জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধান্জলি
-
শওকত ওসমান শতাব্দী
আন্দালিব রাশদী বাংলাদেশের বয়স তখন কুড়ি বছর। বয়সের হিসেবে শওকত ওসমানের চেয়ে পঞ্চান্ন বছরের ছোট। ১৩৯৭-এর ১৮ পৌষ পঁচাত্তরতম জন্মদিনে শওকত ওসমান নিজে যা অনুধাবন করেছেন এবং দেশবাসীকে যা জানানো প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন দেশবাসীর উদ্দেশে বিস্তারিত একটি চিঠিতে তা জানিয়েছেন। তার একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা আবশ্যক মনে করছি : * ব্রিটিশ আমলে গোলাম নাগরিক…
-
জন্মশতবর্ষে কুমার শচীন দেববর্মণ
কুমার শচীন দেববর্মণকে কখনো চাক্ষুষ করিনি। কিন্তু শৈশবকাল থেকেই তাঁর নাম কর্ণকুহরে প্রবেশ করেছে। তাঁর কণ্ঠ তো বটেই, তবে আরেকটি কারণ ছিল। তিনি আমার পিতার সহপাঠী ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ১৯২১-২২ সালে। পিতার মুখে তাঁর নাম, তাঁর বংশপরিচয় এবং তিনি যে রাজকুমার, তা জানা হয়ে গিয়েছিল সেই শৈশবকালেই। রাজকুমারসুলভ কোনো অভিব্যক্তি তাঁর চলনে-বলনে ছিল না।…
-
আমাদের শিল্পকলা
জয়নুল আবেদিন আজ এদেশে সমাজজীবনে চারিদিকেই দৈন্য। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জীবনের সর্বক্ষেত্রেই সংকটের বোঝা যেন চেপে বসে আছে। এই সর্বাঙ্গীণ দৈন্যের কারণ বহুবিধ হতে পারে, তবে আমার চোখে এর যে একটি কারণ খুব বড় হয়ে ঠেকেছে, তা হচ্ছে রুচির দুর্ভিক্ষ। বিবেকবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, প্রাদেশিকতাবোধ, এ সকলই গড়ে ওঠে মৌলিক সৌন্দর্যবোধের ‘ইসথেটিক’ প্রেরণায়। রুচিই বিবেক তৈরি…
-

-
আত্মপরিচয় সন্ধানে লোকায়ত জীবনের পর্যবেক্ষণ
সাইমন জাকারিয়া প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে, আমি কোনো চিত্রশিল্পী নই, এমনকি চিত্র-সমালোচক বা চিত্র-বিশ্লেষকও নই। তারপরও বাংলাদেশের লোকায়ত জীবনের নিবিড় পর্যবেক্ষক হিসেবে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের চিত্রকলা নিয়ে কিছু কথা বলবার এক ধরনের বিনয়ী অধিকার আমারও আছে। কারণ, জয়নুল আবেদিনের চিত্রশিল্পকলার বৈচিত্র্যময় ভান্ডারের মধ্যে একদিকে যেমন তাঁর সমসাময়িক কালের প্রতিচিত্র তথা সময়-সমাজ-রাজনীতি ও অর্থনীতির…
-
জয়নুল আবেদিন
গোলাম কুদ্দুস ভবিষ্যতে মানুষ যদি ১৯৪৩ সালের বাংলাকে খানিকটা অনুভবে বুঝতে চায় তাহলে তাকে বিস্তর নথিপত্র ঘাঁটা ছাড়াও দুটি শিল্পবস্ত্তর নিশ্চয় সন্ধান নিতে হবে – বিজন ভট্টাচার্যের নাটক এবং আবেদিনের ছবি। কত গভীরভাবে এঁদের নাটক এবং ছবি ১৯৪৩ সালের বিপর্যয়কে লেখায় এবং রেখায় ফুটিয়ে তুলেছিল ওই দুজন শিল্পীর কথাতেই তার প্রমাণ পাই। বিজন ভট্টাচার্যের নাটক…
-
জয়নুল আবেদিনের লোকজ দর্শন
মইনুল ইসলাম জাবের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পবীক্ষণে বারবার মুখ্য হয়ে ওঠে তাঁর করা দুর্ভিক্ষের চিত্রাবলি। সে-সূত্রেই জয়নুল যেন পরিচিত হলেন বাংলার প্রলেতারিয়েতের শিল্পীরূপে। এ-কথা অনস্বীকার্য, জয়নুলের শিল্পসম্ভারের প্রায় পুরোটা জুড়েই সরাসরি প্রস্ফুটিত হয়েছে বাংলার খেটে-খাওয়া মানুষের জীবনচরিত – তাদেরই আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম। তাঁর তুলির আঁচড়ে ওই জীবনই প্রতিবিম্বিত। লোককলায় জয়নুলের আগ্রহ ছিল অপরিসীম। তবে তাঁর…
