কবিতা
-
স্বপ্নে
পিনাকী ঠাকুর যখন ছিলাম ধ্বংসপ্রবণ যখন ছিলাম স্বেচ্ছাচারী কোথায় তোমার স্নানের ঘরে গন্ধমদির রঙিন সাবান? আবার আমি সৃষ্টিসুখেই তোমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৈরি করছি অণুর গঠন, ফুটন্ত এই গ্রহের মাটি লক্ষ কোটি বছর পরে ভোর জেগেছে পাহাড়চূড়ায় থমকে যাওয়া সময় চরছে নীলচে ঘাসের তরাই জুড়ে; চোখের জলের ঝরনা নেমে তেষ্টা মেটায় এই অরণ্যে…
-
গল্প
মোরশেদ শফিউল হাসান সবারই বোধহয় কোনো নিভৃত গল্প থাকে ওই লোকটারও কি ছিল না? ও কি তার স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু বা সহকর্মীদের সে-গল্পের ভাগ দিয়ে গেছে? রাস্তা পেরুবার সময় লোকটা কি কিছু ভাবছিল কী নিয়ে ভাবছিল ও? কোনোদিন কেউ কি তা জানতে পারবে – পুলিশ, সাংবাদিক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বা কোনো মনোবিদ? মানুষ তার জমি,…
-
ছিল
রফিক আজাদ বৃক্ষ ছিল পাতারা সবুজ; পাখি ছিল ডানায় সুনীল; কণ্ঠ ছিল মোহন মদির; আকাশগঙ্গায় ভাসা সুর ছিল সুমন্দ্র মধুর! নদী ছিল জল অমলিন; নৌকা ছিল শব্দ ছলচ্ছল; গ্রাম ছিল সুখদ মুখর; পরিচ্ছন্ন দুই পাড়ে বারো মাস উৎসবের ধুম!
-
রাতের হাড়গুলো
হাসান হাবিব যখন দৃশ্যগুলো অবাধ মিশে গেল উষ্ণ মেঘে হিম পালঙ্কে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষের আলস্য ফিরে গেল জানালায় – রংচঙে শার্টগুলো উড়ছে বারবনিতার স্নানে… মেঘের অনেক মুখোশ; দেয়ালের ভঙ্গি কেউ বোঝে না – শুধু নদীর উষ্ণতা বুক ভরে নেয় আদিম আকাশ সে কত ঘুম তোলে। অবিরত লাঙল কাঁধে একাকী নিশীথে ছোটে হিম…
-
মৃত নক্ষত্রের শহরে
রাহমান ওয়াহিদ কারো কারো চোখে প্রজাপতি বসলে কারো চোখ থেকে পিঁপড়ের বিষ উপচে পড়ে – যেন দহনে কালো হোক প্রজাপতির পেলব ডানা। আমার পাঁজরের খোলেও এক আদিম জিঘাংসা কার যেন বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে আর ক্ষরিত রক্ত ঝরে জমাট বাঁধে আমারই হৃৎপিন্ডে। ক্ষুধা নিবৃত্তিতেও কার যেন মাংসাশি দাঁত হলকুম কামড়ে ধরে, যেন গিলতে না পারি হেমলকও…
-
গুহায়
হামীম ফারুক রুক্ষ মানচিত্রের মতো মুখ, নিচে আলো ও অন্ধকার ফাঁকা দেশলাইয়ের বাক্স হাতে গুহার ভেতর, একা সন্ধ্যা নামেনি, বাদুরের ডানা ঝাপটানি শুনি কাঁধের ওপর মৃত হরিণের শিং, অস্থির স্তূপ ভারী পায়ে পায়চারি – দূরে সতর্ক চোখে কড়া পাহারা, ধোঁয়ার বলয় গোপন ঝরনায় কারো অসমাপ্ত স্নান টের পাই শিরদাঁড়ায়
-
মৃত্তিকার ঘর
