কবিতা
-
চিহ্নহীন দিনের ডায়েরি
শুভাশিস সিনহা এক দূরে যে দাঁড়িয়ে থাকে, সে পেছনে দেখে না তাকিয়ে কেবল এদিকে চায়, মাপে পথ চোখে-চোখে, জানে নয়া ঠার, নীরব ধ্বনিতে ওড়াবে মরণধূলি, তারপর হাতে হাত মেলাবে আনন্দে, ‘পরিচয় পেয়ে ভালো হলো’ দূরে থাকে, আরো দূরে তার ছায়া ছুটে গেছে শরীরের দাসত্বের শিকল আলগা করে সে তা দেখল না, এদিকে তাকাল, দেহ…
-
অন্য মুখোশ
ওমর কায়সার এবার নতুন করে সাজিয়েছি আমার মুখোশ বোধের অতীত কোনো রঙে ভিন্ন কোনো ভাবের বিন্যাসে। এ আমার লুকোচুরি খেলা নিখিল ব্রহ্মা– একমাত্র আমার আড়াল তুমি তাকে খুঁজেও পাবে না। মৃত সব নদীর স্রোতরেখা ধরে হেঁটে যাও মানচিত্রে খুঁজে দেখ চুম্বনে রক্তিম হয়ে-ওঠা কালো তিল চিহ্নিত হবে না। স্মৃতির অতলে কোনো গান…
-
ভাঁটবনে বসন্ত উৎসব
শামসুল ফয়েজ রাঘবপুরের ভাঁটঝাড়ে বসন্তবাহার মৌমাছি ও প্রজাপতি মেতেছে উৎসবে রেললাইনের দুধারে, ধানক্ষেতের চিকন আলে বাঁশঝাড়ের কিনারে ভাঁটফুল ফুটেছে থরে-বিথরে ভাঁটবনে সারা বাংলায় পথপাশে প্রচারের শুভেচ্ছাবিহীন প্রতিটি বছর এই অঘোষিত বসন্তবরণ মৌমাছি ও প্রজাপতির নাচে তো কমতি নেই। নেপথ্য সংগীতে দূরাগত কুহুতান। বিমুগ্ধ হাওয়াও মাতোয়ারা ছড়ানো সৌরভে না থাকুক বাতিসাজ, গিটারের টুংটাং কী যে আসে…
-
আসে যায় মাঝখানে সামান্য সময়
মাহমুদ কামাল আসে যায় মাঝখানে সামান্য সময় এর মাঝে ঝর্ণাধারা এর মাঝে ঢেউহীন নদী যখন অচেনা সুর বেজে ওঠে বিকল্প বাগানে শোক তাপ তুলে রেখে ভ্রমণে – বিষাদ জাগে ভোর অপাপ ভোরের শুচিস্নিগ্ধ হয়ে উঁকি দেয় রোদ জীবন-যতির ছায়ায় অতিদ্রম্নত বিকেলের নদী বিকেল পড়ন্ত হয়ে ঢেউগুলো নীরব সন্ধ্যায় রাতের যৌবনধ্বনি স্রোতনদী ভেঙে দেয় বৃতি…
-
শুয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস
মিনার মনসুর শুয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস। মাটিও বিব্রত। হাড়-মাংস গিয়েছিল খসে ঢের আগে – তাচ্ছিল্যে-বিদ্রূপে; তবু সতত জাগ্রত ব্যাকুল হৃদয় ছিল পূর্ণ অনুরাগে। ছিল না সম্বল কিছু – চিরঅনিকেত। ঘাসেও রাখেনি পা – সে কষ্ট পায় যদি! আকণ্ঠ কণ্টক তার; বঞ্চনার প্রেত তবু করেছে আদিম নৃত্য নিরবধি। বণিকের বেটা করে নাই মাথা নত –…
-
অশামিত্ব
দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় টাকা তুমি তুমি টাকা – মনে হলো আজ কেন মনে হলো? এমন নিষ্ঠুর হলো কেন প্রিয় মন? চারশো টাকা দিয়ে থাকি জামা ও কাপড় যাতে ধবধবে উজ্জ্বল সাদা হয়ে উঠতে পারে নেটের খরচ সাড়ে চারশো টাকা, ইস্ত্রি দুশো টাকা প্রতি রবিবার বাড়ি আসে মহান সাহিত্যপত্র – রঙিন তোড়ায় বাঁধা ফিচারগুচ্ছেরা সে-বাবদ প্রতি…
