কবিতা
-
দুটি কবিতা
বীরেন মুখার্জী লিলিথ, যদি জেগে ওঠো পথ ছাড়া প্রতীক্ষা করে না কেউ – আশ্বিনের ভোর, ভাঙা চাঁদ, চলে যায় সে-ও ঋতুর অতলে লিলিথ, যদি জেগে ওঠো ফের নিরঙ্কুশ প্রতিবাদে আবার দাঁড়াবো; দৃষ্টিকটু ঘুম ছেঁকে-ছেনে – কথা আর কবিতায় হেঁটে হেঁটে মিশে যাবো দ্রোহে – সমতা ও সময়রেখায় লিলিথ, যদি জেগে ওঠো শরৎশয্যায়…
-

-
একজন মানুষ একাকী
শ্যামল চন্দ্র নাথ একজন মানুষ একাকী আলোতে একাকী অন্ধকারে একাকী বুকফাটা গলায় একাকী রক্ত গড়িয়ে পড়ছে – মানুষের রক্ত তাই যাবো যাবো ভাবছি যাওয়া হলো না জীবন-যমুনার এপার-ওপার! যেন ছিটকে পড়ে মুখের জ্যোতি, একজন মানুষ একাকী – শেষ নিয়ে ভাবছো কি? যেতে দাও – তাকে যেতে দাও যে-কথা বলবার কোনো মানে নেই – তবু…
-
অপরাধ
নাসরীন নঈম বিছানায় শুয়ে আছি জানালার পর্দা সরিয়ে সকালে দেখি এক ফালি আকাশ আমার একমাত্র অবলম্বন দিঘির পাড়ের এক বিঘা জমির মতোই একান্ত সম্পদ। ঘুরে-ফিরে ওই বিছানাই আমার ঠিকানা কেউ তেমন খোঁজখবর করে না। বয়সী মানুষের কুশল নিয়ে কী বা হবে শুনতে হবে শুধু ঘ্যানর ঘ্যানর হাঁটুব্যথা গিঁটে ব্যথা, রুচি নেই। খাওয়া যায়…
-
যুদ্ধদিনের গান
রবীন্দ্র গোপ ভোরের সূর্যটা ওইদিন উজ্জ্বল ছিল বেশি আরো লাল টগবগে রক্তলাল গোলাপের চেয়ে বেশি সবুজ মাঠের শস্য-বুকে বসে ছিল দীপ্ত সূর্য বোন ছুটে আসছে ভাইকে পাবে নয়মাস পর। ভাই ফিরে আসছে পতাকা উড়ছে আকাশে আজ জয় বাংলা ফিরে আসছে বাতাসে বাজছে মুক্তির গান পদ্মায় ফিরছে জেলে, জাল ভরে উঠছে রুপালি মাছ আমন ধানের ঘ্রাণ…
-
আমার আজব ঘোড়া
মিনার মনসুর যে-শহরে আমাদের বেড়ে ওঠা – সেটি ছিল পাহাড়বেষ্টিত। যখন-তখন আমরা পাহাড় ভ্রমণে যেতাম। বড়োরা যেত সমুদ্রস্নানে। বাতাসে ভেসে বেড়াত তাদের অলৌকিক মেয়েবন্ধুদের শিহরণজাগানো সব গল্প। ঢেউয়ের ডানায় চেপে ‘লাল দোপাট্টা’ উড়িয়ে তারা আসতো। সব ওলটপালট হয়ে গেল হঠাৎ। আমি যখন স্কুলের পোশাক পালটাচ্ছিলাম ঠিক তখনই বিদঘুটে একটি পাহাড় আমাদের শহরের ওপর চড়াও…
-
বিকেলের মঞ্জ
শ্যামলেন্দু চৌধুরী এক ফাঁক ছিল তাই শেষ বিকেলে ঢুকল পাখি ঘরে- ঘুলঘুলিতে বাঁধল বাসা তার গাছের বাসা ভেঙে গেছে কালবোশেখির ঝড়ে খড়কুটোতে সাজাল সংসার… বুকের ওমে তা দেয় ডিমে ফাঁকফোকরে সময় ঝরে যায়… ডিমের ভেতর জেগে ওঠা আর এক পাখি সময়কে ঠোকরায় দুই বিকেলের গায়ে জড়িয়ে রয়েছে কবিতার নামাবলি আলো ঢলে পড়ে…