শ্যামলী মজুমদার সম্পর্কগুলি এখন শীতরাত পাড়ি দিচ্ছে… গ্রহ যেরকম পুঞ্জীভূত শক্তি কেন্দ্র ছেড়ে ছুটে ছুটে এসেছে ছায়াপথ ধরে শীতল শীতলতর যুগ, কোটি আলোকবর্ষব্যাপী বরফ আর হিমবাহের গল্প… তারপরও বলো : বাসযোগ্য হলো কি আমাদের এই মৃত্তিকার ঘর!! তুমি আমি আরো কত মুখ শত সহস্র চোখ নীল বেদনায় উন্মুখ, দূর ছায়াপথে হেঁটে যায় একে…
-
বউমা ও চাঁদনি
সাকিরা পারভীন রাত বারোটায় গেটের চাবি খুলে একা একা বউমাকে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে। পাশের বাড়ির দারোয়ানের এ-তথ্য এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বাড়ির পাশে বারোতলা বিল্ডিং সমস্ত আকাশপথ দখলে নিয়েছে। বছরখানেক ধরে চেষ্টার পরও বউমা বারান্দায় দাঁড়িয়ে জ্যোৎস্না দেখতে পারে না। তাই এই অভিলাষ। আজ বাড়িঅলা ঘুমিয়েছেন। বউমা সাহস করে চাঁদ দেখে ফেলেছে আর এই…
-
পেছনে ডেকো না
রহিমা আখতার কল্পনা হারিয়ে যেয়ো না মিঠা জল, প্রিয়পাতা সবুজ সুহৃদ হারিয়ে যেয়ো না মুখচম্পা, কৈশোরিক চাঁদছোঁয়া নিদ হারিয়ে যেয়ো না প্রিয়পদ্ম, বর্ষালক্ষ্মী – শৈশবের মুখ হারিয়ে যেয়ো না জোনাকিরা, রাত ভালোবেসে খোঁজো সুখ। আড়ালে থেকো না প্রিয়কুঁড়ি, ফুটে ওঠো রোদের সোহাগে আড়ালে থেকো না কাশবন, ঢেউ তোলো – ধু-ধু চর জাগে আড়লে…
-
ইচ্ছেপাখি
নাসরীন নঈম একটি টাটকা কবিতার জন্য আমার কলম কাঁপছিল বহুদিন এখনো কাঁপছে। আমি মনকে বোঝাচ্ছি থামো মন যখন নির্জলা অবসরে যাবো জীবন ঘষে ঘষে আগুন জ্বালাবো অবশ্যই টাঙ্গাইল শাড়ির পাড়ের মতো মিহি সুতার কবিতা আমার কলমে উঠবে। আমি সেই কবিতাটি নিয়ে একবার শামসুর রাহমান আল মাহমুদ নয়তো সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে…
-
তরুণ কবি
সরসিজ আলীম কাঠবিড়ালির লেজের ওপর একটি কাঠঠোকরাকে বসিয়ে দিলে কাঠবিড়ালি অনেক দূর দৌড়ে গিয়েছে, কাঠঠোকরাকে কাঠবিড়ালির লেজে বসিয়ে দিয়েছিল সেই ছেলেটি? ছেলেটি প্রিয় চায়ের দোকানির সঙ্গে ঝগড়া করে অনেক পথ হেঁটেছে, বুকপকেট সে চায়ের দোকানির কাছেই বিক্রি করেছে, সবগুলো পকেট সে চায়ের দোকানির কাছেই ফতুর করেছে। সে রাজপথ, জনপথ বা রেলপথ আলাদা…
-
অন্যমনস্ক ভ্রমে থাকি
গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বিষয়ে আমি কতটুকু জানি এ-কথাই একা বসে মাঝে মাঝে ভাবি যা ভাবি না তা হলো পিতৃঋণের যতটুকু এতটা জীবনধরে মিটিয়ে দেবার আয়োজন করলাম তবু তা মেটাতে পারলাম কই শোভনা ও অতুলচন্দ্রের জ্যেষ্ঠ ছেলে আমি মাদারীপুরের স্বপ্ন ছিন্ন করে কবে এ-শহরের আনাচ-কানাচ ঘুরে আমরা থিতু হয়েছিলাম এখন আর তা মনে নেই…