-
আমাদের প্রয়োজন এখন
রবিউল হুসাইন আমাদের প্রয়োজন এখন নিজের মুখ দিয়ে কথা বলা নিজের ফুসফুস দিয়ে নিশ্বাস নেওয়া নিজের পায়ে হাঁটা নিজের হাত দিয়ে কাজ করা নিজের চোখ দিয়ে দেখা নিজের কানে শোনা নিজের নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেওয়া নিজের জিহবার সাহায্যে স্বাদ নেওয়া নিজের শরীর দিয়ে স্পর্শ নেওয়া নিজের মন দিয়ে বুঝতে শেখা নিজের হৃদয় দিয়ে…
-
সাদামাটা কথা
ইকবাল হাসান তোমার সবই আছে। ঠোঁট, নাক, গোলাকৃত নাভিপদ্ম উদ্ধত বুক ও চিবুক। আছে একফালি চাঁদ ভ্রম্ন ও ভ্রম্নভঙ্গি। যোনি ও জঙ্ঘা জানুসন্ধির অপার মহিমা আছে ফাঁদ, আছে আগুনের শিখা মাঝে-মাঝে জ্বলে-ওঠা অলৌকিক আলোর ইশারা মানুষেরা বুঁদ হ’য়ে থাকে আর দিনশেষে ঘুরেফিরে যেসব পোকা উড়ে আসে, নিশ্চিত জেনো মৃত্যুকে তারা কভু পরোয়া করে না।
-
দুটি কবিতা
শামীম হোসেন ব্যাকরণ ভাষার অধীনে যাই – করি কার শরীর-বন্দনা! পাতায় লুকিয়ে রেখে কাঁচুলির ঘ্রাণ ভ্রূণপিঠে হেঁটে যায় – পিঁপড়ের সারি… অনুবাদে মিলে যায় শাড়ির দু’ভাঁজ! যাত্রা পাহাড়ে ওঠার আগে জঙ্গলে যেতে হয় হেঁটে হেঁটে ঝোপঝাড়ের পাতা সরিয়ে ক্লান্ত শরীরে কি ছুঁয়ে আসা যায় – চুড়ো…? …
-
ধ্রুপদ
পিয়াস মজিদ বেঁচে থাকার শীতার্ত সরণিতে ফুটে আছি একা কুয়াশাকুসুম। রূপে-রূপে মালঞ্চে মৃত্যুই পলস্নবিত – জীবন যেন। জীবন তো ওই দূরে বনভূমির সবুজ রান্না আর অনন্ত যত পিয়া বসন্ত। তবু তোমার টাইমলাইনে শীতবসন্তের অর্কেস্ট্রা হয়ে আমি নামের ঋতুহীন কেউ মৃত্যু ও জীবনের সীমান্ত ফুরোতে থাকি।
-
দুটি কবিতা
টোকন ঠাকুর কেমন যেন লাগে যে কারণে শীতকে বউ, বসন্তকে শালি ভাবতে ভালস্নাগে কেমন যেন লাগে আমার কেমন যেন লাগে এই ঋতুতেই হরিণীকে স্যালুট করে চুমু খেতে চায় বাঘে দুদিন পরই পৌষ ছাড়িয়ে দেহ পড়বে মাঘে ভাবলেই, কেমন যেন লাগে আমার কেমন যেন লাগে পরিস্থিতি সুন্দর একটি বাগান দেখলে…
-
বিভ্রম
মাহবুব বারী শান-বাঁধানো ঘাটে বসে আছে একজন। দৃষ্টি নিবদ্ধ পুকুরের জলে। আমরা চারজন দূর থেকে দেখছি – জল কেমন করে জলের সাথে মিশে আছে! মানুষ কেন পারে না? – এই কথাই ভেবে যাচ্ছে শুধু – একজন বলে উঠল। অন্যজন বলল, এমন হতে পারে ব্যর্থ প্রেমিক কোনো, হৃদয়ের ক্ষত যদি দূর হয় এইখানে বসে…