-
ইশারা
মারুফুল ইসলাম সিঁড়ি ভাঙছি সিঁড়ির ভাবনায় ভাঙার পথে ডাঙার দেখা নেই জলের পথে সজল যাত্রায় ডাকাত পড়ে পলক ফেলতেই কার নদীতে চিতল পাড়ে ডিম দুপুরবেলা দুচোখে নীল ঘুম যুগান্তরে পৃথক পশ্চিম শহর জুড়ে ছন্নছাড়া ধুম বিজ্ঞাপনে কাব্য জেরবার সালংকারা ভাবে শব্দযোগ যমক-শেস্নষে খেলে পুরস্কার বানান আর ছন্দে ঘোড়ারোগ পুবের বাড়ি খোলে…
-
শুধু ভালোবাসি বলে
খালেদ হোসাইন এই যে তোমার সঙ্গে আলো আর অাঁধারের খেলা দিন হোক রাত্রি হোক, কাছে থাকো অথবা সুদূর আমরা তো ভালোবাসি, ভান করি ভালো না-বাসার তর্ক করি ঝগড়া করি হৃদয়ে বসিয়ে দিই ক্ষুর আনন্দের ভান করি – জ্বলেপুড়ে দগ্ধ হতে থাকি যোগাযোগ বন্ধ হয়, কে কীভাবে শুরু করি ভেবে মরমে মরেও যাই, তারপর…
-
বিবরণ
[কবি শ্যামলী মজুমদার, প্রীতিভাজন] মাকিদ হায়দার ছেড়ে এলাম, ফেলে এলাম, বাঁশবাগানের মাথার ওপর দুই শালিকের ঝগড়া-বিবাদ। হুতোম এবং লক্ষ্মীপেঁচার আলাপ বিলাপ। ফেলে এলাম, ছেড়ে এলাম, সরল মুখের করুণ চোখের ভেজা পাতা। যে-পাতাতে লেখা ছিল সময় পেলে বেড়িয়ে যেয়ো, দেখতে পাবে কেমন আছি মাঘ পৌষে আসো যদি। বসতে দেবো চোখের পাতায়, সেলাই ছাড়া…
-
টিকে থাকাটাই বড়ো কথা
হাবীবুল্লাহ সিরাজী টিকে থাকাটাই বড়ো কথা নদী বইতে-বইতে একসময় বালি হ’য়ে যায় অরণ্য পরিণত হয় জ্বালানিতে পাহাড় কেটে চ’লতে থাকে বসতির প্রক্রিয়া চাকা প্রস্ত্তত হ’লে সভ্যতা ঘোরে ঘুরতে-ঘুরতে সৌরম-ল অতিক্রম করে সময় প্রাণ বদল হ’তে-হ’তে মানুষে রূপান্তর ঘটলে টিকে থাকাটাই বড়ো কথা জন্ম সে তো টিকে থাকার মহোৎসব আনন্দের অভ্যন্তরে প্রান্তর গুঁজে…
-
চাবির বুকে মনের তালা
মুহম্মদ নূরুল হুদা মনের খনন দেহের ঘরে, দেহের খনন মনে; জীবন যখন আপন ঘরে আপন নির্বাসনে। নতুন ডানা পেখম মেলে নতুন ঠিকানায়, চুপসাঁতারু হাত-পাগুলো সাঁতার কেটে যায়। ঘরের ভিতর ঘরসরোবর মনময়ূরীর বাস আকাশঘরের নকশা অাঁকে অন্ধ অবিনাশ। স্নানের ঘরে জলের ধারায় মনময়লা ভাসে, পুড়তে পুড়তে উড়তে শিখি বিরহী সন্তাপে। ও ময়ূরী, মেঘ দেখেই আর…
