কবিতা
-
ভালোবাসার প্রদীপ
সখী তোমার সব নেবোনা ভয় কোরোনা নীলায়ত আকাশটুকু মুখে ফোটা কুন্দ কুসুম ভরা বুকের ঘামের গন্ধ বুকের সাথে বুক মেলানোর পুলক রাশি গালের সাথে গাল মেলানোর তপ্ত খুশি সখী তোমার সব নেবোনা ভয় কোরোনা হাতটা না হয় হাতের পরে আলতোভাবে ঠোঁটে না হয় ঠোঁট ডুবানোর বিভোর তৃষ্ঞা বাগান থেকে ফুল তুলোনা ফুল দিয়োনা ফুল তো…
-
উই গট হিম
দুঞ্চপাশে রাইফেল ছিল যদি লক্ষ্য ভেদ করতে হয়, গুলিভর্তি পিস্তলও ছিল যদি আত্মঘাত হয় সহজ উপায়। কিন্ত্ত এ সব তাকে করালো না কিছু- কঞ্চমাস ইঁদুর-গর্তে নির্বাসনে থেকে দাড়ি গজিয়েছে আর ভুলে গেছে কোন লক্ষ্যে বাঁচা। ধন্য আমেরিকা। হিরোশিমা নাগাসাকি ভিয়েতনাম আরও আরও আরও ভয়ংকর সন্ত্রাস পেরিয়ে এখন ইরাকে পৌঁছে শিখেছ অনেক।…
-
একটি কবিতা
এবার একটি কবিতা দিতে একটু দেরি হল। খুব দেরি হয়তো নয়, তবুও তো। আসলে আমার কোনো দোষ নেই। কবিতাটি এসে গিয়েছিল, আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কখনো পাখির পালকের মতো উড়তে উড়তে, কখনো ঝিঁঝির ডাকের মতো ক্রমাগত, কখনো জানালার খড়খড়ির ফাঁকে আলো, কবিতাটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন খুব ঠান্ডা পড়ল, একদিন ভীষণ…
-
পাথর ও রক্তের বিবাদ
কি আছে অনাস্বাদিত? ঠোঁট রেখে কঠিন শিলায় পাথরের গন্ধ শুঁকি পেতে চাই সৃষ্টির লবণ। গ্রানিটে জিহ্বা লাগে, আলজিহ্বে শ্যাওলার স্বাদ স্বাদ নয়, এ কেবল পাথর ও রক্তের বিবাদ। অভুক্ত কবির মুখে, আলজিহ্বে জমেছে যে পানি এ দিয়ে নরম হয় জগতের প্রকৃতিনিচয়, কেবল অনম্য তুমি। পাথরের চেয়েও পাথর। হাসো বাসো নাশ করো মানুষের সব বরাভয়। ২…
-
ত্রয়ী
১. এই তো সেদিন অস্থিরতায় কাটলো কটা দিন, কথায় ছিলো ফুল্ল আগুন বয়স অর্বাচীন। ২. তোমায় দেখে বুঝতে পারি বয়স বাড়ার ঝড় ঈশান কোণে কাঁপছে কালো দৃষ্টি অনুর্বর।। ৩. তুমি বড় হলে সাধু আমি ছোট চোর; দুজনার দিকে চেয়ে আছে দুইটি কবর।।
-

জীবনানন্দ দাশের অপ্রকাশিত কবিতা
অঘ্রাণ আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি হাতে তার পাণ্ডুর ধানের ছড়া ছড়াবার শব্দ শুধু পৃথিবীতে এনেছে সে বিবর্ণ নীড়ের খড় খসাবার ধ্বনি পাখিদের পালকের বিবর্ণতা পুরোনো আশার শেষ পুরোনো প্রেমের ওইসব নীরবতা। অঘ্রাণের মাঠে মাঠে গভীর স্তব্ধতা এই তারই সুরে পাখিরা-নদীর—মুখ—কীট-ঘাস- বিকাল -কুয়াশা শব্দ ক’রে চলে যেন পৃথিবীতে আর কোনও ধ্বনি যেন কোনওদিন ছিল নাক’ কোনওদিন…
-
অর্ফিয়ুসের মতো
