকাগুলি দুলে ওঠে, আজ আমাদের ভয় নেই পথের দুপাশে বাতি জ্বলে নির্মম নির্জনতা নেই, মানুষের হৃদয়ের গানে মুখর আঁধার খিন্ন পথ। শুধু সেই নিহত মেয়েটি শতচ্ছিন্ন শাড়িটি জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একধারে; আমাদের গান ও কবিতা ফেরাবে কি তাকেও জীবনে?…
-
তুলনামূলক সন্ধি
হাবীবুল্লাহ সিরাজী সামান্য ঠেলেঠুলে কিংবা একটু কাত ক’রে রাতকে গর্তের মুখে নামিয়ে দিলে অথবা গুহার ঘাড়টি সোজা রেখে অন্ধকারে চুবিয়ে নিলে ভূগোল বই খুলতে পারতাম। বরফপাতের দৃশ্যটি এখনো অমুদ্রিত … হইচই ক’রতে-ক’রতে ভূমিকম্প বেরিয়ে প’ড়লো যতোটা স্পর্শ করা যায় একটু টেনে বা কাঠ-খড় দিয়ে কিছুটা হ’লেও আগলিয়ে যদি বুঝ দেয়া যেতো রাঙা প্রভাত এবং গরম…