-
শিল্পাচার্যের গ্রন্থ-অলঙ্করণের সন্ধানে
আবুল আহসান চৌধুরী বছর সতেরো আগে এক বিকেলে অন্নদাশঙ্কর রায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছি তাঁর আশুতোষ চৌধুরী এভিনিউয়ের আবাসে। সেখানেই দেবকুমার বসুর সঙ্গে আলাপ। সেদিন সেখানে পি.ই.এন.-এর সভা ছিল। পি.ই.এন.-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ছিলেন অন্নদাশঙ্কর, আর দেবকুমার তার সম্পাদক। অন্নদাশঙ্করই পরিচয় করিয়ে দিলেন। নানা বিষয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলাপ হলো দেবকুমারের সঙ্গে। আলাপের এক ফাঁকে তিনি…
-
আবেদিন
এস. আমজাদ আলী ইংরেজি থেকে অনুবাদ : সুব্রত বড়ুয়া এ-কথা বলা যাবে না যে, জয়নুল আবেদিন তাঁর কালের তরুণ শিল্পীদের মধ্যে শৈল্পিক প্রকাশের প্রতিভা সঞ্চারিত করেছেন, তবে তিনি অবশ্যই সে-প্রতিভার পরিপোষণ ও বিকাশের জন্যে অনেক কিছু করেছেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, এমনকি তাঁর নিজের সৃজনশীল শিল্পকর্মের বিনিময়েও, তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন চারুকলা কলেজ গড়ে তোলার কাজে।…
-
জয়নুল আবেদিন
জালালউদ্দীন আহমেদ ইংরেজি থেকে অনুবাদ : সুব্রত বড়ুয়া ‘রিয়েলিস্ট’ গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন ৪৫ বছর বয়স্ক জয়নুল আবেদিন, যিনি তুলনামূলকভাবে কম বয়সেই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন – যখন তাঁর বয়স মাত্র ২৬ বছর। সময়টা ১৯৪৩ সাল, যা ছিল বাংলার মহাদুর্ভিক্ষের বছর। এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লাখ নর-নারী ও শিশু অনাহারে, রোগে ভুগে ও মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেছিল।…
-
রেখার গরিমায় দীপ্র চিত্রপট
আবুল মনসুর একেবারে প্রাচীনকাল থেকেই ছবি আঁকার প্রাথমিক প্রচেষ্টা রেখাঙ্কনের মাধ্যমে সূচিত হয়। এটা একটা কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার। কারণ, আসলে প্রকৃতিতে কোথাও রেখা নেই। একটি বস্ত্ত থেকে অন্য একটি বস্ত্তকে আলাদা করে দেখার জন্য বা একটি বস্ত্তর অভ্যন্তরীণ গঠনগুলো প্রতিভাত করার জন্য মানুষ রেখার সাহায্য নিয়েছে। একটি দ্বিমাত্রিক চিত্রতলের ওপর ত্রিমাত্রিক একটি বস্ত্তকে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা…
-
বাংলার মানুষের শিল্প-বিবেক
প্রণবরঞ্জন রায় এক-এক ভূখন্ডের মানুষজনের জীবনে কিছু কিছু সন্ধিক্ষণ আসে। সে-সব সন্ধিক্ষণে অবস্থার ঘাত-প্রতিঘাতে মানুষের কিছু অভূতপূর্ব সমস্যা তৈরি হয়, কিছু সম্ভাবনাও। সে-সব কিছু ক্ষণজন্মা শিল্পীর উত্থানের পথ প্রশস্ত করে। তাঁদের শিল্পে ওই সন্ধিক্ষণে মানুষের দুঃখ-বেদনা, সুখ-আনন্দ, আকাঙ্ক্ষা-নিরাশা, বিপন্নতা-স্বস্তিবোধ একটা সংহত চেহারা পায়। আর তাঁদের শিল্প যে-কাজটা করে তা হলো – দেশকালের বিশিষ্ট সন্ধিক্ষণজাত মানবিক…