বড় মন্থর গতিতে কেটে যায় বন্ধ্যা সময়, দিন আর রাত্রির প্রভেদ বুঝি না আমি। জানি না কীভাবে কেটে যায় দ্বিপ্রাহরিক অলস বেলা অথবা মধ্যরাত্রির নিস্তব্ধ সময়। শুধু মনে হয় নষ্ট-পচা সময় জুড়ে ব্যর্থতার বিপুল আরতি বেজে চলে শ্রান্ত মেধায়; শুধু অপেক্ষার বদে ভরিয়ে রাখি ভারাক্রান্ত মন। এতো নয় যত্নে গড়া পুতুলের সাজানো সংসার! অসম্ভব বাসনায়…
-
প্রতিসাম্য
মানুষ ঘোড়ার গল্প শুনে-শুনে আর সব প্রাণীর চেহারা ভুলে যায় স্নায়ুর পরিধি জুড়ে হ্রেষাধ্বনি শুধু যুদ্ধের মাঠে, দুর্গের চারদিকে কেবল ঘুরতে থাকে, আস্তাবলে ফিরে তারা বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে ঘুমায় ঘোড়াও শুনেছে গল্প মানুষের বুঝেছে লাগামখানি কত ভয়াবহ, চেপে বসা আরোহীর অপরাধ কীরকম ক্ষমাহীন, তার সিংহাসন আর স্বপ্ন মুছে যাওয়া নিরীহ বুদবুদ বাকি থাকে হ্রেষাধ্বনি। মনুষ্যগল্পের নিচে…
-
মেঘবতী
শেষপর্যন্ত মানুষই মানুষকে নিয়ে যায় দুঃসময় থেকে সুসময়ে সর্বাঙ্গে সন্ধের রং মেখে নিশিপক্ষী নিজস্ব নীড়ে ফিরে আসে দিনান্তে কোথায় তুমি যাও, মেঘবতী বিকাশ-উন্মুখ গতির চাঞ্চল্যে শূন্য সময়ের গর্ভ থেকে শুরু হয় তোমার নিয়তিবিদ্ধ যাত্রা এবং আমার মর্মমূল সেতো তোমার অস্তিত্বের শিকড়ের নামান্তর মাত্র পড়ন্ত হেমন্তের প্রান্তরের আদিগন্ত রুক্ষতা অন্তর্গত অক্লান্ত তৃষ্ণা তীব্রতর করে তোলে আর…
-
ফসিল
এবার থেকে শুধু মাঠের গল্প লিখব ভেবেছি। কীভাবে খুব চওড়া মাঠের এক প্রান্তে বসলে তার মধ্যে অনেকগুলো স্তর টের পাওয়া যায় যে কোনও পুরনো সভ্যতার মতো কোনও এক স্তরে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেছিল হাফপ্যান্ট পরা দুটো বাচ্চা শীতের দুপুর জুড়ে সেই ছুটোছুটি কী শান্ত রোদ্দুর হয়ে আছে! ওই রোদ্দুরে কেউ খুলে রেখেছিল তার বাদামি বুটজুতো আর…
-
বয়েসকাল
ছেলেটিকে পেরিয়ে হেঁটে যেতে যেতে মেয়েটি বারবার আলতো হাতে খোঁপা বাঁধছে, আর বারবার খুলে যাচ্ছে তার হালকা, খয়েরি, ফাঁপানো চুল। খুলে, এঁকেবেঁকে পড়ছে পিঠের মাঝবরাবর। এই পুরো ঘটনাটার মধ্যে একটা আহ্বান আছে একটা চাপা যৌন উত্তেজনা কেননা মেয়েটির শিরদাঁড়া বরাবর গভীর খাঁজ আর ছেলেটি তার পরিচিত নয়।
-
বালক, তুমি একদিন
দূরপ্রান্ত বালক, আমি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি, একদিন কবি হবে তুমি। বাইচের নৌকোর টান তোমার শরীরে এখন তরতর করে উঠছে, বীজতলার সবুজ তোমার চুলে এখনই, তোমার শাপলা এখনি লাল, সরল স্বচ্ছ জল এখন নালার ওপর দিয়ে বহে যাচ্ছে, তুমি পা ডুবিয়ে, মাছের বা নক্ষত্রের ঝাঁক চঞ্চলতাই যেন এখন তোমার করোটিতে, গুঞ্জন করছে অরুণ পতাকা হাতে ভোর…
